হাঁটুর জোড়ার রোগে আর্থোস্কোপি

  • 0

হাঁটুর জোড়ার রোগে আর্থোস্কোপি

হাঁটুর জোড়ার রোগে আর্থোস্কোপি

হাঁটু শরীরের বড় জোড়াগুলোর মধ্যে একটি এবং শরীরের ওজন বাহন করার ক্ষেত্রে অন্যতম ভুমিকা পালন করে। জোড়ার বিভিন্ন ধরনের রোগ ও ইনজুরিতে হাটু আক্রান্ত হয় বেশি। হাটু তিনটি হাড়, চারটি লিগামেন্ট ও  দুইটি মেনিসকাস সমন্বয়ে গঠিত। জোড়ার ভেতর ও বাহিরের গুরুত্বপূর্ণ লিগামেন্টগুলো জোড়াকে সুরক্ষা করে এবং দৈনন্দিন হাটুর বিভিন্ন নড়াচড়ায় সহায়তা করে। মেনিসকাস দুই হাড়ের মাঝখানে অবস্থান করে শরীরের ওজন সমভাবে বিতরণ করে এবং হাড়কে ঘর্ষন হতে রক্ষা করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে যতটুকু উন্নতি সাধিত হয়েছে তার অধিকাংশ হয়েছে একুশ শতকের গোড়ার দিকে। এর ধারাবাহিকতায় যন্ত্রের সাহায্যে চিকিৎা ব্যবস্থা বর্তমানে সময়ে কল্পনাতীত সুখ্যাতি অর্জন করেছে। হাড় ও জোড়ার সমস্যার চিকিৎসার ক্ষেত্রে অকল্পনীয় উন্নতি হলেও আমাদের দেশে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে, চিকিৎসা সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। হাড় ও জোড়ার চিকিৎসার এক সফল ও কার্যকর সমাধান এনেছে বিষ্ময়কর আর্থোস্কোপিক সার্জারি। এটি হলো অর্থোপেডিক সার্জারি। এটি হলো আর্থোপেডিক চিকিৎসায় বর্তমান যুগের সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক পদ্ধতি। ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ক্যামেরা যুক্ত যন্ত্র (স্কোপ) জোড়ায় প্রবেশ করিয়ে এবং যন্ত্রের সাথে যুক্ত বাহিরে টিভি স্ক্রিন বা মনিটার দেখে অপারেশন করা হয়।

হাঁটুর রোগের লক্ষণসমূহঃ

মাঝে মধ্যে হাটু ফুলে আবার স্বাভাবিক হয়। ব্যথা হয় এবং নড়াচড়ায় ব্যথা বেড়ে যায়। অনেকক্ষণ হাটু ভাজ করে বসার পর হাটু সোজা করা যায় না; এদিক ওদিক নড়াচড়া করে হাঁটু সোজ করতে হয়। হাঁটু সম্পূর্ণ ভাজ বা সোজা করা যায় না।

জয়েন্ট ছুটে যাবে বা ঘুরে যাবে এরকম মনে হবে, বিশেষ করে অসমতল জায়গায় হাটলে। সিড়ি দিয়ে উঠানামা করতে এবং বসা থেকে দাড়াতে কষ্ট হয়। হাটু ভাজ ও সোজা করলে মনে হবে কিছু একটা জোড়ায় ঢুকছে এবং বের হচ্ছে। প্যাটেলা বা নি ক্যাপে ব্যথা এবং হাটু ভাজের সময় আংশিক বা সম্পূর্ণ স্থানচ্যূতি হয়।

আর্থ্রোস্কোপিক চিকিৎসাঃ

ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ইনজুরির ক্ষেত্রে নতুন লিগামেন্ট পুনঃস্থাপন করা হয়। মেনিসকাস ইনজুরি হরে রিপেয়ার বা সেলাই করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে সেভিং করা হয়  এবং টুকরো অংশ বের করা হয়। ওসটিওয়াইট (নতুন হাড়) হাড় ও তরুনাস্থির আলাদা অংশ এবং লুজ বডি রিমোভ কর হয়। সাইনোভিয়াল বায়োপসি ও ওয়াশআউট আর্থোস্কোপি দিয়ে করা হয়। প্যাটেলা বা নি ক্যাপ পুনঃ স্থাপন ও লিগামেন্ট তৈরি করা হয়। জোড়ার সমস্যা কনজারভেটিভ বা মেডিকেল চিকিৎসায় ভালো না হলে এবং যে ক্ষেত্রে আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি প্রথম থেকেই প্রয়োজন সেক্ষেত্রে অভিজ্ঞ আর্থ্রোস্কোপিক সার্জনের পরামর্শ নেয়াই শ্রেয়। আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির পর নিয়মিত এবং উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।

 

ডা. জিএম জাহাঙ্গীর হোসেন

কনসালটেন্ট হাড়, জোড়া, ট্রমা ও আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি

ডিজিল্যাব মেডিক্যাল সার্ভিসেস (ইনডোর স্টেডিয়ামের সামনে), মিরপুর,  ঢাকা।

ইডেন মাল্টি কেয়ার হাসপাতাল, সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা।


Leave a Reply