হাইড্রোথেরাপি

  • 0

হাইড্রোথেরাপি

হাইড্রোথেরাপি – এবার তবে পানি চিকিৎসা

শুনেছেন ‘ফিজিওথেরাপি’র কথা। এ একধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি। তেমনি জানেন ‘সাইকোথেরাপি’ চিকিৎসার কথা। আছে ‘শকথেরাপি’ ও ‘কেমোথেরাপি’। সবগুলোই চিকিৎসা পদ্ধতি।

কিন্তু যদি বলা হয়, উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য একমাত্র ওষুধ ‘পানি’। মানবেন কী?

হয়তো শুনে অবাক হবেন। অবাক হওয়ার কিছুই নেই। বিজ্ঞানীরা উঠেপড়ে লেগেছেন পানি দ্বার চিকিৎসা করার পদ্ধতি আবিষ্কারে। সফলও হয়েছেন। অনেকগুলো জটিল ও প্রাণঘাতি রোগ যেমন- বহুমুত্র, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, পাকস্থলীর সমস্যা, যক্ষা, কোষ্টকাঠিণ্য, রোগ ইত্যাদি সারিয়ে তুলেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা একমা্ত্র পানির মাধ্যমে। এ চিকিৎসা পদ্ধতির নাম হলো হাইড্রোথেরাপি বা ওয়াটারথেরাপি।

জাপানের একটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান জাপানি সিকনেস অ্যাসোসিয়েশন, এই চিকিৎসার ওপর অনেকদিন গবেষণা করে তাদের নিবদ্ধ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কেউ যদি নিয়মিত এই চিকিৎসাপদ্ধতি গ্রহণ করেন তবে অনেক জটিল রোগ হবে না। তারা আরো বলেছেন, এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে সহজ ও সাধারণ থেরাপিই হলো হাইড্রোথেরাপি। পানি আমরা সবাই সাবই পান করি। খাবারের সময় পানি ছাড়া কারে চলে না। পানিইতো জীবন। কিন্তু এ পানিই যখন থেরাপি হিসেবে কাজ করে তখন কিছু নিয়ম আছে পান করার মাধ্যমে। অনেকেই ঘুম থেকে উঠেই গড়গড় করে পানি পান করেন। আবার কেউ শূণ্য পেটে পানি পান করতে গেলেই বমি করেন। হাইড্রোথেরাপিতে সকালে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করতে হবে। মুখে কুলকুলি বা ব্রাশ না করেই পান করতে হবে। পানির পরিমাণ জানেন কী? বড় গ্লাসের প্রায় চার গ্লাস। অর্থ্যাৎ এক কেজি আড়াইশ গ্রাম। সাধারণ পানিই খাবেন। তারপর কুলি গড়াগড়া বা দাঁত ব্রাশ করতে পারেন। কিন্তু প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট পর্যন্ত কোনো ধরনের খাবারই খেতে পারবেন না। কেউ কেউ শূণ্য পেটে এতো পানি না পান করতে পারলে ধীরে ধীরে অভ্যাস করুন। প্রথম সপ্তাহ আধাগ্লাস, দ্বিতীয় সপ্তাহ একগ্লাস, এভাবে বাড়াতে বাড়াতে কয়েক মাসের মধ্যে চার গ্লাস পান করার অভ্যাস গড়ুন। এই হাইড্রোথেরাপির নিয়মে খাবারের পর কমপক্ষে দুঘন্টা পর্যন্ত পানি পান না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আর রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে হালকা খাবারও খাওয়া উচিত নয়। অর্থ্যাৎ না খাওয়াই উচিত। জাপানের প্রতিষ্ঠান গবেষনা চালিয়ে তার নিজেরাও অবাক হয়েছেন যে, জটিল রোগগুলোকে অনেক অল্প সময়ের মধ্যেই সারিয়ে তুলতে পেরেছেন। দেখেছেন যে, হাইড্রোথেরাপির নিয়ম মেনে চললে এক মাসের মধ্যেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের মতো জটিলরোগগুলোকে নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব। তিন মাসের মধ্যে যক্ষা রোগ এবং ১০ দিনের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা সম্ভব হয়েছে।

  • যারা সবল, সুস্থ কিংবা দুর্বল সবাই এই থেরাপি মেনে চলার অভ্যাস করতে পারেন। প্রথমে নিজেকে পরবর্তী সময়ে পরিবারের সবাইকে এই পদ্ধতিতে জটিল রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারেন। বিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত পানি পান করাতে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু দিনে ৩-৪ বার প্রসাব হতে পারে। তাতে অসুবিধা নেই। তা অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। এই হাইড্রো বা ওয়াটার থেরাপির মাধ্যমে যে সব জটিল রোগের নিরাময় হয় সেগুলো হলো-

১। উচ্চ রক্তচাপ, ২। ডায়বেটিস, ৩। ক্যান্সার, ৪। কোষ্টকাঠিন্য, ৫। যক্ষা রোগ, ৬। মাথাব্যাথা, ৭। রক্তসল্পতা, ৮। ব্রঙ্কাইটিস, ১১। লিভারের রোগ, ১২। কিডনি রোগ, ১৩। মেনিনজাইটিস, ১৪। আমাশয়, ১৫। অশ্বরোগ, ১৬। বাতরোগ, পেঁটে বাত, ১৭। স্থুলতা, ১৮। চোখের রোগ, ১৯। হার্টের স্পন্দন, ২০। কাঁপুনি, ২১। নাক, কান, গলার রোগ। ২২। অনিয়মিত মাসিক, ২৩। লিউকোরিয়া ইত্যাদি।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, বাতরোগ এবং গেটে বাতের রোগীদের সপ্তাহে দুবার পরবর্তীকালে দৈনিকে একবার পানি পান করে রোগ সারানো যায়।

সুতারাং এই থেরাপি খুবই সহজ চিকিৎসাপদ্ধতি। বিনামূল্যই করা যায়। হাজার হাজার মানুষ সহজেই সুস্থ ও সবল থাকতে পারেন এই ওয়াটার থেরাপিতে।

ডা. এস কে অপু


Leave a Reply