হাইড্রোসিল

  • 0

হাইড্রোসিল

Category : health tips bangla

হাইড্রোসিল

 

স্ট্রেস বা অন্ডকোষ হচ্ছে পুরুষ প্রজনন অঙ্গ। এখানেই স্পার্ম বা শুক্রানু তৈরি হয় এবং এই স্পার্ম বা শুক্রানুর মেয়েদের ডিম্বানুর মিলনের ফলে সন্তানের জন্ম হয়। এই টেস্টিসের সংখ্যা দুটি। এর জন্ম পেটের ভিতর। টেস্টিদ্বয় শিশুর মায়ের পেটে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে নিচের দিকে নামতে থাকে এবং সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার পূর্বেই অন্ডকোষ (স্ক্রটাম) থলিতে অবস্থান নেয়।

হাইড্রোসিল কি

টেস্টিস বা অন্ডাকোষের দুই আবরণের মাঝে পানি জমলে তাকে হাইড্রোসেল বলে। বিভিন্ন কারণে হাইড্রোসিল হতে পারে। যেমন-

১. জন্মগত হাইড্রোসিল।

২. টেস্টিসের ইনফেকশনের জন্য হতে পারে।

৩.গোদরোগ বা ফাইলারিয়াসিস।

৪. টেস্টিসের পিউমার থাকলেও তার কারণে হাইড্রোসিল হতে পারে।

১. জন্মগত হাইড্রোসিল

শিশুর জন্মের সময় থেকৈ টেস্টিস এর ফোলা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। এই হাইড্রোসিলের সঙ্গে হারনিয়াও থাকে। ধীরে ধীরে হাইড্রোসিল বড় হতে থাকে। পেটের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে বলে শুয়ে থাকলে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই হাইড্রোসিল চিকিৎসা করা অত্যন্ত জরুরী, কারণ এর সঙ্গে হার্নিয়ার সংযোগ থাকে।

২. ইনফেকশনের জন্য হাইড্রোসিল

টেস্টিসের ইনফেকশন হলে এটাকে ইপিডিডাইমো অরকাইটিস বলে। এই ইনফেকশন সাধারণত যৌনবাহিত রোগ। এই জন্য যুবক বয়সেই এই হাইড্রোসিল দেখা যায়। টেস্টিস প্রচন্ড ব্যথা ও ফুলে যায়, সঙ্গে বেশ জ্বর ও ব্যথা থাকে। টেস্টিস এত ব্যথা হয় যে, রোগী স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারে না। সাধারণত প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া থাকে। এন্টিবায়োটিক ব্যথানাশক ঔষধ ও বিশ্রাম এই রোগের জন্য অত্যন্ত জরুরী। সময়মত চিকিৎসা না হলে টেস্টিসে ফোড়া হয়ে যেতে পারে।

৩. টিউমার এর জন্য হাইড্রোসিল

এই ধরনের হাইড্রোসিল অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এ ধরনের হাইড্রোসিল রোগীর কোন প্রকার কষ্ট হয় না। শুধু টেস্টিসের ফোলা আর কিছু নয়।

৪. হাইড্রোসিল হলে কি জটিলতা হতে পারে

ক. হাইড্রোসিল বড় হয়ে চলাফেরার অসুবিধা হতে পারে।

খ. দৈহিক মিলনে প্রতিবন্ধকতার/ বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

গ. ক্যান্সারের কারণে হাইড্রোসিল হলে জীবন বিপন্ন হতে পারে।

ঘ. জন্মগত হাইড্রোসিলের হারনিয়া থাকে। সেই ক্ষেত্রে হারনিয়ার জন্য মৃত্যুর ঝুকি হতে পারে।

ঙ. ইনফেকশনের কারণে হাইড্রোসিল হলে টেস্টিসে পুজ জমতে পারে।

চ) প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

অতএব এই ধরনের সমস্যা হলেই অভিজ্ঞ সার্জনকে দেখিয়ে সঠিক চিকিৎসা নিন।

অধ্যাপক ডা. এম এ হাসেম ভূঞা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


Leave a Reply