হাতে অ্যাকজিমা হলে

  • 0

হাতে অ্যাকজিমা হলে

Category : Health Tips

হাতে অ্যাকজিমা হলে

অধ্যাপক ডা. এম ফেরদৌস

অনেক রোগী হাতের অ্যাকজিমা ভুগছেন। চিকিৎসায় কেউ কেউ আরোগ্য লাভ করলেও সবাই হয়তো সুফল পাচ্ছেন না। হাতে অ্যাকজিমার কারণে রোগীদের দৈনন্দিন কাজকর্ম বাধাগ্রস্থ হয়। শিল্প কলকারখানায় কর্মরতদের মধ্যে হাতের অ্যাকজিমা অন্যতম।

হাতের অ্যাকজিমার সঠিক চিকিৎসা একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ রোগের লক্ষণ এবং কারণের মধ্যে অনেক সময় সামঞ্জস্য খুজে পাওয়া যায় না। অন্য আরও কিছু চর্মরোগের ধরনও অ্যাকজিমার মতো হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় অ্যাকজিমার লক্ষণ এবং এর প্রকার, পরবর্তীতে ত্বকে ছড়িয়ে যাওয়া চুলকানি, ইনফেকশন হলে অন্য রূপ ধারণ করতে পারে। হাতের অ্যাকজিমা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। উত্তেজক পদার্থের কারণে সৃষ্ট অ্যাকজিমা অত্যান্ত সাধারণ। এ ধরনের অ্যাকজিমাকে গৃহিণীদের অ্যাকজিমা কিংবা ডিসপ্যান অথবা ডিটারজেন্ট হাত বলা হয়ে থাকে। অনেকের হাত ঘন্টার পর ঘন্টা এবং বার বার বিভিন্ন কেমিক্যালের সংস্পর্শে এলেও অ্যাকজিমা হয় না। অন্যদিকে কারও সামান্য হাত ধোয়ার ফলে হাত ফেটে যাওয়া এবং অ্যাকজিমা দেখা দিতে পারে। যাদের হাত সহজেই উদ্দীপিত হয় তাদের বংশগত কারণও থাকতে পারে।

লক্ষণসমূহ

প্রাথমিক অবস্থায় শুষ্কতা ও ফাটা ত্বক দেখা দেবে। সন্ধিস্থলের ভাজে এবং আঙুলের ডগার চারপাশে ব্যথাযুক্ত ফাটা থাকতে পারে। হাতের উল্টোপিঠে লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে এবং ব্যথা থাকতে পারে।

চিকিৎসা

যদি হঠ্যাৎ অ্যাকজিমা হয় তাহলে আক্রান্ত স্থানে ছোট ছোট ফুসকুড়ি, ফোসকা এবং অত্যান্ত লাল থাকবে, সঙ্গে থাকবে চুলকানি সেসব ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানির ভেজা কমপ্রেস দিতে হবে। সঙ্গে খাওয়ার জন্য স্টেরয়েড এবং স্টেরয়েড ইনজেকশন দিতে হবে। এন্টিহিস্টামিন ও এন্টিবায়োটিকও খেতে হবে।

রোগটি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে আক্রান্ত ত্বক সাদা এবং ফেটে যাবে বা ত্বকের রেখাগুলো প্রকট হয় ফুটে ওঠবে, সেসব ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে স্টেরয়েড মলম ব্যবহার করতে হবে এবং সব ক্ষেত্রে ভালো ফল পেতে হলে মলম লাগিয়ে পলিথিন দিয়ে পেচিয়ে রাখতে হবে। ‍ক্ষেত্রবিশেষ স্থানীয় অ্যাকজিমার ইনজেকশন পুশ করতে হবে। খাওয়ার জন্য এন্টিবায়োটিক ও এন্টিহিস্টাসিন ট্যাবলেট খেতে হবে।

রোগীর জন্য পরামর্শ

  • যত সম্ভব কম হাত ধোবেন। উত্তম হয় সাবান বর্জন করতে পারলে এবং হাত কুসুম গরম পানি দিয়ে ধোবেন।
  • মাথায় শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হলে হাতে গ্লাভস ব্যবহার করবেন অথবা অন্য কাউকে দিয়ে শ্যাম্পু মাখাবেন।
  • গৃহস্থালি কাজে ডিটারজেন্ট হাতে সরাসরি ধরবেন না। সুতি, প্লাস্টিক অথবা রাবার গ্লাভস পরে গৃহস্থালি কাজ করবেন।
  • এমন কোনে কিছু হাতে ধরবেন না যার ফলে জ্বালা পোড়া বা চুলকানি হতে পারে। যেমন- উল, বাচ্চাদের ভেজা ডায়াপার বা ন্যাপকিন, আলু ছোলার সময় এবং তাজা ফল, কাচা মাংস ধোয়া কাটা ইত্যাদি করা নিষেধ।
  • যদি উত্তেজক বা উদ্দীপক পদার্থ হাত দিয়ে ব্যবহার করতেই হয় তাহলে রাবার গ্লাভস হাতে ব্যবহার করা উচিত। রাবার গ্লাভসের ভেতরে হাতে জমা ঘাম, মরা কোষ জমে হাতে উদ্দীপক হিসেবে অ্যাকজিমা দেখা দিতে পারে। রাবার গ্লাভসের নিচে সাদা সুতি গ্লাভস পারলে ভালো হয়।

লেখকঃ ত্বক ও যৌন ব্যাধি বিশেষজ্ঞ, রাশমোনো হাসপাতাল, মগবাজার, ঢাকা।


Leave a Reply