মানসিক টেনশন ও হার্ট অ্যাটাক

  • 0

মানসিক টেনশন ও হার্ট অ্যাটাক

মানসিক টেনশন ও হার্ট অ্যাটাক

 

প্রাচীনকাল থেকেই হৃৎপিন্ডের সাথে মনের সর্ম্পকের কথা বলা হয়ে আসছে। মানসিক উৎকন্ঠা বা উত্তেজনার সময় দ্রুত হৃদস্পন্দন, বুকে ধড়ফড় করা বা ব্যথা অনুভব করার কথা প্রায়ই শোনা যায়। এ থেকে অনুভুতির সাথে হৃৎপিন্ডের নিবিড় সম্পর্কের ধারণা করা যায়। জীবনের কোনও উত্তেজনারকর বা সংঘাতময় পরিস্থিতিতে কোন কোন মানুষ হঠ্যাৎ হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এক ভদ্র লোক তার বন্ধুর খুনিদের শাস্তির দাবিতে সংবার সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হঠ্যাৎ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেন।  এ থেকেই মনের সাথে হার্টের সরাসনরি যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রথমেই প্রশ্ন আসে মনপীড়ন বলতে কী বোঝায় ? মন পীড়ার সত্যিকারের সংজ্ঞা নিরূপণ করা কঠিন। এটা মানব মনের এমন একটি অবস্থা বা উদ্বেগ, আশঙ্খা বা উৎকন্ঠাজনিত স্বানুবিকার রূপে প্রকাশ পায়। মনপীড়নে আক্রান্ত একজন মানুষ মাথাধরা বা বুক ধড়ফড় করা, পেটের ব্যথা, অনিদ্রা, অবসাদগ্রস্থতা ইত্যাদিতে ভুগতে পারেন। এর সব একসাথে দেখা নাও যেতে পারে। সাময়িক জীবনে প্রত্যেকটি মানুষ এমনকি স্কুলে পড়ুয়া শিশু কিশোররা পর্যন্ত অধিকতর প্রতিযোগীতা এবং মানসিক চাপের মধ্যে বসবাস করছে। এর মধ্যে আবার যারা উচ্চাকাঙ্খী, অধিকরত প্রতিযোগী তারা আরো বেশি মানসিক চাপ এবং উত্তেজনায় ভোগেন। পরীক্ষার পূর্বরাতে, চাকরির ইন্টারভিউর আগে বা কোনও ব্যবসায়িক টেন্ডার লাভের প্রাক্কালে ছাত্র ছাত্রী, চাকরি প্রার্থী এবং ব্যবসায়ী ঠিকাদারদের মনপীড়ন বহুগুণ বেড়ে যায়। সাময়িক মনপীড়ন শরীর সহজেই হজম করে নেয়। কিন্তু যদি তা হয় প্রতিনিয়ত এবং ক্রমবর্ধমান তা একজন মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। পারিবারিক জীবনে, কর্মক্ষেত্রে, পরিচিতজনদের মাঝে তার অবস্থা ক্রমেই হেয় প্রতিপন্ন হয়। প্রশ্ন আসে মনপীড়নে কারা বেশি ভুগেন ? মনোবিজ্ঞানীরা সব মানুষকে দু ধরনের ব্যক্তিত্বে বিভাজন করেছেন। যারা অত্যন্ত পরীশ্রমি,  উচ্চাকাঙ্খী তাদের টাইপ এ এবং যারা অল্পে সন্তুষ্ট, টেনশনমুক্ত, ঝামেলামুক্ত জীবন পছন্দ করেন তাদের টাইপ বি’ বলে অভিহিত করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে টাইপ ‘এ’ র লোকেরা অধিক পরিমাণে মনপীড়ন ভোগেন এবং এদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক বা করোনারি হৃদরোগের সরাসরি সম্পর্ক নির্ণয় করা কঠিন। তবুও এর সাথে যদি করোনারি হৃদরোগ হওয়ার অন্য কারণগুরো যেমন- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য, ধুমপান, উচ্চ রক্তচাপ, বহুমুত্র রোগ, স্থুলতা ইত্যাদি যোগ হয়, তবে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বহুগুন বৃদ্ধি পায়। মনপীড়নকালে শরীরের অন্তঃক্ষরাগ্রন্থি থেকে ক্যাটোকোলামনস নামক এক ধরনের রস রক্তে নিঃসৃত হয়, যা হার্টের রক্ত পরিহনকারী করোনারি ধমনীকে সংকুচিত করে অথবা হঠ্যাৎ বন্ধ করে দেয়, যা হার্ট অ্যাটাককে তরান্বিত করে অথবা হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা ঘটায়। যেহেতু এটা মনের ব্যাপার সেহেতু একজন ব্যক্তিকে মনপীড়ন থেকে মুক্ত থাকতে হলে মানসিক প্রস্তুতি দরকার। অল্পে সন্তুষ্টি, প্রশান্তচিত্তে সহজভাবে জীবনের ঘটনাপঞ্জিকে গ্রহণ করতে পারলেই, মনপীড়ন থেকে বহুলাংশে মুক্ত থাকা যায়। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, নিজেকে কোনও আনন্দমুখর হবিতে নিয়োজিত রাখা, আত্মস্মোহন পদ্ধতি দ্বারা নিজেকে মনপীড়ন থেকে মুক্ত রাখা যায়। অনেকের ক্ষেত্রে মনপীড়নের সাথে সাথে ধুমপান, মদ্যপান ইত্যাদির পরিমাণও বেড়ে যায়, যা হার্ট অ্যাটাকে আরো তরান্বিত করে। তাই মনপীড়ন এবং হার্ট অ্যাটাক থেকে মুক্ত থাকতে হলে ধুমপান ও মদ্যপান ইত্যাদিকেও বর্জন করতে হবে। স্বল্প পরিসরের এ জীবনকে, জীবনের ঘটনাপঞ্জিকে প্রশান্তচিত্তে খেলেয়াড়ি মনোভাব নিয়ে গ্রহণ করুন এবং হার্ট অ্যাটাক থেকে মুক্ত থাকুন।

 

আফতাব চেীধুরি

সাংবাদিক – কলামিস্ট


Leave a Reply