হেলথি লিভিং

  • 0

হেলথি লিভিং

হেলথি লিভিং

 

হেলথি লিভিং কি ? হেলথি লিভিং বলতে বুঝায় সুস্থ ও নিরোগ দেহে জীবন যাপন। এখন প্রশ্ন নিরোগ দেহ কি সম্ভব ?  অবশ্যই সম্ভব। শুধুমাত্র একজন মানুষ তার জীবন যাপন পদ্ধতি বা দৈনন্দিন কাজকর্ম বা প্রতিদিন সে যে সকল কাজকর্ম করে সেগুলোই যদি একটু সুশৃংঙ্খল নিয়মে করে তাহলেই সুস্থ ও নিরোগ দেহ সম্ভব। হেলথি লিভিংয়ের কিছু টিপস দেয়া হলো-

পানি আমাদের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানবদেহের প্রায় ৮০ ভাগ পানি। সুস্থ জীবনের জন্য পানি অপরিহার্য। কারণ পানি শরীর থেকে বিষাক্ত ও বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয় এবং ত্বক ভালো রাখে। একজন মানুষের প্রতিদিন ৪ লিটার পানি পান করা উচিত। তবে, খাবার গ্রহণের মাঝে পানি না খাওয়াই ভাল। কারণ খাবার গ্রহণের মাঝে পানি খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীরে হয়। খাবার গ্রহণের আগে বা পরে পানি পান করা উচিত। খাদ্য তালিকায় প্রচুর ফলমুল এবং শাক সবজি রাখুন। সংরক্ষিত খাবার না কিনে তাজা এবং ফ্রেশ খাবার কেনার চেষ্টা করুন। বাংলাদেশ ষড় ঋতুর দেশ। এ কারণে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন রকম ফল পাওয়া যায়। সম্ভব হলে দেশীয় ফল প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করুন। কারণ ফলমুল এবং শাক সবজিতে বিদ্যমান এন্টি অক্সিডেন্ট দেহকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

খাবার তেলে না ভেজে সেদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস করুন। রান্নার সময় তেল, ঘি, পানির খুব কম পরিমাণে ব্যবহার করুন।

সাদা ময়দার পরিবর্তে বাদামী আটা, চর্বি মুক্ত মাংস, সাদা চিনির পরিবর্তে ফ্রেশ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

শসা অর্থ্যাৎ বীজ জাতীয় এবং আশযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন। বীজ স্প্রাউট বা অঙ্কুরিত করে খেতে পারেন। অঙ্কুরিত বীজ উৎকৃষ্ট মানের এন্টি অক্সিডেন্ট এবং আশ সমৃদ্ধ। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ রঙের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন- সবুজ রঙের শাক সবজি,  হলুদ রঙের গাজর বা মিষ্টি কুমড়া, সাদা রঙের শালগম, মূলা, পেয়াজ, রসুন, লাল রঙের টমেটো, চেরি বা আঙ্গুর এ রকম বিভিন্ন রঙের ফলমূল সমন্বিত ভাবে গ্রহণ করলে এ সমস্ত ফলমূল থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ লবণ, ও এন্টি অক্সিডেন্ট দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

খাবার খাওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন পরিমাণ বেশি খেয়ে না ফেলেন। অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত অবস্থায় মানুষ বেশি খেয়ে ফেলে। তখন শারীরিক ও মানসিক উভয় প্রকার সমস্যা দেখা দেয়। খেয়াল রাখবেন ২টি খাবারের মধ্যবর্তী সময় যেন ৪ ঘন্টার বেশি না হয়। অল্প করে দিনে বারবার খান। যেমন সারাদিনের খাবারকে ৫/ ৬ টি ভাগে ভাগ করে খেতে পারেন।

কাজের ফাকে অনেকে চা বা কফি পান করতে পছন্দ করে। কারণ চা বা কফি ক্লান্তি দূর করে চাঙ্গা করে কাজ কর্মে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে। তবে, ‍দুধ চা বা কফি ত্যাগ করে হারবাল চা (জিনসেং, ফেনেল, তুলসী, পুদিনা) গ্রহণ করা উচিত। কারণ হারবাল চা হার্ট ভাল রাখে এবং স্থূলতা কমায়। দিনশেষে কাজে চাপে  অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তখন এক মুঠো বাদাম ( আমন্ড, পেস্তা, কাজু, চিনাবাদাম, বা আখরোট) খান। বাদাম পুষ্টি যোগয় এবং বিকেলের ক্লান্তি দুর করে। প্রতিদিন সকালে বা বিকালে এক গ্লাস ফ্রেস ফলের জুস পান করুন। ফলের জুস দেহে শক্তি বৃদ্ধি করে।

কখনো বন্ধু বান্ধব বা সহ কর্মীর প্রভাবে ফাস্ট ফুড বা জাংক ফুড গ্রহণ করবেন না। এর পরিবর্তে বাড়িতে তৈরি খাবার গ্রহণ করুন, বার্গার বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এর পরিবর্তে সালাদ গ্রহণ করুন কারণ ফাস্ট ফুড দেহে চর্বি জমতে সাহায্য করে। সকল প্রকার নেশা জাতীয় দ্রব্য যেমন- অ্যালকোহল ও তামাক জাতীয় পদার্থ পরিত্যাগ করুন। কারণ এগুরো আমাদের কোন উপকার তো করেই না বরং নানা রকম রোগের সূচনা করে। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। ব্যায়ামের ফলে দেহের রক্ত চলাচল ভালো হয় ফলে অক্সিজেন দেহের সকল কোষে পৌছাতে পারে। প্রতিদিন ব্যায়ামের ফলে ব্লাড সুগার ও কোলেস্টেরল লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ত্বকের ছিদ্রগুলো মুক্ত হয়ে যায় ফলে অক্সিজেন ঠিকমত চলাচল করতে পারে এতে ত্বক ভালো থাকে। যদি কাজের চাপে আলাদা করে ব্যায়াম করার জন্য সময় না পান তাহলে যে রাস্তাটুকু রিকশায় চলাচল করতে ন সেটুকু রাস্তা হেটে চলাচল করুন। অফিসে লিফট ব্যবহার না করে সিড়ি দিয়ে ওঠা নামা করুন। যারা দীর্ঘক্ষণ অফিসে কাজ করেন অর্থ্যাৎ ডেস্ক জব করেন তারা কিছুক্ষণ পরপর উঠে একটু হাটুন এবং চেয়ারে রিলাক্স হয়ে বসে গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং প্র্রায় ৫ সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে ধীরে ছাড়ে দেন। এতে শরীর ভালো থাকবে। যথাসম্ভব হাসি খুশি এবং চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। হেলথি লিভিং বলতে শুধু শারীরিক সুস্থতাই বোঝায় না এর সাথে মানসিক সুস্থতাও জড়িত। কথায় আছে “সুস্থ মন সুস্থ দেহ”। মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখার উপায় জানতে আমরা আরও আলোচনা করব।

 

ডা. আলমগীর মতি

বিশিষ্ট হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক।


Leave a Reply