Monthly Archives: February 2019

  • 0

স্মোকিং এবং ড্রাগ

স্মোকিং এবং ড্রাগ

 

স্মোকিং এবং ড্রাগের কবল থেকে নিজের সন্তান কে রক্ষা করবেন কী করে?  কয়েকটি বিশেষ পরামর্শ।

 

সন্দেহটা কিছুদিন ধরেই দানা বাঁধছিল  বিপাশার মনে। কিন্তু আজ দুপুরে ১৮ বছরের মেয়ে টুপুরের জিনস কাচতে দেয়ার সময় ব্যাপারটা পরিস্কার হয়ে গেল । টুপুরেরি হিপ পকেটে পাওয়া গেল একটা দামি সিগারেট আর লাইটার।  টুপুর স্মোক করতে শুরু করেছে।  অথচ আগে কোনও দিন টুপুরের মধ্যে কোনও ধরনের নেশার ছিটেফোটা লক্ষ করেনি বাড়ির কেউ।  দিব্যি আর চারটে  স্বাভাবিক  ছেলেমেয়ের মতো লেখাধুল লেখাপাড়া, দুষ্টামি করেছে।  হায়ায় সেকেন্ডারি পরীক্ষায় ‍৯০% এর বেশি মার্কস পেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং  কলেজে ভর্তি হয়েছে এই মোট মাস ছয়েক্ এর মধ্যেই মেয়ের কী হল কে জানে? কলেজ থেকে ফেরার পর বিপাশা মেয়েকে জিজ্ঞেস করা মাত্র সে বলে উঠল, ‘কই বাবা দাদাকে তো তুমি বারণ কর না? আমার সব বন্ধুরাই তো স্মোক করে। শুধু আমি খেলেই যতো দোষ!’ নির্বাক বিপাশা কী করবে বুঝে উঠতে পারে না।

 

মৃদুলা আর অর্ণবের সমস্য আর ঘোরতর। ওদের একমাত্র ছেলে সম্বুদ্ধ আজ প্রায় দুই বছর ধরে ড্রাগ অ্যাডিক্ট।  স্কুল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে প্রথমবার হেরোইন স্মোক করে। তারপর সেই হেরোইন আস্তে আস্তে গ্রাস করেছে কুড়ি বছরের তরতাজা ছেলেটাকে। পড়াশোনা মাথায় উঠেছে অনেক দিন এখন নিজেকে সারাদিন ঘরে বন্ধ করে ঝিম মেরে বসে থাকে বা ঘুমোয় সম্বুদ্ধ।  অনেক জোর করেও কাউন্সিলিং  বা চিকিৎসার জন্য ওকে রাজি করাতে পারেনি মৃদুলা আর অর্ণব।  ছেলের ভবিষ্যতের চিন্তা করে চোখে ঘুম নেই কারও। সর্বনাশা নেশার কবল থেকে ছেলেমেয়েকে যে কোনওভাবে ছাড়িয়ে আনতে চান যে কোনও মা বাবাই ন্তিু এই জটিল পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিল করা খুবই শক্ত। বয়ঃসন্ধির এর বছরগুলিতে পৃথিবীকে নতুন চোখে দেখার ইচ্ছেটা এতই অদম্য হয়ে ওঠে যে সিগারেট বা ড্রাগকেই নিজেদের সঙ্গী বলে ভেবে নেয়। নিজের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক  জীবনও যে কত বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে এই বয়েসে, তা বোঝা অসম্ভব। তাই বাবা-মায়ের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। ছেলে মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং কিছু বিশেষ ব্যাপারে নজর রাখা টিন এজ পেরেন্টিয়ের অপরিহার্য অঙ্গ।

 

কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ।

  • ব্যবহার পরিবর্তন। একা ঘরে দরজা বন্ধ কওরে বহুক্ষণ থাকা, এক জায়গায় বেশিক্ষণ না বসতে চাওয়া বা উশখুশ করার প্রবণত।
  • নিশ্বাসে, জামাকাপড়ে আর বাথরুম ব্যবহার করার পর তামাকের গন্ধ।
  • মুখের চামড়া কুচকে যাওয়া বা শুষ্ক হয়ে যাওয়া।
  • শুকনো কাশি হওয়ার প্রবণতা।
  • কোনও অসুস্থতা থাকলে, তা সারতে স্বাভাবিকের থেকে বেশি সময় লাগে।
  • খেলাধুলো বা যে কোনও ফিজিকাল অ্যাক্টিবিটি থেকে উৎসাহ চলে যাওয়া।
  • ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার।
  • টাকাপয়সার জন্য মা-বাবাকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া।

 

বাড়ির পরিবেশ।

 

বাড়ির বড়দের দেখে ছোটরা অনেক কিছু শেখে। সিগারেট খাওয়া বা অপরিমিত অ্যালকোহল খাওয়ার বড়দের দেখে ছেলেমেয়েরা খুব সহজেই শিখে ফেলে। সুবিধে মতো অভিযোগের আঙুলও বড়দের দিকে ঘুরিয়ে দেয় তারা।  সমীক্ষায় এও দেখা গিয়েছে যে, যে সব শিশুর বাবা বা মায়ের মধ্যে যে কোনও একজন স্মোকার , বড় হয়ে বড় হয়ে তার সিগারেট খাওয়া বা অন্যান্য নেশা করার সম্ভাবনা বিশ ভাগ বেড়ে যায়।  এই সব পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার জন্যে প্রথম থেকেই বাড়ির ছোটদের সামনে স্মোক করা থেকে বিরত থাকুন।  এতে বাচ্চাও প্যাসিভ স্মোকিং থেকে মুক্তি পাবে। বদ্ধ জায়গায়, বেডরুমে বা গাড়িতে কখনওই স্মোক করবেন না। সন্তান প্রাপ্ত বয়স্ক  হয়ে গেলেও তাকে সিগারেট আফার করবেন না । স্কোম করার অভ্যেস  থাকলেও সিগারেট  প্যাকেট এমন জায়গায় রাখবেন না যেখানে বাচ্চার সহজেই হাত পায়।

 

বন্ধুদের প্রভাব।

 

এমন একটা বয়েসে আমরা সবাই পেরিয়ে এসেছি যখন বন্ধুদেরই সবচেয়ে কাছের লোক মনে হয়।  বন্ধুদের কথা বেদবাক্যের সামিল। এই বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সিগারেট বা ড্রাগের শোয় আক্রান্ত হয় অধিকাংশ টিন এজার।  বন্ধুদের প্রভাব থে কে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে একা একা বেড়ে ওঠা সম্ভব নয়।  তবে আপনার সন্তানের মধ্যে ছেলেবেলা থেকে একটা নিজস্বাতা আপনি গড়ে দিতেই পারেন যা ওকে বন্ধুদের  কপরামর্শ থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।  ছেলেবলা থেকে বোঝান যে, কোনওরকম নেশাই মানুষকে তার ক্রীতদাস বানিয়ে রাখে।  নেশা কখনওই কোন ধরেনের গ্ল্যালামার বা রোম্যান্সের  ‍উপকরণ হতে পারে না। কাউকে ইম্প্রেস করার জন্য নেশার দ্বারস্থ হওয়াও নেহাতই বোকামি। যে কোন নেশার কুপ্রভাব নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা বা ইন্টরনে সার্ফ করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন একসঙ্গে। অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারা যে বড় হওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, সেটা ওকে বুঝতে সাহায্য করুন।

 

 

’না’ বলতে শেখা।

 

আপনার সন্তান ’না’ বলতে তখনই শিখবে যখন যে নিজের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হবে। একে কনিফিডেন্ট করে তোরলার কাটা আপনার।  ছোটবেলা থেকে ওকে অন্যদের মতো হওয়ার অনুপ্রেরণা না দিয়ে ওর যা করতে ভালবাসে সে দিকে উৎসাহ দিন। হবি, খেলাধুলো, কো-কারকুলার  অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে ও নিজেকে অন্যদের থেকে ছুটি নিয়ে দিনটা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। অলাদা মনে করবে।  ফলে বন্ধুদের ইচ্ছেঅনিচ্ছার  সঙ্গে সবসময় একমত হওয়ার দায় ওর থাকবে না।  এসব ছাড়াও স্মোকিং বা ড্র্রাগস সংক্রান্ত  বেসব অনুরোধ  বা ঠাট্টা বন্ধুদের তরফ থেকে ওর দিকে আসতে পারে, সেগুলো মোকাবিলা করার জন্যে কী বলতে হবে, সেটাও ওকে ধীরে ধীরে শিখিয়ে দিন। প্রতিদিন কিছুটা সময় ওর সঙ্গে কাটান ।  স্কুলের বন্ধু, পাড়ার বন্ধু সবার সম্বন্ধে খোঁজখবর নিন।  তাহলেই আপনার সন্তানকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারবেন।

 


  • 0

সপ্তাহে ১ টি সুঅভ্যাস

সপ্তাহে ১ টি

 

হ্যা, প্রতি সপ্তাহে মাত্র একটি করে সুঅভ্যাস যোগ করুন আপরনার রোজকার জীবনযাত্রায়। নিজে তো ভাল থাকবেনই, সেই সঙ্গে পরিবা রের সবাইকে নিয়ে সুখ থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। জীবনটাকে একটু গুছিয়ে নেওয়ার সহজ পরামর্শে শর্মিলা বসুঠাকুর। 

“Read More”

  • 0

শীতের সময়ে রুক্ষ চুলের সমস্যা

শীতের সময়ে রুক্ষ চুলের সমস্যা

 

শীত পড়ারর শুরু থেকেই যত্ন নিন চুলের। রুক্ষ ও শুষ্ক চুলের জন্য রইল একটি বিশেষ আলোচনা।

 

শীতের টান আস্তে আস্তে পড়তে শুরু করেছে। ‍যদিও আমাদের এই গ্রীষ্মপ্রধান দেশে শীতের স্বল্প স্থায়িত্ব আমাদের সবার কাছেই স্বাদর অভ্যার্থনা পেয়ে থাকে, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে আসে বেশ কিছু সমস্যাও। এই শিতের হাওয়া গায়ে লাগার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় ত্বক ও চুল সংক্রান্ত নানা সমস্যা।  সবারই যে হয় এ কথা বলছি না। কারও কারও ক্ষেত্রে তো শীতের সময়ে ত্বক ও চুলের সব সমস্যা মিটে যায়।  তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক ও চুল নিয়ে আমাদের চিন্তা আরও দশগুণ বেড়ে যায়।

কিন্তু চুলের সমস্যা নিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ার কিছু নেই । আজ থেকেই শীতের জন্য বিশেষ যত্ন নিতে শুরু করুন। দেখবেন শুষ্ক চুল অথবা খুশকি কোনও টাই আর সমস্যা হয়ে দেখা দেবেনা । কী ভাবে যত্ন নেবেন তাই ভাবছেন তো! আসলে সত্যি বলতে কি নানা জায়গায় নান রকম টিপস পড়ে আপনি বেশ কিছুটা কনফিউজড হয়ে পড়েছেন। কি, টিক বললাম তো? অত চিন্তা করতে হবে না। কয়েকটি সহজ উপায়ের সমাধান দিলাম যা একবার ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। তা হলে আর অপেক্ষা কীসের? আজ থেকেই শুরু করে দিন। দেখবে এই শীতে আপনার চুল নিয়ে আর কোনও সমস্যাতেই পড়তে হচ্ছেনা।

 

সঠিক শ্যাম্পু বেছে নিন

 

এই কথাটা শুনে মনে হতেই পারে যে এটা আবার নতুন কী কথা! আছে কিছু নতুন তথ্যও । একটু ধৈর্য ধরুনই না ।

 

সারা বছর আপনার চুল মোটামুট ঠিকই থাকে, নর্মাল কিংবা অয়েলি হেয়ার বলতে যা বোঝায় আরকি! কিন্তু শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চবুল রুক্ষ হতে শুরু করে । এমনকি আপনার অয়েলি হেয়ারও তার স্বাভাবিক ময়েশ্চার হারিয়ে শীতে হয়ে পড়ে রুক্ষ।

 

তবে আপনি কিন্তু বছরের অন্য সময়ে যে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন শীতেও ওই শ্যাম্পু ব্যবহার করে চলেন। শীতের রুক্ষতা থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য নিয়মত করে উইন্টার কেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করেলেও চুলের ক্ষেত্রেও যে এই পরিবর্তন প্রয়োজন এই কথাটা যেন মাথাতেই আসে না! তাই বলছি এই ব্যবহারে পরিবর্তন আনুন।

 

শীতকালে ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ব্যবহার করেছেন বলেই যে কন্ডিশনারের প্রয়োজন নেই এটা ভেবে বসবেন না আবার। তবে ’লিভ অন’ কন্ডিশনার লাগাবেন না কি ‘ওয়াশ অফ’ সেটা আপনার উপর নির্ভরকরেছে । চাইলে কোনও বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শও নিয়ে নিতে পারেন। আরও  একটা কথা – শ্যাম্পু থেকে গেলে চুল আরও রুক্ষ হয়ে যায়।

 

খাওয়া দাওয়ার দিকে বিশেষ খেয়াল

 

বাইরের যত্নের সঙ্গে সঙ্গে ভিতর থেকেও চুল হেলদি রাখার প্রয়োজন আছে। এর জন্য প্রয়োজন হেলদি অ্যান্ড ব্যালেন্সড ডায়াট। কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনের সঠিক ব্যালেন্স আপনার চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। এর সঙ্গে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্যে প্রচুর পরিমাণে জল খান এবং অবশ্যই একটি করে মরশুমি ফল যে থাকে আপনার ডায়েটে।

 

হেলদি হেয়ার

 

হাতের কাছে রাখুন

  • শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার টয়লেট বক্সে রাখুন ডিপ কন্ডিশনিং শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার।
  • সপ্তাহে অন্তত দু’দিন আমন্ড অয়েল এবং নারকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে গরম করে স্ক্যাল্পে মাসাজ করুন্
  • আমলকীও কন্ডিশনারের কাজ করে। মাসে দু’দিন আমলকী ও টক দিই এক সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় লাগান। ২০ মিনিট মতো লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

 

হেয়ার ড্রায়ার

 

শীতকাল চুল শুকোতে একটি বেশি সময় লাগেই। তা বলে কথায় কথায় হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না। এতে চুলের শুষ্ক ও ভঙ্গুর  হয়ে পড়ার সমভাবনা আরও বেশ খানকটা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে স্ক্যাল্পও শুষ্ক হয়ে যায় এবং খুশকির সমস্যাও বেড়ে যায়। তাই শীতকালে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার যাতটা সম্ভব এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।  একান্তই প্রয়োজন হলে চুলের থেকে বেশ খানিকটা দুরত্বে রেখে ব্লো ড্রাই করুন। এতে সরাসরি তাপ লাগে না।

 

হেয়ার স্পা

 

শীতের শুরুতেই একবার ডিপ কন্ডিশনিং স্পা করিয়ে নিন। আর সুযোগ হলে পরো শীতকাল ধরে মাসে অন্তত একবার সালতে গিয়ে ডিপ কন্ডিশনিং স্পা অথবা রুট নারিশিং অয়েল মাসাজ করিয়ে নিন। এতে চুলের স্বাস্থ্য নিয়ে আপনাকে আর দুঃচিন্তা করতে হবে না।

 

হেয়ার কেয়ার

 

পেশায় ব্যস্ত প্রফেশনাল বা উঠতি মডেল? চুল নিয়ে নানারকম এক্সপেরিমেন্টেশনের হদিশ দিচ্ছেন রুপ বিশেষজ্ঞ শেহনাজ হুসেন।

 

  • আমি পেশায় একজন উঠতি মডেল। পেশাগত কারণে আমায় চুল নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টেশন করতে হয়। তাই বর্তমানে আমি হেয়ার স্ট্রেটনিং করতে চাইছি। ঘরোয়া কোনও উপায় বললে ভাল হয়।

তুলিকা বসু, মালিবাগ, ঢাকা।

 

বাড়িতে হেয়ার স্ট্রেটনিংয়ের জন্য হ্যান্ড ড্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন। তবে শ্যাম্পু করলে চুল আর স্ট্রেট থাকবে না। হ্যান্ড ডেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করার জন্য চুল ধুয়ে ভিজে অবস্থায় চুলটিকে কয়েকভাগে ভাগ করুন।  এরপর চিরুনি বা ব্রাশ দিয়ে চুলের ডগার দিকটা স্ট্রেট করে ধরুন।  নীচের দিক থেকে ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকনো করুন। এই একই পদ্ধতি চলের প্রতিটি ভাগে অ্যাপ্লাই করুন। অন্তত ছয় ইঞ্চি দূরে ড্রায়ার ধরবেন।  তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মাথায় রাখা জরুরি। হেয়ার ড্রায়ার অতিরিক্ত ব্যবহার করলে চুল শুষ্ক হয়ে যায়।

 

  • আমার বয়স ২৫ । মুখটা ওভাল- শেপড। আমি নতুন কিছু হেয়ার কাট ট্রাই করতে চাই। আমার মুখের সঙ্গে মানানসই কিছু হেয়ারকাট বলে দিলে ভাল হয়।

নিঝুম, কলাবাগান, ঢাকা।

 

ওভাল-শেপড মুখের সঙ্গে প্রায় সব ধরণনর হেয়ার কাটই মানানসই হয়। এখন লেয়ারড হেয়ার স্টাইল বেশ জনপ্রিয়। এটি এখন রীতি মতো ট্রেন্ডি। আপনার চুল যদি কাঁধের থেকে একটি লম্বা হয়, তাহলে এধরনের চুলের স্টাইল বেশ ভালই লাগবে। চুলের নীচের অংশে লেয়ার থাকলে ভাল হয়। সাই-সোয়েপ্ট ফ্রিঞ্জও আপনার মুখে মানানসই হবে। চয়েস আপনার হাতে।

 

  • আমার বয়স ২৩ । আমার চুল খুবই পাতলা ও ভঙ্গুর। দৈনন্দিন ব্যস্ততার ফলে চুলের সঠিক পরিচর্যা করারও সময় হয় না । ফলে চুলের অবস্থার দিনদিন অবনতি হচ্ছে। কী ভাবে শক্ত ও ঘন চুল পাব জানালে ভাল হয়।

বিল্কিস বেগম, রাজশাহী।

ভঙ্গুর চুল সাধারণত খুব শুষ্ক হয়। এর মোকাবিলা করার জন্য একভাগ ক্যাস্টর তেলে র সঙ্গে দু’ভাগ নারকেল তের মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটিকে গরম করে নিন।  এবার এই গরম করে নেয়া মিশ্রণটিকে চুলে লাগান । চুলের গোড়ায় অবশ্যই ভাল করে লাগিয়ে নেবেন।  আঙ্গুলের ডগা দিয়ে আস্তে আস্তে মাথার তালুতে মাসাজ করুন ছোট ছোট সারকুলার মোশনে মাসাজ করুন। এটি রক্স সঞ্চালনে সাহায্য করে। সারা রাত ক্যাস্টর আয়েল মাথায় লাগিয়ে রেখে দিন। পরের দিন প্রচুর পরিমাণে জল চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার সময় অবশ্যই কোনও হালকা হারবাল শ্যাম্পু  ব্যবহার করবেন। খুব গরম জল ব্যবহার করবেন না। চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। এক্ষেত্রে সব সময় চুলের ডগা থেকে শুরু করে উপরে উঠবেন।  নিয়মিত কন্ডিশনিং করা একান্ত জরুরি। হেয়ার কন্ডিশনার ও কোনও ভাল কোম্পানির ডেয়ার সিরাম চুল নরম করতে সাহায্য করে। এরটি চুলের উজ্জলতা বাড়াতেও সাহায্য করে।  এটি চুলের যাবতীয় প্রতিকূলতার হাত থেকে রক্ষাও করে। শ্যাম্পু করার পর ক্রিম-যুক্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করুন্ অল্প পরিমাণ কন্ডিশনার হাতের তালুতে নিয়ে হালকা করে মাসাজ করুন।  মিনিট দুয়েক রেখে দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। চুল খুব শুষ্ক হলে একেবারে সব কন্ডিশনার ‍ধূয়ে ফেলবেন না। এছাকড়া কোন ও ’লিভ-অন’ কন্ডিশনার বা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।  একিইভাবে ব্যবহার করুন, কিন্তু ধুয়ে ফেলবেন না।  আপনার চুল যদি খুবই রুক্ষ, অঙ্গুরআর শুষ্ক হয়, তবে একটি ডিম, দুই টেবিল চামচ ক্যাস্ট অয়েল ও একটি গোটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই পুরো মিশ্রণটি মাথার তালুতে ও চুলে ভাল করে মাসাজ করে নিন। আধ ঘন্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন।  চুল ধুয়ে ফেলবেন, যাতে চুলের  গোড়ায় কোনও প্রডাক্টর অবশিষ্টাংশ জমে না থাকে।

 


  • 0

বুকের দুধ – ব্রেস্ট ফিডিং

ব্রেস্ট ফিডিং বা বুকের দুধ খাওয়ান

মায়ের দুধই শিশুর পুষ্টি।

  • আমার বাচ্চার বয়স বিশ দিন। এখন কি বাইরের কৌটার দুধ খাওয়াতে পারি?

সুচেতা মেহেরপুর।

এই সময় বাইরের দুধ না খাওয়ানোই বাঞ্জনীয়। মায়ের বুকের দুধই হল শিশুর একমাত্র খাবার। মায়ের দুধ শিশুকে শুধু পুষ্টিই দেয় না, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও গড়ে তুল তে সাহায্য করে শিশুর দেহে। এমনকী মায়ের স্বাস্থ্যও ভাল থাকে এতে।

 

মায়ের বুকের দুধের কোনও বিকল্প নেই। প্রথম ছয় মাস কেবল বুকের দুধ, সঙ্গে একফোঁটাও জল নয়। এতে শিশুর রোগ প্র্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মা ও শিশুর মধ্যেও বন্ধন স্থাপন করে। শিশুর আই কিউ লেভেল বাড়তে সাহায্য করে। আন্ত্রিক, উচ্চ রক্তচাপ ও নানা অসুখ থেকে শিশুকে রক্ষা করে।        

 

  • আমার বাচ্চার বয়স দেড় মাস। আমি প্রায়ই অম্বলে কষ্ট পাই। এছাড়া মাথা ধারা ও পেটের গন্ডগোল তো লেগেই আছে। অ্যান্ডাসিড, প্যারাসিটামল খেতে হয় মাঝে মাঝে । এই অবস্থায় বাচ্চাকে কি বুকের দুধ দেব? কোনওরকম ক্ষতির সম্ভাবনা নেই তো?

দীপিকা সেন, মিরপুর, ঢাকা।

 

আপনার যে সমস্যা থাকুন না কেন বাচ্চাকে দুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ ব্যবহার করুন। বাচ্চার কথা জানলে আপনার চিকিৎসক সেই ধরনের ওষুধ দিবেন। তবে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধে খুব একটা ক্ষতি করে না। মনে রাখবেন মায়ের বুকের দুধের কোনও বিকল্প হয় না।  প্রথম ছয়মাস কেবল বুকের দুধ, সঙ্গে একফোঁটাও জল নয়।  এতে শিশুর রোগ প্র্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মা ও শিশুর মধ্যেও বন্ধন স্থাপন করে। শিশুর আই কিউ লেভেল বাড়তে সাহায্য করে। আন্ত্রিক, উচ্চ রক্তচাপ  ও নানা অসুখ থেকে শিশুকে রক্ষা করে।

 

  • সারাদিন বাচ্চাকে কতক্ষণ দুধ খাওয়ানো যেতে পারে? এর কি সঠিক কোনও নিয়ম আছে?

রেশমি চক্রবর্তী, কুমিল্লা

বাচ্চা যখনই খেতে চাইবে তখনই খাওয়ানো যেতে পারে। তবে সাধারণত চব্বিশ ঘন্টায় আট থেকে বারবার ফিডিং করানো উচিত। সাধারণত দেখা যায় বাচ্চারা দুই থেকে তিন ঘন্টা অন্তর খায়।

 

  • ফিডিংয়ের আগে একজন মা কী ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন?

সোমা সরকার, মুন্সিগঞ্জ

বাচ্চাকে ফিডিং করার আগে মা যদি লিকুইড জাতীয় খাবার খান তাহলে ভাল হয়। যেমন ফলের রস, দুধ, শরবত, ডাবের জল ইত্যাদি। মায়ের একটু বেশি পরিমাণে জল খাওয়া উচিত।  ফিড করার আগে ব্রেস্টে চাপ দিয়ে একটু বের নিপলের চারপাশটা মুছে ফেলা উচিত। এর পর বাচ্চাকে খাওয়াতে শুরু করা উচিত।  কিছুক্ষণই খেয়ে বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়ে।  তখন পায়ে টোকা দিন যাতে ওর ঘুম ভাঙ্গে। ঘুম ভাঙ্গে গেলে বাচ্চা আবার খাওয়া শুরু করবে। এভাবে ত্রিশ মিনিটের মতো সময় লাগবে। খাওয়ানো হয়ে গেলে বাচ্চাকে বুকের উপর চেপে ধরে পিঠে হালকা করে চাপ দিন। দেখবেন বাচ্চা ঢেকুর তুলবে। এরপর বিছানায় এক দিক কাত করে শুইয়ে দেবেন।  কখনওই চিৎ করে শোয়াবেন না।

 

  • আমার বাচ্চা দুধ খেলেই পটি করে। সারাদিন অনেকবার করে। এটা কি স্বাভাবিক?

মৌলি সেনগুপ্ত, ঢাকা

হ্যা, এটাই স্বাভাবিক। নবজাত শিশুরা সরাদিনে বার থেকে চৌদ্দ বার পটি করতে পারে। পটির কালার ও অন্যরকম হতে পারে। কখনও হলুদ, কখনও বা সবুজ। কখনও বা পটিতে দুর্গন্ধ হয়। এতে ভয়ের কিছু নেই।

 

  • আমি সদ্য মা হয়েছি চাকরি করি। এছাড়া অনেক সময়ই নান কাজে বাড়ির বাইরে যেতে হয় ফলে নিয়ম করে ফিড করানো সম্ভব নয়। কী করব?

অজন্তা মিত্র, দিনাজপুর

যাঁরা চাকরি করছেন ব বিভিন্ন কাজে দূর্ঘসময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে বাচ্চাকে ঠিক ঠিক সময় মতো ফিড করানো একটু সমস্যা তো বটেই। তবে সে ক্ষেত্রে বাইরে যাওয়ার আগে বুকের দুধ বের করে ছোট ছোট দুই- তিনটি  বোতলে ভাগ করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। বাচ্চার খিদে পেলে বোতলটি গরম জলের পাত্রে বসিয়ে সামান্য গরম করে বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন।  তবে যে বোতলে দুধ রাখছেন তা যেন ভীষণ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়, সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

 

  • আমি নতুন মা হয়েছি। বাচ্চাকে ফিড করালে কি ব্রেস্টের শেপটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে?

টুম্পা মুখোপাধ্যায়, বেহালা, কলকাতা

না। এটা একেবারে ভুল ধারণা। যে মায়েরা বাচ্চাকে ফিড করান, তাদের শেপ আবার ঠিক হয়ে যায়। বরং ফিড কারন না তারাই প্রবলেমে পড়েন।  তবে মায়েদের এই সময় নাসিং ব্রা বা মেটারনিটি ব্রা ব্যবহার করা ভাল।

 


  • 0

বিনা রক্তপাতে কিডনিতে পাথর তাড়ান

বিনা রক্তপাতে কিডনি স্টোন তাড়ান

 

কিডনির পাথির বের করাটা একালের ডাক্তারবাবুদের কাছে জলভাত। কিডনি স্টোনের  সাম্প্রতিকতম চিকিৎস এবং এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সহজ উপায় সম্পর্কে জানাচ্ছেন অক্সফোর্ড স্টোন ক্লিনিকের ইউরোসার্জন।

 

ডাঃ অমিত ঘোষ

শল্য চিকিৎসা ছাড়াই কিডনিতে পাথরের চিকিৎসা

 

কোমরের ব্যথায বেশ কিছু দিন ভুগছিল বরিন। বাড়ির লোক আর নিকট বন্ধুরা বলছিল ওর ওই গাবদা-গোবদা চেহারাই নাকি কোমরে ব্যথার প্রধান কারণ। সকলেই সুযোগ পেয়ে বাড়তি ওজনের খোঁটা দিচ্ছিল। অজস্র পেনকিলার খেয়েও যখন ব্যথার তীব্রতা কমছিল না, তখনই ডাক্তারবাবু এক্সরে করাতে বললেন। আর এর পরই ধরা পড়ল আসল রোগটা । রবিনের কোমর ব্যথার কারণ বাত নয়, ওর কিডনিতে স্টোন হয়েছে- তাই এই অসহ্য ব্যথা।

 

উপসর্গ

রবিনের মতো তলপেট বা কোমরে পিছন দিকে ব্যথা কিডনির পাথরের একটা বড় উপসর্গ।  এছাড়া আরও কিছু লক্ষণ দেখে কিডনেতে পাথরের সম্ভাবনার কথা ভাবা হয়।  যেমন স্টোন এর জন্য বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ হয়, জ্বর থাকতে পারে। প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যাথা হয়, কেউ আবার ঘুমের মধ্যে অসাড়ে বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। কখনও আবাস পিঠের নীচের দিন ব্যথা শুর হয়, সেই ব্যথা ক্রমশ সেখান থেকে সামনের দিকে আসে। এছাড়া স্টোন যদি কিডনি থেকে বেড়িয়ে মূত্রনালিতে গিয়ে বেকায়দায় আটকে যায় তখন প্রচন্ড যন্ত্রণা হয়। এ সময় প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গিয়ে এমাজেন্সি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ও থাকে।  প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বেরুতে পারে, ইউরোলজির ভাষায় একে বলা হয় হিমাচুরিয়া।

 

এইসব উপসর্গ দেখা গেলে রোগী বেশি কষ্ট পায় ঠিকই কিন্তু আখেরে রোগীরই উপকারই হয়। কেননা এর ফলে রোগটাধার পড়ে চট করে, কিডনি স্টোনের সবচেয়ে বড় মুশকিলটা হল প্রায়ই এ রগের কোন রকম নির্দিষ্ট উপসর্গ থাকে না। এ ধরনের সাইলেন্ট স্টোনের ক্ষেত্রে যখন ধরা পড়ে তখন অনেক দেরি হয়ে যায়, মানে কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে, রোগটাও জটিল হয়ে উটতে পারে। কিডনি স্টোন এর বেলায় অনেক সময়ই এরকম হতে পারে । এ ক্ষেত্রে কারও কারও পিঠে –কোমরে ব্যথা হয়, ব্যথা কমাতে কেউ বা নিজের ইচ্ছেমত ওষুধের দোকান থেকে অ্যান্টাসিড কিনে খান।  এত বিপদ বেড়ে যায়।  কেননা কিডনি স্টোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা। এ ছাড়া এই পাথর বড় চঞ্চল , এক জায়গায় স্থির থাকে না, চলে ফিরে বেড়ায়।  এর ফলে  কিডনির নেফ্রন আর গ্লোমেরুলাসগুলোর কাজ করতে শুরু করে, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাঝে –মধ্যে এরকম ঘটনাও দেখা গেছে, স্টোনের জন্য কিডনি খারাপ হয়ে গেছে।  আচমকাই ধরা পড়েছে, রাগটা তখন যথেষ্ট বেড়ে গেছে। অবশ্য স্বাস্থ্য সচেতনা বাড়ায় েইদানীং এ ধরনর ঘটনার প্রবণতা কমছে।  কেননা ক্রনিক পেটের সমস্যা হলে চিকিৎসকেরা গলব্লাডারস্টেটানের আশঙ্কা করে আলট্রা সনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন।  তখনই ধরা পরে পিত্তথলিতে নয় পাথর জন্মেছে কিডনিতে। তাই এই রকম উপসর্গ দেখা গেলে দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ বাঞ্জনীয়।

 

কেন কিডনিতে পাথর হয়।

ইউরোলজিস্টদের কাছ এটাই এখন লাখটাকার প্রশ্ন। আসলে কিডনি আমাদের শরীরের ছাঁকনির কাজটা করে।  রক্তের যাবতীয় বর্জ্য পদার্থ ও বাড়তি জলকে শরীর থেকে বের করে দিয়ে রক্ত প্রবাহেকে শুদ্ধ রাখাই কিডনির অন্যতম কাজ।  এ ছাড়া দেহের ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিকঠাক রাখার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত তৈরি ও হাড় শক্ত রাখা কিডনির গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে পড়ে। পাথর জমলে এই কাজগুলো ব্যাহত হয়। আসলে কিডনির স্টোনের ব্রাপরটা কিছুটা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। আবশ্য ঠিক একটা নির্দিষ্ট কারণকে কিডনিতে পাথর জমার জন্য দায়ী করা যায় না। কিডনি স্টোন মাল্টিফ্যাক্টোরিয়াল ডজিজ, কিনির ফিলট্রেশন মেকানিজমের ত্রু টি অর্থাৎ রক্তের বিষেশ কয়েকটি দূষিত পদার্থকে কিডনি ছাকতে ব্যর্থ হয়- এই রিস্ক ফ্যাক্টরটি পুরোপুরি জন্মসূত্রে পাওয়া।  এই ধরনে গত ত্রু টি  থাকলে অক্সালেট, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম, ফসফেট ইত্যাদি খনিজগুলির একটি না একটি কিডনির মধ্যে জমতে শুরু করে। এই জমে যাওয়া মিনারেল গুলোই কমশ জমে পাথর তৈরি হয়। এ ছাড়া শরীরের প্যারাথাইরয়েড হমমোনের তারতম্য  হলে এবং কিছু কিছু  বিপাকীয়  ত্রু টির ফলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে থাকে।  এর থেকেও কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে।  যারা কোনও রকম ব্যথা-বেদনা সহ্য করতে পারেন না এবং মুঠোমুঠো ব্যথা কমানোর ওষুধ খান, তাদেও কিডনি স্টোনের আশঙ্কা যায় বেড়ে।  এ ছাড়া জল কম কম পানের সঙ্গে বৃক্কে পাথর জমার একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে সে কথা সকলেরই জানা।  বিশেষ করে আমাদর এই গরমের দেশে জল কম খেলেই বিপদ।  প্রস্রাবের  নানা রকম সমস্যা তো আছেই, কিডনিতে সোটান জন্মানোরা চান্সও বাড়ে। যাঁরা অতিরিক্ত মাংস খান অর্থাৎ হাই প্রোটিন ডায়েটে অভ্যস্ত তাদেরও কিডনিতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

কাদের বেশি হয়।

এ রোগ কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। আট থেকে আশি যে কোন বয়সের ই  কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে।  এখন পশ্চিমবঙ্গে কিডনির স্টোন এর রোগীর সংখ্যা আগের  থেকে অনেক বেড়েছে।  দেখা গেছে যুবেকদের মধ্যে এই অসুখের প্রবণতা বেশি।  অর্থাৎ কুড়ি থেকে চল্লিশ বছর বয়সীরা রোগে  বেশি আক্রান্ত হন।  পাহাড়ি এলাকায় পাঁচ থেকে বার বছর বয়সী বালদের এ রোগ এ ভুগতে হয় প্রায়ই।  অবশ্য মেয়েরাও খুব একটা পিছিয়ে নেই। গত দশ-পনেরো  বছরে কিডনি স্টোন এ আক্রান্ত মহিলাদের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।  গরম ও শুকনো আবহাওয়া কিডনি স্টোন এর একটা বড় কারণ।  তাই উত্তর ভারতের মানুষজনের মধ্যে কিডনি স্টোনের প্রবণতা অনেকটাই বেশি।  এ ছাড়া যাঁরা থাইরয়েডের অসুখ ভুগছেন(হাইপোথাইরয়েডিজম) এবং রেনাল টিউব্যুলার অ্যাসিডের মতে বিরল অসুখ আক্রান্ত, তাঁদের কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি।  এছাড়া অতিরিক্ত ভিটামিন সি খেলে, মুড়ি মুড়কির মতো ক্যাসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড খেলে কিডনি স্টোনের সম্ভাবনা বহু গুণ বেড়ে যায়।  কনস্ট্রিপেশন থাকলে এবং ইউরিক এসিড মেটাবলিজমের অসুবিধে থাকলে কিডনিতে পাথর জমার সম্ভাবনা বাড়ে সে কথা বলাই বাহুল্য।  প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নুন-চিনি খেলেও কিডনি স্টোন হতে পারে।

ভয় পেলেন নাকি? আসলে উপরোক্ত কারণগুলো থাকলেই যে কিডনি পাথরভারাক্রান্ত হবে তার কোন মানে নেই। তবে যে কারণগুলি এড়িয়ে চলা সম্ভব সেগুলো এড়িয়ে চলাই উচিৎ নয় কি? তবে সাবধানের মার নেই। কোনও রকম উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

 

কী করবেন

প্রথমে তো অবশ্যই ডাক্তারবাবুর কাছে যাবেন। ডাক্তারবাবু প্রথমে এক্সরে করে দেখবেন। এরপর প্রয়োজন মতো আলট্রাসনোগ্রাফি ইন্ট্রাভেনাস  পাইলোগ্রাফি অর্থাৎ আই ভি পি করতে হতে পারে। সঙ্গে প্রস্রাব ও রক্তের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা  করতে হতে পারে।  (যেমন-হিমোগ্লোবিন, ইউরিক অ্যাসিড, ইউরিয়া ক্রিয়েটিনিন, টিসি ডিসি, বিটি, সিটি, অ্যালবুমিন ইত্যাদি) খুব প্রয়োজন হলে কিডনির স্ক্যান করানোরও প্রয়োজন হতে পারে।  এরপরই ঠিক করা হয় কী ধরনের ট্রিটমেন্ট হবে। তবে এটা ট্রিটমেন্ট নিজেই করতে পারেন। ত হল প্রচুর পরিমানে জর খাওয়া ।  স্টোন যদি ছোট হয় তবে স্রেফ জলের তোড়ে ভাসিয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেওয়া সম্ভব হয়।  হ্যাঁ স্টোন এর সাইজ সাত মিলিমিটারের থেকে কম হলে এবং নিয়ম করে দু তিন লিটার জল পান করতে পারলে প্রস্রাবের সঙ্গে পাথর বেড়িয়ে যাবে।  যাদের স্টোন হয়েছিল বা বাড়িতে ( বাবা-কাকা-মামাদের) কিডনি স্টোনের ইতিহাস আছে, তারা নিয়ম করে দু-আড়াই লিটার জল পান করবেন।  সমস্যার হাত থেকে এড়াতে পারবেন সহজেই।

 

কাটাছেঁড়া ছাড়াই স্টোনমুক্তি

মেডিকেল সায়েন্স যে আজ কত এগিয়ে গেছে তার জ্বলন্ত প্রমাণ কিডনি স্টোন এর লিথোট্রিপসি। লিথোট্রিপসি নামে এক বিশেষ ধরনের মেশিনের সহায্যে শকওয়েভ দিয়ে (পেটের ওপরে একটা যন্ত্রাংশ বসিয়ে) পাথর গুড়ো করে দেওয়া হয়।  কিছুদিনের মধ্যেই এই গুড়ো হয়ে যাওয়া  পাথর প্রস্রাবের সাথে বাইরে বেরিয়ে যায়।  তার জন্য কোন রকম কাঁটাছেড়া এমনকি ইঞ্জেকশন দেওয়ারও প্রয়োজন হয় না।  অর্থাৎ সাঙ্ঘাতিক রোগ কিডনির পাথর তাড়াতে একফোটাও রক্তপাত হয় না যদি লিথোট্রিপসির সাহায্য নেওয়া যায়।  ইদানিং লেটেস্ট জেনারেশনের ডর্নিয়ার কম্প্যাক্ট আলফা লিথোট্রিপটর মেশিনের সহায্যে কোমর অথবা পিঠের ওপর দিক থেকে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক শকওয়েভ পাঠিয়ে আধ ঘন্টা থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যেই পাথর গুড়া করে দেওয়া হয়।  এর পর আধা ঘন্টার মধ্যেই রুগি হেটে বাড়ি চলে যেতে পারেন। বলাই বাহুল্য এই পদ্ধতিতে স্টোন গুড়ো করার সময় রোগীকে অজ্ঞান তো করা হইনা, এমনকি লোকাল অ্যানস্থেশিয়ারও কোন প্রয়োজন হয় না।  তিন সেন্টিমিটার পর্যন্ত যে কোন আকৃতির স্টোনকেই লিথোট্রপসির সাহয্যে গুড়ো করে দেয়া যায়।  বড় স্টোন হলে অনেক সময় একটা  সিটিং এ কাজ নাও হতে পারে দু-তিনটে সিটং লাগতে পারে।  খরচও খুব বেশি নয় – বার হাজার থেকে পনেরো হাজার টাকার মধ্যে  তবে লিথোট্রিপসির পরে শর্ত মেনে চলতেই হবে। হ্যাঁ তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার জল না খেলে কিন্তু গুড়ো হওয়া স্টোন বরুতে অসুবিধে হয়।  আর তিন সেন্টিমিটারের থেকে বড় পাথর হলে আর লিথোট্রিপসি সম্ভব নয়।

 

 

অন্যান্য উপায়

কিডনি, ব্লাডার বা ইউরিনারি ট্র্যক্টের স্টোন বের করার আরও তিনটে পদ্ধতি আছে।  প্রথমত প্রথাগত ভাবে পেট কেটে অপারেশন, ইউটেরোস্কোপি এবং পারকিউটেনিয়াস নেফ্রোলিথোটামি বা P C N L ।  এদের মধ্যে এই পি সি এস এল সাধারণ মানুষের কাছে যা কি হোল সার্জারী নামে বেশি পরিচিত, বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।  তবে কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো পদ্ধতিতে পেট কেটে অপারেশন করাতেই হয়। পি সি এন এল ব্যাপারটা এই রকম- কোমরের পিছন দিকে ঠিক যেখানে কিডনি থাকে সেখানে আধ মতো ছোট্ট ফুটো করে সেখান থেকে বিশেষ একটি যন্ত্র প্রবেশ করিয়ে কিডনির স্টোনটি শকওয়েভের সাহায্যে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়। এর পর অন্য আর  একটি ফুটো করে স্টোনের টুকরো গুলো বাইরে বের করে আনা হয়। মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই রোগী সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারে।  রক্তপাত কম হয় বলে ধকলও খুব কম।  ছোট –বড় মাঝারি সব রকমেরই পাথরকেই পি সি এন এল এর সাহয্যে বের করে দেয়া যায়।  পুরো আপারেশন এর জন্য দু-তিনটে ছোট্ট ফুটো করতে হয়।  তবে একটা শর্ত আছে, পি সি এন এল করাতে গেলে স্টোনটাকে অবশ্যই কিডনির মধ্যে থাকতে হবে।  মূত্রনালি বা ব্লাডারে চলে গেলে ইউটেরোস্কোপির সাহায্য নিতে হবে। পি সি এন এল এর খরচ মোটামুটি বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা।

 

কী করবেন

  • দিনে দুই থেকে আড়াই লিটার জল পান করবেন, বিশেষ করে গরমের দিনে।
  • চিজ, পাঁঠার মাংশ কম খেলে ভাল হয়।
  • প্রস্রাবে কোনও রকম সংক্রমণ হলে এটা-ওটা না করে, নিজে ডাক্তারি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • অনেকে কুলল্থ কলাই ভেজানো জল এবং হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন। এগুলো করতেই পারেন; তবে ‍উপসর্গ বেড়ে গেলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন।
  • বছরে অন্তত একবার আলট্রাসনোগ্রাম করাবেন।
  • খাওয়া দাওয়ার সঙ্গে কিডনি স্টোন এর একটা সম্পর্ক আছে। অবশ্য তার মানে এই নয় যে, একবার কিডনিতে স্টোন হলে খাওয়াদাওয়া ও পরে নান রকম বিধি নিষেধ আরোপ করতে হবে।  স্টোনের ধরন অনুযায়ী কিছু কিছু খাবারদাবার খেতে হবে পরিমাপ মতো।  যেমন-
  • ক্যালসিয়াম স্টোন হলে দুধ ছানা চিজ পালংশাক প্রতিদিন ডিম এইসব খাবার খেতে হবে পরিমাপ অনুযায়ী।
  • অক্সালেট স্টোন হলে কচু, আমলকী, ওল ইত্যাদি না খাওয়াই ভাল।
  • পরিমিত পরিমাণে নুন-চিনি খাবেন। বেশি বেশি চিনি বা নুন থেকে কিডনি স্টোন এর সম্ভাবনা বাড়ে।
  • জল শরবত, ফলের রস(চিনি ছাড়া হলে ভাল হয়।) পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবেন।
  • ইউরিক অ্যাসিড স্টোন হলে মাছ মাংম ডিম খেতে হবে পরিমাপ মতো।
  • রেডমিট, অতিরিক্ত তেল-ঘি-মাখন, ভাজাভুজি খাবেন না। আর এ সব সত্বেও যদি পাথর হয়? তবে অবশ্যেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

 


  • 0

ড্রাই স্কিন ইনফেকশন

ড্রাই স্কিন ইনফেকশন

 

গরমে ও বর্ষায় অতিরিক্ত আদ্রতা ত্বকের সবচেয়ে বাইরের স্তর ‘স্ট্র্যাটাম করনিয়াম’ – এ বাধা দেয়। শীতকালে ঠিক এর উল্টোটা হয়। ষ্ট্র্যাটাম করনিয়াম আবহাওয়ার পরিবর্তনের থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখতে স্ট্র্যাটাম করনিয়াম এই সময়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করে।  তাও শুষ্ক ত্বকে কিছু কিছু সমস্যা থেকেই যায়। কীভাবে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা প্রতিরোধ করেবন সেই নিয়েই এই আলোচনা।

 

শীতে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা

  • শীতকালে বাচ্চাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অ্যাটোপিক ডার্মাইটিস। এটা এক ধরনের একজিমা । এত বাচ্চাদের খুব হাঁচি হয় (অ্যালার্জিক রাইনাটিস) বা ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা দেখা যায়।  এই ডিজিজ অনেক ক্ষেত্রে বংশানুক্রমে দেখা যায়। মা, বাবা, দাদু, ঠাকুমা, বা ভাই-বোনের থেকেও হতে পারে।  এটা ‘জেনেটিকালি ডিটারমিনড স্কিন ডিজিজ’ ।  অ্যাটোপিক ডার্মাইটসের প্রধান সমস্যা হল শুষ্ক ত্বক, যাকে টেকনিকালি কলা হয় ‘ জেরোসিস’
  • আর এক ধরনের স্কিনের সমস্যঅ হর ’ইকথিওসিস’ । এটাও হেরিডিটরি সিকনি প্রবলেম।  ত্বকের ওপর আঁশের মতো স্তর দেখা যায়।
  • এছাড়া দেখা যায় ‘সোরিয়াসিস’ । সারা শরীরে লাল প্যাচ দেখা যায়। স্ক্যাল্পে খুশকি দেখা যায়।
  • অপুষ্টি, হাইপোথাইরয়ডিজম বা ডায়াবিটিসে ভুগলে বাচ্চাদের শীতকালে অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দেখা যায়।

 

অ্যালার্জি ও স্কিন ইনফেকশন

শীককালে শুষ্ক ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা হওয়া বেশ কমন। অ্যাটোপিক ডার্মাইটিস, কনট্যাক্ট, ডার্মাইটিস, ইরিটেন্ট ডার্মাইটিস ও ন্যাপকিন র‌্যাশও হতে পারে। মডারেটর বা লো ডোজের স্টেরয়েড ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার দিয়ে এই ধরনের অ্যালার্জির চিকিৎসা করা হয়। চুলকানোর  জন্যে ওরাল অ্যান্টিহিস্টামিনিকস দেওয়া হয়।

  • ফুল স্লিভড সুতির জামা পরিয়ে রাখুন। যাতে বাচ্চার হাত ও পা ঠান্ডার থেকে সুরক্ষিত থাকে। সিন্থেটিকের কাপড় শুষ্ক ত্বকে ইরিটেশন তৈরি করতে পারে।  সেন্সিটিভ স্কিন হলে উলের জামাকাপড়ও যেন বাচ্চার ত্বককে স্পর্শ না করে।   তখন সুতির জামার ওপর উলের সোয়েটার  পরান। তাহলে সরাসরি উলের জামা বাচ্চার ত্বককে স্পর্শ করতে পারবে না।
  • স্নানের আগে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে ভাল করে মাসাজ করুন।
  • সরষের তেল ব্যবহার করার দরকার নেই। শুষ্ক ত্বকে সরষের তেল থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। সানট্যানের ওপর সরষের তেল লাগলে ইরিটেশন হতে পারে।
  • ময়েশ্চারাইজিং সোপ বা লিক্যুইড সোপ ব্যবহার করুন। ঠান্ডা জলে নয় ঈষদুষ্ণু জলে স্নান করান। ‍
  • স্নানের জলে অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করবেন না। অ্যান্টিসেপটিক সাবানও ব্যবহার করার দরকার নেই। অ্যান্টিস্যাপটিক নর্মাল ব্যাকটেরিয়া গুলো ত্বকের প্রাথমিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
  • যে সব বাচ্চাদের ত্বক খুব শুষ্ক, শীতকালে তাঁদের ঠোট খুব ফাটে,। এই সময় যদি ঠিকমতো যত্ন না নেওয়া হয়, তা হলে ইনফেকশনও হতে পারে । বাচ্চার ঠোট শুকনো মনে হলেই নারকেল তেল লাগাতে পারেন। এ ছাড়াও দুপুরে খাওয়ার পর এবং রাতে শোওয়ার আগে ঠোটে অল্প নারকেল তের লাগিয়ে দিন।  নারকেল তেলে জীবাণু প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আছে, তাই ইনফেকশন হওয়র প্রবণতাও কমে যায়। গ্লিসারিন বা পেট্রোলিয়াম জেলিও ব্যবহার করতে পারে।  এতে ঠোটের নরম ভিজেভাব বজায় থাকে।  ঠোঁট যদি অতিরিক্ত মাত্রায় ফাটতে শুরু করে, ডাক্তারের পরামরর্শ মতো অনুযায়ী প্রয়োজন মতো ওষুধ খেতে হতে পারে।

 

মনে রাখুন

  • বাচ্চাকে প্রতিদিন সাবান দিয়ে স্নান করানো দরকার । এর সঙ্গে সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার শ্যাম্পু দিয়ে বাচ্চার চুল পরিস্কার করুন।  দিনে দুই- তিন বার হাত পা ভাল করে ধুয়ে দিন।  বিশেষ করে বাচ্চা বাইরে থেকে এলে ভাল করে হাত- পা পরিস্কার করে ধুয়ে নিন।
  • বাচ্চাদের মেটালের তৈরি কোন লকেট না পরানোই ভালো। মেটাল থেকে শুষ্ক ত্বকে নানা ধরণের ইরিটেশন হতে পারে। এর পাশা-পাশি মেটালের লকেট যে সুতোয় পরানো থাকে, সেখানে ফাংসার বা ব্যাকটেরিয়া বাসা বাধতে পারে। তাই এই ধরনের জিনিস না পরানোই ভাল।
  • ভাল কোম্পানির ইয়ারবাড ব্যবহার করে কান পরিস্কার করা দরকার কানে ময়লা জমবে না।
  • পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুব জরুরি। নখ ছোট করে কেটে দিন, হাত ও পা হ্যান্ড লোশন দিয়ে ধুয়ে দিন।
  • বাড়িতে পোষ্য না রাখাই ভাল। কারন পোষ্যের লোম থেকে শুষ্ক ত্বকে অ্যালার্জি  হওয়ার প্রবণতা ভীষণ ভাবে বেড়ে যায়।
  • বাচ্চারা যেন খুব বেশি গাছে না হাত দেয়। এর থেকেও ত্বকে অ্যালর্জি হতে পারে।

 

ডায়েট 

  • ত্বক ভালো রাখার জন্যে দরকার ব্যালেন্সড ডায়েট। মানে এমন ডায়েট যেখানে উপযুক্ত পরিমাণে প্রোটিন, ওমেগা থ্রি, ওমেগা ছয় সমৃদ্ধ ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে।
  • সবুজ শাকসবজি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাল কাজ করে। বাচ্চাদের টিফিনে, স্ন্যাকসে নানারকমভাবে সবুজ শাকসবজি দেওয়া খাবার সার্ভকরার চেষ্টা করুন।
  • সিজিনাল ফ্রুটস খাওয়া সব সময়েই ভাল। ফল থেকেও যথেষ্ট পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।
  • জল, ফলের রস যথেষ্ট পরিমাণে খাওয়া দরকার।

 

লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট

  • বাইরে খুব বেশি ঠান্ডায় বাচ্চাকে না নিয়ে যাওয়াই ভাল। আউটডোর অ্যাক্টিভিটি যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করুন।  শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ার সংস্পর্শে ত্বকের রুক্ষতা আরও বেড়ে যেতে পারে।  একান্তই বাইরে নিয়ে যেতে হলে যথাযথ সুরক্ষা মেনে চলুন।
  • চকলেট, চিপস, কোল্ড ড্রিংকসের মতো খাবার যেগুলোয় বেশি ক্যালরি রয়েছে, সেগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

 

মিথস অ্যান্ড  ফ্যাক্টস

  • বিশ্বের মোট ডায়াবেটিক জনসংখ্যার মধ্যে ৫০ শতাংশ উন্নয়নশীল দেশের অধিবাসী। ভারতে রয়েছেন পাঁচ কোটি ডায়াবেটিসের রোগি।
  • শহুরে অঞ্চলে ডায়বেটিক রোগির সংখ্যা শতকরা আট শতাংশ থেকে পনের শতাংশ। কলকাতায় এটি দশ থেকে বার শতাংশ।
  • ডায়াবেটিস আছে মানেই মিষ্টি খাওয়া বারন নয়। আসলে মিষ্টি খেলে ওবিসিটির সম্ভাবনা বাড়ে যা ডায়াবিটিসের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। মিষ্টি খেলে চেষ্টা করুন সেই মিল থেকে কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার যেমন রাইস বা পাস্তা বাদ দেওয়ার।
  • অনেকের ধারণা ইনসুলিন নিলে ডায়াবেটিস আদৌ কিয়োরেবল নয়। নিয়ন্ত্রণ থাকে মাত্র।
  • ডায়াবেটিস শুধুমাত্র বংশগত কারণেই হয় বলে অনেকের ধারণা । এটি সত্যিই হলেও, অত্যাধিক ওজন আর স্ট্রেসফুল লাইফস্টাইলও ডায়াবিটিসের জন্য দায়ী।

 

ডায়াবিটিসের মোকাবিলায়

ডায়াবেটিস আছে মানেই কি জীবন থেকে সব ’সুমিষ্ট রস’ ‍উধাও? সারা জীবন শুধু পথ্যের ভরসাতেই চলতে হবে? ভুল! আপনিও বাঁচতে পারেন আর পাঁচজনের মতো। জানাচ্ছে ডা.তীর্থঙ্কর চৌধুরী।

পুজোর সময় পাড়ায়-পাড়ায় ডজনে ডজনে গজিয়ে উঠছে রোল-চাওমিন-ফাস্টফুডের দোকান। এগুলোর দিকে তাকিয়ে আপনি ছোট একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন। বিয়ে বাড়িতে আপনার প্রতিবেশিরা কবজি ডুবিয়ে মাংস-পোলাও –মিষ্টি খেলেও আপনি সেদিকে হতাশ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। আপনার কোলিগ মাটন বিরিয়ানি খেলেও আপনার ভাগ্যে জুটেছে পথ্য । কারণ আপনার তো ওই খাবারগুলোর সঙ্গে অলিখিত শত্রু তা রয়েছে।  সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনার জন্য বরাদ্দ তেতো সবজি।  এরপরে সারদিন ডায়েট চার্টের ঠেলায় একেবারে নাভিশ্বাস ওঠার জোগার। সঙ্গে ব্লাড শুগার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হতাশাতেই মনে হয় জীবনের অর্ধেকটা বরবাদ হয়ে গেল। ডায়াবিটিস থাকলেই মেপেজুখে জীবন কাটাতে হবে, এটা কিন্তু এখন সত্যই মান্ধাতার ভাবনা।  আপনিও আর পাঁচজনের মতো স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারবেন।

 

সমস্যার গভীরে

দু’ধরনের ডায়াবেটিসের কথা আমরা জানি: টাইপ ওয়ান আর টাইপ টু। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস বেশিরভাগই পাঁচ থেকে পনের বছরের মধ্যে হয়।  ইনসুলিনের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কোনও ভাইরাল ইনফেকশনের সৌজন্যে বা শরীরে কোনও ফরেন প্রোটিনের উপস্থিতির ফলে এটি হতে পারে ।  তক্ষুনি রোগীকে হাসপাতালে না পাঠালে ব ইনসিলুন না দিলে সমূহ বিপদ। হু-হু করে ওজন কমে যাওয়া, ক্লান্তিবোধ ইত্যাদি এঁদের নত্যিসঙ্গি। আজকাল তরুণ প্রজন্ম আকছর ডায়বিটিসের শিকার হচ্ছে।  এর জিনগত কারণ ছাড়াও টিনএজ ওবিসিটি দায়ী।  শারীরিক পরিশ্রম প্রায় নেই বললেই চলে।  স্ট্রেসও বাড়ছে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ার অভ্যেস। ঠিকমতো ডায়েট করলে। ডায়াবিটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।  তবে নিত্যদিন যে হাজার হাজার ডায়াবিটিক রোগিকে আমরা দেখি, তাঁদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই কিন্তু টাইপ টু ডায়াবেটিসে ভোগেন।  বংশে থাকলে হতে পারে।  আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর সমভাবনাও বাড়তে থাকে।  কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে ওবিসিটি, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ইত্যাদির প্রবণতাও বেশি থাকে।  তবে আজকাল তো ব্যস্ত লাইফস্টাইল এর কল্যাণে কম বয়সেও আকছার লোতে এই রোগের শিকার হচ্ছেন।  জিনগত বা বংশগত কারণ, ইনসুলিন উৎপাদন না হওয়া  বা ইনসুলিন সঠিক ভাবে কাজ না করা, ওবিসিটি বা ওজন অত্যাধিক বেড়ে যাওয়া এবং সেডেন্ডারি জীবনযাপন দায়ী।

 

এছাড়া আরও দু’ধরনের ডায়াবেটিস আছে: প্রেগনেন্সি ডায়াবেটিস আর সেকেন্ডারি ডায়াবেটিস যা মূলত হরমোনাল কারণে হয়। প্রেগনেন্সি ডায়াবেটিস দু’ধরনের হয়। কিছু  ডায়াবিটিক রোগি এই অসুখ থাকাকালীন প্রেগনেন্ট হন। আবার অনেকের প্রেগনেন্সির সময় ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। প্রেগনেন্সির সময় শুগার কন্ট্রোল করা প্রয়োজন।  সাবধানে ডায়েট কন্ট্রোল করা হয়।  কারণ এসময়ে ক্যালরি রিকোয়ারমেন্ট তুলনায় বেশি।  এতে কাজ না হলে ইনসুলিন দেওয়া হয়। এখন কিছু কিছু ওষুধ দেওয়া হয়।  এ তো গেল ডায়াবেটিসের ইতিবৃত্তান্ত।   কিন্তু বুঝবেন কী করে যে আপনার শরীরে বাসা বেধেছে এই রোগ।  তেষ্টা পাবে বেশি, বারবার ইউরিন পাওয়া।  ক্লান্তিবোধ, ওজন কমে যাওয়া, কোথাও আঘাত লাগলে তাড়াতাড়ি শুকোতে না চাওয়া, চোখে দেখতে সমস্যা, বারবার ইনফেকশন হওয়া ইত্যাদি উপসর্গগুলো থাকলে একবার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

 

ডায়াবিটিস থেকে জটিলতা

ব্লাড গ্লুকোজের মাত্রা একটু-আধটু বেশি হলে ওষুধের সাহায্যে তাকে কন্ট্রোল এ রাখা যায়। তবে এটি মাত্রাছাড়া  হয়ে গেলে তাকে বলে হাইপারগ্লাইসেমিয়া । আক্রান্ত হতে পারে হার্ট,ব্রেন, কিডনি, চোখ ও পা।  এছাড়া ডায়াবিটিস থাকলে খুব সহজেই ইনফেকশন, স্কিন ডিজিজ, গাঁটে ব্যাথা হতে পারে।  যদি আপনি ডায়াবেটিসের ‘ভোটেরান’ রোগী হন(ধুমপান করলে তো সোনায় সোহাগা) তাহলে বুকে ব্যাথা বা অস্বস্তি হলে বা নিঃশ্বাসে অসুবিধে হলে সতর্ক হন।  ট্রেড মিল টেস্ট, ইকোকার্ডিওগ্রাম করে দেখতে পারেন।  ডায়াবিটিস হলে নার্ভের উপর আর ব্লাড ভেসেলের উপরেও বিরূপ প্রভাব পড়ে। ব্রেন ষ্ট্রোক হতে পারে।  কিডনির সমস্যা প্রতিরোধে প্রথম থেকেই ব্লাড গ্লুকোজের মাত্রা ও রক্তচাপ বেধে রাখা পয়োজন।  ছ’মাস থেকে এক বছর অন্তর ইউরিনে মাইক্রো অ্যালবুমিন চেক-আপ কিডনির সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। প্রতি বছর একবার করে চোখের চেক-আপ করিয়ে নিন।   এখনও অনেক ক্ষেত্রেই অন্ধত্বের অন্যতম কারণ উচ্চমাত্রায় ব্লাড শুগার।  রক্ত সঞ্চালনও কম হয়। লাইট ফুটেড বোধে হতে থাকায় অল্পেতেই চোট লাগতে পারে। পায়ে কোনও ঘা হলে খেয়াল রাখুন সেটি তাড়াতাড়ি সারছে কি  না।

 

চিকিৎসা

গ্লুকোমিটার বা বাড়িতে ব্লাড গ্লুকোজ মনিটর করা খুবই জরুরি। প্রেগনেন্সি ডায়াবিটিসের সময় ও ইনসুলিন নিতে হলে এটি করতে হয়। যেহেতু ডায়াবিটিস ইনসুলিনের অভাবে বা ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্সের ফলে হয়ে থাকে, তাই ইনসুলিন ইনটেকের প্রয়োজন হয়। ওষুধও খেতে দেওয়া হয়। কিছু আধুনিক চিকিৎসার দৌলতে ডায়াবিটিসকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।

কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং সিস্টেম: টিস্যু ফ্লুইডে একটি সেন্সের রেখে পনের মিনিট অন্তর ব্লাড গ্লুকোজ মনিটর করা হয়। ইনটেনসিভ মনিটরিয়েংর ক্ষেত্রে কার্যকর।

ইনসুলিন পাম্প: সিভিয়ার হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ক্ষেত্রে এই যন্ত্রটি ক্যাথিটারের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে ইনসুলিন জোগাতে থাকে ব্লাড গুগার ফ্লাকচুয়েট করলে বা হঠাৎ করে শুগার ফল করলে ইনসুলিন পাম্প কাজ করে।

DPP4 inhibitors and GLP-1: ইনসুলিন উৎপাদন করতে, ওজন বাড়া রুখতে, খাবার পরে ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণ করতে এই মলিকিউল ব্যবহার করা হয়।

 

কিপ ইট আন্ডার কন্ট্রোল

  • কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এরসঙ্গে রক্তচাপও স্বাভাবিক রাখতে হবে।
  • ডায়াবিটিসকে জব্দ কারার মোক্ষম মন্ত্র হল ‘লুজ ইয়োর ওয়েট’ । ওজন কমানো খুব জরুরি।
  • সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন এক্সারসাইজ করুন। শারীরিক কসরতের ফলে মাসল সেলগুলি আরও বেশি ইনসুলিন সেনসিটিভ হয়।  এতে গ্লুকোজের মাত্রা কমে।  টাইপ চু ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে দিনে একঘন্টা এক্সারসাইজ করতে পারলে ভাল হয়।  ত্রিশ মিনিট অ্যারোবিক এক্সারসাইজ ( বেছে নিন ব্রিস্ক ওয়াক, সাইক্লিং, ট্রেডমিলের  মধ্যে একটি। সাঁতার বা ব্যাডমিন্টন খেলাও ভাল)।  প্রত্যেক মিলের পরে একটু হেঁটে আসুন।  যেমন দুপুরে অফিসে লাঞ্চ করার পরে সম্ভব হলে মিনিট দশেকে হাঁটাচলা করে নিন।  ওয়েট ট্রেনিং করলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেসিস্ট্যান্স এক্সসারসাইজ ( আপার আর্ম ও পায়ের জন্য) ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল কমাতে সাহায্য করে।

ক্লান্তিবোধ, ওজন কমে যাওয়া, বারবার ইউরিন পাওয়া, চোখে দেখার সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান।

 

ফুড ডায়েরি

ডায়াবিটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন ব্যালেন্সড ডায়েট। সারাদিনে তিনটে মেজর মিল আর তিনটে স্ন্যাকস খান।  ১৫০০ ক্যালরি আপনার টার্গেট। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবারযুক্ত খাবার যেন ডায়েটে থাকে। ফল, শাকসবজি যত পরিমাণে খাবেন ততই ভাল। সিম্পল শুগার যেমন মিষ্টি, কেক, কুকিজ, চকলেট এড়িয়ে চলুন।  ব্রাউন রাইস, রুটি চলতে পারে। বেশি করে খান বিনস, আপেল, ন্যাসপাতি, পেঁপে।  মাছ আর স্কিনলেস চিকেন খেতে পারেন।  হেলদি ফ্যাটযুক্ত খাবার যেমন আমন্ড, ওয়ালনাট ভাল ।  ডেয়ারি প্রডাক্ট বা অন্যান্য প্রাণীজ প্রোটিনের স্যাচুরেটেড ফ্যাট এড়িয়ে চলুন।  ডিম, মাটন, হাই ফ্যাট চিজ বাদ দিয়ে দিন ডায়েট থেকে।  লো ফ্যাট ছানা খান।  হার্বাল টি খান । মেথি রসুন, পেঁয়াজ,ফাইবার যুক্ত ফল (আপেল, পেয়ারা, সয়াবিন) খান। লেবু, দারচিনি খান।  যেসব রান্নায় চিনি দিতে হয়, গেুলোতে চিনির পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে দিন।  ভাত, দুধ ইত্যাদি কনসেনট্রেটেডে ক্যালরি।  অনেকে বলেন আমি পায়েস খাই শুগার ফ্রি দিয়ে।  এতে কিন্তু কোন লাভ হয় না।  কারণ পায়েস,মিষ্টি,চকোলেট ইত্যাদিতে যে পরিমাণ মিষ্টিত্ব আছে, শুগার ফ্রি ব্যবহারের ফলে তাতে কোন হেরফের হয় না ।

চিকেন পক্স ও প্রেগনেন্সি

আমার বয়স ত্রিশ বছর। আমি ছ’মাসের অন্তুসত্ত্বা । দু’মাস আগে আমার স্বামীর চিকেন পক্স হয়েছিল। কিন্তু আমারা এটা যখন বুঝতে পারি তখন চার –পাঁচ দিন হয়েগিয়েছিল।  এর আমি বাপের বাড়ি গিয়ে থাকতে শুরু করি।  এর থেকে তি আমার গর্ভস্থ সন্তানের কোনও রকম অসুখ হতে পারে ? আমরা খুবই চিন্তায় আছি।

নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক

 

আপনার যদি আগে চিকেন পক্স হয়ে থাকে, তা হলে আপনার আরও একবার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা সাধারণত থাকে না।  আর আপনার যদি পক্স না হয়, সেক্ষেত্রে আপনার গর্ভস্থ সন্তানও সুরক্ষিত থাকবে।  তবে আপনার যদি আগে কখনও চিকেন পক্স না হয়ে থাকে তাহলে আপনার চিকেন পক্স হতে পারে।  চিকেন পক্স হলে টেনশন করবেন না।  সেক্ষেত্রে আপনি যে ডাক্তারকে দেখান তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করে কোনন অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ খেতে পারেন।  এ ছাড়াও আর কোনও চিকিৎসা নেই।  এবং চিকেন পক্স সম্পূর্ণভাবে সেরে গেলে আলট্রাসোনোগ্রাফি করে একবার দেখে নিতে হবে গর্ভস্থ সন্তানের শারীরিক অবস্থা কেমন আছে। তবে সাধারণত গর্ভস্থ সন্তানের কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

 

আমার বোনের বয়স ২৯ বছর। ও তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা । ওর হাই ব্লাড প্রেশারের সমস্যা আছে। সাধারণত ওর প্রেশার ১৬০/৯০ থাকে। সিজার করলে কি কোনও রিস্ক দেখা দিতে পারে?

 

সুমেধা বসুমল্লিক, ঢাকা

 

আপনার বোন সবে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এখনই আপনি ওর ডেলিভারি নিয়ে এত চিন্তা করছেন কেন? তবে হ্যা ওর ব্লাড প্রেশার যেহেতু সামান্য বেশি তাই নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে যাতে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রেণে থাকে। এবং সময়মতো চেক-আপ করাতে হবে। অ্যাডভান্সড স্টেজে কোনও রকম অসুবিধে হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখিয়ে নেবেন। আর হাইপারটেনশনের ক্ষেত্রে তো বেশিরভাগ সময়েই সিজার করা হয়ে থাকে ।

 


  • 0

ওয়র্কি আন্ডার স্টেস

Category : Health Tips

ওয়র্কি আন্ডার স্টেস

 

অফিসের কাজে অত্যধিক স্ট্রেস শরীর-মনে অসুস্থতার জন্ম দেয়। এই স্ট্রেসের সঙ্গে লড়াই করতে প্রয়োজন ইতিবাচক মানসিকতা। সঙ্গে মেনে চলতে হবে কয়েকটি জরুরি সতর্কতাও।

 

সোহিনীর এখন দম ফেলার ফুসরত নেই। বছরের এই সময়টা ভীষণ কাজের চাপে জর্জরিত থাকে ও । নিজের রুটিন কাজ সামলানোর  সঙ্গে সঙ্গে  অ্যানুয়াল রিপোর্ট বানানো, বাজেট নির্দিষ্ট করার মতো কত কাজই যে ওকে এই এক মাসের মধ্যে করতে হবে, তার ইয়াত্তা নেই। তারপরে ডিপার্টমেন্টের স্টাফদের মধ্যে ছোটখাট ঝুটঝামেলা তো লেগেই আছে।  একা হাতে সব সামলাতে গিয়ে সোহিনী এখন টোটালি ফ্র্যাস্ট্রেটেড। স্ট্রেসের সঙ্গে যুদ্ধ করা এখন আমাদর  দৈনন্দিন রুটিনের অন্তর্গত। ডেডলাইনরে চাপ যেন সব সময়েই আমাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। অফিসের স্ট্রেসের সঙ্গে যখন সংসারের চিন্তাও যোগ হয়, তখন শরীর-মন বিপর্যস্ত হতে বাধ্য।  কিন্তু স্ট্রেস বিহীন চাকরি কল্পনা করাও তো আজকের দিনে অসম্ভব।  সেই কারণে স্ট্রেস কাটাবার সহজ উপায়।

 

কী করবেন

  • অফিসে ঢোকার পরপরই একটা রাফ জব লিস্ট তৈরি করে এমন জায়গায় রাখুন যাতে সহজেই চোখ পড়ে। আপনার প্রায়রিটি অনুযায়ী কাজ সারুন।  একেকটা করে কাজ শেষ হওয়ার পর সেটা কেটে দিন।  কোনও শক্ত বা বড় কাজ করার পর নিজেকে একটা ট্রিট দিন।  একটা ছোট্ট বেক নিয়ে বা চকোলেট খেয়ে ভাল কাজটাকে সেলিব্রেট করুন।  এতে কাজের মোটিভেশন বাড়বে।
  • প্রচন্ড চাপের মধ্যে কাজ করার ফলে কলিগদের মধ্যে মতানৈক্য বা অসোন্তোষ দেখা দিতেই পারে। এই রকম পরিস্থিতিতে মাথা গরম না করে কোনও অভিজ্ঞ কর্মী, যাকে সবাই মান্য করেন, তার সাহায্য নিয়ে ব্যাপারটা রফা করার চেষ্টা করুন। যদি দেখেন পরিস্থিতি হাতের বাইরে, তা হলে নিজেকে কিছুক্ষণের জন্য সেই জায়গা থেকে সরিয়ে নিন কারণ ঝগড়াঝাঁটি করে বৃথা শক্তিক্ষয় করলে নিজের চাপই বাড়বে।
  • যখন বুঝতে পারবেন কাজের চাপ খুব বেড়ে উঠছে, তখন একটা পাঁচ-দশ মিনিটের ব্রেক নিন। কোনও বন্ধুকে ফোন করে একটু গল্প করুন বা অফিসের বারান্দা বা অন্য কোনও জায়গায় একটু  হেঁটে নিন।  সঙ্গে আই পড বা ওয়কম্যান থাকলে একটু সুদিং মিউজিক শুনতে পারেন যাতে স্নায়ুর উত্তেজনা কমে আসে। ব্রেকের শেষে এক গ্লাস জল খেয়ে ফ্রেশ হয়ে আবার কাজ করতে বসুন।
  • কাজের যত চাপই থাকুক না কেন, প্রতি তিন ঘন্টা অন্তুর অন্তর আধ ঘন্টা ব্রেক অবশ্যই নিবেন। এই সময়টুকু ফাইল, পরীক্ষার খাতা বা কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে রাখুন। এই সময়ে লাঞ্চ বা টিফিন  ছাড়াও কোনও একটা গোটা ফল বা ড্রাই ফ্রুট খান।  হারিয়ে যাওয়া এনার্জি ফিরে পাবেন।
  • সকালে ঘুম থেকে ওঠারপর এবং রাতে শুতে যাওয়ার আগে প্রাণায়াম করার অভ্যেস গড়ে তুলুন। এতে মন শান্ত থাকবে এবং একাগ্রতা বাড়বে। এ ছাড়াও পুষ্টিকর  খাবার খাওয়া, অ্যালকোহল ও স্মোকিং থেকে দূরে  থাকলে সামগ্রিভাবে সুস্থ  এবং তরতাজা  থাকতে পারবেন। এর প্রতিফলন অফিসের কাজে পড়লে সহজেই চাপের মোকবিলা করতে পারবেন।

 


  • 0

গাইনিকলজিকাল

Category : Health Tips

গাইনিকলজিকাল

রুপকথা, পুতুলখেলা, পরিদের জগত পেরিয়ে বয়ঃসন্ধি। আর এর সঙ্গে নারীত্বের নতুন উপলব্ধি। নিজের শরীর নিয়ে কৌতুহলের সূচনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাবার আঙ্গুল ধরে চলা সেই কন্যাই আজ ঘরে বাইরে ’অথরিটি ইনচার্জ । সংসার, অফিস, সামলে  সে একজন সফল ’মা’ ও বটে।  আর কিছুদিন পরে তার মেয়েও টিএনএজের কোঠায় পা রাখতে চলেছে।  ভূমিকা বদেলেছে, বদলেছে নারীত্বের উপলব্ধি।  আর এম সঙ্গে সমান তালে বদলেছে তাঁর শারীরিক ও মানসিক জগৎ। বিভিন্ন শারীরিক পরিবরতণের গুরুত্বপূণ সময়ে দেখা দেয় বেশ কিছু সমস্যা ।  আর্লি টিনএজে পিরিয়ডসের সমস্যা, লেট থার্টিজে বিয়েরে পরে প্রেগনেন্সিজনিত সমস্যা, পোস্ট ফর্টিজে মেনোপজ জনিত সমস্যা – অনেক কিছুরই সম্মুক্ষীন হতে হয় তাঁকে। সংসার, অফিসের চাপে নিজের শরীরের প্রতিনজর না দিলেই শুরু হয় আসল সমস্যার। এর সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার অনিহা, সঙ্কোচ ইত্যাদিও কাজ করে। বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজন নিজের যত্ন নেওয়া আর অবশ্যেই একজন  স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্র্শ। তাহলেই ‘ভাল’ থাকার থুড়ি সুস্থ থাকার গাইডলইন হাতের মুঠোয়।

১। আমার মেয়ের বয়স আঠার। নিয়মিত পিরিয়ড হয় না। মাঝেমধ্যে দু-তিন মাস বন্ধ থাকার পরে আবার হয়। শরীরে অবাঞ্চিত রোমের আধিক্য আছে। সমাধান কি?

নামা প্রকাশে অনিচ্ছুক, পুবাইল

উত্তরঃ মেয়েদের শরীরে পুরুষ হরমোনের প্রভাব বেশি থাকলে এসব সমস্যা দেখা যায়। পলিসিস্টিক ওভারির সমস্যাতেও এধরনের লক্ষণ দেখা যায়। নিয়মিত পিরিয়ড না হওয়া, বেশ কয়েক মাস বন্ধ থাক, পিরিয়ডের ফ্লো কম হওয়া, ফেশিয়াল হেয়ার বেশি থাকা এর লক্ষণ। এছাড়া মাথার চুল উঠতে থাকে স্কিন তৈলাক্ত হয়ে যায়। মুখে ব্রণ হয়। ওজনও বেশি হওয়ার ফলে লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করে দেখা প্রয়োজন । তবে এঁদের ক্ষেত্রে ওষুধেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ হয়ে যায়। ওষুধে কাজ না হলে অপারেশনের কথা ভাবা হতে পারে।

২। আমার বষয় বাইশ। পিরিয়ডের সময় হেভি ব্লিডিং হয়। এর কারণ কী?

অন্তরা সেন, ঢাকা।

উত্তরঃ হেভি ব্লিডিং আর্লি টিনএজারদের ক্ষেত্রে মোটামুটি স্বাভবিক। তবে দীর্র্ঘ দিন ধরে হতে থাকলে ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড সম্ভাবনা হতে পারে। ফাইব্রয়েড হলে অপারেশন করে শুধু ফাইব্রয়েড বাদ দেওয়া হয় । একে মায়োমেস্টামি বলে। আপারেশনের প্রয়োজন না হলে স্টপগ্যাপ চিকিৎসা হিসেবে মাইরিনা কয়েল ব্যাবহার করা হয়। জরায়ুর বভতরে এই কয়েল দেওয়া হয়। এর ভিতরে হরমোন দওয়া থাকে। মোটামুটি পাঁচ বছর পর্যন্তএর কার্যক্ষমতাথাকে।

৩। আমার বয়স চব্বিশ। পিরিয়ডের সময় পেটে খুব বেশি ব্যাথা ও ক্র্যাম্প হয়। আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে জানতে পারি আমার এন্ডোমেট্রিওসিস রয়েছে। এত কি ইউটেরাসের ক্ষতি হতে পারে? সমস্যার সমাধান কী?

তমালিকা সেনগুপ্ত, মোহাম্মদপুর।

উত্তরঃ এন্ডোমেট্রিওসিস লংটার্ম স্লো গোয়িং অসুখ। এর থেকে ফ্যালোপিয়ান টিউব, ওভারির ক্ষতি হতে পারে। এসব কারণে কনসিভ করতে অসুবিধে হতে পারে। তবে এন্ডোমেট্রিওসিসের জন্য এখন অনেক আধুনিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা রয়েছ।

৪।পিরিয়ড ‍শুরু হলে টানা সাত দিন পর্যন্ত চলতে থাকে। আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে বাল্কি ইউটেরাস ধরা পড়েছে। পরবর্তীকালে কি কনসিভ করতে অসুবিধে হতে পারে?

রঞ্জনা রায়, কলাবাগান।

উত্তরঃ ইউটোরাসে যখন এনলার্জিমেন্ট পাওয়া গিয়েছে ও সঙ্গে হেভি ফ্লো তার মানে ডিসফাংশনাল ইউটোরাইন হেমারেজ হয়েছে। হরমোন জাতীয় ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। ডাক্তারের পরামর্শ নিন। হেভি ফ্লো নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ দেবেন।

৫।আমার বয়স একুশ। পিরিয়ডের সময়ে প্রায়শই পেটে ক্র্যাম্প হত। তারপর আলট্রাসোনোগ্রাফিতে জানতে পারি আমার ওভারিতে সিস্ট রয়েছে। ওষুধ খেয়ে ভাল ছিলাম । কিন্তু এখন আবার সিস্টগুলো বড় হয়েছে। সিস্টের সমস্যা কি পুরোপুরি সারবে না? পরবর্তীকালের কনসিভ করতে গেলে কি জটিলতা দেখা যেতে পারে?

বিশাখা দত্ত, টঙ্গি।

উত্তরঃ আপনার লক্ষণগুলো শুনে মনে হচ্ছে পলিসিস্টিক ওভারির সমস্যা রয়েছে। সিস্টের জন্যে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খেয়ে যাওয়াই ভালো। এতে পরবর্তী কারলর কনসিভ করার সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

৬। আমার বয়স পঁচিশ। সদ্য বিয়ে হয়েছে। মাঝেমধ্যেই হোয়াইট ডিসচার্জ হয়। এটা কি স্বাভাবিক না কোনও অসুখ? এর চিকিৎসা করব কিভাবে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, কুষ্টিয়া

উত্তরঃ আপনার মাইল্ড ইউরিনারি ইনকন্টিসেন্স থাকতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা হলেও যদি না সারে, তাহলে উউরিনারি ইনকন্টিনেস্সের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।  তবে হোয়াইট ডিসচার্জে যদি দূর্গন্ধ না থাকে, চুলকানি বা কোনও ইরিটেশন না থাকে, তাহলে এটি কিন্তু ফিজিওলজিক্যাল হোয়াইট ডিসচার্জ।  সেক্ষেত্রে বিশেষ চিকিৎসা দরকার হয় না।  মূলত এর চিকিৎসা করা অ্যান্টি ফাংগাল, অ্যান্টি-প্রোটোজোয়াল- এই তিন ধরনের ড্রাগ একসঙ্গে দিয়ে কম্বিনেশন ট্রিটমেন্ট করা হয়। এটি কিন্তু সিঙ্গল  ডোজ ট্রিটমেন্ট। এক থেকে দু’দিন লাগে । এর পরেও যদি হোইট ডিসচার্জ চলতে থাকে, তাহলে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স হতে পারে। বহুদিন ধরে কনট্রাসেপটিভ নিলেও এটি হতে পারে। সেক্ষেত্রে কনট্রাসেপশন বন্ধ করতে হতে হবে।

৭। আমার বষয় ত্রিশ। ছোটবেলা থেকেই থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছি। বিয়ের দু’বছর পরে প্রথমবার কসিভ করি। কিন্তু থাইরয়েডের সমস্যা ও প্রেশার প্রচন্ড বেড়ে যাওয়ায় আমার মিসক্যারেজ হয়ে যায়। তার প্রায় এক বছর পরে আমি আবার কনসিভ করেছি। এখন সবে তিন মাস ওজন চুয়াত্তর কেজি। আগের থেকে প্রায় দশকেজি বেড়ে গিয়েছে। ভয় লেগেছে । এবারেও কি মিসক্যারেজ হতে পারে?

স্নিগ্ধা চট্রোপাধ্যায়, যশোর

উত্তরঃ কনসিভকরার জন্যে আপনার ক্ষেত্রে বয়স ঠিক রয়েছে। নিয়মিত থাইরয়েড টেষ্ট করাতে হবে। TCHলেভেল 2.5 এর নীচে রাখতে পারলে ভাল হয়। ব্লাড প্রেশারও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আপনার উচিৎ ছিল ওজন কমিয়ে নিয়ে কনসিভ করা। এখন খেয়াল রাখরেত হবে যাতে ওজন অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে না যায়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।

৮। আমার বয়স একুশ। আমার স্বামীর বয়স ছব্বিশ। দুইমাস হল আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমি আগামি দু’বছরের মধ্যে কনসিভ করতে চাই না। আমার প্রশ্ন কনট্রাসেপটিভ পিল খেলে কি মোটা হয়ে যেতে পারি? কপার টি পদ্ধতি সম্পর্কে জানালে উপকৃত হব।

ঈশিতা রায়, কিশোরগঞ্জ

উত্তরঃ ওরাল পিল খাওয়া নিরাপদ। এর খুব সাইড এফেক্টেস নেই। পিল খেলে মোটা হয়ে যাওয়া বা ক্যানসার হওয়ার মতো ব্যাপারগুলো মেডিকেল সায়েন্স অনুযায়ী ’মিথ’ বা ভুল ধারণা। বরং দেখা গিয়েছে যাঁরা কম বয়সে বেশ কিছুদিন ধরে ওরাল কনট্রাসেপটিভ পিল খেয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যতে িইউটেরাইন ক্যঅনসার, ওভারিয়ান ক্যানসার বা কোলন ক্রানসার হওয়ার প্রবণতা অনেকটা কমে যায়।  পিল খাওয়া শুরু করার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। পিরিয়ড শুরু হওয়ার প্রথম বা দ্বিতীয় দিন থেকে একটা পিল প্রতি রাতে খেতে হবে। একুশ দিন খাওয়ার পর সাত দিন বাদ দিয়ে আবার খাওয়া শুরু করতে করতে হবে। তবে পিল খাওয়া শুরু করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।  সাধারণত কপার টি যাঁর একটি সন্তান রয়েছে, তাঁকে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।  তার আগেও কপার টি ব্যবহার করায় আপত্তি নেই। কপার টি ব্যবহার করার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কপারটি ইনসার্ট করার পরে নিয়মিত চেক-আপ করাবেন।

৯। আমার বয়স পয়ত্রিশ । দু’বছর হল বিয়ে হয়েছে। এখনও কনসিভ করে উঠতে পারিনি। হাই ব্লাড প্রেশার রয়েছে। বয়স ও হাই প্রেশারের কারণেই কি আমি কনসিভ করতে পারছিনা? লেট সপ্রেগনেন্সি হলে কি বাচ্চার মানসিক গঠনের ওপর কোন প্রভাব পড়তে পারে?

দেবযানী বন্দ্যোপাধ্যায়,  ঢাকা

উত্তরঃ আপনার কনসিভ করতে না পারার কারণ খানিকটা বয়স হতে পারে, তাবে হাই ব্লাড প্রেশার নয়। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অবশ্যই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। তারপর কেন কনসিভ করতে পারছেন না এবিষয়ে যে আধুনিক পরীক্ষ-নিরীক্ষা করনো যায়, সেগুলো করিয়ে নিন। সঙ্গে আপনার স্বামীরও প্রয়োজনীয় টেস্ট করিয়ে নিবেন।  দেখা গিয়েছে এই বয়সে বাচ্চা হলে বাচ্চার কয়েকটি ক্রোমোজোমাল ডিফেক্টের প্রবণতা হতে পারে। তবে এখন কনসিভ করার পরে নানা ধরনের টেস্ট করা যায়, সেগুলো করালে আপনি জানতে পারবেন গর্ভস্থ সন্তানের কোন রকম ডিফেক্ট রয়েছে কিনা । তারপর সেই অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

১০।আমার বয়স আঠাশ। উচ্চতা পাঁচ ফুট। ওজন পঁচাত্তর কেজি। পিরিয়ডের সময় হেভি ব্লিডিং হয়। আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে জানা গিয়েছে আমার বাল্কি ইউটেরাস। মোটা বলে কি আমার ইউটেরাস বাল্কি? অনেক চেষ্টা করেও ওজন কমাতে পারছিনা। আমার স্বামীর স্বামীর কোন শারীরিক অসুস্থতা নেই। কিন্তু তাও আমি কনসিভ করতে পারছিনা। অতিরিক্ত ওজনই বন্ধ্যাত্বের কারণে হয়ে দাঁড়িয়েছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা

উত্তরঃ দেখুন ওজন অপনাকে কমাতেই হবে। পাঁচ থেকে সাত কেজি ওজন এক্ষুনি কমানো উচিৎ। সাধারণত আপনার উচ্চতায় ষাট থেকে সত্তুর কেজি ওজন হলে ভাল হয়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ এক্সা্রসাইজ করে দেখুন। সঙ্গে খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন্ ওজন কমানেরা পরে কনসিভ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করুন।

১১। আমার চিরকালিই হিমোগ্লোবিন কম। এখন আমি তিন মাসের প্রেগন্টে। ব্লাড রিপোর্টে জানতে পারেছি থ্যালসিমিয়ার মাইনাস ক্যারিয়ার। আমার প্রশ্ন এতে কি আমার গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হতে পারে? বাচ্চারও কি অ্যানিমিয়া হতে পারে?

বাসন্তি রায়, গাজীপুর

উত্তরঃ থ্যালাসেমিয়া মাইনরের সমস্যা ২-৫% মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়। থ্যালাসেমিয়া মাইনরের কারণে অন্যান্য শারীরিক অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। গর্ভস্থ সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হবে কিনা তা নির্ভর করবে আপনার স্বামী থ্যালাসেমিয়ার ক্যারিয়ার না হলে বাচ্চার থ্যালাসেমিয়র হওয়ার মেজর চান্স নেই, থ্যালাসেমিয়া মাইনরও হওয়ার চান্স কম।

১২। আমার বয়স ত্রিশ। ওজন ৬৮ কেজি। পিরিয়ড ফ্লো নরমাল। কিন্তু এই সময় হাঁটুতে ব্যাথা হয়। সিঁড়ি ভাঙ্গতে অসুবিধা হয়। কোমরের ডান দিকে ব্যাথা হয়। কেন এরম হয়। পিরিয়ড হওয়ার পর ব্যাথা কমে যায়।

কস্তুরী বসু, চট্টগ্রাম

উত্তরঃ আট্রাসোনোগ্রাফি করে জেনে নিন েইউটোরসম, ওভার বা পেলবিসে কোনও অসুবিধে রয়েছে কি না। সাধারণত পিরিয়ডের সময়ে কোমরে ব্যাথা হতে পারে। হাটুর ব্যাথার সাথে এর কোন যোগাযোগ নেই মনে হয়। আর্থ্রাইটিসের সমস্যা হতে পারে।

১৩। আমার স্বামীর বয়স ২৬ । চাকরিস্থলে প্রচুর স্ট্রেস সামলাতে হয়। কয়েক বার চেষ্টা করেওে প্রেগনেন্ট হতে পারিনি। পিরিয়ডসও অনিয়মিত। প্রতিকার কি?

শৌনাক রায়,  ঢাকা

উত্তরঃ প্রেগনেন্সি না আসার জন্য বেশ কয়েক রকম সম্ভাবনা থাকতে পারে । শুক্রাণুতে সমস্যঅ থাকলে স্পার্ম কাউন্টের মাধ্যমে সেটি বোঝা যায়। ডিম্বনালীতে কোনো সমস্যা আছে কি না বুঝতে আল্ট্রাসাউন্ড, এইচএসজি ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা হতে পারে। ডিম্বাণুতে কোন সমস্যা থাকলে তার কারণ হতে পারে ওবিসিটি, থাইরয়েড, অ্যানেমিয়া বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম । স্ত্রী হরমোন এর ঘাটতি থাকার ফলে এঁদের প্রেগন্টে হতে সমস্যা দেখা যায়। আবার স্ট্রেসের কারণে এই সমস্যা হতে পারে।  ১৮ বছর বয়সের পরে অনিয়মিত পিরিয়ড ও বেশ কয়েক মাস গ্যাপ দিয়ে পিরিয়ডের সমস্যা পিসিও –র কারণে হতেই পারে।

১৪। পলিসিস্টিক ওভারির কারণে পিরিয়ড চিরকালই অনিয়মিত। কনসিভ করার জন্য প্রায় দু’বছর হরমোন ট্রিটমেন্ট করে আমার কোন উপকার হয়নি। তার পর দু’বার আইভিএফ পদ্ধতিতে কনসিভ করার চেষ্টা করি। কিন্তু সফল হইনি। এখন আমার বয়স ৩২ । কৃত্রিম উপায়ে সন্তান ধারনের অন্য কোন উপায় রয়েছে কি ? আইইউআই পদ্ধতির ব্যাপারে বিশদে জানালে উপকৃত হই।

নন্দিতা দত্ত, ঢাকা

উত্তরঃ প্রথমেই বলি কী কারণে কনসেপশন হচ্ছেনা তা জানা দরকার । আইইউআই কৃত্রিম উপায়ে সন্তান ধারনের পদ্ধতি। আইইউআই পদ্ধতিতে স্পার্মটাকে যে সময়ে ওভারি থেকে ডিম্বাণু ম্যাচিওর হয়ে বেরিয়ে আসে, স্পেশালি ট্রিট করে ইউটেরাসের ভিতরে প্লেস করে দেওয়া হয়ে। আইইউআই পদ্ধতি ট্রাই করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

১৫। আমি চার মাসের অন্তঃসত্তা। ইউরিন রিপোর্টে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি পাওয়া গিয়েছে। ব্লাড টেস্টের রিপোর্টে সুগারও ধরা পড়েছে। বিয়ে হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পর আমি কনসিভ করেছি। আমার বয়স তেত্রিশ। লেট প্রেগনিন্সির কারণেই কি এইসব জটিলতা দেখা দিয়েছে?

রায়া সেন টাঙ্গাইল

উত্তরঃ লেট প্রেগনিন্সির কারণে্ এইসব হয়নি ।  আপনার আপনার ডায়াবেটিস রয়েছে বলেই সুগারের পরিমাণ বেশি পাওয়া গিয়েছে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়া শুরু করতে পারেন।  তবে মনে রাখবেন ডায়াবেটিসটা কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ইউরিনে প্রটিনের  পরিমান বেশি হলে ডাক্তার দেখিয়ে উপযুক্ত ব্যাবস্থা নেয়া দরকার। এর সঙ্গে ব্লাড প্রেশার নিয়মিত মনিটর করবেন। নিয়ম মেনে চলুন। অত ভয়ের কিছু নেই। বেশ কয়েক বছর লো ডোজে এই চিকিৎসা চালানো হতে পারে। তবে বোঝার জন্য প্রথমে ইউরিন কালচার করে নিতে হবে। এরপর আলট্রাসোনোগ্রাফি করে দেখে নিতে হয় ইউরিন জমা থাকছে কিনা । প্রয়োজনে ইউরোডায়ানামিকস বলে একটি পরীক্ষা করতে হতে পারে।  ওষুধে না সারলে ব্লাডার বোটক্স ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়।  ওজন বেশি থাকলে কমানো খুব প্রয়োজন। ডায়াবেটিস বা নার্ভের সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা প্রয়োজন। সবার আগে একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।

১৬। আমার বয়স ৩২ । সদ্য আমার ভ্যাজাইনাল অপারেশন হয়েছে। কিন্তু এর পর থেকেই অসাড়ে ইউরিন বেড়িয়ে যাচ্ছে। এর সম্ভাব্য কারণ কি?

শুচিস্মিমা শর্মা, মিরপুর

উত্তরঃ কোনও ধরনের গাইনোকলিজিক্যাল বা ভ্যাজাইনাল অপারেশনের পরে যদি এরকম সমস্যা হয়, তাহলে অপারেশনের সময় ইউরিন ব্লাডারে কোনও আঘাত লাগার ফলে এটি হতে পারে । এক্ষেত্রে ব্লাডারে একটি চিদ্র তৈরি হয় যার মাধ্যমে ইউরিন বাইরে বেড়িয়ে আসে। একে ভ্যাসিকোভ্যাজাইনাল ফিশ্চুলা বলে খুব শীঘ্রই আরও একবার অপারেশন না করালে ক্ষতির আশঙ্কা আছে।

১৭। আমার বয়স ৪০। বছর খানেক হল মেনোপজ হয়ে গিয়েছে। ইউরিন করার সময় একধরনের জ্বালা জ্বালা অনুভব করি। বেশ কয়েক বছর আগে একবার ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশনে ভুগেছিলাম। আমার প্রশ্ন ইউটিআই কি আবার হতে পারে? আমার বর্তমান উপসর্গ গুলো কি ইউটিআইয়ের সঙ্কেত দেয়? হলে কি ভাবে চিকিৎসা করাব?

অনুপমা সেন, মিরপুর

উত্তরঃ ইউরিনে বার্নিং সেনসেশন থাকলেই যে ইউটিআই হবে এমন কোনও কথা নেই।  ইউটিআই হয়েছে কিনা বোঝার জন্য সবার আগে প্রয়োজন ইউরিন রুটিন ও কালচার স্যাম্পল করে নেওয়া ।  তিন চার দিন  পরে রেজাল্ট জানতে পারবেন ।  কোনও ওষুধে রোগী যদি সেনসিটিভ হয়, তাহলে সেটিও কালচার রিপোর্টে বোঝা যাবে। ডাক্তারেরপরামর্শ অনুযায়ী এরপর অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যে ট্রিটমেন্ট করতে হতে পারে । অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে সাত-দশ দিনের বেশি খেলে ক্ষতি হবে। চিকিৎসা শেষে হওয়ার পরে আবার কালাচার রিপোর্ট করতে হতে পারে।  কালচার রিপোর্টে যদি দেখা যায়, এরপরেও অসুখ পুরো নির্মূল হয়নি, তাহলে লো ডোজে কয়েক মাস পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতে পারে। সারাদিন  একটিই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।  প্রয়োজনে কয়েক বছর পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে।  ওরাল মেডিকেশনদিয়ে কাজ না হলেই একমাত্র ইনকেজশন দেওয়ার কথা ভাবা হয়।  এরসঙ্গে প্রয়োজন ইউরিনারি প্যাসেজের হাইজিনের খেয়াল রাখা।  করণ মহিলাদের ক্সেরেত্র ইউরিনারি ব্লাডার তুলনায় অনেক সরু। ফলে সহজেই ইনফিকশন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। জ্বালা জ্বালা ভাব ছাড়াও জ্বর আসা এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ । বছরে দু’বার বা তার বেশি ‍যদি ইউরিনারি ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে আল্ট্রাসাউন্ড করিয়ে নিন।  এতে বোঝা যাবে ব্লাডারে স্ট্যাগনেন্ট ইউরিন জমে থাকছে কি না । ইউটিআই কিন্তু বারেবারে হতে পারে। তবে ব্লাডার খালি করার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়। যদি কোনওভাবেই ব্লাডার  খালি না করা যায়, তখনই একমাত্র অপারেশনের কথ ভাবা হয়। মেনোপজের পরে পেরিনিয়াল অঞ্চলের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এঁদের ক্ষেত্রে প্রোফাইল্যাক্টিক বা প্রিভেনটিভ অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতে পারে।  একটি করে অ্যান্টিবায়োটিক বেশ কিছুদিন ধরে  দেওয়া হয়।

১৮। আমার বয়স ৪৫ । তিন সন্তান । একটি নর্মাল ডেলিভারি। আর দু’টি সিজারিয়ান ডেলিভারি।  এক বছর আড়ে মেনোপজ হয়ে গিয়েছে। বিগত কয়েকদিন ধরে হাঁচলে, কাশলে, জোরে হাসলে বা ভারী কিছু তুললে ইউরিনেট করে যাচ্ছ। আমার ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এর কারণ কি ?

অনিন্দিতা রায়, কুমিল্লা

উত্তরঃ প্রথমেই বলি ওজন বেশি থাকলে আগে সেটি কমানোর চেষ্টা করুন।  আর পেলভিক ফ্লোর মাসলের এক্সারসাইজ করলে কিছুটা উপকার পেতে পারেন। একধিক সন্তানপ্রসব, ওবিসিটি ইত্যাদি কারণে পেলভিক ফ্লোর এরিয়াতে প্রেশার পড়ে ।  ডাক্তারি  পরিভাষায় এর নাম স্ট্রেস ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স। মেনোপজের পরে হরমোনের ঘাটতির কারণে পেলভিক মাসলের দুর্বলতা বেশি করে প্রকাশ পায়।  মাংসপেশিকে শক্ত করার জন্য যাতে ইউরিন লিক না হয়, ইউরিনারি ব্লাডারের নীচের দিকে ফুটো করে একটি tape পরিয়ে দেওয়া হয়। এর নাম টেনশন ফ্রি ট্রান্সভ্যাজাইনাল টেপ। এই টেপটি সারাজীবন থাকে। ভারতের বাইরে থেকে এই টেপ ইমপোর্ট করতে হয়। এর সাফাল্যের হার ৯৮ শতাংশ। হাসপাতালে একদিন থেকে একদিন থেকে বাড়ি চলে যাওয়া যায়।  লোকাল অ্যানাথেশিয়ার সাহায্যে রোগিকে অজ্ঞান না করেই এই সার্জারী করা হয়। তবে যাঁরা এখনও মা হননি, তাঁদের জন্য আমরা এই পদ্ধতি রেকমেন্ড করি না।

১৯। আমার বয়স ৪০। কিছু দিন ধরেই বারবার ইউরিনে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে। ডাক্তার বলেছেন আমি আর্জ ইনকন্টিনেন্সে ভুগছি। ওষুধে কি চিকিৎসা সম্ভব?

গার্গী বন্দ্যোপাধ্যায়, রংপুর

উত্তরঃ urge incontinence এর ক্ষেত্রে সাধারণত ওরাল মেডিকেশন দেওয়া হয়। মেনোপজের পরে এই সমস্যা হলে বেশ কয়েক বছর লো ডোজে এই চিকিৎসা চালানো হতে পারে। তবে বোঝার জন্য প্রথমে ইউরিন কালচার করে নিতে হবে। এরপর আলট্রাসোনোগ্রাফি করে দেখে নিতে হয়, ইউরিন জমা থাকছে কি না। প্রয়োজনে ইউরোডায়ানামিকস বলে একটি পরীক্ষা কতে হতে পারে। ওষুধে না সারলে ব্লাডারে বোটক্স ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ওজন বেশি থাকলে ওজন কামানো খুব প্রয়োজন। ডায়াবেটিস বা নার্ভের সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা প্রয়োজন।

২০। আমার বয়স ৩৯ । প্রায় চার বছর আগে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গিয়েছে।  এক বছর পরে আবার ইরেগুলার ব্লিডিং শুরু হয়েছে। এখনও অনিয়মিত ব্লিডিং হয়। ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসাউন্ড করে দেখা গিয়েছে এন্ডোমেট্রেয়াল থিকনেস বেশি। ক্যানসারের সম্ভাবনা আছে ?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, গুলশান

উত্তরঃ সাধারণত ৪০ বছরের নিচে মেনোপজ হলে দু’বছর পর্যন্ত অনিয়মিত ব্লিডিং হতে পারে।  ৪০ এর উপরে হলে একবছর পর্যন্ত অনিয়মিত ব্লিডিং হতে পারে।  সাধারণত পোস্ট মেনোপজাল মহিলাদের এন্ডোমেট্রিয়াল থিকসেন চার থেকে পাঁচ মিলিমিটারের কম থাকে ।  এর থেকে বেশি হলে গন্ডগোলের সম্ভাবনা বেশি। তবে যাঁদের ক্ষেত্রে এটি বার্ডারলাইন হাই, তাঁদের ওষুধ দিয়ে ছ’মাস দেখা হয়। আলট্রাসাউন্ডে শিওর না হতে পারলে, এন্ডোমেট্রিওকাল বায়োপসি করে নিতে পারেন। নন ক্যানসার গ্রোথ হলে আপারেশনের প্রয়োজন নেই। যাদি অনিয়মিত ব্লিডিং হয ও এনডোমেট্রিয়াল থিকনেস বেশি থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় যে, এটি ইউটোরাইন ক্যানসারে র ফলে হতে পারে।  সেক্ষেত্রে ক্যানসারের চিকিৎসা করা হয়। জরায়ু, ওভারি, সার্ভিক্স, ফ্যালোপিয়ান টিউব সব কেটে বাদ দিতে হতে পারে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি দিতে হয় না।  এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার হলে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ব্যাবহার করা হয় না।

২১। আমার বয়স ৪৩ । বছর তিনেক আগে হল মেনোপজ হয়ে গিয়েছে। হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির কি আদৌ কোন প্রয়োজন আছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ধানমন্ডি

উত্তরঃ মেনোপজের পরে শরীরে ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন ও টেস্টোস্টেরন নামক তিনটি হরমোনের অভাব দেখা যায়। তবে সবক্ষেত্রেই যে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির প্রয়োজন তা নয়। এইচআরটি দিলে ব্রেস্ট ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এইচআরটির ভূমিকা ঠিক কী রকম, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। তবে এইচআরটির ফলে ওই সম্ভাবনাগুলি কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। এখন অবশ্য লোকাল এইচআরটি করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ভ্যাজাইনাতে ক্রিম ব্যবহার করা হয়। তবে নন- হরমোনাল ড্রাগ দিয়েও চিকিৎসা করা হয়।

২২। আমার বয়স ৪৪ ।  গত ছয় মাস ধরে আমার পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পিরিয়ড হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। মাঝে মাঝে সারা শরীরে  জ্বালাভাব দেখা দিচ্ছে গরমও লাগে । আমি কি মেনোপজের দিকে এগোচ্ছি ? কোন হরমোন থেরাপির প্রয়োজন আছে?

ঋতুপর্ণা গুহরায়, কসবা

উত্তরঃ আপনার বয়সে ‍যদি ছয়মাসের বেশি পিরিয়ড বন্ধ থাকে, তাহলে ধরে নিতে হবে তাহলে সেটা মেনোপজের কারণে হচ্ছে, বিশেষ করে আপনার মধ্যে যখন মেনোপজের অন্যান্য লক্ষণ যেমন হট ফ্লাশ, অবসন্নতা দেখা দিচ্ছে। মেনোপজ জনিত সমস্যার ক্ষেত্রে সবার আগে একজন  গাইনিকলজিস্টের সঙ্গে কথা বলাই ভাল। মেনোপজের পর হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির প্রয়োজন হয়। এতে হট ফ্লাশ, অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা কমে যায়। মেনোপজের পরে হারের সমস্যাও বাড়ে।  সবই করবেন গাইনিকলজিস্টের পরামর্শে ।  বিভিন্ন বয়সের নানারকমের গাইনিকলজিকাল সমস্যার সমাধানের কয়েকটি তুলে ধরলাম আমরা তবে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি তো আপনার হাতেই।  নিজের প্রতি কিছুটা কেয়ার, সর্তকাতা আর সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা । এটুকুই যথেষ্ট নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য ।  ‘ভাল থাকবেন’ আমাদের শুভচ্ছো রইল।

 


  • 0

কমন কোল্ড

Category : Health Tips

কমন কোল্ড

হাঁচি,কাশি, গলা ধরে যাওয়া এবং সর্দি – সত্যি এগুলো কমন ব্যাপার। ছোট বাচ্চার তো বটেই, বড়রাও আক্রান্ত হন যখন তখন।  নাক দিয়ে অনবরত জল পড়া, ঘন ঘন হাঁচি হলে বলা হয় আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন। বুকে কফ জমে সাঙ্ঘাতিক কাশি মানেই লোয়ার রেসপিরেটরি  ট্র্যাক্ট ইফেকশনের লক্ষণ। যে কোনও সময় ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তবে শীতকালে শ্বাসনালির অসুখ বেশি বাড়ে।

কমন কোল্ডের কারণ

  • ইনফেকশন থেকে সর্দি-কাশি হতে পারে।
  • বেশিরভাগ সময়ই সাইনাস, নাকের হাড়ের বৃদ্ধি, সেপটিক টনসিল, অ্যালার্জি, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমার মতো ক্রনিক অসুক থেকে সর্দি-কাশি হয়।

আপনার ছোট্ট শিশু থেকে বষস্ক শ্বশুরবাড়ির কেউেই রেহাই পান না এর হাত থেকে।  হাড়কাঁপানো শীত কিংবা হাঁসফাঁস করা গরম- সর্দি কাশ হতে পারে যে কোনও সময়। এর হাত থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে, তাই নিয়েই এই প্রতিবেদন।

  • সর্দি-কাশি লেগে যাওয়ার পর সেই ব্যক্তির কাছাকাছি এলেও অনেক সময় সর্দি-কাশি তে পারে।
  • পেন,বই, টেলিফোন, কম্পিউটারের কী বোর্ড, মাউস, কফি কাপের উপর ভাইরাস থাকে অনেক্ষণ। ইনফেকটেড পেশেন্টের ব্যবহার করার পর অন্য যে কোনও কেউ ওগুলো না মুছে ব্যবহার করলে  ঠান্ডা ধরে নিতে পারে।
  • রোগির হাঁচি-কাশি থেকেও হতে পারে।
  • ইনফেকশেনর প্রথম দুই থেকে চার দিনের মধ্যে এই ভাইরাস বেশি করে ছড়ায়। কিন্তু তিন সপ্তাহ পর্যন্ত এই ভাইরাস জীবিত থাকে।

কমন কোল্ডের সিম্পটম

  • প্রথম দিকে নাক দিয়ে জল গড়াতে থাকে। পরে ঘণ হয়ে যায়।
  • গলা খুশ খুশ করে গলা বসে যেতে পারে।
  • অনবরত হাঁচি হয়।
  • খুব কাশি হয়।
  • জ্বর আসে
  • মাথা ধরে যায় বা মাথা ব্যাথা করে।
  • ভীষণ ক্লান্তি লাগে
  • হাত-পা, সারা শরীর ব্যাথা করে।
  • খাবারে অরুচি লাগে।
  • তিন থেকে দশ দিন ধরে এই সিম্পটম দেখা দিতে পারে।

প্রিভেনশন

  • হাত ভাল করে ধুতে হবে।
  • রোগীর কাছাকাছি থাকলে হাত না ধুয়ে নিজের নাক, মুখ, চোখে হাত দেওয়া উচিত নয়।
  • রোগীর সামনে বেশিক্ষণ না থাকাই ভাল।
  • রোগীর সামনে বেশিক্ষণ না থাকাই ভাল
  • সর্দি-কাশ হলে রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করা উচিৎ। একবার ব্যবহারের পর চেঞ্জ পর করাই বাঞ্জনীয়।
  • রোগীর সঙ্গে কোনও কিছু শেয়ার কর উচিত নয়।
  • স্মোকারেদের কাছ থেকে দূরে থাকা উচিত। অসুস্থ অবস্থায় স্মোক করা ঠিক নয়।

ট্রিটমেন্ট

  • সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হয়ে যায়। ওষুধে খুব একটা দেয় না। তবে সাধারণ সিম্পটমের জন্যে সাময়িক রিলিফ নিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।
  • এ সময় খুব করে ফ্লুইড ইনটেক বাড়ানো উচিত।
  • কমপ্লিট বিশ্রাম।
  • গার্গল খুব উপকারী
  • ভেপার নিলে উপকার পাওয়া যায়।
  • পরিমাণ মতো ভিটামিন-সি- খাওয়া বাড়ানো উচিত।

কোন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

  • তিন দিনের পর উপসর্গের কোনও একটাও না কমলে বা পেশেন্টের কন্ডিশন খারাপের দিকে গেলে
  • কাশতে কাশতে খুব কফ বেরতে আরম্ভ করলে।
  • একটুতেই হাফ ধরে গেলে
  • অত্যাধিক ক্লান্তি লাগলে
  • ফ্লুইড বেশিক্ষণ পেটে ধরে না রাখতে পারলে
  • খুব মাথাব্যাথা কিংবা ঢোক গিলতে অসুবিধে হলে।
  • ১০৩+ ফারেনহাইট কিংবা তার উপরে জ্বর উঠলে।
  • গলার গ্ল্যান্ড ফুলে উঠলো
  • মুখ, কান, গলায় অসহ্য ব্যাথা হলে।
  • বুকে, পেটে ব্যথা হলে।
  • কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এলে
  • ঘাড় গলা স্টিফ হয়ে গেলে
  • অনবরত বাম হলে বা গা বমি বমি করলে
  • নিশ্বাস নিতে অসুবিধে হলে

হোম রেমিডি

  • সাধারণত কমন কোল্ডের জন্যে নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নেই।  অ্যান্টিবায়োটিক কোনও কাজ দেয় না। কিছু কিছু টোটকা এ ক্ষেত্রে বেশ উপকারী।
  • একটু গুড় ও অল্প গোলমরিচ জলে মিশিয়ে গরম করে চায়ের মতো খেলে ভাল হয়।
  • এক গ্লাস জলে দুটো লেবুর রস সঙ্গে একটু চিনি মিশিয়ে শোয়ার আগে খেতে হবে।
  • কিছুটা ইউক্যালিপটাস অয়েল শোয়ার আগে কপাল, নাক, বুকে লাগিয়ে চাদর বা কম্বল জড়িয়ে শুলে সকালেই উপকার পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রচুর ঘাম হবে।
  • লেবুর রস মধুর সঙ্গে রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে সিরাপ তৈরি করে মাঝে মাঝে খাওয়া যেতে পারে।
  • গরম জলের ভাপ নিলে উপকার পাওয়া যায়।
  • এক গ্লাস গরম দুধে এক চামচ রসুন বেটে মিশিয়ে খেতে হবে। এতে গলা ছাড়বে।  ঠান্ডা বসে যেতে দেবে না।
  • এই সময় সব কিছুর সঙ্গে একটু জিরে খাওয়া উচিত।
  • আদর রস মেশানো চা খেলেও উপকার পাওয়া যায়।
  • তুলসীপাতা চিবেলে কিংবা তুলসীপাতা জলে ফুটিয়ে খেলে  উপকার পাওয়া যায়।
  • পেয়াজ সর্দির ক্ষেত্রে উপকারী।
  • স্যালাইন জল ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে স্যালাইন নোজ ড্রপ ব্যবহার জরুরী।
  • বাচ্চাদের নাক মুছতে দিয়ে নাক ছঢ়ে গেলে পেট্রোলিয়াম জেলির  ব্যবহার খুব উপকারী।

লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট

  • হট ভেজিটেবল স্যুপ কিংবা কম মশলা দেওয়া স্টিমড ভেজিটেবল খাওয়া উচিত।
  • স্মোক করা কিংবা স্মোকারদের আশেপাশে থাকা চলবে না।  সহজ পাচ্য নয় এমন খাবার যেমন চিজ, দই, দুধ, মশলাযুক্ত খাবার , ভাজাভুজি, মিষ্টি এড়িয়ে চলা উচিত।
  • খুব গরম গরম খাবার না খাওয়াই ভাল।
  • ফ্রেশ এয়ারে চলাফেরা করা উচিত। সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম।
  • সব সময় খেয়াল রাখা উচিত যাতে নিজের সংক্রমিত ভাইরাস অন্যকে আক্রন্ত না করতে পারে।
  • নিজের ব্যবহৃত জিনিস সব সময় আলাদা রাখতে হবে।
  • রুমাল বা টিস্যু রাববার চেঞ্জ করে করে ব্যবহার করা উচিত।
  • অসুস্থ অবস্থায় শিশুদের কাছাকাছি যাওয়া উচিত নয়।
  • বদ্ধ ঘরে থাকা চলবে না।
  • বাড়িতে এসি থাকলে তা ব্যবহার করা উচিত। এতে আর্দ্রতা কন্ট্রোল থাকে। এ ধরনের সমস্যায় খুব উপকারী।
  • সুর্দি-কাশি হলে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো অন্তত দুই তিন দিন বন্ধ রাখা উচিত।

  • 0

শিমের পুষ্টি

Category : Health Tips

শীতকালীন সবজি

শিমের পুষ্টি

দেশী শিম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীতকালীন সবজি। এটি পুষ্টিকর, সুস্বাদু এবং সব শ্রেণীর লোকের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। শিমের কচি শুটির বীজে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও শ্বেতসার থাকে বলে খাদ্য হিসেবে খুবই উপকারী। তাছাড়া এতে যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন এ, বি ও সি থাকে। শিমের ফলকে শুটি বলা হয়। দেশী শিমের শুটি চ্যাপ্টা, দৈর্ঘ্য ৮-১৫ সে. মি. ও প্রস্থে ২.৫-৫ সে. মি। শুটির উপরিভাগ মর্সণ অথবা কোচকানো, ত্বক সবুজ, সাদা, বেগুনি। প্রতিটি শুটিতে ৩-৬টি বীজ থাকে। পরিপক্বতা লাভের সঙ্গে সঙ্গে বীজের মধ্যবর্তী স্থানে শুটি সংকুচিত হয়ে আসে এতে বীজের অবস্থান সুস্পষ্ট হয়ে যায়। বীজ গোলাকার বা লম্বাটে, কিঞ্চিৎ চ্যাপ্টা, বর্ণে কালো, হলুদ, বাদামী, সাদাটে অথবা একাধিক বর্ণে বিচিত্রত।

দেশী শিম একটি প্রেটিনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর ও সুস্বাদু সবজি। আহার উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম কচি শিমে থাকে ৩.৯ গ্রাম প্রোটিন। মানব দেহের ক্ষয়পূরণ ও বদ্ধিসাধনের জন্য প্রোটিন একান্ত প্রয়োজন। এর অভাবে শিশু ও বালক বালিকার দৈহিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।

প্রোটিনজনিত অপুষ্টির দরুন মানুষ কৃশকায়,দুর্বল এবং বুদ্ধিবৃত্তির দিক দিয়ে অপুষ্ট হয়। আমাদের দেশে প্রোটিনের অভাব আজকাল এক মারাত্মক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

তাই প্রোটিনের চাহিদা পূরণে আমাদের খাদ্য তালিকায় শিম জাতীয় সবজির প্রতি অধিকতর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। প্রোটিন ছাড়াও শিমে রয়েছে ৮.০ গ্রাম শ্বেতসার, ০.৭ গ্রাম স্নেহ, ২১২ মাইঃ গ্রাম ক্যারোটিন (ভিটামিন এ), ০.১ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.৬ মিলিগ্রাম রাইবোফ্লেভিন, ০.৭ মিলিগ্রাম নায়াসিন, ৯.০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ১.৭ মিলিগ্রাম লৌহ।

শিমের পাকা বিচিত্রে আছে প্রোটিন ২.৫ গ্রাম, ৬.০০ গ্রাম শ্বেতসার, ০.৮ গ্রাম স্নেহ, ১০০ মাইঃ গ্রাম ক্যারোটিন, ০.৫ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.১ মিলিগ্রাম রাইবোফ্লেভিন, ১.৮  মিলিগ্রাম নায়াসিন, সামান্য ভিটামিন সি, ৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ২.৭ মিলিগ্রাম লৌহ। এছাড়া শিমের বিচির মধ্যে থাকে ফাইটো কেমিক্যাল ও Protease inhibitors যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। তাই স্বাস্থ্যের জন্য শিম খুবই উপকারী সবজি। কচি শিমের ভাজি ও ব্যঞ্জন খুবই সুস্বাদু। পাকা শিমের বিচি ভেজে বা ডাল রান্না করে খাওয়া যায়। অপুষ্টি বাংলাদেশের একটি মারাত্মক জাতীয় সমস্যা। এদেশে নারী পুরুষ শিশু সর্বোপরি অধিকাংশ মানুষই অপুষ্টির শিকার। তবে শিশু ও মহিলারই বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে। বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ টি শিশু (৬ বছরের নিচে) ভিটামিন ‘এ’ র অভাবে অন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এদের প্রায় অর্ধেক প্রোটিনের অভাবে প্রথম বছরেই মারা যায় যা অত্যান্ত দুঃখজনক। অথচ শিশুকে নিয়মিত সস্তা দামের শাক আর গাঢ় সবুজ ও হলুদ বর্ণের সবজি খাওয়ালে অপুষ্টির এ অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই দেহের পরিপুষ্টি এবং দেহকে সুস্থ সবল রাখার জন্য এ সময় বয়স্ক ও শিশুদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বেশি করে শিমকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।