Monthly Archives: March 2019

  • 0

স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুনঃ সুস্থ থাকুন

স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুনঃ সুস্থ থাকুন

 

সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কিছু নিয়ম বেধে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য বা WHO ।   এ নিয়মগুলো মেনে চললেই রোগ আপনার থেকে সাত হাত দূরে থাকবে, জীবন হয়ে উঠবে ‍নিরোগ ও আনন্দময়। এবার সে নীতি নির্দেশিকা গুলো নিয়ে আলোচনা করছি।

সাধারণ স্বাস্থ্য বিধিঃ রোজ গোসল করে পরিষ্কার ও কাচা জামা কাপড় পরিধান করা উচিত। ভিতরের জামা কাপড় রোজ পাল্টানো উচিত। বাইরে থেকে ঘরে এসে কাজকর্ম করে বাড়ি ফিরে অবশ্যই হাত পা ধৌত করা ও জামা কাপড়  বদলানো উচিত। রান্না করা ও খাওয়ার সময় হাতের আংটি খোলা উচিত। যেখানে সেখানে থুথু, পানের পিক ফেলা, প্রস্রাব, পায়খানা করা উচিত নয়। খাওয়ার পর দাত ব্রাশ করা উচিত। যে কোন কিছু বিশেষত মিষ্টি, চকলেট খাওয়ার পর মুখ ভাল করে ধোয়া উচিত। বাইরের খোলা খাবার বা কাটা ফল না খাওয়া ভাল। খাবার সর্বদা ঢেকে রাখা উচিত।

রান্নার ধরণঃ  সবজি কাটার পূর্বে পানিতে কমপক্ষে এক ঘন্টা ডুবিয়ে রাখা প্রয়োজন। সবজি কাটার আগে ধোয়া উচিত,  পরে নয়। যতটা সম্ভব সবজির খোসা না বাদ দেয়া এবং বড় মাপের টুকরো করে কাটা ভালো। সর্বদা ঢাকা পাত্রে (প্রেসার কুকারে হলে আরও ভাল) রান্না করা উচিত। রান্নার শুকনো লস্কার গুড়ো ব্যবহার করা উচিত নয়। তেলে সরিষার আদা, পেয়াজ, রসুন ভাজা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ভাজা বা কষা উচিত নয়।

খাবার নিয়মঃ খাওয়ার পূর্বে এবং পরে হাত ও মুখ ধোওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। খাবার সর্বদা খুব ভালো করে চিবিয়ে খেতে হয়। খেতে খেতে কথা বলা, কাগজ পড়া, গল্পের বই বা টিভি দেখা উচিত নয়। ভরপেট খাওয়া কখনো উচিত নয়। সর্বদা পেট কিছুটা খালি রেখে খাওয়া উচিত। খেতে খেতে এবং খাওয়ার পরপর কখনো পানি পান করা উচিত নয়। খাবার খাওয়া কমপক্ষে আধঘন্টা বা এক ঘন্টা পর পানি পান করা উচিত। দূপুরে ও রাতে খাওয়ার পর তিন থেকে পাচ মিনিট বান্ধাসন করা উচিত। মূল খাবার দিনে ৩ বাজার গ্রহণ করা ভাল ( সকাল, দুপুর, রাত)। সকালে খাবারের পরিমাণ বেশি রাখা এবং দুপুরে ও রাতে ক্রমশ কমানো উচিত। অনবরত টুকিটাকি খাবার ঠিক নয়। খুব মানসিক চাপ থাকলে বা কাজের তাড়া থাকলে তখন পুরো খাবার না খেয়ে শরবত পান করা ভাল।

পানি পানের নিয়মঃ যথাযথ পরিমাণে পানি পান করা উচিত। শরীরের প্রতি কেজি ওজনের ৫০ মিলিমিটার পানির প্রয়োজন হয়। সর্বদা গ্লাসে চুমুক দিয়ে ধীরে ধীরে পানি পান করা ‍উচিত। কাজকর্মের সময়ে ঘেমে নেমে যাওয়ার সময় সঙে সঙে পানি না খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে পান করা উচিত। পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করে ঢেকে রাখা উচিত। কখনো পাত্রে হাত ডুবিয়ে পানি তোলা উচিত নয়। ফিল্টার ব্যবহার করলে ক্যান্ডেল সপ্তাহে কমপক্ষে একবার পরিস্কার করা উচিত। গরমের সময় ফ্রিজের পানি পান খেয়ে মাটির বা পিতলের কলসের পানি পান করা উচিত। কম দামি প্লাষ্টিকের বোতলে দীর্ঘক্ষণ পানি না রেখে স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র বা ব্যবহার করা ভাল।

ঘুমানোর নিয়মঃ শোয়ার সময় কখনোই সোজা হয়ে শুতে নেই, সাধারণত বামপাশে ফিরে শোয়া উচিত। বালিশ ছাড়া শোওয়া ঠিক নয় এবং মোটা বালিশ নয়, পাতলা বালিশে শোওয়া ভাল। অতিরিক্ত নরম ও অসমান গদিতে শোওয়া ঠিক নয়। সুস্থাবস্থায় ৬-৭ ঘন্টা ঘুম যথেষ্ট। ৮ ঘন্টা বা তার বেশি ঘুম মানুষের আয়ু কমিয়ে আনে। শোওয়া ওঠার সময় সর্বদা পাশ ফিরে ওঠা উচিত। সোজা অবস্থায় কখনোই উঠতে নেই। ঘুম থেকে ওঠার পর ধীরে ধীরে বিছানা ত্যাগ করা উচিত।

দৃষ্টি ভাল রাখার উপায়ঃ দিনে এক থেকে দু বার ঠান্ডা পরিষ্কার পানিতে আলতো করে চোখ ধূয়ে নিন। চোখ উপর নিচ, ডান বাম পাশ, কোণাকুনি ওপর নিচ এবং গোল করে ঘড়ির কাটার বিপরীত দিক থেকে ধীরে ধীরে দশবার করে ঘোরানো উচিত। দুটো ভ্রুর মাঝখান দিয়ে অসুবিধা না হওয়া পর্যন্ত স্থিরভাবে সামনে দেখা ভ্রুমধ্য দৃষ্টি। অসুবিধা না হওয়া পর্যন্ত সমতল এক মিটার দূরে একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা। হাতের তালু ঘষে নিয়ে চোখের উপর আলতো করে ঢাকা দেয়া। ভিটামিন এ যুক্ত খাবার বেশি খাওয়া ভাল। প্রত্যাহ এককাপ করে গাজরের রস খাওয়া ভালো।

কিছু উপসর্গ দেখা দিলেঃ রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে বাম নাসাপুট দিয়ে শ্বাসগ্রহণ করে ডানা নাসাপুট দিয়ে ৫ মিনিট ছাড়া। ঘুম না হলে বা কম হলে সোজা হয়ে বসে কোন একটি বিন্দুর দিকে বড় করে যতটা সম্ভব চেয়ে থাকা। টেনশন হলে সঙে সঙে একগ্লাস ঠান্ডা পানি পান করে অথবা যতটা সম্ভব দম বন্ধ করে রাখা। অম্বল হলে সকালে খালি পেটে পানি খেয়ে বমি করা। নাক বন্ধ বা শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে পানি নেতি খুব উপকারী। নাতিশীতোষ্ণ পানি বাম নাকের ফোটা দিয়ে বের করতে হবে, শ্বাস প্রশ্বাস মুখ দিয়ে নেয়া ছাড়া করতে হবে। শ্বাস প্রশ্বাসের অসুবিধা হলে প্রাণায়াম উপকারী। এতে গভীরভাবে শ্বাস প্রশ্বাস নেয়া ছাড়া করতে হবে। শ্বাস প্রশ্বাস একটা নির্দিষ্ট নিয়মে করা জরুরি।

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক ও কলামিষ্ট


  • 0

মৃগীরোগঃ একটি স্নায়ু মনোরোগ

মৃগীরোগঃ একটি স্নায়ু মনোরোগ

 

মৃগীরোগ একটি স্নায়ু মনোরোগ। স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়ে এ রোগ সৃষ্টি হতে পারে। মাথার খুলির ভেতর এক ধরনের স্নায়ুতন্ত্র আছে যার উপরিভাগের নাম সেরিব্রাল কার্টেক্ এবং নিচের ভাগের নাম সেরিব্রেলাম। সেরিব্রাল কর্ট্রেক্সে কয়েকশ কোটি স্নায়ুতন্ত্র থাকে। স্নায়ুতন্ত্র এর প্রতিটি ইউনিটের নাম নিউরন। নিউরনের কাজ স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় রাখা ও বিভিন্ন সিগন্যাল তৈরি করা। একটি নিউরিন যদি অস্বাভাবিক কোনো সিগন্যাল তৈরি করে তাতে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় খিচুনি হতে দেখা যায়। এছাড়া অন্যভাবেও এর ব্যাখা দেয়া যায়। এছাড়া অন্যভাবেও এর ব্যাখা ব্যাখা দেয়া যায়্ মানুষের স্নায়ুতন্ত্র দুটি বড় অংশে বিভক্ত।  একটি হলো সেন্টাল নার্ভাস সিস্টেম। আর অন্যটি হলো পেরিফেরিকল নার্ভাস সিষ্টেম। মানুষের এই যে দুটি নার্ভাস সিষ্টেম এই সিষ্টেমের কাজের গোলমাল হলে সৃষ্টি হয় মৃগীরোগী বা এপিলেপসি।

একবার খিচুনি হওয়া মৃগীরোগের পর্যায়ে পড়ে না। মৃগীরোগের পর্যায়ে পড়ে না। মৃগীরোগ ডায়ানোসিস করতে হলে খিচুনি একাধিকবার হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের অত্যাধিক জ্বর,  শরীরের মেটাবলিক সমস্যা অথবা মস্তিস্কে আঘাতজনিত কারণেও খিচুনি হতে পারে। সহসা এটিকে মৃগীরোগের পর্যায়ে ফেলা ঠিক হবে না। মৃগীরোগ খিচুনি একাধিকবার হতে হবে, খিচুনির মধ্যে ২৪ ঘন্টা ব্যবধান থাকতে হবে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীকে অজ্ঞান হতে হবে।

মৃগীরোগের কারণ ৭০% নির্দিষ্টভাবে জানা নেই, আর প্রায় ৩০% রোগীর ক্ষেত্রে অন্য কারণগুলো হচ্ছে প্রধান অথবা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রদাহ, শিশুর জন্মের পূর্বে এবং পরে মস্তিস্কে আঘাত পাওয়া,  স্ট্রোক, মাথায় ইনজুরি, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ, ব্রেণ টিউমার, মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক গড়ন, মস্তিস্কে পূর্বে অপারেশন, মস্তিষ্কে বিভিন্ন ক্ষয়জনিত রোগ ইত্যাদি।  এছাড়া বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক ও পরিপাকজনিত কারণ, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ, মাদকদ্রব্যের আসক্তি ইত্যাদি বিভিন্ন কারণ।

মৃগীরোগ কিছুটা বংশগত। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্রোমোজম নম্বর ৬ এবং ২৩ নম্বরে পরিবর্তনের কারণে মৃগীরোগ হয়ে থাকে। এছাড়া পরিপাকজনিত কারণ যেমন- অ্যামাইনো এসিড, প্রোটিন ও মেটাবলিজমের কারণে মৃগীরোগ হয়ে থাকে। মৃগীরোগাক্রান্ত মাতা পিতা থেকে সন্তানের মধ্যে মৃগীরোগ হয়ে থাকে। তবে তা নির্ভর করে পিতা বা মাতার মধ্যে কত অল্প বয়সে তা সৃষ্টি হয়েছে। তার ওপর মহিলাদের মৃগীরোগ হওয়ার হার পুরুষের চেয়ে কম। মাসিক চক্র চলাকালীন হরমোনের কিছু পরিবর্তনের কারণে মৃগীরোগ হতে পারে। মাসিক চক্র চলাকালীন মহিলাদের মধ্যে যে মৃগীরোগ দেখা দেয় তাকে বলে ক্যাটামিনিয়াল এপিলেপসি।  এতে আক্রান্ত হয়ে খিচুনি বারবার হয় যা মাত্রায় অধিক হয়। মাসিক চক্র ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরণ হরমোন স্নায়ুতন্ত্র ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে।  ইস্ট্রোজেন হরমোনটি উদ্দীপক ও প্রজোস্টেরন হরমোনটি নিরোধক। মাসিক চক্রের প্রথম দিকে যখন শরীরের ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেশি হয় তখন ক্যাটামিনিয়াল এপিলেপসি হতে পারে। সেক্ষেত্রে মৃগীরোগের ওষুধ ছাড়া প্রজেস্টেরণ হরমোন ওষুধ আকারে দেয়া হয়। যাতে করে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরণ মাত্রা সমান থাকে। মৃগীরোগ জনিত কারণে মহিলাদের মধ্যে সন্তান সম্ভাবনার হার কমিয়ে দেয়, মাসিক চক্র অনিয়মিত করে প্রচন্ডভাবে যৌন ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। এর কারন হলো মহিলাদের যৌন জীবন যাপনে হাইপোথ্যালামাস ও লিম্বিক সিস্টেমের বিশেষ কাজ রয়েছে। মৃগীরোগ এই জায়গাগুলোর কাজকে কমিয়ে দেয়। আবার মৃগীরোগে আক্রান্ত মহিলাদের মধ্যে যারা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করে সে ক্ষেত্রে মৃগীরোগের ওষুধ জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। গর্ভধারণের ক্ষেত্রে  এই রোগের মাত্রা ৩০% বেশি হতে পারে। অনেক সময় মৃগীরোগের খিচুনি পেটের সন্তানের ক ক্ষতি করতে পারে। মৃগীরোগের চিত্রটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য ভয়াবহ। ১০ শতাংশের জনসাধারণের মধ্যে তাদের জীবদ্দশায় মৃগীরোগ জনিত খিচুনির সম্ভাবনা আছে। যার মধ্যে কিনা শতকরা ৩ ভাগ লোক পরবর্তীতে মৃগীরোগে আক্রান্ত হতে পারে। শিশু ও বৃদ্ধ বয়সে মৃগীরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মৃগীরোগে শিশু বয়সে আক্রান্ত হলে হঠ্যাৎ করে শিশু মাথা ঘুরে পড়ে যায়। এতে তার জ্ঞান হারিয়ে যেতে পারে। তারপর শুরু হয়  খিচুনি। এই খিচুনির স্তর দু তিন মিনিট পর্যন্ত চলে। এরপর রোগীর ঘুমে তলিয়ে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি মাটিতে পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে দাতের ফাকে তার জিহ্বা আটকে যেতে পারে। ফলে জোর করে জিহ্বা চেপে কয়েক সেকেন্ড এরকম অচেতন অবস্থায় থাকতে পারে। তবে ১৫ মিনিটের বেশি অজ্ঞান অবস্থায় থাকে না। অনেক শিশুর ১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর হতে পারে। ১০ শতাংশ শিশুর এই জ্বরজনিত খিচুনি হতে দেখা যায়। সুখের কথা হলো, এটিকে এপিলেপসি রোগ বলা হয় না। তবে জ্বর ছাড়া যদি বারবার বিরতি দিয়ে খিচুনি হতে থাকে তখন সেটি এপিলেপসি। আরেকটি কথা হলো, যেসব শিশু ছোটবেলায় জ্বরজনিত খিচুনিতে ভোগে তাদের প্রায় ৩ শতাংশ শিশু বড় হয়ে এপিলেপসি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। আর তখন এ রোগের বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। মৃগীরোগের খিচুনি হঠ্যাৎ করে হয় আবার হঠ্যাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। খিচুনির কিছু পূর্বে রোগী এটা বুঝতে পারে। এপিলেপসির উপসর্গগুলো হলো-

১. চার হাত পায়ে খিচুনি হয়, ঘাড় বাকা হয়, চোখ উল্টে যায়, জিহ্বা কেটে যেতে পারে, মুখ দিয়ে ফেনা ও রক্ত বের হয়।

২. রোগী কাপড়ে প্রস্রাব পায়খানা করতে পারে।

৩. অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ার ফলে শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকতে পারে।

৪. অনেকের ঘুমের মধ্যে উপসর্গ বা খিচুনি দেখা দিতে পারে। একে বলে স্লিপিং এপিলেপসি। ঘুমের মধ্যে খিচুনি দেখা দিলে বিছানা বা বালিশে রক্ত বা ফেনা লেগে থাকতে পারে।

৫. যেসব শিশুর বিছানায় প্রস্রাব করার অভ্যাস বা রোগ নেই, সেসব শিশু হঠ্যাৎ করে বিছানায় প্রস্রাব করে ফেলে সেটিও এপিলেপসির উপসর্গ হতে পারে।

৬. কোনো কোনো রোগী অজ্ঞান না হয়ে সামান্য সময়ের জন্য আনমনা হয়ে যায় সেটিও উপসর্গ হতে পারে। মৃগীরোগ থেকে মানবিক বৈকল্য দেখা দিতে পারে। মৃগীরোগ থেকে যেসব মানবিক রোগ হতে পারে তা হলো- বিভিন্ন ধরনের নিউরোসিস বা মৃদু মানসিক রোগ যেমন- অবসেশন, ফোবিয়া, মৃদু মাত্রার বিষণ্নতা, অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরনের সাইকোসিস বিষণ্নতা, ম্যানিয়া, সিজোফ্রেনিয়া।

মৃগীরোগজনিত ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন। যেসব রোগী ১০ মিনিটের বেশি সময় অজ্ঞান অবস্থায় থাকে, সেসব রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেয়া প্রয়োজন। আবার কিছু ক্ষেত্রে মৃগীরোগীকে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেয়া প্রয়োজন হতে পারে। কারণ সেক্ষেত্রে রোগীকে অক্সিজেন দিতে হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশুর হজম ও বিপাকক্রিয়া ঠিকমতো না হলে শিশু এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। জ্বর হলে শিশুকে জ্বরের ওষুধ দিতে হবে। এপিলেপসি রোগী অজ্ঞান হলে সবাই চেষ্টা করে চামচ দিয়ে দাত ফাকা করার জন্য। এটি ভুল, এমনকি   কোনো সময়ই করা উচিত নয়। অনেকে রোগীর মুখে পানির ঝাপটা মারেন এটিও ঠিক নয়। অনেকে আবার রোগীকে জুতার গন্ধ শুকায় এগুলোও ভুল ধারনা। এ সবের কোনো প্রয়োজন নেই। রোগী এ রোগে আক্রান্ত হলে তাকে ডানপাশে কাত করে শুইয়ে দিবেন আর ১০ মিনিটের বেশি খিচুনি ও অজ্ঞান হলে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন।

এ রোগী বিভিন্ন ধরনরে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। তাই মানসিক রোগের ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করারও অত্যান্ত প্রয়োজন। মানসিক রোগের ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের এপিলেপসি বা মৃগীরোগের চিকিৎসা করে থাকেন। মৃগীরোগকে অনেক মনে করেন হিষ্টিরিয়া জিনে ধরা আলগা দোষ ভরা করা, বাতাস লাগা, পরিতে ধরা।  এগুলো এক প্রকার কুসংস্কার। এতে রোগ আরো জটিল আকার ধারণ করে থাকে।

 

অধ্যাপক ডা. এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ

মনোজগত সেন্টার, ধানমন্ডি, ঢাকা।


  • 0

বিকৃত যৌনতায় হোমিওপ্যাথি

বিকৃত যৌনতায় হোমিওপ্যাথি

যৌন কামনা যদি সঠিক পথে নিজের রূপ পরিগ্রহ করতে না পারে তবে নানারকম যৌন বিকৃতি এসে হাজির  হয়। তাই মনোবিকারে যৌনকারণ পর্যবেক্ষণ করে দেখা দরকার। সমাজের বিকৃত যৌনতা বিস্তার লাভ করেছে বিকৃত রুচির কিছু মানুষ। এরা যৌনতার বাজে কামনা, মাধ্যম হিসাবে এমন কিছু কাজ করে যার প্রেক্ষিতে যৌন দুর্বলতা ; পুরুষত্বহীনতা, মুখে ঘা, সিফিলিস, গনরিয়া জনিত চর্মরোগ মহিলাদের তলপেটের জটিল সমস্যাসহ বন্ধ্যাত্ব; পুরুষের শুক্র তারল্য ও সন্তানের বাবা  হইতে বঞ্চিত  হইতেছে অনেক বিবাহিত দম্পত্তি। এই বিষয়ে বলতে গেলে লক্ষণ হিসেবে কতগুলো মনোরোগের কথা স্মরণ করতে হয়, এর মধ্যে ভয়, আনন্দ, গৃহবিরহতা, প্রেমে উন্মুক্ততা, বুদ্ধিভ্রংশতা, রোগ সম্পর্কে চিন্তা, লোভ,  ক্রোধ, অন্যমনস্কতা, লজ্জাহীনতা, ক্ষিপ্ততা, মর্মাহত ও সন্দেহ আচ্ছন্নতা এই ধরনের অনেকগুলো মনোরোগের লক্ষণ পাওয়া যায়। এই লক্ষণগুলো চরিতার্থ করতে তখন অদ্ভুত যৌন বিকৃতির আর্বিভাব ঘটে। তার মধ্যে থেকে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য।

১। স্পর্শ দ্বারা যৌন সুখ।

২। ঘ্রাণের সাহায্যে যৌন সুখ লাভ।

৩। দর্শনে গন্ধে যৌন সুখ।

৪। চিত্র বা মূর্তি দধর্শনে যৌন সুখ লাভ।

৫। দৈহিক অবয়বগুলো সাথে নানা প্রকার অস্বাভাবিক যৌন আকঙ্খা ও যৌন তৃপ্তির সম্বন্ধ। হাত, পা, স্তন, চুল, স্রাব গন্ধ ইত্যাদি।

৬। শিশুদের প্রতি যৌনক্ষুধা।

৭। সমকামিতা।

৮। পশ স্পর্শে যৌন শক্তি  ও যৌন আর্কষণ।

৯। আলিংগণ চুম্বনে যৌনতৃপ্তি,

১০। দর্শনে যৌন ইচ্ছা।

১১। পরপীড়নে যৌনতৃপ্তি।

১২। অশ্লীল বাক্য বলে যৌন তৃপ্তি।

১৩। ওরাল সেক্স এর মাধ্যমে যৌন তৃপ্তি।

উল্লেখিত বিকৃত যৌন তৃপ্তি মানুষকে ও মানুষের মনকে এমন এক পর্যায় নিয়ে যায় তখন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ডাক্তারের শরাণাপন্ন হলে কিছু করার থাকে না। গবেষণায় দেখা গিয়াছে, স্বাভাবিকভাবে মানুষের মনের যেই সব কামনা উদয় হয় সেগুলি চরিতার্থ না পেলে তখন বিপরিত ধারায় যৌন বিকৃতি ও উন্মাদনায় পরিণত হয়।

চিকিৎসাঃ এই বিষয়ে চিকিৎসকের ভূমিকা অপরিসিম। কারণ চিকিৎসক রোগীর মনো লক্ষণের উপর গুরুত্ব দিতে হয় বেশি। হোমিও পদ্ধতিতে অর্জিত যৌন রোগ যাবতীয় জটিল রোগ চিকিৎসা করতে রোগীকে বেছে নিতে হবে একজন অভিজ্ঞ হোমিও প্যাথি ডাক্তার উপযুক্ত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় আপনার বাজে অভ্যাসের মাধ্যেমে অর্জিত যৌন রোগ থেকে মুক্তিপেতে পারেন।

ডাঃ ইব্রাহিম মজুমদার


  • 0

পোকামাকড়ের দংশনে এলার্জি

পোকামাকড়ের দংশনে এলার্জি

প্রতি বছর অসংখ্য মানুষকে দংশন করে পোকা মাকড়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হলের কারণে ব্যথা এবং অস্বস্তি থাকে কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত এবং আপনা আপনি সেরেও যায়। পোকা মাকড় দংশনের ফলে মূল উপসর্গ হিসাবে দেখা যায়। হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া এবং চূলগুরো। তবে কিছু মানুষ আছে, পতঙ্গের কামড়ে যাদের এলার্জি হয়। অর্থ্যাৎ তাদের শরীরের প্রতিরোধক শক্তিগুলো পতঙ্গের প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। তীব্র প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ; কিছু মানুষ আছে পতঙ্গের বিষ যাদের মৃত্যুর ঝূকি সৃষ্টি করে। পতঙ্গ দংশনজনিত এলার্জি শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে দেখা যায় এবং এসব ঘটে খুব দ্রুতগতিতে। উপসর্গের মধ্যে আছে শরীরের ব্যাপক অংশে চুলকানি এবং রক্তবর্ণের চাকা তৈরি হওয়া, জিব ও গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট,  ঝিমঝিম ভাব, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়া। তীব্র এলার্জি হলে দ্রুত শরীরের রক্তচাপ কমে যায় এবং রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

পতঙ্গকে শনাক্ত করাঃ দংশন থেকে বাচতে হলে আমাদের জানতে হবে পতঙ্গগুলি দেখতে কেমন এবং তাদের বাসা কোথায়। দংশনজনিত প্রতিক্রিয়া হয় মূলত কয়েক ধরনের পতঙ্গের কামড়ে, যেমন বোলতা, মৌমাছি, ভীমরুল, বিষ পিপড়া।

দংশনের চিকিৎসাঃ যদি মৌমাছি কামড়ায়, ত্বকে যদি হুল ফুটে থাকে তাহলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে স্থুলটি তুলে ফেলুন। কারণ হুলের সঙ্গে বিষের থলি সংযুক্ত থাকে। হুল তুলে ফেললে বাড়তি বিষ শরীরে প্রবেশ করতে পারে না। নখ দিয়ে চুলকালে হুল ও বিষথলি অপসারিত হয়ে যায়। মালিশ করলে বা ডলাডলি করলে বরং বিষথলি থেকে বেশি পরিমাণে বিশ ত্বকে মিশে থাকার সুযোগ পায়। ভীমরুল বা বোলতার কামড়ে সাধারণত হুল ত্বকে সংযুক্ত থাকে না। শান্ত থাকার চেষ্টা করুন। খুব দ্রুত শরীর থেকে পতঙ্গগুলি ঝেড়ে ফেলুন  এবং তৎক্ষণাৎ সেই স্থান ত্যাগ করুন।

পতঙ্গ দংশনের পর নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে উপসর্গের তীব্রতা কমানো সম্ভব হতে পারে। পতঙ্গ যে হাতে পায়ে দংশন করছে, সেটাকে উচু করে রাখুন। বরফ বা ঠান্ডা সেক দিলে ব্যথা ও ফোলা কমবে। ফোস্কা গলাবেন না। সাবান পানি দিয়ে সাবধানে ফোস্কার চারপাশ পরিষ্কার করুন। এতে পরবর্তীতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের আশংকা কমে যায়। চুলকানি থাকলে এন্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট খাবেন। স্টেরয়েড মলম ব্যবহার করতে পারেন দংশনের জায়গায়। যদি ফোলা বাড়তেই থাকে, কিংবা দংশিত স্থান ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যদি পতঙ্গের আপনার মারাত্মক এলার্জি থাকে বা পূর্বে যদি অ্যানাচাইনোক্সিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে বাইরে চলাফেরার সময় আপনাকে খুবই সতর্ক  থাকতে হবে। নিজের সঙ্গে সহজে পুশ করা যায় এমন   একটি ডিভাইসে অ্যাডরেনালিন ইঞ্জেকশন রাখুন। শিখে নিন কিভাবে নিজে নিজে  ইঞ্জেকশন পুশ করতে হয়। এটি বিপদের মূহূর্তে আপনার জীবন রক্ষা করতে পারে।

মনে রাখবেন, দংশনের পরে অ্যাভরেনালিন ইঞ্জেকশনটি তাৎক্ষনিকভাবে আপনার জীবন রক্ষা করলেও এটি চিকিৎসা হিসাবে পর্যপ্ত নয়। অবিলম্বে ইর্মাজেন্সিতে চলে যেতে হবে আপনাকে পতঙ্গ দংশনের পরে যত দ্রুত সম্ভব। সেখানে আপনাকে অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎদসা নিতে হবে। এ ধরনের ব্যক্তিরা বিদেশে একটি বিশেষ ধরনের ব্রেসলেট বা লকেট ব্যবহার করেন। এতে লেখা থাকে যে তিনি এই ধরনের রোগী। ফলে অন্য ব্যক্তি এটা পড়া মাত্র তাকে চিকিৎসাস্থলে নিয়ে যেতে পারেন।

এলার্জি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরার্মশঃ  পতঙ্গ কামড়ালে যাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় তাদের এলার্জি বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। তিনি আপনার রোগের আনুপার্বিক ইতিহাস শুনবেন, পরীক্ষা করবেন এবং নির্ধারণ করবেন কোন ধরনের পতঙ্গের কারণে আপনার তীব্র এলার্জি হচ্ছে। ত্বক ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে আইজি ই ঠিক কী পরিমাণে আছে, তা জানা যায়। ঠিক কোন চিকিৎসা আপনার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট হবে তা নির্ধারণ করে দিবেন এলার্জি বিশেষজ্ঞ। এ ধরনের রোগীদের ইমিউনো থেরাপি’ দেওয়া হয়। এটি খুবই কার্যকর একটি ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া যার দ্বারা ৯৭% রোগীর দংশনজনিত তীব্র প্রতিক্রিয়া রোধ করা যায়।

ইমিউনোথেরাপি এবং সঠিকভাবে পতঙ্গ এড়িয়ে চলার কৌশল আয়ত্ত করতে পারলে রোগী ঘরে বাইরে স্বাভাবিক কর্মময় জীবনযাপন করতে সম্ভব হবেন।

 

ডাঃ গোবিন্দ্র চন্দ্র দাস

এলার্জি ও এ্যাজমা রোগ বিশেষজ্ঞ

দি এলার্জি এন্ড এ্যাজমা সেন্টার

পশ্চিম, পান্থ পথ, ঢাকা।


  • 0

নিপা এনকেফালাইটিস ( নিপা ভাইরাস) বা মস্তিষ্ক প্রদাহ

নিপা এনকেফালাইটিস ( নিপা ভাইরাস) বা মস্তিষ্ক প্রদাহ

আমাদের দেশের উত্তর অঞ্চলের রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারি ও লালমণিরহাট জেলায় শুরু হয়েছে এনকেফালাইটিস রোগ সংক্রমনের তান্ডবলীলা। যতো দিন যাচ্ছে ততোই বেড়ে চলেছে এই রোগের মৃতের সংখ্যা। এনকেফালাইটিস রোগ ও তার ভাইরাসের নামকরণ এবং পরিচিত।

১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের অর্ন্তগত একটি ভাইরাস সর্বপ্রথম মালয়েশিয়ার নেজেরি সেমবিলান রাজ্যের নিপা শহরে এনকেফালাইটিস রোগের সংক্রমণ ঘটিয়েছিলো বলে সেই শহরের নাম অনুসারে এই রোগের ভাইরাসের নামকরণ করা হয় নিপা ভাইরাস। এই ভাইরাস হলো এমন একশ্রেণীর ভাইরাস, যারা পুরোপুরিভাবে মেরুদন্ডী প্রাণীদের আক্রমণ করে থাকে।

এই ভাইরাস মেরুদন্ডী প্রাণীদের আক্রমণ করলেও অন্যান্য পাখিদেরও আক্রমণ করে থাকে এবং তাদের রক্তের লাল কণাগুলোকে জমাট বাধিয়ে দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে হিম অ্যাপলুটিনেশন। নিপা কিংবা আরবো ভাইরাস বেশ কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে।

এনকেফালাইটিস রোগের ভাইরাস মানবদেহে কিভাবে কাজ করে ?

এই ভাইরাস প্রাথমিকভাবে মানবদেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা এন্টিবডিকে আক্রমণ করে এবং তার রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। এরপর রক্তনালীর ভিতরের স্তরে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং রক্ত জমাট বাধায়। এরপরে এই ভাইরাস রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড বা মেরুমজ্জারস এবং মস্তিস্কে পৌছায়। এক পর্যায়ে এই ভাইরাসটি রোগীর হৃৎপিন্ড, ফুসফুস ও কিডনি বা বৃক্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগীর বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে অসাড় বা অকার্যকর করে ফেলে।

এনকেফালাইটিস রোগ নির্ণয় করার ল্যাবরেটরি পরীক্ষা

এই রোগ সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করার জন্য ক) রক্তের সিরাম পরীক্ষা। খ) সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড বা মেরুমজ্জার ভিতরে থাকা রস পরীক্ষা। গ) দেহকোষের ভাইরাস কালচার পরীক্ষা। ঘ) ইমিউনোফ্লুরোসেন্স এ্যাসে (এ্যালাইজা) পরীক্ষা। ঙ) পিসিআর এর মাধ্যমে ভাইরাসের আরএনএ বাড়া। চ) এনজাইম লিঙ্কড ইমিউনোসরবেন্ট এ্যাসে (এ্যালাইজা) নামক মলিকিউলার টেস্টে নিপা ভাইরাসের কারণে সৃষ্টি হওয়া বিশেষ এন্টিবডি আইজিএম এবং আইজিজ নির্ণয় করা হয়। ছ) টিসিই নির্ণয় করা হয় ইত্যাদি।

এনকেফালাইটিস রোগ আক্রমণের আদি ইতিহাস

১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম মানবদেহে  এই রোগ সৃষ্টিকারী নিপা ভাইরাস শনাক্ত করা হয় মালেশিয়ায়। এরপরে ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে সিঙ্গাপুরে। দুই বছরে এই দুই দেশে আক্রান্তদের মধ্যে মোট ২৭৬ জন রোগী মারা যায়। ঢাকায় অবস্থিত আর্ন্তজাতিক উদারময় গবেষণা কেন্দ্র (আইইডিসিআর) সূত্রমতে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে আমাদের দেশের মেহেরপুর জেলায় সর্বপ্রথম নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এরপরে ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে নওগার, ২০০৪ ও ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে রাজবাড়ীতে, ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে ফরিদপুরে, ২০০৫  খ্রিষ্টাব্দে টাঙ্গাইলে, ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে ঠাকুরগাওয়ে, ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে কুষ্টিয়ার,  ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে মানিকগঞ্জে এবং ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে ফরিদপুরে নিপাহ, ভাইরাসের প্রার্দুভাব হয়। উল্লেখ্য, ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে নওগা জেলায় শুকরের মাধ্যমে এই রোগের প্রার্দুভাব হয়েছিলো।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত নিপা ভাইরাসের উৎসস্থল খোদ মালেশিয়ার মাত্র ১ বার,  সিঙ্গাপুরে মাত্র ১ বার, ভারতে মাত্র ২ বার এই নিপা ভাইরাসের কারণে এনকেফালাইটিস রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। কিন্তু এই একই সময়ের মধ্যে আমাদের দেশে এই নিপা ভাইরাসের কারণে এনকেফালাইটিস রোগের সংক্রমণ হয়েছে মোট ৯ বার। উল্লেখ্য, ২০০১ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারী মাসে দ্বিতীয় বার যখন ভারতের শিলিগুড়িতে ৬৬ জন  এই রোগে আক্রান্ত হলো, আক্রান্তদের ৭৪% মারা যায়। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলো হাসপাতালের স্টাফ ও রোগীর সংস্পর্শে আসা আত্মীয় স্বজনরা।

এনকেফালাইটিস রোগ আক্রমণের বর্তমান ইতিহাস

এই বছরের ১ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এনকেফালাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৫২ জন, মারা গেছে ৩০ জন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, এনকেফালাইটিস রোগ গত শতাব্দিতে অবিভকত্ ভারতের কোনো কোনে জায়গায় কখনো কখনো মহামারী আকারে দেখা দিতো, যা বর্তমানে আর নেই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে এই এনকেফালাইটিস রোগটি সারা পৃথিবীর সব জায়গায় মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিলো। তবে এই রোগ আগেকার দিনে মহামারী আকার ছাড়াও মাঝেমধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেখা দিতো। ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত এই রোগ ছড়ানোর উপযুক্ত সময়।

এনকেফালাইটিস রোগের অন্যান্য কারণ

নিপা কিংবা আরবো ভাইরাসে আক্রান্ত বাদুড় অথবা অন্য কোনো পাখির খাওয়া বা মুখ লাগানো খেজুর, খেজুর রস, তাল, তাল রস, আখ, আখের রস, ফলমুল, যেমন- সুপারি, কলা, পেপে,  পেয়ারা, বরই, আম, জাম, জামরুল, সফেদা, আতা নোনা, কাঠাল, কামরাঙ্গা, আপেল,  আনারস ইত্যাদি ভালভাবে না ধুয়ে কিংবা ভালোভাবে জ্বালিয়ে না খাওয়া। এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির হাচি, কাশি,  থুথু, জামাকাপড়, বিছানাপত্র, তৈজসপত্র, কাপ, থালা, বাটি ইত্যাদির সংস্পর্শে আসা। এছাড়া বেশি ঠান্ডা লাগানো, আফিম, ভাং, মদ ইত্যাদি পান করা।

এনকেফালাইটিস রোগের লক্ষণ

নিপা ভাইরাস কিংবা আরবো ভাইরাস কোনো কারণে কারো দেহে প্রবেশ করলে এনকেফালাইটিস রোগের শুরুতেই রোগীর হঠ্যাৎ করে কাঁপুনি বা খিঁচুনিসহ প্রবল জ্বর শুরু হয়, কাশি হয়, শ্বাসকষ্ট হয়, ভীষণভাবে মাথা ধরে, মাথা ব্যথা করে, মাথা ঘোরে, পেট ব্যথা করে, চোখ মুখ লাল হয়ে ওঠে, ঘাড়ের রক্ত চলাচলকারী ধমনী ও মাথার দু পাশের ক্যারেটিড ধমনী উচ্চ রক্তচাপের ফলে দপদপ করে। রোগীর মানসিক শক্তি কমে যায়। কখনো কখনো বুদ্ধি  লোপ পায়। এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ কর্মেও বিপর্যয় ঘটতে পারে। রোগীর জ্বর বেড়ে গিয়ে ১০২ থেকে ১০৪/৫ ডিগ্রি হয়। রোগী ভূল বলতে শুরু করে। রোগী মাথা চালে। স্থির হয়ে শুয়ে থাকতে পারে না। রোগী সারা গায়ে বাতের ব্যথার মতো হাড়ভাঙ্গা ব্যথা অনুভব করে। রোগী বমি ও অসাড়ে প্রস্রাব পায়খানা করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে রোগীর আচ্ছন্নভাব চলে আসে। রোগীর হাত পা মুখ ও পায়ের মাংসপেশি আড়ষ্ট হয়ে আসে।

বয়সীদের চেয়ে বাচ্চারাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে তাদের দাত উঠার সময় কিংবা কোনো কঠিন রোগে ভোগার সময়। এ সময়ে বাচ্চারা খিটমিটে মেজাজের হয়ে যায়, চিৎকার করে কাদে, মাথা সোজা কিংবা খাড়া করে রাখতে পারে না, মাথার উপরে বারংবার হাত দেয়, মাথা চালে, ঘুম থেকে হঠ্যাৎ করে চমকে ওঠে, চোখ মুখ লাল হয়ে যায়, অসাড়ে প্রস্রাব পায়খানা করে, শ্বাসকষ্ট হয় ইত্যাদি।

এনকেফালাইটিসের ভয়াবহতা

এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে তাড়াতাড়ি সুচিকিৎসা দিতে না পারলে ৭৫% রোগীই মারা যায়।

এনকেফালাইটিস রোগে ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক ওষুধ

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞা একটি লাক্ষণিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। এই চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোনো রোগই কোনো সুর্নিদিষ্ট ওষুধ নেই। যে কোনো রোগের লক্ষণের সাথে হোমিওপ্যাথিক যে কোনো ওষুধের লক্ষণের মিল হলেই সেই ওষুধকে সেই রোগে প্রয়োগ করলে রোগ পুরোপুরিভাবে নিরাময় হয়। তবে, এই রোগে আমরা লক্ষণ অনুসারে সাধারণত অরাম স্যালফ,  আর্নিকা মন্টেনা, আর্সেনিক এ্যালাম,  ইউক্যালিপটাস ইচিনেসিয়া, এগারকিাস মাস্ক,  একোনাইট ন্যাপ,  এডোনিস ভার্নেলিস, এপিস মেল, ওপয়িম, ক্যাল্কেরিয়া আর্স, ক্যাল্কেরিয়া কার্ব,  ক্যাল্কেরিয়া ফস, ক্রাটিগাস, কুপ্রাম মেট, গ্লোনাইন, জিঙ্কাম, টিউবারকুলিনাম, ট্যারেন্টুলা, নাক্স মস্কেটা, নেট্রাম সালফ, নেট্রাম মিউর, পডোফাইলাম, পাইরোজেন, প্যাসিফ্লোর, ব্যাপ্টিসিয়া,  বেলেডোনা, ব্রায়োনিয়া, ভিস্কাম, এ্যালাম, ভিরেট্রাম এ্যাল্বাম, ভিরেট্রাম ভিরিডি, মার্কসল, মেডোরিনাম, রাওয়ালফোলিয়া, লরোসিরোসিস, সিকিউটা, সালফার, সাইলিসিয়া, সিনা, সিপিয়া, সোলেনাম নাইগ্রা, স্ট্রমোনিয়াম, হাইপেকিাম,  হাইড্রোফোবিনাম,  হায়োসায়েমাস, হায়োসিন হাইড্রোব্রোমাইড এবং হেলিবোরাস নাইজার ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার করতে পারি।

এনকেফালাইটিস রোগের আনুষাঙ্গিক নিয়ম

রোগীর মাথা ন্যাড়া করাসহ মাথায় বেশি করে ঠান্ডা পানি কিংবা বরফ দিতে হবে এবং কপালে ঠান্ডা পানি কিংবা বরফ পানির পট্রি দিতে হবে। কিন্তু হাত পা ঠান্ডা পানি কিংবা বরফ পানির পট্রি দিতে হবে। কিন্তু হাত পা ঠান্ডা অনুভব করলে সরিষার তেল, অলিভ অয়েল, কর্পূর, কিংবা গ্লিসারিন মাখিয়ে তার উপরে গরম সেক দিতে হবে। রোগীর ঘরে কোনোরকমের শব্দ করা যাবে না কিংবা রোগীর ঘরে কোনোরকমের উজ্ঝল আলো জ্বালানো যাবে না।

এনকেফালাইটিস রোগে সর্তকর্তা

যেসব কারণে এই রোগ হয় কিংবা ছড়ায় সেসব কারণে এড়িয়ে চলতে হবে। সেই সাথে রোগাক্রান্ত রোগীর নিঃশ্বাস প্রশ্বাস,  কফ,  থুথু,  হাচি, কাশি ইত্যাদি থেকে সাবধান হতে হবে।

এনকেফালাইটিস আক্রান্ত রোগীর পথ্যাপথ্য

রোগীর পানির পিপাসা থাকলে ঠান্ডা পানি পান করাবে। সাগু, বার্লি,  দুধ,  পাতলা চালের ভাত, দেশি বাচ্চা মুরগি ও কবুতরের সুপ তৈরি করে খাওয়াবেন। উচ্চ রক্তচাপ না থাকলে দেশি হাস মুরগীর ডিম এবং খাটি দুধ খাওয়াবেন। ফলের রস খাওয়াবেন কিন্তু কোনো কোম্পানির তৈরি জুস খাওয়াবেন না।

 

প্রিন্সিপাল ডাঃ  মহিউদ্দিন খান

পরিচালক মুক্তি আধুনিক হোমিও মিশন  এ্যান্ড রিসার্চ

ইনস্টিটিউশন


  • 0

দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস

দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস

ব্রংকাইটিস হল শ্বাস নালীর প্রদাহ, যার ফলে শ্বাস নালীর ভিতরে দেয়াল লাল হয় এবং ফুলে যায়। শ্বাস নালীর ভিতরে বাতাস চলাচলের জায়গা সরু হয়ে যায় এবং প্রচুর শ্লেষ্মা তৈরি হয়। শ্বাস নালীর ভিতরে অক্সিজেনসহ বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্থ হয় এবং প্রচুর শ্লেষ্মা তৈরির ফলে শ্বাস নালীর মধ্যে সংক্রামন হয়।  এর ফলে কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। ব্রংকাইটিস দ্রই প্রকার ক্ষনস্থায়ী ও দীর্ঘস্থায়ী।

প্রঃ ক্রনিক (দীর্ঘস্থায়ী) ব্রংকাইটিস কি ?

উঃ এক নাগাড়ে ৩ মাসের বেশি সময় ধরে শ্লেষ্মাযুক্ত কাশি কমপক্ষে পরপর ২ বছরের বেশি সময় থাকে, তখন এ অবস্থাকে ক্রনিক ব্রংকাইটিস বলা হয়।

প্রঃ কোন বয়সে লোকদের মধ্যে ক্রনিক ব্রংকাইটিস হয় ?

উঃ সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ বয়সের পর এই রোগ বেশি হয়। কিন্তু অল্প বয়সেও এই রোগ হতে পারে, যদি জন্মগত কোন কারণ থাকে। উদাহারণ- আলফা ওরাল এন্ট্রি ট্রিপসিন এর ঘাটতির কারণে।

প্রঃ পুরুষ না মহিলাদের মধ্যে কাদের এই রোগ বেশি হয় ?

উঃ সাধারণত পুরুষেরা এই রোগে বেশি ভোগেন।

প্রঃ কি কারণে এই রোগ হয় ?

উঃ সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত অজানা। তবে এই রোগ হবার জন্য কতগুলো নিয়ন্ত্রক দায়ী। সেগুলো হল-

ক) ধুমপানঃ ক্রনিক ব্রংকাইটিস এর প্রধান কারণ ধুমপান। সাধারণত শতকরা ৯৫ ভাগ ক্রনিক ব্রংকাইটিস ধুমপানের কারণে হয়। এই ধুমপান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উভয় প্রকারই হতে পারে। ধুমপানের পরিমাণের উপরে এই রোগ হওয়া নির্ভর করে।

পরিবেশ দুষণঃ যথা চুলার ধোয়া,  গাড়ির ধোয়া, গোবরের ধোয়া, রাস্তা ধুলাবালি ইত্যাদি। বায়ু দুষণ- অভ্যান্তরীন ও বাহ্যিক, বার বার ফুসফুসে সংক্রমণ, স্বল্প ও মধ্য আয়ের পরিবার ঘনবসতিপূর্ণ, কাচাঘর  ও আলো বাতাসের স্বল্পতা। পেশাগত কারণ- বিভিন্ন কলকারখানার কাজ করে এমন ব্যক্তি যেমন- সোয়েটার, পাট ও পাটজাত পন্য, তুলার কারখানা ইত্যাদি। জন্মগত কারণ- আলফা ওয়ান অ্যান্টি ট্রিপসিন  এর ঘাটতি।

-শ্বাস নালীর অতি সংবেদনশীতা।

প্রশ্নঃ রোগের পরিসংখ্যান কেমন ?

উঃ যেখানে যত বেশি ব্যক্তি ধুমপান করে সেখানে এই রোগ তত বেশি হয়। এছাড়া স্বল্প ও মধ্য আয়ের দেশে এই রোগের প্রবণতা বেশি। সাম্প্রতিক হিসাবে দেখা যায় পৃথিবীতে প্রায় ৮ কোটি লোক এই রোগের মৃতের সংখ্যা ৩০ লাখেরও বেশি এবং ২০২০ সাল নাগাদ এই রোগের মৃত্যু ৩য় প্রধাণ কারণ হয়ে দাড়াবে বলে ধারণা করা হয়। যা ১৯৯৯ সালে এই রোগের মৃত্যুর ৬ষ্ঠ কারণ ছিল।

প্রশ্নঃ কিভাবে রোগ নির্ণয় করা যায়।

উত্তরঃ রোগের ইতিহাস, রোগের উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা যায়। বয়স ৪০ বছরের বেশি, ধুমপান যেহেতু প্রধান নিয়ামক সেহেতু ধুমপান কত বছর বয়স থেকে শুরু হয়েছে তা দেখতে হবে। প্রতিদিন কতটা সিগারেট খায়, এখনো সিগারেট খায় না বন্ধ করে দিয়েছে। পরাক্ষ ধুমপানের ইতিহাস আছে কিনা। যদি দৈনিক কোন ব্যক্তি ২০ টি সিগারেট বিরামহীনভাবে ১ বছল খায়, তাহলে তাকে এক প্যাক ইয়ার বলে।   এভাবে যদি ১০ বছর ধুমপান করে তাহলে ঐ ব্যক্তির এই রোগ হবার প্রবণতা বেড়ে যায়। এছাড়া পরিবেশ দুষণ, বায়ু দুষণ, বারবার ফুসফুসে সংক্রমণ, পেশাগত কারণের ইতিহাস পাওয়া যায়।

প্রঃ রোগের উপসর্গ কি ?

উঃ শ্লেষ্মাযুক্ত দীর্ঘ দিনের কাশি (সকালের দিকে বেশি)। ক্রমবর্ধমান শ্বাসকষ্ট, প্রথম সব কাজ স্বাভাবিকভাবে করতে পারে, এরপর পরিশ্রম করলেই শ্বাসকষ্ট হয় এবং ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। সামান্য একটা সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। জ্বর থাকতে পারে, বাশির মত শব্দ। এছাড়া রোগের জটিলতার হিসাবে শরীরের ওজন কমে যাওয়া বা গা ফুলে যাওয়া।

প্রঃ রোগের শারীরিক পরীক্ষা করে কি কি পাওয়া যাবে ?

উঃ রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো পাওয়া যাবে-

মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়া, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া, শ্বাস নেবার সময় বুকের মাংসপেশী ও ত্বক বুকের খাচার ভিতরে ডুকে যাওয়া, কোন কোন সময় শরীর যথা জিহ্বা ও ঠোট নীল হয়ে যায়। পা ফুলে যেতে পারে।

প্রঃ কি কি ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করা যায় ?

উঃ বুকের এক্সরে কারণ অন্য রোগকে আলাদা করার জন্য এবং উক্ত রোগের জটিলতা আছে কিনা তা দেখার জন্য। স্পাইরোমেট্রি। অবসট্রাকটিভ না রেস্টিক্রটিভ রোগ। হাপানী থেকে আলাদা করার জন্য রিভারসিবিলি পরীক্ষা করা হয়।

রক্তের পরীক্ষা। TC, DC, ESR, HB%, HRCT.

প্রশ্নঃ কি চিকিৎসা দেয়া হয়।

উঃ প্রথম ও প্রধানত ধুমপান ত্যাগ করা। ধুলাবালি, ধোয়া, পরিবেশ দুষণ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, ব্রংকাইটিস জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা, ইনহেলার ব্যবহার করা, ইনহেলার ব্যবহার করা উত্তম। চেস্ট ফিজিওথেরাপি নেয়া। রোগের তীব্রতা দেখা দিরে নেবুলাইজেশন, ব্রাকোডাইলেটর সলুশন দিয়ে ব্যবহার করা। লো ফ্লো অক্সিজেন ব্যবহার করা প্রয়োজনমত। প্রয়োজনমত সঠিক এন্ট্রিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা। মিউকোলাইটিক জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যায়,যদি শ্লেষ্মা বেশি ঘন হয়। প্রতি বছর ইনফ্লুয়েঞ্জা ভেকসিন এবং প্রতি পাচ বছর অন্তর অন্তর নিউমোনিয়া না হওয়ার জন্য প্রতিষেধক ভেকসিন নেয়া উত্তম, যদি বয়স ৬৫ বছরের বেশি হয়।

প্রঃ সঠিক চিকিৎসা না দিলে কি কি সমস্যা হতে পারে ?

উঃ কর পালমোনেইল, ফুসফুস বিকল হয়ে যায়, ফুসফুসে ঘন ঘন সংক্রমণ হতে পারে। ফুসফুসে বাতাস জমে যেতে পারে।

প্রঃ এই রোগ থেকে কিভাবে বাচতে পারি ?

রোগের প্রতিরোধ-

এই রোগ একবার হয়ে গেলে আর সম্পূর্ণ ভাল হয় না। তবে নিয়মিত ওষুধ খেলে রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। রোগ প্রতিরোদের জন্য নিম্নের ব্যবস্থা নিতে হবে- ধুমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করা ভাল। পরিবেশ দুষণ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। ঘন ঘন বুকে ইনফেকশন যাতে না হয়, তার কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

ডাঃ এ কে এম মোস্তফা হোসেন

পরিচালক

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

মহাখালী, ঢাকা-১২১২।


  • 0

ডিসফেজিয়া বা গিলতে সমস্যা

ডিসফেজিয়া বা গিলতে সমস্যা

আমরা যখন খাবার গ্রহন করি তখন যদি কোনো কিছু গিলতে সমস্যা দেখা দেয় তখন এ অবস্থাকে ডিসফেজিয়া বলা হয়। ফ্যারিংস, টনসিলের প্রদাহ, শ্বাসনালির প্রদাহ, খাবার গলধাঃকরণ সমস্যার প্রধান কারন। তাছাড়া মুখের যেসব কারণ রয়েছে সেগুলো হলোঃ তালুতে সংক্রমণ বা আলসার দেখা মিলে। জিহ্বায় পেছনের অংশে সংক্রমণ বা আলসার ভাইরাস জনিত সংক্রমণ বা হারপেটিক স্টোমাটাইটিস। গ্ল্যান্ডুলার ফিভার বা জ্বর। ব্যাকটেরিয়র সংক্রমণ যেমন পেরিকরোনাইটিস। তবে কম ক্ষেত্রে দেখা যায়। চোয়ালের মাংসপেশিতে ব্যথা হলে। লাডউইগস এনজাইনাঃ যখন উভয় দিকের সাবলিংগুয়াল এবং সাবম্যান্ডিবুলার লালাগ্রন্থির তীব্র সংক্রমণ বিস্তৃতি লাভ করে, যা সেলুলাইটিস নামে পরিচিত, তখন খাবার গলাধঃকরণে সমস্যা হয়। ওরাল আলসার মাঝে মাঝে ডিসফেজিয়ার কারণ হতে পারে। বার বার গুরুতর আপথস আলসার হলে এরকম হতে পারে। জিহ্বার পেছনে পাশের অংশে ক্যান্সার হলে খাবার গিলতে সমস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যথাযথভাবে মুখ পরীক্ষা না করলে এ ব্যাপারটি অনকে সময় ধরা পড়ে দেরিতে। শুষ্কমুখে গিলতে সমস্যার কম গুরুত্বপূর্ণ  একটি কারণ। ডিসফেজিয়া বা গিলতে সমস্যার যে কারণেই হোক না কেন তা রোগীর জন্য অত্যন্ত বিড়ম্বনার। এ সমস্যা কয়েকদিন স্থায়ী হলে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। তবে সামান্য কারণে সমস্যা দেখা দিলে ব্যথানাশক ওষুধ এবং মাসল রিলাক্সজেন্ট জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে, পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

 

ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন

মুখ ও দন্ত রোগ বিশেষজ্ঞ


  • 0

টমেটোর যত গুন

টমেটোর যত গুন

টমেটো  একটা ফল। আমরা খাই সব্জি হিসেবে। কাচা সালাতে, রান্না করে, তরকারিতে খাই। টমেটো কিছুটা টক। তবে যে টমেটো পানিতে ডুবে যার সেগুলো মধ্যে একটি মিষ্টি জাতের। প্রতি ১০০ গ্রাম টমেটোতে আছে ভিটামিন  এ ১০০০ আইইউ, ভিটামিন সি’ ২৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১১ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৬ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩৬০ মিলিগ্রাম এবং প্রোটিন ১ গ্রাম, আছে নিকোটনিক অ্যাসিড ও প্রচুর গ্লুটামিক অ্যাসিয় (৮৬-১৪০) গ্রাম। ১০০ গ্রাম টমোটো থেকে শক্তি পাওয়া যায় প্রায় ২০ ক্যালোরি। টমেটোতে পানির পরিমাণ প্রায় ৯৪ শতাংশ। টমেটো শরীরের জন্য খুব উপকারী। এর ভিটামিন এ ত্বককে সুন্দর রাখে। ভিটামিন সি’ স্কার্ভি প্রতিরোধ করে। ভিটামিন কে’  রক্তক্ষরণ করে।

নিকোটিন অ্যাসিড রক্তের কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদরোগ প্রতিরোধ টমোটে সহায়ক। গ্লুটামিক অ্যাসিড মস্তিস্ককে রাখে সুস্থ। টমেটোর পটাশিয়াম স্ট্রোক প্রতিরোধে কার্যকরী। হনলুলুর কুইন্স মেডিক্যাল সেন্টারের নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউটের গবেষকরা দেখেছেন, খাদ্যে পটাশিয়ামে গ্রহণকারীদের তুলনায় স্ট্রোকের সম্ভাবনা দেড় গুণ বেশি।

লাইকোপনি নামক এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্টের উপস্থিতির কারনে টমেটোর রং লাল। টমোটোর মতো বেশি লাইকোপিন আর কোনও ফল বা সব্জিতে আছে বলে জানা নেই।

লাইকোপিন শরীরের ফ্রি রেডক্যাগুলোকে নষ্ট করে দিয়ে কোষগুলোকে হেফাজত করে। লাউকোপিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। জরায়ুর মুখ প্রষ্টেট, হৃদযন্ত্র, মলাশয়, পাকস্থলী, গ্রাসনালী ইত্যাদি অঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধে টমেটো সহায়ক বলে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমানিত। লাইকোপিন শরীরে তৈরি হয় না। তাই বাইরে থেকে এর সরবারহ প্রয়োজন। তা টমেটো চাই ই্। রান্নায় লাইকোপিন নষ্ট হয় না, বরং বাড়ে। তা টমেটো তরকারিতে দিয়ে রান্না করে খাওয়াও বাড়তি উপকার। দিনে তিন থেকে চারটা টমেটো খেলে এসব উপকার পাওয়া যাবে।

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক ও কলামিষ্ট


  • 0

আপনার প্রশ্ন

Category : health tips bangla

আপনার প্রশ্ন

 

প্রশ্নঃ আবি অবিবাহিতা। বয়স ২৮। আমার দু গালে দুটি সাদা দাগ পড়েছে। অনেক ডাক্তার চিকিৎসা করেছেন। কিন্তু একটুও কমেনি।  এদিকে বাবা মা আমার বিয়ের চিন্তা করছেন। তাই আপনার শরণাপন্ন হলাম। রুবি,  ক্যান্টনমেন্ট। ঢাকা।

উঃ আপনার রোগটি সম্ভবতঃ শ্বেতী। খালি চোখে না দেখে কিংবা পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে রোগটি সনাক্তকরণ সম্ভব নয়। প্রচলিত চিকিৎসায় শ্বেতীর আরোগ্য অসম্ভব। একমাত্র বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা অথবা বৈজ্ঞানিক কসমেটিক সার্জারি মিনি পাঞ্চ গ্রাফটিং এর মাধ্যমে শ্বেতী থেকে মুক্তি সম্ভব।

প্রশ্নঃ আমি বিবাহিত। বয়স ৪৫। দু সন্তানের বাবা। বর্তমানে আমি খুব দুর্বল হয়ে পড়েছি। অর্থ্যাৎ স্ত্রী সহবাসে অক্ষম। রোগটির যদি বৈজ্ঞানিক কোন চিকিৎসা থাকে, প্লিজ আমাকে অবগত করুন। শাহবাজ খান। খুলনা সদর। খুলনা।

উঃ আপনার সমস্যাটি  এক ধরনের বিশেষ অক্ষমতা। সম্ভবত আপনার পারিবারিক মানসিক কোন সমস্যা আছে। ঐ ধরনের সমস্যা না থাকলো কোন যৌন রোগ থাকতে পারে। নতুবা আপনার দেহে সেক্স হরমোনর তারতম্য নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আপনি দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ সেক্স ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।

প্রঃ আমি অবিবাহিত। বয়স ২০। উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। হঠ্যাৎ করে আমি অনেক বেড়ে গেছি। বর্তমানে আমার দেহে লম্ব লম্বা হালকা সাদা দাগ পড়েছে। এতে আমার দৈহিক সৌন্দর্য নষ্ট হবার উপক্রম।

প্লিজ আমাকে যেভাবেই হোক, দাগমুক্ত করে তুলুন। আসমা। ধানমন্ডি ঢাকা।

উঃ আপনার দেহে সৃষ্ট দাগগুলোর নাম Stretch Marks সৃষ্টি হয়েছে। প্রচলিত চিকিৎসায় দাগগুলোর চিকিৎসা অসম্ভব। তবে আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা কিংবা কসমেটিক সার্জারীর মাধ্যমে রোগটি সারানো সম্ভব। তাই আপনি একজন অভিজ্ঞ ত্বক বিশেষজ্ঞ ও কসমেটিক সার্জনের পরার্মশ নেবে না।

প্রঃ আমি বিবাহিতা। বয়স ৩৪। দু সন্তানের মা। এ বয়সেই আমার স্তন দুটো নরম হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া আমার তলপেটে ও কোমরে অনেক মেদ জমেছে। আমার প্রশ্ন এ অবস্থায় আমার ফিগার সুন্দর করা সম্ভব কি না। মিসেস আনোয়ারা বেগম। গুলশান-২, ঢাকা।

উঃ অবশ্যই আপনার দেহ আকর্ষনীয় ও আবেদনময়ী করা সম্ভব। অত্যাধুনিক ফিগার ডিজাইনিং মেশিনের মাধ্যমে বেশ কিছু সেশন চিকিৎসায় এটি অর্জন করা সম্ভব। তবে তা একজন দক্ষ ত্বক বিশেষজ্ঞ এবং কসমেটিক সার্জনের মাধ্যমেই, ধন্যবাদ।

 

ডাঃ একেএম মাহমুদুল হক ( খায়ের)

ত্বক, যৌন, সেক্স ও এলার্জি বিশেষজ্ঞ এবং কসমেটিক সার্জন।

সিনিয়র কনসালটেন্ট, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা।


  • 0

অ্যাজমা বা হাঁপানীর আধুনিক চিকিৎসা

অ্যাজমা বা হাঁপানীর আধুনিক চিকিৎসা

 

শ্বাসকষ্টের ফলে  যে রোগের উদ্ভব হয়ে থাকে তাকেই সাধারণত হাপানি বা অ্যাজমা বলা হয়। এটি মানুষের দেহের একটি মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক ব্যাধি। বর্তমানে সারা বিশ্বের প্রায় লাখ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। যে কোন বয়সেই মানুষ এ রোগের কবলে পড়তে পারে। একজন সুস্থ ও সাধারণ মানুষের চেয়ে এ ধরনের রোগীর শ্বাসনালী সহজে স্পর্শকাতর হয়। তাই বিভিন্ন কারণে শ্বাসনালী সংকুচিত হয় এবং শ্বাসকষ্টের শুরু হয়।

সাধারণত বংশগতভাবে হাপানির সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া অ্যাজমা বা হাঁপানির আর একটি প্রধান কারণ হচ্ছে নানা ধরনের এলার্জি। এলার্জি সৃষ্টিকারী যে কল উপাদান যেমন ঘাসের বা ফুলের রেণু, ধোঁয়া, ঘরে বা অফিসে জমে থাকা ধুলাবালি, পোষা প্রাণীর লোম, নানা ধরনের ছত্রাক ইত্যাদি নিঃশ্বাসের সাথে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের উপক্রম হয়। যা কিনা পরবর্তীতে হাঁপানিতে রূপ নেয়। শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার এখন পর্যন্ত কোন যুগোপযুগি পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। এ রোগটি সম্পূর্ণ প্রতিকার করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে এর এমন চিকিৎসায় পদ্ধতি এবং ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে যার দ্বারা হাপানি বা শ্বাসকষ্ট ব্যাধিটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব।

অ্যাজমা কোন ছোয়াচে রোগ নয়। এটি সাধারণত হয় শ্বাসনালীতে প্রদাহের কারণ। অ্যাজমা একটি শ্বাসকষ্টজনিত বক্ষব্যাধি। এ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আবার শ্বাসকষ্ট মানেই যে হাপানি তা কিন্তু নয়। এর জন্য চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হবার পর রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন।

যে সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা পদ্ধতি দ্বারা হাঁপানি বা অ্যাজমার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়: অ্যাজমা রোগীদের রোগ নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি হচ্ছে লক্ষণ চিহ্নিত করা। হাঁপানি রোগীদের রক্তে ইওসিনোফিল ও আইজি এর পরিমাণ বেশি থাকে আইইজি পরীক্ষা করেও অ্যাজমার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়।

Peak Expiratory Flow Meter (PEFM) এর সাহায্যে শ্বাসনালীর প্রতিবন্ধকতা নির্ধারণ করা হয়। রোগীর ত্বক পরীক্ষা করে অ্যালার্জেন নির্ণয় করা হয়। যেমন- স্কিন প্রিক টেস্ট

এলার্জি ছাড়া অন্য কোন কারনে অ্যাজমা হয়েছে কিনা তা বুকের  এক্সরের সাহায্যে পরীক্ষা করা হয়।

PEFM এর সাহায্যে রোগীর শ্বাসকষ্টের তীব্রতা পরিমাপ করা হয়।

চিকিৎসা ব্যবস্থাঃ এক জরিপে দেখা গেছে যে, শ্বাসকষ্টের প্রকোপ বৃদ্ধির একটি অন্যতম উপাসন হলো অ্যালার্জেন। তাই অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলার্জি সৃষ্টিকারী অ্যালার্জেন হতে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে। হাপানির ক্ষেত্রে যখন হঠ্যাৎ শ্বাসটান ওঠে তাৎক্ষনিক শ্বাসকষ্ট কমানোর জন্য উপশমকারী  ইনহেলার কিচু সময় পরপর ব্যবহার করতে হবে। সোজা হয়ে আরাম করে বসতে হবে। ধীরে ধীরে শ্বাস ফেলতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট ব্যাধির চিকিৎসা বুলতে বুঝায় এর লক্ষণ বা উপসর্গগমূহ দূর করে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

রোগীকে এ রোগ ও চিকিৎসা সম্পর্কে অবগত করা। বর্তমানে এ ব্যাধির অনেক আধুনিক ওষুধ রয়েছে। সেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে রোগী দীর্ঘদিন নিরোগ থাকতে পারে। শ্বাসনালকে সংকুচিত হতে না দিয়ে এর প্রসারণে সহায়তা করে যে সকল ওষুধ সেগুলো হলো ব্রঙ্কোডাইলেটর যেমন- সালবুটামল, থিওফাইলিন বা এমাইনোফাইলিন,  ইপ্রাটেরিয়াম, ব্যামবুটারল ইত্যাদি।

অ্যামাইনোজ্যালথিন যেমন- অ্যামাইনোফাইলিন থিওফাইলিন। প্রদাহবিরোধী (এন্টি ইন্সফ্লামাটরি) ওষুধ যেমন- কার্টিকোস্টেরয়েড, ( বেকালোমেথাসন, ফ্লোটিকাসন, ট্রাইঅ্যামাসিনোলোন (ইত্যাদি ইনহেলার, রোটাহেলার ও একুহেলার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর নিউকোট্রাইন নিয়ন্ত্রণের জন্য যেগুলো ব্যবহৃত হয়- মন্টিলুকাস্ট, জেফরিলুকাস্ট  ইত্যাদি।

এছাড়া হাঁপানির তীব্রতা অনুযায়ী নেবুলাইজার ব্যবহার করা হয়।

হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের একটি উত্তম চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে ভ্যাকসিন বা ইমিইনোথেরাপি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত এটি একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, ওষুধের পাশাপাশি এটি ব্যবহার করলে রোগীদের কার্টিকোস্টেরয়েডের ব্যবহার কমে যায়। তবে সাম্প্রতিককালে আমেরিকার বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ভ্যাকসিন বা এলার্জি টিকার কার্যকারিতা বেশি দিন থাকে না।

ব্যায়াম, খেলাধুলা বা ঠান্ডায় যাবার পূর্বে সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেট ব্যবহার করা হয়। হাঁপানি বা অ্যাজমা হলে এখন আর ভয় বা দুশ্চিন্তা করার কোন কারণ নেই। সুষ্ঠু সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাংলাদেশেও এখন উন্নত দেশগুলোর মতো চিকিৎসা পদ্ধতি চালু হয়েছে। শ্বাসকষ্টের প্রকোপ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। ফলে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়। হাপানি নিরাময়ে চিকিৎসক, রোগীসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষকের সচেতন থাকতে হবে।

 

ডাঃ  এ কে, এম মোস্তফা হোসেন

সহযোগী অধ্যাপক, রেসপিরেটরি মেডিসিন

জাতীয় বক্ষ্যবাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।