Monthly Archives: August 2019

  • 0

পুরুষ ও স্ত্রী বন্ধ্যাত্বে হোমিওপ্যাথি

বন্ধ্যাত্ব বলতে বোঝানো হয় বিয়ের পর সম্পূর্ন এক বছরের অধিক কেটে গেলে স্বামী দুজনের সন্তানের জন্য উদগ্রীব হওয়া স্বত্ত্বেও তাদের কোন সন্তান না হওয়া।

আবার অনেকে বলেন, যেই নারীর সন্তান ধারণ একেবারে অসম্ভব বলে প্রতিয়মান হয় তা বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ। যদি চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্যে নারী সন্তানের মা হতে পারে তা হলে প্রকৃত বন্ধ্যাত্ব নয়।

তাই বন্ধ্যাত্বে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-

১। প্রাথমিকঃ বিয়ের পর থেকে কোন সন্তান একেবারে না হওয়া।

২) সাময়িকঃ বিয়ের পর সন্তান একটি হওয়ার পর। তারপর চিরদিনের মতো আর সন্তান না হওয়া।

বিভিন্ন কারণে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে যার কারণে সন্তান সৃষ্টি হয় না।

১। টেসটিস অবশ্য সুস্থ শুক্রকীট সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়।

২। ওভারী হয়তো সুস্থ ওভাম সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়।

৩। শুক্রকীট ও ডিম্বানুর ঠিকমত মিলন না ঘটা।

৪। হরমোন কম বেশি হওয়া কারণ উল্লেখযোগ্য।

ফিজিওলজি কারণঃ কখনো কখনো সময় স্বাভাবিক নিয়মে নারী সন্তান ধারণ সম্ভব হয় না।

১। ডিম্বকোষ ডিম্ব উৎপাদনে বয়স না হওয়া।

২। নারীর বেশি বয়সে মেনোপোজ হলে।

৩। কখনো দেখা যায় নারী দুগ্ধ আসার মতো বয়স হয়নি অথবা বাচ্চা বয়সে ব্রেষ্ট টিউমার হওয়া।

প্যাথলজিকাল কারণঃ ১। পুরুষের শুক্রকিটের ক্রোমোজোম ঠিকমত  (এক্স ওয়াই) বা (এক্স এক্স) ভাবে না থাকা এক কথায় সন্তান জন্ম দেয়ার উপযুক্ত ক্রোমোজোম না থাকা।

২। নানা কারণে ডিম্বকোষ হতে সন্তান সৃষ্টি হওয়ার মতো ডিম্ব না থাকা।

৩। গণেরিয়া বা লিকুরিয়াজনিত সমস্যায় ডিম্ব ও শুক্রকীট মিলন না ঘটা। আরও বিভিন্ন রোগ জনিত সমস্যার জন্য স্ত্রী পুরুষ উভয় পৃথক পৃথকভাবে বন্ধাত্বের কারণ হতে পারে।

বন্ধ্যাত্ব পর্যবেক্ষণ ও রোগ নির্ণয়ঃ বন্ধ্যাত্বের কারণ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে কোন ধরনের বন্ধ্যাত্ব, কি কারণে বন্ধ্যাত্ব- তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে। কখনো প্রাথমিক অবস্থা থেকে এটি হয়। কখনো এক সন্তান জন্মের পর হয়।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাঃ ১। স্বামীকে পরীক্ষা করতে হলে তার ইতিহাস ভালোভাবে জানতে হবে। স্বামীর সেল এক্স ওয়াই ক্রোমোজোম ঠিকমত আছে কিনা।

২। তার বীর্যে শুক্রকীট ঠিক আছে কিনা।

৩। স্ত্রীর পরীক্ষা করতে হলে তার বয়স ও পেশা জানতে হবে। যদি বয়স ৩৫ এর বেশি হয় তবে কর্মশীল না তা হলে বন্ধ্যাত্ব আসতে পারে।

৪। লিউকোরিয়া জরায়ু বা যৌনাঙ্গে গোলমালজনিত নানা রোগ থেকে বন্ধ্যাত্ব আসতে পারে। মাসিক বা ঋতু ঠিক হচ্ছে না। বিবাহের ইতিহাস জানতে হবে। বিবাহের প্রতি ইচ্ছা ছিল কিনা ? স্বামীর প্রতি আর্কষণ কেমন ইত্যাদি ভালোভাবে জানতে হবে। তার অতীত ইতিহাস জানতে হবে।

চিকিৎসাঃ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিতে হলে চিকিৎসক ও ওষুধের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস থাকতে হবে। তার কারণ, হোমিওপ্যাথির জনক ডা. হ্যানিম্যান বলেছেন, সমস্ত রোগের উৎপত্তিস্থল   মানুষের মন। তাই আপনার মনকে ঠিক করে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ও ডাক্তারের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সঠিক রোগ নির্ণয় ও লক্ষণ মিলিয়ে ওষুধ সেবন করুন। আপনি অল্প সময়ের মধ্যে যৌন রোগসহ যে কোন ধরনের জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাবেন- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন হোমিও ওষুধ সেবন করুন। জটিল ও কঠিন রোগ থেকে মুক্ত থাকুন।

 

ডা. ইব্রাহিম মজুমদার

নবযুগ হোমিও ক্লিনিক (পাগলা)

শাহীবাজার ঈদগাহ মাঠ

ফতুল্লা, নারায়নগঞ্জ।


  • 0

ডায়াবেটিস রোগীর সতর্কতা

 

ডায়াবেটিস রোগীর হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুকি এড়াতে হলে কতকগুলো সতর্কতামুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে-

প্রথমত-  রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অবশ্যই রক্তচাপকে ১৪০/৯০ এর নিচে রাখতে হবে। একজন ডায়াবেটিস রোগী যদি তার রক্তচাপকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে তার হৃদরোগের ঝুকি শতকরা ৫০ ভাগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি শতকরা ৮৫ ভাগ রোধ করা যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে রোগীর দেহের বৃহৎ ও ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ধীরে ধীরে সংকীর্ণ হয়ে যায়। ধমনীগুলো সংকীর্ণ হয়ে গেলে রক্তচাপের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং এই উচ্চ রক্তচাপে দেখা দেয় হৃদরোগ। উচ্চ রক্তচাপ এবং মস্তিষ্কে সৃষ্টি সংকীর্ণ ধমনী ঘটাতে পারে সেরিব্রাভাস্কুলার রোগ বা স্টোক।

দ্বিতীয়তঃ ধুমপান পরিহার করা। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ধুমপান করা অত্যান্ত বিপজ্জনক। সিগারেটের ধোয়ার থাকা নিকোটিন রক্তনালীগুলোকে ধীরে ধীরে সংকীর্ণ করে ফেলে। ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুকি বাড়ে। ডায়াবেটিস রোগীর এমনিতেই রক্তনালীর রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ধুমপান করলে সেই সম্ভাবনাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। ধমণীগুলো সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার দেহের সকল অঙ্গে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। যার ফলে কিডনি রোগের ঝুকি বৃদ্ধি পায়, চোখে রেটিনোপ্যাথি নামক জটিল সমস্যা দেখা দেয়।

তৃতীয়তঃ দৈহিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। ওজন কমানোর জন্য স্বাভাবিকভাবে কম খাওয়াই সব চেয়ে যুক্তিসঙ্গত উপায়। দৈনিক প্রধান আহারের মাঝে বারবার এটা ওটা খাওয়া বা শখের খাবারগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। এগুলো এড়িয়ে চললে ওজন কমিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দেয়। সঠিক খাবার পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে তবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভুল খাবার বেশি মাত্রায় খেলে সেটা সহজেই দৈহিক ওজন অতিরিক্ত ভারী করে দিতে পারে এবং ভারী হওয়ার সমস্যাগুলো নিজেকেই ভোগ করতে হবে।

চতুর্থতঃ উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা। ডায়াবেটিস রোগীর উচ্চ রক্তচাপ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খাবার থেকে উচ্চ চর্বি বা সম্পৃক্ত চর্বি পরিহার অত্যান্ত জরুরি কারণ সম্পৃক্ত চর্বি দেহকে বেশি পরিমাণ কোলেস্টেরল উৎপাদনে বাধ্য করে বা রক্তনালীর দেয়ালে জমা হয়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। যদি কোন লোকের রক্তে উচু মাত্রার কোলেস্টেরল থাকে তবে তার খাদ্য তালিকা থেকে ডিমের কুসুম, মাংস, ঘি, মাঘন, পনির অনেকটা কমিয়ে দিতে হবে বা বাদ দিতে হবে। প্রতি ১০০ মিলি রক্তে মোটামুটি ১৫০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকাই স্বাভাবিক, যদি ২০০ থেকে ২৪০ মিলিগ্রাম হয় তবে বিপদযুক্ত এলাকার সীমানা। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উত্তম খাবার হচ্ছে আশজাতীয় খাবার। এটা তার ওজন, কোলেস্টেরল এবং সুগার নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে। সাধারনত উদ্ভিদ জাত খাদ্য আশসমৃদ্ধ। সব সবজি এবং ফলের মধ্যেই প্রচুর আশ রয়েছে। এই আশগুলো, পরিপাক তন্ত্রে গিয়ে স্পঞ্জের মত কাজ করে। এরা চর্বি, পানি, সুগারসহ অন্যান্য খাদ্যাংশকে শোষণ করে স্পঞ্জ আকার ধারণ করে পরিপাক নালীতে খাদ্য অতিক্রম করার গতি বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু চর্বিজাতীয় খাবার হজম এবং শোষণ হতে অধিক সময় লাগে সে জন্য আঁশজাতীয় খাবার গ্রহণ এদের শোষণ কমিয়ে দেয় ফলে ডায়াবেটিস রোগীর দৈহিক ওজন এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ফলমুল এবং শাকসবজি অবশ্যই রাখতে হবে। সুতারাং সাদা ময়দা বা সাদা রুটির চেয়ে পূর্ণ গমের আটার রুটি অনেক বেশি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত। শিম, মসুর ডাল এবং অন্যান্য শুটির মধ্যে প্রচুর আশ থাকে অথচ এগুলোতে চর্বির মাত্রা অত্যান্ত কম থাকে। অন্যদিকে মাংস ও অন্যান্য পশুজাত প্রোটিনগুলো হল অত্যান্ত উচুমাত্রার চর্বিযুক্ত ও অনেক কম আশযুক্ত খাবার। কাজেই প্রচুর আশযুক্ত খাবার খেলে একজন ডায়াবেটিস রোগীকে পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে সহায়তা করবে। নিরামিষ খাবার যদি ভারসাম্যপূর্ণ হয় তবে সেটা আসলেই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার হয় যাতে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার ও অনেক গুরুতর রোগের ঝুকি কম থাকে।

পঞ্চমতঃ রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে দেহের ধমনীগুলো ধীরে ধীরে কঠিনীভুক্ত এবং সংকীর্ন হয়ে যায় যার ফলে সৃষ্টি হয় উচ্চ রক্তচাপ যেটা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের জন্য একটা প্রধান বিপদের কারণ।

ষষ্ঠতঃ  নিয়মিত ব্যায়াম করা। প্রতিদিন অন্তত আধঘন্টা করে ব্যায়াম করা প্রয়োজন। ব্যায়াম দৈহিক ওজন কমাতে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়াম হল যে কোন ওজন কমানোর কর্মসূচির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যায়ামের পর ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় তখন খেয়াল রাখতে হবে যেন বেশি খেয়ে ফেলা না হয়। একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ব্যায়া তার ডায়াবেটিসে নিয়ন্ত্রণে এবং এর জটিলতা প্রতিরোধ সাহায্য করতে পারে। ব্যায়াম মাংসপেশিতে থাকা ইনসুলিন গ্রাহকগুলোতে ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে দেয় ফলে রক্ত থেকে গ্লুকোজ সহজেই পেশিতে পৌছাতে পারে। যার ফলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এভাবে ব্যায়াম দেহে ইনসুলিন ও গ্লুকোজকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সহায়তা করে। ব্যায়াম ক্ষুদ্র রক্তনালীর মধ্যকার রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি ঘটায় ফলে ডায়াবেটিস রুগীদের পায়ের পাতা ও পায়ের নলীর সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। ব্যায়াম হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুকি কমিয়ে দেয়। ব্যায়াম করলে রক্তের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড স্তর নিচে আসে এবং এইচডিএল বা উচ্চ ঘনত্বের লিপোপ্রোটিনের মাত্রা বেড়ে যায় যা হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হৃদপিন্ডের পাম্প করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং দেহকে অধিকতর সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

 

ডা. জ্যোৎস্না মাহবুব খান

মুক্তগাছা, ময়মনসিংহ


  • 0

অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ

 

অনাকাঙ্খিত গর্ভধারন আমাদের দেশে বহুল পরিমাণে বিদ্যামান। কোন মা চান না তার সন্তানের জন্মকে মেনে নিতে ? সন্তানকে জানানো সব মায়ের জন্য অত্যান্ত কাঙ্খিত ঘটনা। কিন্তু অপরিকল্পিত চিন্তার কারণে মা সন্তান ধারণ করতে পারেন।

কেস হিস্ট্রি-১ঃ পারুলের বষয় ১৬ বছর। মাত্র ২ মাস হয়েছে তার বিয়ে হয়েছে। সে এখন গর্ভবতী। তাই সে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছে। কারণ সে এবং তার স্বামী দু জনের কেউই এত তাড়াতাড়ি বাচ্চা আসুক  এটা চায়নি।

অল্প বয়সে অর্থ্যাৎ ১৮ বছর পূণ হওয়ার আগে মা হলে মা ও শিশু উভয়ের জন্যই তা বিপজ্জনক। এ সময় সন্তান নিলে সন্তান মায়ের শরীর থেকে সঠিক পুষ্টি পায় না, ফলে মা ও শিশু দুজনই অপুষ্টির শিকার হয়।

কেস হিস্ট্রি- ২: রিনার বয়স ২২ বছর। কোলে ১১ মাসের একটি ছেলে। শরীর স্বাস্থ্য তেমন একটা ভালো নয়। এরই মধ্যে আবার পেটে বাচ্চা  এসে যাওয়ায় সে খুব হতাশাগ্রস্থ।

দু সন্তানের জন্মের মধ্যে ব্যবধান ৩ বছরের বেশি হলে শিশুমৃত্যুর ঝুকি প্রায় ৫০ ভাগ কমে যায়।

প্রিয় পাঠক পাঠিকাবৃন্দ, আমাদের  দেশে পারুল এবং রিনার মতো অনেকে অনাকাঙ্খিত গর্ভধারনের শিকার। সমাধান খুজতে এরা অনেকেই নিকটস্থ ফার্মেসি বা হাতুড়ে ডাক্তারের শরনাপন্ন হন। আর এই দুর্বলতার সুযোগে উল্লেখিত ব্যাক্তিরা চড়া দাম রেখে বিভিন্ন  বড়ি বা সিরাপ দিয়ে থাকেন। যা কিনা বিজ্ঞানসম্মত নয়। আবার অনেক অদক্ষ কর্মীর দ্বারা এমআর করিয়ে থাকেন। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এছাড়া বিয়ের পর প্রথমবার গর্ভধারণ করলে সেই মহিলার কোনভাবেই এমআর করা উচিত নয়। কেননা এতে মহিলা বন্ধা হয়ে যেতে পারে। তাই অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ রোধ করতে জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে দম্পত্তিদের সম্যক জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিদ্যমান পদ্ধতিগুলো হলো-

১. নিরাপদকাল বা রিদম মেথডঃ নারী তার মাসিক চক্রের মধ্যবর্তী কেনা এক সময় কম উর্বর থাকে। এই কম উর্বর সময় কালকে নিরাপদকাল ধরা হয়। তবে এই নিরাপদকাল সব মহিলার জন্য নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়। কারন যাদের মাসিক অনিয়মিত তারা যে কোন সময় গর্ভবতী হয়ে পড়তে পারেন।

২. প্রত্যাহারঃ পৃথিবীর সর্বত্র এ পদ্ধতি প্রচলিত। স্ত্রী সঙ্গমের চরম মূহূর্তে স্ত্রী সঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসাকে  প্রত্যাহার বলা হয়। এ পদ্ধতিও খুব নিরাপদ নয়, কারণ পুরুষের বির্যপাতের পূর্বে যে রসক্ষরিত হয় তাতে শুক্রকীট থাকে। ফলে স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়তে পারেন।

৩. কনডম ও বড়িঃ  নববিবাহিত স্বামী স্ত্রী যারা ২-৩ বছর দেরি করে বাচ্চা নিতে চান তারা এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো স্বল্পমেয়াদে জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। সঠিকভাবে গ্রহণ করা হলে কনডম ও বড়ির কার্যকারিতা হার যথাক্রমে শতকরা ৬৪-৯৭ ভাগ এবং ৯৭- ৯৯.৯ ভাগ।

৪. ইনজেকশ, আইইউডি, নরপ্ল্যান্টঃ যাদের কমপক্ষে একটি জীবিত সন্তান আছে এবং প্রথম সন্তান হওয়ার পরে ৩-৪ বছর পর্যন্ত বাচ্চা নিতে চান না তারা এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। ইনজেকশনের মেয়াদ ৩ মাস বা ৯০ দিন। এটিও স্বল্পমেয়াদে জন্ম বিরতিকরণ পদ্ধতি। ইনজেশনের শতকরা ৯৯.৭ ভাগ কার্যকরী। নরপ্ল্যান্টর কার্যকরী হার ৫ বছর এবং আইইউডির কার্যকারিতার মেয়াদ ১০ বছর। এই দুটি দীর্ঘমেয়াদী জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। এছাড়া জরুরি গর্ভনিরোধের জন্য এক ধরনের বড়ি রয়েছে। তবে এগুলো নিয়মিত ব্যবহারে জন্য নয়।

 

ডা. গৌতম কুমার দাস

ফরিদপুর