গাইনিকলজিকাল

  • 0

গাইনিকলজিকাল

Category : Health Tips

গাইনিকলজিকাল

রুপকথা, পুতুলখেলা, পরিদের জগত পেরিয়ে বয়ঃসন্ধি। আর এর সঙ্গে নারীত্বের নতুন উপলব্ধি। নিজের শরীর নিয়ে কৌতুহলের সূচনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাবার আঙ্গুল ধরে চলা সেই কন্যাই আজ ঘরে বাইরে ’অথরিটি ইনচার্জ । সংসার, অফিস, সামলে  সে একজন সফল ’মা’ ও বটে।  আর কিছুদিন পরে তার মেয়েও টিএনএজের কোঠায় পা রাখতে চলেছে।  ভূমিকা বদেলেছে, বদলেছে নারীত্বের উপলব্ধি।  আর এম সঙ্গে সমান তালে বদলেছে তাঁর শারীরিক ও মানসিক জগৎ। বিভিন্ন শারীরিক পরিবরতণের গুরুত্বপূণ সময়ে দেখা দেয় বেশ কিছু সমস্যা ।  আর্লি টিনএজে পিরিয়ডসের সমস্যা, লেট থার্টিজে বিয়েরে পরে প্রেগনেন্সিজনিত সমস্যা, পোস্ট ফর্টিজে মেনোপজ জনিত সমস্যা – অনেক কিছুরই সম্মুক্ষীন হতে হয় তাঁকে। সংসার, অফিসের চাপে নিজের শরীরের প্রতিনজর না দিলেই শুরু হয় আসল সমস্যার। এর সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার অনিহা, সঙ্কোচ ইত্যাদিও কাজ করে। বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজন নিজের যত্ন নেওয়া আর অবশ্যেই একজন  স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্র্শ। তাহলেই ‘ভাল’ থাকার থুড়ি সুস্থ থাকার গাইডলইন হাতের মুঠোয়।

১। আমার মেয়ের বয়স আঠার। নিয়মিত পিরিয়ড হয় না। মাঝেমধ্যে দু-তিন মাস বন্ধ থাকার পরে আবার হয়। শরীরে অবাঞ্চিত রোমের আধিক্য আছে। সমাধান কি?

নামা প্রকাশে অনিচ্ছুক, পুবাইল

উত্তরঃ মেয়েদের শরীরে পুরুষ হরমোনের প্রভাব বেশি থাকলে এসব সমস্যা দেখা যায়। পলিসিস্টিক ওভারির সমস্যাতেও এধরনের লক্ষণ দেখা যায়। নিয়মিত পিরিয়ড না হওয়া, বেশ কয়েক মাস বন্ধ থাক, পিরিয়ডের ফ্লো কম হওয়া, ফেশিয়াল হেয়ার বেশি থাকা এর লক্ষণ। এছাড়া মাথার চুল উঠতে থাকে স্কিন তৈলাক্ত হয়ে যায়। মুখে ব্রণ হয়। ওজনও বেশি হওয়ার ফলে লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করে দেখা প্রয়োজন । তবে এঁদের ক্ষেত্রে ওষুধেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ হয়ে যায়। ওষুধে কাজ না হলে অপারেশনের কথা ভাবা হতে পারে।

২। আমার বষয় বাইশ। পিরিয়ডের সময় হেভি ব্লিডিং হয়। এর কারণ কী?

অন্তরা সেন, ঢাকা।

উত্তরঃ হেভি ব্লিডিং আর্লি টিনএজারদের ক্ষেত্রে মোটামুটি স্বাভবিক। তবে দীর্র্ঘ দিন ধরে হতে থাকলে ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড সম্ভাবনা হতে পারে। ফাইব্রয়েড হলে অপারেশন করে শুধু ফাইব্রয়েড বাদ দেওয়া হয় । একে মায়োমেস্টামি বলে। আপারেশনের প্রয়োজন না হলে স্টপগ্যাপ চিকিৎসা হিসেবে মাইরিনা কয়েল ব্যাবহার করা হয়। জরায়ুর বভতরে এই কয়েল দেওয়া হয়। এর ভিতরে হরমোন দওয়া থাকে। মোটামুটি পাঁচ বছর পর্যন্তএর কার্যক্ষমতাথাকে।

৩। আমার বয়স চব্বিশ। পিরিয়ডের সময় পেটে খুব বেশি ব্যাথা ও ক্র্যাম্প হয়। আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে জানতে পারি আমার এন্ডোমেট্রিওসিস রয়েছে। এত কি ইউটেরাসের ক্ষতি হতে পারে? সমস্যার সমাধান কী?

তমালিকা সেনগুপ্ত, মোহাম্মদপুর।

উত্তরঃ এন্ডোমেট্রিওসিস লংটার্ম স্লো গোয়িং অসুখ। এর থেকে ফ্যালোপিয়ান টিউব, ওভারির ক্ষতি হতে পারে। এসব কারণে কনসিভ করতে অসুবিধে হতে পারে। তবে এন্ডোমেট্রিওসিসের জন্য এখন অনেক আধুনিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা রয়েছ।

৪।পিরিয়ড ‍শুরু হলে টানা সাত দিন পর্যন্ত চলতে থাকে। আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে বাল্কি ইউটেরাস ধরা পড়েছে। পরবর্তীকালে কি কনসিভ করতে অসুবিধে হতে পারে?

রঞ্জনা রায়, কলাবাগান।

উত্তরঃ ইউটোরাসে যখন এনলার্জিমেন্ট পাওয়া গিয়েছে ও সঙ্গে হেভি ফ্লো তার মানে ডিসফাংশনাল ইউটোরাইন হেমারেজ হয়েছে। হরমোন জাতীয় ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। ডাক্তারের পরামর্শ নিন। হেভি ফ্লো নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ দেবেন।

৫।আমার বয়স একুশ। পিরিয়ডের সময়ে প্রায়শই পেটে ক্র্যাম্প হত। তারপর আলট্রাসোনোগ্রাফিতে জানতে পারি আমার ওভারিতে সিস্ট রয়েছে। ওষুধ খেয়ে ভাল ছিলাম । কিন্তু এখন আবার সিস্টগুলো বড় হয়েছে। সিস্টের সমস্যা কি পুরোপুরি সারবে না? পরবর্তীকালের কনসিভ করতে গেলে কি জটিলতা দেখা যেতে পারে?

বিশাখা দত্ত, টঙ্গি।

উত্তরঃ আপনার লক্ষণগুলো শুনে মনে হচ্ছে পলিসিস্টিক ওভারির সমস্যা রয়েছে। সিস্টের জন্যে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খেয়ে যাওয়াই ভালো। এতে পরবর্তী কারলর কনসিভ করার সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

৬। আমার বয়স পঁচিশ। সদ্য বিয়ে হয়েছে। মাঝেমধ্যেই হোয়াইট ডিসচার্জ হয়। এটা কি স্বাভাবিক না কোনও অসুখ? এর চিকিৎসা করব কিভাবে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, কুষ্টিয়া

উত্তরঃ আপনার মাইল্ড ইউরিনারি ইনকন্টিসেন্স থাকতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা হলেও যদি না সারে, তাহলে উউরিনারি ইনকন্টিনেস্সের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।  তবে হোয়াইট ডিসচার্জে যদি দূর্গন্ধ না থাকে, চুলকানি বা কোনও ইরিটেশন না থাকে, তাহলে এটি কিন্তু ফিজিওলজিক্যাল হোয়াইট ডিসচার্জ।  সেক্ষেত্রে বিশেষ চিকিৎসা দরকার হয় না।  মূলত এর চিকিৎসা করা অ্যান্টি ফাংগাল, অ্যান্টি-প্রোটোজোয়াল- এই তিন ধরনের ড্রাগ একসঙ্গে দিয়ে কম্বিনেশন ট্রিটমেন্ট করা হয়। এটি কিন্তু সিঙ্গল  ডোজ ট্রিটমেন্ট। এক থেকে দু’দিন লাগে । এর পরেও যদি হোইট ডিসচার্জ চলতে থাকে, তাহলে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স হতে পারে। বহুদিন ধরে কনট্রাসেপটিভ নিলেও এটি হতে পারে। সেক্ষেত্রে কনট্রাসেপশন বন্ধ করতে হতে হবে।

৭। আমার বষয় ত্রিশ। ছোটবেলা থেকেই থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছি। বিয়ের দু’বছর পরে প্রথমবার কসিভ করি। কিন্তু থাইরয়েডের সমস্যা ও প্রেশার প্রচন্ড বেড়ে যাওয়ায় আমার মিসক্যারেজ হয়ে যায়। তার প্রায় এক বছর পরে আমি আবার কনসিভ করেছি। এখন সবে তিন মাস ওজন চুয়াত্তর কেজি। আগের থেকে প্রায় দশকেজি বেড়ে গিয়েছে। ভয় লেগেছে । এবারেও কি মিসক্যারেজ হতে পারে?

স্নিগ্ধা চট্রোপাধ্যায়, যশোর

উত্তরঃ কনসিভকরার জন্যে আপনার ক্ষেত্রে বয়স ঠিক রয়েছে। নিয়মিত থাইরয়েড টেষ্ট করাতে হবে। TCHলেভেল 2.5 এর নীচে রাখতে পারলে ভাল হয়। ব্লাড প্রেশারও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আপনার উচিৎ ছিল ওজন কমিয়ে নিয়ে কনসিভ করা। এখন খেয়াল রাখরেত হবে যাতে ওজন অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে না যায়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।

৮। আমার বয়স একুশ। আমার স্বামীর বয়স ছব্বিশ। দুইমাস হল আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমি আগামি দু’বছরের মধ্যে কনসিভ করতে চাই না। আমার প্রশ্ন কনট্রাসেপটিভ পিল খেলে কি মোটা হয়ে যেতে পারি? কপার টি পদ্ধতি সম্পর্কে জানালে উপকৃত হব।

ঈশিতা রায়, কিশোরগঞ্জ

উত্তরঃ ওরাল পিল খাওয়া নিরাপদ। এর খুব সাইড এফেক্টেস নেই। পিল খেলে মোটা হয়ে যাওয়া বা ক্যানসার হওয়ার মতো ব্যাপারগুলো মেডিকেল সায়েন্স অনুযায়ী ’মিথ’ বা ভুল ধারণা। বরং দেখা গিয়েছে যাঁরা কম বয়সে বেশ কিছুদিন ধরে ওরাল কনট্রাসেপটিভ পিল খেয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যতে িইউটেরাইন ক্যঅনসার, ওভারিয়ান ক্যানসার বা কোলন ক্রানসার হওয়ার প্রবণতা অনেকটা কমে যায়।  পিল খাওয়া শুরু করার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। পিরিয়ড শুরু হওয়ার প্রথম বা দ্বিতীয় দিন থেকে একটা পিল প্রতি রাতে খেতে হবে। একুশ দিন খাওয়ার পর সাত দিন বাদ দিয়ে আবার খাওয়া শুরু করতে করতে হবে। তবে পিল খাওয়া শুরু করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।  সাধারণত কপার টি যাঁর একটি সন্তান রয়েছে, তাঁকে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।  তার আগেও কপার টি ব্যবহার করায় আপত্তি নেই। কপার টি ব্যবহার করার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কপারটি ইনসার্ট করার পরে নিয়মিত চেক-আপ করাবেন।

৯। আমার বয়স পয়ত্রিশ । দু’বছর হল বিয়ে হয়েছে। এখনও কনসিভ করে উঠতে পারিনি। হাই ব্লাড প্রেশার রয়েছে। বয়স ও হাই প্রেশারের কারণেই কি আমি কনসিভ করতে পারছিনা? লেট সপ্রেগনেন্সি হলে কি বাচ্চার মানসিক গঠনের ওপর কোন প্রভাব পড়তে পারে?

দেবযানী বন্দ্যোপাধ্যায়,  ঢাকা

উত্তরঃ আপনার কনসিভ করতে না পারার কারণ খানিকটা বয়স হতে পারে, তাবে হাই ব্লাড প্রেশার নয়। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অবশ্যই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। তারপর কেন কনসিভ করতে পারছেন না এবিষয়ে যে আধুনিক পরীক্ষ-নিরীক্ষা করনো যায়, সেগুলো করিয়ে নিন। সঙ্গে আপনার স্বামীরও প্রয়োজনীয় টেস্ট করিয়ে নিবেন।  দেখা গিয়েছে এই বয়সে বাচ্চা হলে বাচ্চার কয়েকটি ক্রোমোজোমাল ডিফেক্টের প্রবণতা হতে পারে। তবে এখন কনসিভ করার পরে নানা ধরনের টেস্ট করা যায়, সেগুলো করালে আপনি জানতে পারবেন গর্ভস্থ সন্তানের কোন রকম ডিফেক্ট রয়েছে কিনা । তারপর সেই অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

১০।আমার বয়স আঠাশ। উচ্চতা পাঁচ ফুট। ওজন পঁচাত্তর কেজি। পিরিয়ডের সময় হেভি ব্লিডিং হয়। আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে জানা গিয়েছে আমার বাল্কি ইউটেরাস। মোটা বলে কি আমার ইউটেরাস বাল্কি? অনেক চেষ্টা করেও ওজন কমাতে পারছিনা। আমার স্বামীর স্বামীর কোন শারীরিক অসুস্থতা নেই। কিন্তু তাও আমি কনসিভ করতে পারছিনা। অতিরিক্ত ওজনই বন্ধ্যাত্বের কারণে হয়ে দাঁড়িয়েছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা

উত্তরঃ দেখুন ওজন অপনাকে কমাতেই হবে। পাঁচ থেকে সাত কেজি ওজন এক্ষুনি কমানো উচিৎ। সাধারণত আপনার উচ্চতায় ষাট থেকে সত্তুর কেজি ওজন হলে ভাল হয়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ এক্সা্রসাইজ করে দেখুন। সঙ্গে খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন্ ওজন কমানেরা পরে কনসিভ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করুন।

১১। আমার চিরকালিই হিমোগ্লোবিন কম। এখন আমি তিন মাসের প্রেগন্টে। ব্লাড রিপোর্টে জানতে পারেছি থ্যালসিমিয়ার মাইনাস ক্যারিয়ার। আমার প্রশ্ন এতে কি আমার গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হতে পারে? বাচ্চারও কি অ্যানিমিয়া হতে পারে?

বাসন্তি রায়, গাজীপুর

উত্তরঃ থ্যালাসেমিয়া মাইনরের সমস্যা ২-৫% মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়। থ্যালাসেমিয়া মাইনরের কারণে অন্যান্য শারীরিক অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। গর্ভস্থ সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হবে কিনা তা নির্ভর করবে আপনার স্বামী থ্যালাসেমিয়ার ক্যারিয়ার না হলে বাচ্চার থ্যালাসেমিয়র হওয়ার মেজর চান্স নেই, থ্যালাসেমিয়া মাইনরও হওয়ার চান্স কম।

১২। আমার বয়স ত্রিশ। ওজন ৬৮ কেজি। পিরিয়ড ফ্লো নরমাল। কিন্তু এই সময় হাঁটুতে ব্যাথা হয়। সিঁড়ি ভাঙ্গতে অসুবিধা হয়। কোমরের ডান দিকে ব্যাথা হয়। কেন এরম হয়। পিরিয়ড হওয়ার পর ব্যাথা কমে যায়।

কস্তুরী বসু, চট্টগ্রাম

উত্তরঃ আট্রাসোনোগ্রাফি করে জেনে নিন েইউটোরসম, ওভার বা পেলবিসে কোনও অসুবিধে রয়েছে কি না। সাধারণত পিরিয়ডের সময়ে কোমরে ব্যাথা হতে পারে। হাটুর ব্যাথার সাথে এর কোন যোগাযোগ নেই মনে হয়। আর্থ্রাইটিসের সমস্যা হতে পারে।

১৩। আমার স্বামীর বয়স ২৬ । চাকরিস্থলে প্রচুর স্ট্রেস সামলাতে হয়। কয়েক বার চেষ্টা করেওে প্রেগনেন্ট হতে পারিনি। পিরিয়ডসও অনিয়মিত। প্রতিকার কি?

শৌনাক রায়,  ঢাকা

উত্তরঃ প্রেগনেন্সি না আসার জন্য বেশ কয়েক রকম সম্ভাবনা থাকতে পারে । শুক্রাণুতে সমস্যঅ থাকলে স্পার্ম কাউন্টের মাধ্যমে সেটি বোঝা যায়। ডিম্বনালীতে কোনো সমস্যা আছে কি না বুঝতে আল্ট্রাসাউন্ড, এইচএসজি ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা হতে পারে। ডিম্বাণুতে কোন সমস্যা থাকলে তার কারণ হতে পারে ওবিসিটি, থাইরয়েড, অ্যানেমিয়া বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম । স্ত্রী হরমোন এর ঘাটতি থাকার ফলে এঁদের প্রেগন্টে হতে সমস্যা দেখা যায়। আবার স্ট্রেসের কারণে এই সমস্যা হতে পারে।  ১৮ বছর বয়সের পরে অনিয়মিত পিরিয়ড ও বেশ কয়েক মাস গ্যাপ দিয়ে পিরিয়ডের সমস্যা পিসিও –র কারণে হতেই পারে।

১৪। পলিসিস্টিক ওভারির কারণে পিরিয়ড চিরকালই অনিয়মিত। কনসিভ করার জন্য প্রায় দু’বছর হরমোন ট্রিটমেন্ট করে আমার কোন উপকার হয়নি। তার পর দু’বার আইভিএফ পদ্ধতিতে কনসিভ করার চেষ্টা করি। কিন্তু সফল হইনি। এখন আমার বয়স ৩২ । কৃত্রিম উপায়ে সন্তান ধারনের অন্য কোন উপায় রয়েছে কি ? আইইউআই পদ্ধতির ব্যাপারে বিশদে জানালে উপকৃত হই।

নন্দিতা দত্ত, ঢাকা

উত্তরঃ প্রথমেই বলি কী কারণে কনসেপশন হচ্ছেনা তা জানা দরকার । আইইউআই কৃত্রিম উপায়ে সন্তান ধারনের পদ্ধতি। আইইউআই পদ্ধতিতে স্পার্মটাকে যে সময়ে ওভারি থেকে ডিম্বাণু ম্যাচিওর হয়ে বেরিয়ে আসে, স্পেশালি ট্রিট করে ইউটেরাসের ভিতরে প্লেস করে দেওয়া হয়ে। আইইউআই পদ্ধতি ট্রাই করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

১৫। আমি চার মাসের অন্তঃসত্তা। ইউরিন রিপোর্টে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি পাওয়া গিয়েছে। ব্লাড টেস্টের রিপোর্টে সুগারও ধরা পড়েছে। বিয়ে হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পর আমি কনসিভ করেছি। আমার বয়স তেত্রিশ। লেট প্রেগনিন্সির কারণেই কি এইসব জটিলতা দেখা দিয়েছে?

রায়া সেন টাঙ্গাইল

উত্তরঃ লেট প্রেগনিন্সির কারণে্ এইসব হয়নি ।  আপনার আপনার ডায়াবেটিস রয়েছে বলেই সুগারের পরিমাণ বেশি পাওয়া গিয়েছে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়া শুরু করতে পারেন।  তবে মনে রাখবেন ডায়াবেটিসটা কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ইউরিনে প্রটিনের  পরিমান বেশি হলে ডাক্তার দেখিয়ে উপযুক্ত ব্যাবস্থা নেয়া দরকার। এর সঙ্গে ব্লাড প্রেশার নিয়মিত মনিটর করবেন। নিয়ম মেনে চলুন। অত ভয়ের কিছু নেই। বেশ কয়েক বছর লো ডোজে এই চিকিৎসা চালানো হতে পারে। তবে বোঝার জন্য প্রথমে ইউরিন কালচার করে নিতে হবে। এরপর আলট্রাসোনোগ্রাফি করে দেখে নিতে হয় ইউরিন জমা থাকছে কিনা । প্রয়োজনে ইউরোডায়ানামিকস বলে একটি পরীক্ষা করতে হতে পারে।  ওষুধে না সারলে ব্লাডার বোটক্স ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়।  ওজন বেশি থাকলে কমানো খুব প্রয়োজন। ডায়াবেটিস বা নার্ভের সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা প্রয়োজন। সবার আগে একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।

১৬। আমার বয়স ৩২ । সদ্য আমার ভ্যাজাইনাল অপারেশন হয়েছে। কিন্তু এর পর থেকেই অসাড়ে ইউরিন বেড়িয়ে যাচ্ছে। এর সম্ভাব্য কারণ কি?

শুচিস্মিমা শর্মা, মিরপুর

উত্তরঃ কোনও ধরনের গাইনোকলিজিক্যাল বা ভ্যাজাইনাল অপারেশনের পরে যদি এরকম সমস্যা হয়, তাহলে অপারেশনের সময় ইউরিন ব্লাডারে কোনও আঘাত লাগার ফলে এটি হতে পারে । এক্ষেত্রে ব্লাডারে একটি চিদ্র তৈরি হয় যার মাধ্যমে ইউরিন বাইরে বেড়িয়ে আসে। একে ভ্যাসিকোভ্যাজাইনাল ফিশ্চুলা বলে খুব শীঘ্রই আরও একবার অপারেশন না করালে ক্ষতির আশঙ্কা আছে।

১৭। আমার বয়স ৪০। বছর খানেক হল মেনোপজ হয়ে গিয়েছে। ইউরিন করার সময় একধরনের জ্বালা জ্বালা অনুভব করি। বেশ কয়েক বছর আগে একবার ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশনে ভুগেছিলাম। আমার প্রশ্ন ইউটিআই কি আবার হতে পারে? আমার বর্তমান উপসর্গ গুলো কি ইউটিআইয়ের সঙ্কেত দেয়? হলে কি ভাবে চিকিৎসা করাব?

অনুপমা সেন, মিরপুর

উত্তরঃ ইউরিনে বার্নিং সেনসেশন থাকলেই যে ইউটিআই হবে এমন কোনও কথা নেই।  ইউটিআই হয়েছে কিনা বোঝার জন্য সবার আগে প্রয়োজন ইউরিন রুটিন ও কালচার স্যাম্পল করে নেওয়া ।  তিন চার দিন  পরে রেজাল্ট জানতে পারবেন ।  কোনও ওষুধে রোগী যদি সেনসিটিভ হয়, তাহলে সেটিও কালচার রিপোর্টে বোঝা যাবে। ডাক্তারেরপরামর্শ অনুযায়ী এরপর অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যে ট্রিটমেন্ট করতে হতে পারে । অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে সাত-দশ দিনের বেশি খেলে ক্ষতি হবে। চিকিৎসা শেষে হওয়ার পরে আবার কালাচার রিপোর্ট করতে হতে পারে।  কালচার রিপোর্টে যদি দেখা যায়, এরপরেও অসুখ পুরো নির্মূল হয়নি, তাহলে লো ডোজে কয়েক মাস পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতে পারে। সারাদিন  একটিই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।  প্রয়োজনে কয়েক বছর পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে।  ওরাল মেডিকেশনদিয়ে কাজ না হলেই একমাত্র ইনকেজশন দেওয়ার কথা ভাবা হয়।  এরসঙ্গে প্রয়োজন ইউরিনারি প্যাসেজের হাইজিনের খেয়াল রাখা।  করণ মহিলাদের ক্সেরেত্র ইউরিনারি ব্লাডার তুলনায় অনেক সরু। ফলে সহজেই ইনফিকশন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। জ্বালা জ্বালা ভাব ছাড়াও জ্বর আসা এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ । বছরে দু’বার বা তার বেশি ‍যদি ইউরিনারি ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে আল্ট্রাসাউন্ড করিয়ে নিন।  এতে বোঝা যাবে ব্লাডারে স্ট্যাগনেন্ট ইউরিন জমে থাকছে কি না । ইউটিআই কিন্তু বারেবারে হতে পারে। তবে ব্লাডার খালি করার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়। যদি কোনওভাবেই ব্লাডার  খালি না করা যায়, তখনই একমাত্র অপারেশনের কথ ভাবা হয়। মেনোপজের পরে পেরিনিয়াল অঞ্চলের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এঁদের ক্ষেত্রে প্রোফাইল্যাক্টিক বা প্রিভেনটিভ অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতে পারে।  একটি করে অ্যান্টিবায়োটিক বেশ কিছুদিন ধরে  দেওয়া হয়।

১৮। আমার বয়স ৪৫ । তিন সন্তান । একটি নর্মাল ডেলিভারি। আর দু’টি সিজারিয়ান ডেলিভারি।  এক বছর আড়ে মেনোপজ হয়ে গিয়েছে। বিগত কয়েকদিন ধরে হাঁচলে, কাশলে, জোরে হাসলে বা ভারী কিছু তুললে ইউরিনেট করে যাচ্ছ। আমার ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এর কারণ কি ?

অনিন্দিতা রায়, কুমিল্লা

উত্তরঃ প্রথমেই বলি ওজন বেশি থাকলে আগে সেটি কমানোর চেষ্টা করুন।  আর পেলভিক ফ্লোর মাসলের এক্সারসাইজ করলে কিছুটা উপকার পেতে পারেন। একধিক সন্তানপ্রসব, ওবিসিটি ইত্যাদি কারণে পেলভিক ফ্লোর এরিয়াতে প্রেশার পড়ে ।  ডাক্তারি  পরিভাষায় এর নাম স্ট্রেস ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স। মেনোপজের পরে হরমোনের ঘাটতির কারণে পেলভিক মাসলের দুর্বলতা বেশি করে প্রকাশ পায়।  মাংসপেশিকে শক্ত করার জন্য যাতে ইউরিন লিক না হয়, ইউরিনারি ব্লাডারের নীচের দিকে ফুটো করে একটি tape পরিয়ে দেওয়া হয়। এর নাম টেনশন ফ্রি ট্রান্সভ্যাজাইনাল টেপ। এই টেপটি সারাজীবন থাকে। ভারতের বাইরে থেকে এই টেপ ইমপোর্ট করতে হয়। এর সাফাল্যের হার ৯৮ শতাংশ। হাসপাতালে একদিন থেকে একদিন থেকে বাড়ি চলে যাওয়া যায়।  লোকাল অ্যানাথেশিয়ার সাহায্যে রোগিকে অজ্ঞান না করেই এই সার্জারী করা হয়। তবে যাঁরা এখনও মা হননি, তাঁদের জন্য আমরা এই পদ্ধতি রেকমেন্ড করি না।

১৯। আমার বয়স ৪০। কিছু দিন ধরেই বারবার ইউরিনে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে। ডাক্তার বলেছেন আমি আর্জ ইনকন্টিনেন্সে ভুগছি। ওষুধে কি চিকিৎসা সম্ভব?

গার্গী বন্দ্যোপাধ্যায়, রংপুর

উত্তরঃ urge incontinence এর ক্ষেত্রে সাধারণত ওরাল মেডিকেশন দেওয়া হয়। মেনোপজের পরে এই সমস্যা হলে বেশ কয়েক বছর লো ডোজে এই চিকিৎসা চালানো হতে পারে। তবে বোঝার জন্য প্রথমে ইউরিন কালচার করে নিতে হবে। এরপর আলট্রাসোনোগ্রাফি করে দেখে নিতে হয়, ইউরিন জমা থাকছে কি না। প্রয়োজনে ইউরোডায়ানামিকস বলে একটি পরীক্ষা কতে হতে পারে। ওষুধে না সারলে ব্লাডারে বোটক্স ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ওজন বেশি থাকলে ওজন কামানো খুব প্রয়োজন। ডায়াবেটিস বা নার্ভের সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা প্রয়োজন।

২০। আমার বয়স ৩৯ । প্রায় চার বছর আগে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গিয়েছে।  এক বছর পরে আবার ইরেগুলার ব্লিডিং শুরু হয়েছে। এখনও অনিয়মিত ব্লিডিং হয়। ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসাউন্ড করে দেখা গিয়েছে এন্ডোমেট্রেয়াল থিকনেস বেশি। ক্যানসারের সম্ভাবনা আছে ?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, গুলশান

উত্তরঃ সাধারণত ৪০ বছরের নিচে মেনোপজ হলে দু’বছর পর্যন্ত অনিয়মিত ব্লিডিং হতে পারে।  ৪০ এর উপরে হলে একবছর পর্যন্ত অনিয়মিত ব্লিডিং হতে পারে।  সাধারণত পোস্ট মেনোপজাল মহিলাদের এন্ডোমেট্রিয়াল থিকসেন চার থেকে পাঁচ মিলিমিটারের কম থাকে ।  এর থেকে বেশি হলে গন্ডগোলের সম্ভাবনা বেশি। তবে যাঁদের ক্ষেত্রে এটি বার্ডারলাইন হাই, তাঁদের ওষুধ দিয়ে ছ’মাস দেখা হয়। আলট্রাসাউন্ডে শিওর না হতে পারলে, এন্ডোমেট্রিওকাল বায়োপসি করে নিতে পারেন। নন ক্যানসার গ্রোথ হলে আপারেশনের প্রয়োজন নেই। যাদি অনিয়মিত ব্লিডিং হয ও এনডোমেট্রিয়াল থিকনেস বেশি থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় যে, এটি ইউটোরাইন ক্যানসারে র ফলে হতে পারে।  সেক্ষেত্রে ক্যানসারের চিকিৎসা করা হয়। জরায়ু, ওভারি, সার্ভিক্স, ফ্যালোপিয়ান টিউব সব কেটে বাদ দিতে হতে পারে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি দিতে হয় না।  এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার হলে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ব্যাবহার করা হয় না।

২১। আমার বয়স ৪৩ । বছর তিনেক আগে হল মেনোপজ হয়ে গিয়েছে। হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির কি আদৌ কোন প্রয়োজন আছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ধানমন্ডি

উত্তরঃ মেনোপজের পরে শরীরে ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন ও টেস্টোস্টেরন নামক তিনটি হরমোনের অভাব দেখা যায়। তবে সবক্ষেত্রেই যে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির প্রয়োজন তা নয়। এইচআরটি দিলে ব্রেস্ট ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এইচআরটির ভূমিকা ঠিক কী রকম, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। তবে এইচআরটির ফলে ওই সম্ভাবনাগুলি কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। এখন অবশ্য লোকাল এইচআরটি করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ভ্যাজাইনাতে ক্রিম ব্যবহার করা হয়। তবে নন- হরমোনাল ড্রাগ দিয়েও চিকিৎসা করা হয়।

২২। আমার বয়স ৪৪ ।  গত ছয় মাস ধরে আমার পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পিরিয়ড হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। মাঝে মাঝে সারা শরীরে  জ্বালাভাব দেখা দিচ্ছে গরমও লাগে । আমি কি মেনোপজের দিকে এগোচ্ছি ? কোন হরমোন থেরাপির প্রয়োজন আছে?

ঋতুপর্ণা গুহরায়, কসবা

উত্তরঃ আপনার বয়সে ‍যদি ছয়মাসের বেশি পিরিয়ড বন্ধ থাকে, তাহলে ধরে নিতে হবে তাহলে সেটা মেনোপজের কারণে হচ্ছে, বিশেষ করে আপনার মধ্যে যখন মেনোপজের অন্যান্য লক্ষণ যেমন হট ফ্লাশ, অবসন্নতা দেখা দিচ্ছে। মেনোপজ জনিত সমস্যার ক্ষেত্রে সবার আগে একজন  গাইনিকলজিস্টের সঙ্গে কথা বলাই ভাল। মেনোপজের পর হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির প্রয়োজন হয়। এতে হট ফ্লাশ, অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা কমে যায়। মেনোপজের পরে হারের সমস্যাও বাড়ে।  সবই করবেন গাইনিকলজিস্টের পরামর্শে ।  বিভিন্ন বয়সের নানারকমের গাইনিকলজিকাল সমস্যার সমাধানের কয়েকটি তুলে ধরলাম আমরা তবে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি তো আপনার হাতেই।  নিজের প্রতি কিছুটা কেয়ার, সর্তকাতা আর সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা । এটুকুই যথেষ্ট নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য ।  ‘ভাল থাকবেন’ আমাদের শুভচ্ছো রইল।

 


Leave a Reply