Category Archives: health tips bangla

  • 0

পুরুষ ও স্ত্রী বন্ধ্যাত্বে হোমিওপ্যাথি

বন্ধ্যাত্ব বলতে বোঝানো হয় বিয়ের পর সম্পূর্ন এক বছরের অধিক কেটে গেলে স্বামী দুজনের সন্তানের জন্য উদগ্রীব হওয়া স্বত্ত্বেও তাদের কোন সন্তান না হওয়া।

আবার অনেকে বলেন, যেই নারীর সন্তান ধারণ একেবারে অসম্ভব বলে প্রতিয়মান হয় তা বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ। যদি চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্যে নারী সন্তানের মা হতে পারে তা হলে প্রকৃত বন্ধ্যাত্ব নয়।

তাই বন্ধ্যাত্বে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-

১। প্রাথমিকঃ বিয়ের পর থেকে কোন সন্তান একেবারে না হওয়া।

২) সাময়িকঃ বিয়ের পর সন্তান একটি হওয়ার পর। তারপর চিরদিনের মতো আর সন্তান না হওয়া।

বিভিন্ন কারণে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে যার কারণে সন্তান সৃষ্টি হয় না।

১। টেসটিস অবশ্য সুস্থ শুক্রকীট সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়।

২। ওভারী হয়তো সুস্থ ওভাম সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়।

৩। শুক্রকীট ও ডিম্বানুর ঠিকমত মিলন না ঘটা।

৪। হরমোন কম বেশি হওয়া কারণ উল্লেখযোগ্য।

ফিজিওলজি কারণঃ কখনো কখনো সময় স্বাভাবিক নিয়মে নারী সন্তান ধারণ সম্ভব হয় না।

১। ডিম্বকোষ ডিম্ব উৎপাদনে বয়স না হওয়া।

২। নারীর বেশি বয়সে মেনোপোজ হলে।

৩। কখনো দেখা যায় নারী দুগ্ধ আসার মতো বয়স হয়নি অথবা বাচ্চা বয়সে ব্রেষ্ট টিউমার হওয়া।

প্যাথলজিকাল কারণঃ ১। পুরুষের শুক্রকিটের ক্রোমোজোম ঠিকমত  (এক্স ওয়াই) বা (এক্স এক্স) ভাবে না থাকা এক কথায় সন্তান জন্ম দেয়ার উপযুক্ত ক্রোমোজোম না থাকা।

২। নানা কারণে ডিম্বকোষ হতে সন্তান সৃষ্টি হওয়ার মতো ডিম্ব না থাকা।

৩। গণেরিয়া বা লিকুরিয়াজনিত সমস্যায় ডিম্ব ও শুক্রকীট মিলন না ঘটা। আরও বিভিন্ন রোগ জনিত সমস্যার জন্য স্ত্রী পুরুষ উভয় পৃথক পৃথকভাবে বন্ধাত্বের কারণ হতে পারে।

বন্ধ্যাত্ব পর্যবেক্ষণ ও রোগ নির্ণয়ঃ বন্ধ্যাত্বের কারণ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে কোন ধরনের বন্ধ্যাত্ব, কি কারণে বন্ধ্যাত্ব- তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে। কখনো প্রাথমিক অবস্থা থেকে এটি হয়। কখনো এক সন্তান জন্মের পর হয়।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাঃ ১। স্বামীকে পরীক্ষা করতে হলে তার ইতিহাস ভালোভাবে জানতে হবে। স্বামীর সেল এক্স ওয়াই ক্রোমোজোম ঠিকমত আছে কিনা।

২। তার বীর্যে শুক্রকীট ঠিক আছে কিনা।

৩। স্ত্রীর পরীক্ষা করতে হলে তার বয়স ও পেশা জানতে হবে। যদি বয়স ৩৫ এর বেশি হয় তবে কর্মশীল না তা হলে বন্ধ্যাত্ব আসতে পারে।

৪। লিউকোরিয়া জরায়ু বা যৌনাঙ্গে গোলমালজনিত নানা রোগ থেকে বন্ধ্যাত্ব আসতে পারে। মাসিক বা ঋতু ঠিক হচ্ছে না। বিবাহের ইতিহাস জানতে হবে। বিবাহের প্রতি ইচ্ছা ছিল কিনা ? স্বামীর প্রতি আর্কষণ কেমন ইত্যাদি ভালোভাবে জানতে হবে। তার অতীত ইতিহাস জানতে হবে।

চিকিৎসাঃ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিতে হলে চিকিৎসক ও ওষুধের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস থাকতে হবে। তার কারণ, হোমিওপ্যাথির জনক ডা. হ্যানিম্যান বলেছেন, সমস্ত রোগের উৎপত্তিস্থল   মানুষের মন। তাই আপনার মনকে ঠিক করে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ও ডাক্তারের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সঠিক রোগ নির্ণয় ও লক্ষণ মিলিয়ে ওষুধ সেবন করুন। আপনি অল্প সময়ের মধ্যে যৌন রোগসহ যে কোন ধরনের জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাবেন- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন হোমিও ওষুধ সেবন করুন। জটিল ও কঠিন রোগ থেকে মুক্ত থাকুন।

 

ডা. ইব্রাহিম মজুমদার

নবযুগ হোমিও ক্লিনিক (পাগলা)

শাহীবাজার ঈদগাহ মাঠ

ফতুল্লা, নারায়নগঞ্জ।


  • 0

ডায়াবেটিস রোগীর সতর্কতা

 

ডায়াবেটিস রোগীর হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুকি এড়াতে হলে কতকগুলো সতর্কতামুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে-

প্রথমত-  রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অবশ্যই রক্তচাপকে ১৪০/৯০ এর নিচে রাখতে হবে। একজন ডায়াবেটিস রোগী যদি তার রক্তচাপকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে তার হৃদরোগের ঝুকি শতকরা ৫০ ভাগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি শতকরা ৮৫ ভাগ রোধ করা যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে রোগীর দেহের বৃহৎ ও ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ধীরে ধীরে সংকীর্ণ হয়ে যায়। ধমনীগুলো সংকীর্ণ হয়ে গেলে রক্তচাপের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং এই উচ্চ রক্তচাপে দেখা দেয় হৃদরোগ। উচ্চ রক্তচাপ এবং মস্তিষ্কে সৃষ্টি সংকীর্ণ ধমনী ঘটাতে পারে সেরিব্রাভাস্কুলার রোগ বা স্টোক।

দ্বিতীয়তঃ ধুমপান পরিহার করা। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ধুমপান করা অত্যান্ত বিপজ্জনক। সিগারেটের ধোয়ার থাকা নিকোটিন রক্তনালীগুলোকে ধীরে ধীরে সংকীর্ণ করে ফেলে। ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুকি বাড়ে। ডায়াবেটিস রোগীর এমনিতেই রক্তনালীর রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ধুমপান করলে সেই সম্ভাবনাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। ধমণীগুলো সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার দেহের সকল অঙ্গে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। যার ফলে কিডনি রোগের ঝুকি বৃদ্ধি পায়, চোখে রেটিনোপ্যাথি নামক জটিল সমস্যা দেখা দেয়।

তৃতীয়তঃ দৈহিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। ওজন কমানোর জন্য স্বাভাবিকভাবে কম খাওয়াই সব চেয়ে যুক্তিসঙ্গত উপায়। দৈনিক প্রধান আহারের মাঝে বারবার এটা ওটা খাওয়া বা শখের খাবারগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। এগুলো এড়িয়ে চললে ওজন কমিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দেয়। সঠিক খাবার পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে তবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভুল খাবার বেশি মাত্রায় খেলে সেটা সহজেই দৈহিক ওজন অতিরিক্ত ভারী করে দিতে পারে এবং ভারী হওয়ার সমস্যাগুলো নিজেকেই ভোগ করতে হবে।

চতুর্থতঃ উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা। ডায়াবেটিস রোগীর উচ্চ রক্তচাপ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খাবার থেকে উচ্চ চর্বি বা সম্পৃক্ত চর্বি পরিহার অত্যান্ত জরুরি কারণ সম্পৃক্ত চর্বি দেহকে বেশি পরিমাণ কোলেস্টেরল উৎপাদনে বাধ্য করে বা রক্তনালীর দেয়ালে জমা হয়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। যদি কোন লোকের রক্তে উচু মাত্রার কোলেস্টেরল থাকে তবে তার খাদ্য তালিকা থেকে ডিমের কুসুম, মাংস, ঘি, মাঘন, পনির অনেকটা কমিয়ে দিতে হবে বা বাদ দিতে হবে। প্রতি ১০০ মিলি রক্তে মোটামুটি ১৫০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকাই স্বাভাবিক, যদি ২০০ থেকে ২৪০ মিলিগ্রাম হয় তবে বিপদযুক্ত এলাকার সীমানা। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উত্তম খাবার হচ্ছে আশজাতীয় খাবার। এটা তার ওজন, কোলেস্টেরল এবং সুগার নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে। সাধারনত উদ্ভিদ জাত খাদ্য আশসমৃদ্ধ। সব সবজি এবং ফলের মধ্যেই প্রচুর আশ রয়েছে। এই আশগুলো, পরিপাক তন্ত্রে গিয়ে স্পঞ্জের মত কাজ করে। এরা চর্বি, পানি, সুগারসহ অন্যান্য খাদ্যাংশকে শোষণ করে স্পঞ্জ আকার ধারণ করে পরিপাক নালীতে খাদ্য অতিক্রম করার গতি বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু চর্বিজাতীয় খাবার হজম এবং শোষণ হতে অধিক সময় লাগে সে জন্য আঁশজাতীয় খাবার গ্রহণ এদের শোষণ কমিয়ে দেয় ফলে ডায়াবেটিস রোগীর দৈহিক ওজন এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ফলমুল এবং শাকসবজি অবশ্যই রাখতে হবে। সুতারাং সাদা ময়দা বা সাদা রুটির চেয়ে পূর্ণ গমের আটার রুটি অনেক বেশি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত। শিম, মসুর ডাল এবং অন্যান্য শুটির মধ্যে প্রচুর আশ থাকে অথচ এগুলোতে চর্বির মাত্রা অত্যান্ত কম থাকে। অন্যদিকে মাংস ও অন্যান্য পশুজাত প্রোটিনগুলো হল অত্যান্ত উচুমাত্রার চর্বিযুক্ত ও অনেক কম আশযুক্ত খাবার। কাজেই প্রচুর আশযুক্ত খাবার খেলে একজন ডায়াবেটিস রোগীকে পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে সহায়তা করবে। নিরামিষ খাবার যদি ভারসাম্যপূর্ণ হয় তবে সেটা আসলেই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার হয় যাতে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার ও অনেক গুরুতর রোগের ঝুকি কম থাকে।

পঞ্চমতঃ রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে দেহের ধমনীগুলো ধীরে ধীরে কঠিনীভুক্ত এবং সংকীর্ন হয়ে যায় যার ফলে সৃষ্টি হয় উচ্চ রক্তচাপ যেটা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের জন্য একটা প্রধান বিপদের কারণ।

ষষ্ঠতঃ  নিয়মিত ব্যায়াম করা। প্রতিদিন অন্তত আধঘন্টা করে ব্যায়াম করা প্রয়োজন। ব্যায়াম দৈহিক ওজন কমাতে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়াম হল যে কোন ওজন কমানোর কর্মসূচির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যায়ামের পর ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় তখন খেয়াল রাখতে হবে যেন বেশি খেয়ে ফেলা না হয়। একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ব্যায়া তার ডায়াবেটিসে নিয়ন্ত্রণে এবং এর জটিলতা প্রতিরোধ সাহায্য করতে পারে। ব্যায়াম মাংসপেশিতে থাকা ইনসুলিন গ্রাহকগুলোতে ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে দেয় ফলে রক্ত থেকে গ্লুকোজ সহজেই পেশিতে পৌছাতে পারে। যার ফলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এভাবে ব্যায়াম দেহে ইনসুলিন ও গ্লুকোজকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সহায়তা করে। ব্যায়াম ক্ষুদ্র রক্তনালীর মধ্যকার রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি ঘটায় ফলে ডায়াবেটিস রুগীদের পায়ের পাতা ও পায়ের নলীর সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। ব্যায়াম হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুকি কমিয়ে দেয়। ব্যায়াম করলে রক্তের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড স্তর নিচে আসে এবং এইচডিএল বা উচ্চ ঘনত্বের লিপোপ্রোটিনের মাত্রা বেড়ে যায় যা হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হৃদপিন্ডের পাম্প করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং দেহকে অধিকতর সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

 

ডা. জ্যোৎস্না মাহবুব খান

মুক্তগাছা, ময়মনসিংহ


  • 0

অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ

 

অনাকাঙ্খিত গর্ভধারন আমাদের দেশে বহুল পরিমাণে বিদ্যামান। কোন মা চান না তার সন্তানের জন্মকে মেনে নিতে ? সন্তানকে জানানো সব মায়ের জন্য অত্যান্ত কাঙ্খিত ঘটনা। কিন্তু অপরিকল্পিত চিন্তার কারণে মা সন্তান ধারণ করতে পারেন।

কেস হিস্ট্রি-১ঃ পারুলের বষয় ১৬ বছর। মাত্র ২ মাস হয়েছে তার বিয়ে হয়েছে। সে এখন গর্ভবতী। তাই সে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছে। কারণ সে এবং তার স্বামী দু জনের কেউই এত তাড়াতাড়ি বাচ্চা আসুক  এটা চায়নি।

অল্প বয়সে অর্থ্যাৎ ১৮ বছর পূণ হওয়ার আগে মা হলে মা ও শিশু উভয়ের জন্যই তা বিপজ্জনক। এ সময় সন্তান নিলে সন্তান মায়ের শরীর থেকে সঠিক পুষ্টি পায় না, ফলে মা ও শিশু দুজনই অপুষ্টির শিকার হয়।

কেস হিস্ট্রি- ২: রিনার বয়স ২২ বছর। কোলে ১১ মাসের একটি ছেলে। শরীর স্বাস্থ্য তেমন একটা ভালো নয়। এরই মধ্যে আবার পেটে বাচ্চা  এসে যাওয়ায় সে খুব হতাশাগ্রস্থ।

দু সন্তানের জন্মের মধ্যে ব্যবধান ৩ বছরের বেশি হলে শিশুমৃত্যুর ঝুকি প্রায় ৫০ ভাগ কমে যায়।

প্রিয় পাঠক পাঠিকাবৃন্দ, আমাদের  দেশে পারুল এবং রিনার মতো অনেকে অনাকাঙ্খিত গর্ভধারনের শিকার। সমাধান খুজতে এরা অনেকেই নিকটস্থ ফার্মেসি বা হাতুড়ে ডাক্তারের শরনাপন্ন হন। আর এই দুর্বলতার সুযোগে উল্লেখিত ব্যাক্তিরা চড়া দাম রেখে বিভিন্ন  বড়ি বা সিরাপ দিয়ে থাকেন। যা কিনা বিজ্ঞানসম্মত নয়। আবার অনেক অদক্ষ কর্মীর দ্বারা এমআর করিয়ে থাকেন। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এছাড়া বিয়ের পর প্রথমবার গর্ভধারণ করলে সেই মহিলার কোনভাবেই এমআর করা উচিত নয়। কেননা এতে মহিলা বন্ধা হয়ে যেতে পারে। তাই অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ রোধ করতে জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে দম্পত্তিদের সম্যক জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিদ্যমান পদ্ধতিগুলো হলো-

১. নিরাপদকাল বা রিদম মেথডঃ নারী তার মাসিক চক্রের মধ্যবর্তী কেনা এক সময় কম উর্বর থাকে। এই কম উর্বর সময় কালকে নিরাপদকাল ধরা হয়। তবে এই নিরাপদকাল সব মহিলার জন্য নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়। কারন যাদের মাসিক অনিয়মিত তারা যে কোন সময় গর্ভবতী হয়ে পড়তে পারেন।

২. প্রত্যাহারঃ পৃথিবীর সর্বত্র এ পদ্ধতি প্রচলিত। স্ত্রী সঙ্গমের চরম মূহূর্তে স্ত্রী সঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসাকে  প্রত্যাহার বলা হয়। এ পদ্ধতিও খুব নিরাপদ নয়, কারণ পুরুষের বির্যপাতের পূর্বে যে রসক্ষরিত হয় তাতে শুক্রকীট থাকে। ফলে স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়তে পারেন।

৩. কনডম ও বড়িঃ  নববিবাহিত স্বামী স্ত্রী যারা ২-৩ বছর দেরি করে বাচ্চা নিতে চান তারা এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো স্বল্পমেয়াদে জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। সঠিকভাবে গ্রহণ করা হলে কনডম ও বড়ির কার্যকারিতা হার যথাক্রমে শতকরা ৬৪-৯৭ ভাগ এবং ৯৭- ৯৯.৯ ভাগ।

৪. ইনজেকশ, আইইউডি, নরপ্ল্যান্টঃ যাদের কমপক্ষে একটি জীবিত সন্তান আছে এবং প্রথম সন্তান হওয়ার পরে ৩-৪ বছর পর্যন্ত বাচ্চা নিতে চান না তারা এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। ইনজেকশনের মেয়াদ ৩ মাস বা ৯০ দিন। এটিও স্বল্পমেয়াদে জন্ম বিরতিকরণ পদ্ধতি। ইনজেশনের শতকরা ৯৯.৭ ভাগ কার্যকরী। নরপ্ল্যান্টর কার্যকরী হার ৫ বছর এবং আইইউডির কার্যকারিতার মেয়াদ ১০ বছর। এই দুটি দীর্ঘমেয়াদী জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। এছাড়া জরুরি গর্ভনিরোধের জন্য এক ধরনের বড়ি রয়েছে। তবে এগুলো নিয়মিত ব্যবহারে জন্য নয়।

 

ডা. গৌতম কুমার দাস

ফরিদপুর

 


  • 0

যক্ষা হলেও রক্ষা আছে

Category : health tips bangla

যক্ষা হলেও রক্ষা আছে

 

যক্ষা বা টিবি নামক মারাত্মক ব্যাধিটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত, যক্ষাকে ক্ষয়রোগও বলা হয়। বিশ্বের  একটি জটিল সংক্রামক ব্যাধি হচ্ছে যক্ষা। কোন এক সময়ে মানুষের ধারণা ছিল “হয় যদি যক্ষা নাই তবে রক্ষা। এখন এ ধারনাটির আর কোন ভিত্তি নেই। কারণ তখন যক্ষা বা টিবি র রোগ জীবানু সম্পর্কে চিকিৎসকদের কোন ধারণা ছিল না,  এর ফলে এ রোগটি প্রতিকারের কোন পন্থা তাদের জানা ছিল না। বর্তমানে যক্ষার রোগ জীবানু আবিষ্কারের সাথে সাথে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়েরও ওষুধ  বের হয়েছে।

যক্ষা বা টিবির রোগ জীবানু শ্বাসের সাথে শ্বাসনালীর সাহায্যে মানুষেল শরীরে প্রবেশ করে।  এ রোগটি সংক্রমিত হয় মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক অতি ক্ষুদ্র জীবানুর মাধ্যমৈ। এই জীবানু বাতাসে অনেক সময় ধরে জীবিত থাকতে পারে।

যক্ষা হলেও রক্ষা আছে

যক্ষা হলেও রক্ষা আছে

আমরা অনেকে মনে করে থাকি যক্ষা বা টিবিতে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির পাশে বসলেই যক্ষা হয়ে যায়। কিন্তু এ রোগটি এভাবে কখনও সংক্রমিত হয় না। এটি সংক্রমিত যক্ষা রোগীর হাচি, কামি, কফ মলমুত্র ইত্যাদির দ্বারা। এছাড়াও যক্ষা রোগের জীবানু বন্ধ, স্যাঁতস্যাঁতে ও জনাকীর্ণ পরিবেশে খুব দ্রুত রোগ বিস্তার করে থাকে।

যে কোন সময় যে কোন বয়সের মানুষ এ ব্যাধির কবলে পড়তে পারে। যক্ষা জীবানু মানুষেরে দেহে প্রবেশের কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছরের মধ্যে  এ রোগের প্রকাশ ঘটে। সাধারণত দরিদ্র লোকদের মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে। কফ এবং কাশি হচ্ছে যক্ষার প্রধান লক্ষণ। প্রাথমিক অবস্থায় কাশি, কফ এবং সামান্য জ্বর দিয়ে এ ব্যাধিটির শুরু হয়। ধীরে ধীরে আরো নানা ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। যেমন- খাবারে অনীহা,  শরীরের ওজন অল্প অল্প করে হ্রাস পাওয়া,  বিষাদগ্রস্থতা, মাঝে মাঝে রাত ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া ইত্যাদি। কোন কোন যক্ষা রোগীর কফ বা কাশির সঙ্গে রক্ত নির্গত হয়। কফের সাথে যে রক্ত বের হয় তা খুব বেশি লাল হয়ে থাকে। যক্ষা রোগীদের রোগের শুরুতে যে জ্বর হয় তা সাধারণত বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে থাকে কিন্তু সকালের দিকে রোগীর গায়ে আর জ্বর থাকে না। কোন ব্যাক্তির কাশি যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহ বা তার বেশি সময় স্থায়ী হয় তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এ রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা গেলে সুষ্ঠু চিকিৎসার মাধ্যমে যক্ষা সম্পূর্ণ ভালো করা সম্ভব।

যক্ষা বা টিবি রোগীদের রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সাধারণত কফ পরীক্ষা করে থাকেন। কফের সাথে যক্ষার জীবানু পাওয়া গেলে তারা এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত হন। আক্রান্ত ব্যাক্তির হাচি, কাশি, কফ,  থুথু থেকে নির্গত জীবানু সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দেহে প্রবেশ করে যক্ষা ব্যাধিটি সংক্রমিত করে থাকে। এছাড়াও রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্রের দ্বারা যক্ষা সংক্রমিত হয়।

যক্ষা বা টিবি হলে এখন আর আতঙ্ক বা দুঃচিন্তার কোন কারণ নেই। বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে এর অনেক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীলা এ ব্যাধিটিকে সম্পূর্ণ হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছেন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এ রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। যক্ষার চিকিৎসা হয় বিভিন্ন মেয়াদে। ৬ মাস, ৯ মাস,  ১২ মাস এবং ১৮ মাস পর্যন্ত ও এর চিকিৎসা হয়। তবে অধিকাংশ যক্ষাই ৬ মাসের চিকিৎসাতেই সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। অন্য ব্যাধির চিকিৎসার তুলনায়। এ রোগের চিকিৎসা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে। তাই যক্ষা বা টিবি রোগীদেরক সুস্থ জীবনের জন্য ধৈর্য সহকারে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

 

ডাঃ এ কে এম মোস্তফা হোসেন

অধ্যাপক, রেসপিরেটরি মেডিসিন


  • 0

শিশুর বিকাশে পরিবারের করণীয়

Category : health tips bangla

শিশুর বিকাশে পরিবারের করণীয়

শিশু আর খেলার মাঝে রয়েছে এক নিবিড় সম্পর্ক। একজন শিশুর মনোগত গুণগুরো ও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলো সবচেয়ে নিবিড়ভাবে বিকশিত হয় খেলাভিত্তিক কাজকর্মে। অন্য ধরনের যেসব কাজ পরে নিজস্ব এক গুরুত্ব অর্জন করে, সেগুলোও গড়ে ওঠে শিশুর খেলার সময়ে, খেলা স্বতঃপ্রণোদিত মনোজগত প্রক্রিয়াগুলোর গঠনকে প্রভাবিত করে। খেলার মধ্যে, স্বতঃপ্রণোদিত মনোযোগ ও স্বতঃপ্রণোদিত স্মৃতিশক্তি বিকাশ লাভ করতে শুরু করে। বিশেষভাবে আয়োজিত পরিস্থিতির তুলনায় খেলার পরিস্থিতিতে শিশুরা আরো ভালোভাবে মনোনিবেশ করে এবং আরো বেশি স্মরণে রাখে। শিশুর পক্ষে একটা সচেতন  লক্ষ্য বেছে নেয়াটা খেলার মধ্যেই সবচেয়ে আগে ও সবচেয়ে সহজে হয়। একটা খেলার মধ্যেই সবচেয়ে আগে ও সবচেয়ে সহজে হয়। একটা খেলার শর্তগুলো দাবি করে  যে, খেলার পরিস্থিতির অর্ন্তুভুক্ত বস্তুগুলোর দিকে এবং তার সাথে জড়িত কাজ ও বিষয়বস্তুর দিকে শিশুকে মনোনিবেশ করতে হবে। কোন শিশু যদি মনোনিবেশ করতে না চায়, খেলার নিয়মগুলো যদি মনে না রাখে তাহলে অন্যরা তাকে খেলা থেকে বাদ দিয়ে দেয়। আদেশ প্রদান আর ভাবাবেগত উৎসাহের প্রয়োজনই শিশুকে বাধ্য করে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে মনোনিবেশ করতে এবং সবকিছু মনে রাখতে। খেলার পরিস্থিতি ও তার সাথে জড়িত কাজকর্ম শিশুদের মানসিক ক্রিয়ার বিকাশকে নিয়ত প্রভাবিত করে। খেলায় শিশু কাজ করতে শেখে একটি প্রতিকল্প বস্তু দিয়ে, যেটি হয়ে ওঠে চিন্তা করার মাধ্যমে। খেলার তুলনায় শেখার প্রতি প্রাপ্তবয়স্কদের যে আমূল ভিন্ন মনোভাব শিশুরও তার প্রতি ক্রমে ক্রমে মনোভাব বদলে যায়। সৃষ্টি হয় শেখার সম্ভাবনা এবং শেখার প্রারম্ভিক সামর্থ্য।

শিশুর বিকাশে পরিবারের করণীয়

শিশুর বিকাশে পরিবারের করণীয়

মানসিক বিকাশে শিশুর স্থান

শিশু যে অবস্থার মধ্যে বাস করে ও বিকাশ লাভ করে এবং তার চারপাশের লোকের তার প্রতি যে মনোভাব গ্রহণ করে, মনস্তত্বে তাকে ব্যাক্তিত্বের বিকাশের গর্ত বরে বিবেচনা করা হয়। পরিস্থিতি শিশুকে স্থাপন করে এক উন্নত সামাজিক কাঠামো বিশিষ্ট ও ক্রিয়াশীল জাতীয় ঐতিহ্যসম্পন্ন এক বিশেষ সামাজিক পরিবেশে, শিশুর সাথে সম্পর্কিতরূপে এই পরিবেশ সামাজিক সম্পর্ক ব্যবস্থায় তার স্থানের এক বাহ্যিক বিষয় হিসেবে প্রতিভাত হয় এবং ব্যাক্তিত্বের বিকাশে বিশেষতাগুলো নির্ধারণ করে। একজন লোক কোথায় বাস করে তা একটি বাহ্যিক বিষয় হতে পারে। অতি ছোট একটি গ্রাম,  বড় গ্রাম বা লাখ লাখ মানুষের একটি শহরের অধিবাসীরা তাদের অস্তিত্ব ও বিকাশের অবস্থার ছাপ বহন করে সামাজিক সম্পর্ক ব্যবস্থায় শিশুর স্থান নির্ণীত হয় স্ত্রী পুরুষ প্রভেদ দিয়েও। পুরুষ ও নারীর সামাজিক ভুমিকা শিশুর কাছে সামাজিক মান হিসেবে প্রতিভাত হয় এবং শিশু সাধারণত সেসব ভুমিকাই অধিকার করতে চেষ্টা করে যেগুলো তার সহজাত সত্তার সঙ্গে মিলে যায়। এই অভিমুখিতাই একজন পুরুষের বা নারীর ব্যক্তিগত গুণাবলি গঠন করে, প্রতিটি ব্যাক্তিকে ব্যাক্তিস্বাতন্ত্র্য প্রদান করে।

আদান প্রদান ও ক্রিয়াকর্মে শিশুর মনোগত বিকাশ

মানুষ হয়ে ওঠার অর্থ চারপাশের লোকজন ও বস্তুনিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত রূপে কাজ করতে শেখা এবং নিজেদের মানিয়ে নেয়া ঠিক সেভাবে যেটা মানুষের বৈশিষ্ট্যসূচক। আমরা যখন বলি যে প্রাপ্তবয়স্কদের নির্দেশণায় শিশুটি সামাজিক  অভিজ্ঞতা ও মানব সংস্কৃতি আয়ও করে, তখন আমরা বোঝাতে চাইছি ভাষার মারফত অন্য লোকের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার দক্ষতা আয়ত্ত করার দক্ষতা, সামাজিক প্রথা অনুযায়ী আচরণ করার দক্ষতা আয়ত্ত করার কথা।

এভাবে শিশুর চাহিদা আর আগ্রহ নিয়তই প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে সংযুক্ত। শিশুর সামর্থে্যর প্রসারসাপেক্ষে   এই সংযোগ নতুন নতুন রূপ লাভ করে। নতুন নতুন চলন চালন আয়ত্ত করায় তার সামর্থ্য বাড়ে এবং সেটা প্রধান কাজের নতুন নতুন রূপের আত্মপ্রকাশের একটা পুর্বশর্ত। কিন্তু নতুন চলন চালন আয়ত্ত হলেই নতুন ধরনের কাজ দেখা দেয়  না। একটি শিশুকে খেলনা দিয়ে বিশেষ বিশেষ গতিবিধির কাজ শেখানো যেতে পারে (পুতুলকে দোলানো, তাকে বিছানার শোয়ানো) কিন্তু তার চারপাশের প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের ব্যাপারটায় একটা আগ্রহ, প্রাপ্তবয়সস্কের ক্রিয়াগুলো করার তীব্র বাসনা যদি তার মধ্যে গড়ে না ওঠে, তাহলে এ সমস্ত কাজের ফলে ভূমিকা পালনের ক্রিয়াটি ঘটে না।

শিশুর আত্মস্বীকৃতির চাহিদা

সমাজে শিশু তার স্থান অধিকার করে নিতে চায়। তার মূল্যটা অন্যের কাছে কতটা, কতটা সে স্বীকৃত পেল, প্রশংসা পেল, তার ওপর নিজের মূল্যবোধ নির্ভর করে। শিশুর কাজের প্রশংসা তাকে মর্যাদা দেয় এবং নিন্দা করলে তাকে তুচ্ছ করা হয় বলে মনে করে। প্রশংসায় যে তৃপ্তি শিশু লাভ করে, তাই আত্মস্বীকৃতির চাহিদা মেটায়। অন্যের স্বীকৃতি তার সম্মানবোধ জাগ্রত করে এবং অন্যের নিন্দায় সে অমর্যাদা অনুভব করে। আত্মস্বীকৃতির বাস্তব উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুর মনে প্রেষণা জোগানো। এই প্রেষণার বশে আবার সে প্রতিযোগীতামূলক কার্য সম্পাদন করার প্রেরণা পায় এবং সেই কাজে তারই কৃতকার্যতার আনন্দ তাকে দেয় আত্মবিশ্বাস। পুণঃসংযোজিত আত্মবিশ্বাস তাকে নতুন কাজে নতুন ভাবে অনুপ্রাণিত করে। শিশু ভালো কাজ করলে, ভালোভাবে সুন্দরভাব পড়ালেখা ও পড়ালেখা সংক্রান্ত কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করলে যেমন প্রশংসা ও আত্মতৃপ্তি লাভ করে, অণ্যদিকে অনেক সময় নীতিগর্হিত শিক্ষাবিরোধী আচরণের দ্বারাও সে সমবয়সীদের চোখে নেতা বনে যায়। সেও এক ধরনের স্বীকৃতি লাভ।

আধুনিক যুগে শ্রেণীকক্ষে যারা অপরাধমূলক কাজ করে তারা কিছু ছাত্র ছাত্রীর কাছে এমন বাহবা পায় যে, অনেক সময় তারা ভালো ছেলেদের চেয়েও অধিক স্বীকৃতি লাভে সমর্থ হয়। এটা স্বীকৃতি লাভের একটা ত্রুটিও বলা যায়। আবার কিছু কিছু দুর্বলভাবাপন্ন ছেলে আছে যারা অন্যদের সাথে কথায়, পড়ালেখায় বা গায়ের জোরে  এটে উঠতে পারে না।

শিক্ষার মুদ্রাদোষ অবহেলা করবেন না

মুদ্রাদোষজনিত আচরণ বাল্যকাল ও কৈশোরকালের মানসিক চাপের লক্ষণযুক্ত আচরণের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি দেখা যায়। হাতে, মুখে মাথায় বা ঘাড়ে, গলার পেশিতে সাধারণত মুদ্রাদোষজনিত পেশি সঞ্চালণ দেখা যায়। এই বেশি সঞ্চালন সম্পর্কে শিশুর কখনো জ্ঞান থাকে না। অজ্ঞাতভাবেই এই সঞ্চালন ঘটে থাকে। মুদ্রাদোষের পর্যায়ে পড়ে-

  • নাক কোচকানো
  • ক্ষণে ক্ষণে হাই তোলা।
  • ঘাড় বাকানো
  • মাথা নাড়ানো
  • হাত পা দোলানো ইত্যাদি

মুদ্রাদোষের কারণ অবদমিত চাহিদার অতৃপ্তি অথবা অবদমিত অন্তর্দ্বন্ধ্ব। মুদ্রাদোষের স্বরূপ থেকে অনেক সময় অন্তনির্হিত দ্বন্ধের স্বরূপ জানা যায়। কখনো কখনো এমন মুদ্রাদোষও দেখা যায়, যা প্রত্যেক্ষ করলে মনে হবে ব্যক্তি বুঝি কোনো মানুষের প্রতি আক্রমণাত্বক ভাবভঙ্গি প্রকাশ করেছে। মুদ্রাদোষের মতো অস্থির বিচরণের এ সমস্যা মা বাবার কঠোর শিক্ষাদানে পদ্ধতির কুফল হিসেবে দেখা দেয়। অনেক শিশুকে দেখা যায় যে, স্থিরভাবে এক জায়গায় বসতে পারে না, কেবল ইতস্তত ঘুরে বেড়ায়। মা বাবার কঠোর শাসন পীড়নের হাত থেকে বাচার জন্য যে ইতস্তত নড়াচড়াগুলো তাকে সম্পাদন করতে হয়েছে, অভ্যাসগত অস্থিরতা ও চঞ্চলতা তারই পুনরাবৃত্তি মাত্র। শিশুর মাঝে কোনো ধরনের মুদ্রাদোষ দেখা দিলে অবিলম্বে মনোবিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

 

অধ্যাপক ডা. এএইচ মোহাম্মদ ফিরোজ

পরিচালকঃ মনোজগত সেন্টার, রোড নং-৪, বাড়ি নং-৫, ধানমন্ডি, ঢাকা।

অধ্যাপক, সাইকিয়াট্রিঃ রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স


  • 0

বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা

Category : health tips bangla

বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা

ইয়ামিন রেজা অত্যন্ত মায়াবী চেহারার একজন মহিলা। যেমন মায়াবী  চেহারা তেমন সুরুচিসম্পন্ন। প্রথম দৃষ্টিতেই নজর কাড়ে। ম্যাচ করে শাড়ি ব্লাউজ, কপালে ছোট একটা টিপ, কথা বলার ভঙ্গিটাও সুন্দর। ইয়ামিনকে আপাত দৃষ্টিতে হাশিখুশি মনে হলেও তার অন্তরে একটি গোপন ব্যথা, যে ব্যথা উপশমের জন্য তিনি আমার কাছে এসেছেন। তার বিবাহিত জীবন ১৫ বছর্ কিন্তু তিনি মা হতে  পারছেন না। ঢাকার নামী দামী সব চিকিৎসকরে দ্বারে দ্বারে ঘুরে  এমনকি ভারত ও সিঙ্গাপুরে পযন্ত গেছেন ইয়ামিন ও তার স্বামী রেজা সাহেব। কোন ফল না হওয়া শেষ পর্যন্ত আমার চেম্বারে এসেছেন দু জনই। সঙ্গে  একগাদা প্রেসক্রিপশন ও পরীক্ষা  নিরীক্ষার কাগজপত্র। একটি সন্তানের মুখ দেখার জন্য দু জনই মরিয়া। বড় আশা করে এসেছেন। ইয়ামিনের স্বামী একজন ব্যবসায়ী। টাকা পয়সার অভাব নেই। অভাব শুধু তুল তুলে মুখের ফুট ফুটে একটি বাচ্চায়।

ইয়ামিনের বয়স ৩৭ বছর। প্রায় শেষের দিকে এসেছেন আমার কাছে। বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। আদ্যপ্রান্ত হিস্ট্রি নিয়ে দেখলাম রেজা সাহেবের সব ঠিক আছে। ইয়ামিনের পিসিও বা পলিসিসটিক ওভারিয়ান মিনডোর ডিম্বাকোষের ওপর একটি মোটা আবরণ আছে যা ডিম্বুস্ফুটনে বাধা সৃষ্টি করে অর্থ্যাৎ ইয়ামিনের ডিম্বাফুটন হয় না। আমি তাদের আশ্বসত্ করলাম ধৈর্য ধরতে হবে এবং চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। এক বছর চিকিৎসার পর ইয়ামিনের কোল  আলো করে ফুট ফুটে ছেলে শিশু জন্ম নিল। স্বামী স্ত্রী দু জনই আনন্দে আত্মহারা। আমিও খুশি। পরম করুণাময়ের কাছে শুকরানা আদায় করলাম। এমনি আরও ঘটনা আছে যার সাফল্যে আমি দু হাত তুলে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রকৃতপক্ষে আমার এবং যে কোন চিকিৎসকের সাফল্যেল মালিক আল্লাহ। আমি একটি উপলক্ষ মাত্র।

 

অধ্যাপিকা ডাঃ সুলতানা জাহান

ধানমন্ডি, সড়ক ৮/এ

বাড়ি-৮১,  ঢাকা।


  • 0

ধুমপান মানুষকে বধ করে

Category : health tips bangla

ধুমপান মানুষকে বধ করে

তামাকের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা আমরা অনেক সময় পুরোপুরি বিশ্বাস করতে চাই না। কিন্তু আমরা যাই ভাবি না কেন বিভিন্ন সুত্র কিন্তু পরিষ্কারভাবে জানায় যে, তামাক ব্যবহারকারীদরে অবস্থা ভালো নয়। এদের মধ্যে মৃত্যু হার তামাক যারা ব্যবহার করনে না তাদের থেকে দু থেকে তিন গুণ বেশি। অন্যভাবে বলতে গেলে বলা যায় যে, যারা তামাক ব্যবহারজনিত ক্ষতির কারণে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য হন। সারা বিশ্বের হিসেবে এই সংখ্যাটা বিরাট। বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৭০- ৮০ শতাংশ।

ধুমপান মানুষকে বধ করে

ধুমপান মানুষকে বধ করে

বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিগত ৩/৪ দশক ধরে তামাকের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি  এসব দেশগুলোতে তামাক ব্যবহারের কুফলও ফুটে উঠেছে। চীনের মতো দেশও এই সমস্যায় ভুগছে। যদিও তামাকের বিপক্ষে জোরদার প্রচার চলছে তবুও উন্নত দেশগুলোও তামাকের সমস্যায় জর্জরিত। যখন কোনো অধুমাপায়ী শিশু বা ব্যক্তির কাছে বসে ধুমপান করেন তখন ওই অধুমপায়ী মানুষটির শরীরের তামাকের ধোয়া প্রবেশ করে। আর এভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েন। এভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়াকে পরিবেশগত ধুমপান বলা হয়। ধুমপায়ী তামাকের ধোয়া পরিবেশ ছেড়ে দেন, আর তা অধুমপায়ী স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেবার সময় নিজের ভেতরে টেনে নেয়। এইভাবে পরোক্ষ অধুমাপায়ী ব্যক্তি তামাকের ধোয়া নিজের ভেতরে টেনে নেন বলে একে পরোক্ষ ধুমপানও বলে। পরোক্ষ ধুমপানে শিশুরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। শিশুদের শ্বাসের রোগ বেড়ে যায়। অ্যাজমা, শ্বাসনালীর প্রদাহ, কফ কাশি, কানের নানা রোগ ইত্যাদি বহুলাংশে বেড়ে যায়। আবার পরোক্ষ ধুমপানে ফুসফুরের ক্যানসারের সম্ভাবনাও ২০-৩০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। তামাকের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য তামাকের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সচেতন করে তুলতে হবে। এ বছল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি বিশেষ সনদ সামানে নিয়ে  এসেছেন। এখন পর্যন্ত অনেক। দেশই এই সনদকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই সনদটি সমাজের সকল স্তরের মানুষের স্বার্থে বানানো হয়েছে। এই সনদটি সবাইকে তামাকের কুফল থেকে রক্ষা করার জন্য, আইনগত সাহায্যও দেবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশা করে এই সনদে স্বাক্ষরকারী দেশসমূহ সনদের উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য নান প্রকল্প গ্রহণ করবে ও নিজেদের মধ্যে নানা আলোচনাচক্রের আয়োজন করে এই সনদকে সাফল্যমন্ডিত করে তুলবে। এই সনদের মূল বক্তব্য এখানে তুলে ধরা হল-

বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্প হতে তামাকের উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর অন্তনির্হিত শক্তিক প্রতিহত করা। তামাকের চাহিদা কমানোর জন্য এর উপর যথেষ্ট পরিমাণ কর বাড়িয়ে দেয়া। মানব সমাজকে তামাকের ধোঁয়ার ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করা। তামাকজাত পণ্যে বিভিন্ন সামগ্রীর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা। তামাকজাত পণ্যে কী কী আছে তা খেয়াল করা। তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের এবং এর লাগানো মোড়কের নিয়ন্ত্রণ করা। তামাকের কুফল সম্বন্ধে জনগনকে অবহিত করা। তামাকজাত পণে্যর বিজ্ঞাপন, উন্নয়ন ও এসব থেকে বিভিন্ন কাজে অর্থ সংগ্রহ বন্ধ করা। মানুষের তামাকের নেশা বন্ধ করতে সাহায্য করা। তামাকের বেআইনি ব্যবসা বন্ধ করা। কম বয়সীদের কাছে তামাকের বিক্রি বন্ধ করা। তামাক চাষিদের তামাকের বদলে অন্য লাভজনক কিছু চাষে উৎসাহিত করা। মানুষের মৃত্যুর প্রতিরোধযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে প্রথমেই আসে তামাকের নাম। নানা সুত্র বলে যে, এ বছর কম করেও ৫ মিলিয়ন লোক তামাক ব্যবহারজনিত নানা রোগ যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ফুসফুসের রোগ ইত্যাদিতে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ২১ শতকে তামাক ব্যবহারের জন্য ১ বিলিয়ন লোকের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। তামাকের ব্যবহার এখন সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করেছে।

তাই  এই মহামারীর হাত থেকে বাচতে হলে চাই গণআন্দোলন। সবাই মিলে এই গনআন্দোলন ঝাপিয়ে পড়লে তবেই মুক্তির আশা রয়েছে।

 

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক কলামিষ্ট


  • 0

স্তন টিউমার ও ক্যান্সারে হোমিও

Category : health tips bangla

স্তন টিউমার ও ক্যান্সারে হোমিও

সাম্প্রতিকালে সারা পৃথিবীর সঙ্গে বাংলাদেশেও স্তন ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। ভারত উপমহাদেশে প্রতি বছর ৮০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, ব্রেষ্ট ক্যান্সার শুধু মহিলাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, পুরুষরাও এই রোগে আক্রান্ত হন, যদিও এই সংখ্যা মহিলাদের চেয়ে নিতান্তই কম।

স্তন টিউমার ও ক্যান্সারে হোমিও

স্তন টিউমার ও ক্যান্সারে হোমিও

সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করতে পারলে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারকে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ আয়ত্তের মধ্যে আনা যায়। সাধারণত এ রোগ চল্লিশোর্ধ মহিলাদের সমস্যা। যদিও ভারত উপমহাদেশে ত্রিশের ঘরের মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিঃসন্তান মহিলা বা যে মহিলারা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াননি বা খাওয়াতে পারেননি তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণের তুলনায় বেশি। একথা এখন সর্বজন স্বীকৃত যে, ব্রেষ্ট ক্যান্সারের একটা জেনেটিক ভিত্তি আছে। পরিবারের কোন মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তাদের মা, বোন অথবা মেয়ের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২২%- ৩৩% বেড়ে যায়। এখনও পর্যন্ত ৮টি ব্রেষ্ট ক্যান্সার জিন আবিষ্কৃত হয়েছে- এদের মধ্যে BRCA-1, & BRCA-2 ই উল্লেখযোগ্য।

লক্ষণঃ স্তন ক্যান্সারের রোগী সাধারণত বুকে চাকা অনুভব করেন। অনেক ক্ষেত্রে নিপল থেকে লাল রঙ্গের রস অথবা রক্ত জাতীয় ক্ষরণ নিয়েও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হনে কেই কেউ । যারা এই উপসর্গগুলো উপেক্ষা করেন বা ভয়ে, লজ্জায় চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না, তাদের ক্ষেত্রে বগলের তলায় চাকা অথবা স্তনের ওপর চামড়ার কোচকানো ভাব বা ঘা নিয়ে উপস্থিত হওয়া খুব স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে বুঝে নিতে হয় যে রোগটা অনেক দূর এগিয়েছে, একথা অনস্বীকার্য যে, প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে ৮০% রোগীকে চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব। আর প্রথামিক অবস্থায় ধরা পড়ার জন্য রোগীকে নিজের শরীর নিজেকেই পরীক্ষা করে দেখতে হবে। একমাত্র এই পদ্ধতিতেই দেখা গেছে যে স্তনের ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা যায় এবং রোগীর চিকিৎসা ফলও যথেষ্ট আশানুরূপ হয়। চল্লিশোর্ধ্ধ মহিলা, বিশেষঃ যাদের পরিবারের স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী আছেন, তাদের উচিত নিয়মিত Mammogram করানো। যার ফলে ব্রেষ্টে চাকা হওয়ার অনেক আগেই ক্যান্সার নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করা যায়। বলা বাহুল্য এ সমস্ত ক্ষেত্রে চিকিৎসা জন্য অনেক ভাল হয়। নিজেকে পরীক্ষা করার আগে যেটা মনে রাখতে হবে ঋতুচক্রের বিভিন্ন সময়ে স্তনের গঠন ও অনূভূতি বিভিন্ন রকমের হয়। যাদের ঋতুচক্র নিয়মিত তাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের কয়েকদিন আগে বুকের বিভিন্ন অংশের বিশেষ করে বগলর কাছে সামান্য ফোলা ও ব্যথা অনূভূত হয়। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

কখন নিজেকে পরীক্ষা করবেনঃ

মাসে একবার ঋতুস্রাবের এক সপ্তাহ পরে, সাধারণত গোছল করার সময় বা জামাকাপড় পরার সময় এই পরীক্ষা করা বাঞ্চনীয়।

কিভাবে নিজেকে পরীক্ষা করবেন ?

১। আয়নার সামনে দুপাশে হাত রেখে দাড়ান। দু দিকের স্তনের মধ্যে কোনও অসামঞ্জস্য আছে কিনা লক্ষ্য করুন ?

২। হাতের চেটো দিয়ে প্রথমে এক দিকের স্তন ও পরে অন্য দিকের স্তন পরীক্ষা করুন। কোন প্রকার চাকা বা ফোলা আছে কিনা লক্ষ্য করুন।

৩। এবার দেখুন নিপল এর কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা। যদি দেখা যায় নিপল ভেতরে দিকে ঢুকে যাচ্ছে অথবা যদি নিপল এর পাশে কোন ঘা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাহলে সত্তর চিকিৎসকর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। নিপল থেকে কোন প্রকার “ডিসচার্জ” লক্ষ্য করলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যেহেতু সহজেই স্তনে চাকা অনুভব করা যায়, তাই শরীরের অন্যান্য অংশের ক্যান্সারর তুলনায় ব্রেষ্ট ক্যান্সারের চিকিৎসার ফল আশাপ্রদ। হোমিও প্যাথিক চিকিৎসায় ব্রেষ্ট টিউমার ও ব্রেষ্ট ক্যন্সারের চিকিৎসা সম্ভব। যদি লক্ষণ সাদৃশ্য সঠিক ওষুধ নির্বাচন করা হয় তবে সহজে আরোগ্য সম্ভব। রোগীর শারিরিক ও মানসিক অবস্থা, রোগের কারণ, দুঃখ কষ্ট, মানসিক চাপ বিবেচনা করের ওষুধ দিলে আরোগ্য সহজতর হয়্ ব্রেষ্ট ক্যান্সার এবং ব্রেষ্ট টিউমার চিকিৎসায় সাধারণত কনিয়াম, পাইটোলক্কা, সিপিয়া, পালস ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

 

ডা. সৈয়দ জাহেদুল আলম

১,১ পূর্ব তেজতুরী বাজার।

 


  • 0

মাদক পরিহার করুন

Category : health tips bangla

মাদক পরিহার করুন

মাদকাসক্তি একটি সামাজিক ব্যাধি,  এটি সর্বগ্রাসা মরণ নেশা। এ নেশার কারণে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। মাদকের  নীল দংশনে তরুন সমাজ আজ বিপন্ন । মাদকের নীল দংশনে তরুন সমাজ আজ বিপন্ন। এর বিষবাষ্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের দেশের প্রতিটি অঞ্চলে। মাদকের বিষাক্ত ছোবল গ্রাস করে চলেছে নতুন প্রজন্মকে। ফলশ্রুতিতে এর বিষাক্ত কামড়ে অকালে ঝরে পড়ছে বহু তাজা প্রাণ। শূণ্য হচ্ছে অনেক মায়ের বুক। সে সন্তানহারা মা বাবার আহাজারিতে দিন দিন ভারী হচ্ছে বাতাস। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোতে এখন শুধু শোকের মাতম। কারা সৃষ্টি করছে এমন দুর্বিসহ পরিস্থিতি ? কারা ছড়িয়ে দিচ্ছে এ ভয়ানক আতংক, কারা কেড়ে নিচ্ছে মায়ের বুক থেকে তার প্রিয় সন্তানকে, দায়ী কারা ? আজ আমরা এমনই এক বৈরি পরিবেশে এবং কঠিন সময়ের মুখোমুখি।

মাদক পরিহার করুন

মাদক পরিহার করুন

এখন প্রশ্ন হচ্ছে মাদক কি ? হিরোইন, কোকেন, সিডাকসিন, ইনোকট্রিন, মারফিন, টেট্রাহাইড্রো, ক্যানাবিনল, মথাডন, বিয়ার, কেনা বিসরোসিন, এ্যাবসলিউট এ্যালকোহল, ভেষজ কেনাবিস, গাঁজা, দেশি বিদেশী মদ প্রভৃতি। বর্তমানে ফেনসিডিলিই ব্যবহার হচ্ছে সর্বত্র। এর পরিণাম যে কি হবে তা নিয়ে ভাবলে শরীরে শিহরণ জাগে।

মাদক ব্যবহারে শরীর স্বল্প মেয়াদী প্রতিক্রিয়াঃ মাদক রক্তচাপ কমায় এবং শ্বাস প্রশ্বাসের মাত্রা হ্রাস করে। ক্ষুধা ও যৌন অনুভূতি দ্রুত হ্রাস পায়। মতি বিভ্রম ঘটে এবং তার মধ্যে সতন্ত্রভাব দেখা যায়। শ্বাস প্রশ্বাস ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়। মাদকসেবী ক্রমে ক্রমে নিস্তেজ এবং অবসন্ন হয়ে যায়। হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পেলে রক্তচাপও বৃদ্ধি পায়। চলাফেরার অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। স্মৃতি শক্তি ও মনোযোগের ক্ষমতা সাময়িক হ্রাস পায়্। তাই যে কোন  মূহূর্তে জীবন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। চোখ লালচে হয় এবং মুখ শুকিয়ে যায়। উগ্র মেজাজ, নিদ্রাহীনতা ও রাগান্বিতভাব দেখা যায়। চামড়ায় ফুসকুড়ি, বমি বমিভাব এবং নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অধিকমাত্রায় মাদকসেবী মাতালের আচরণ করে এবং হঠ্যাৎ ঘুমিয়ে পড়ে।

মাদক ব্যবহারে শরীরে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়াঃ স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে। এছাড়া মস্তিস্কে কোষের ক্ষয়প্রাপ্তি ঘটতে পারে। স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা জ্ঞান লোপ পায়। জীবনের সব বিষয়ে নিরাসক্ত হয়ে পড়ে। কোন কোন মাদকদ্রব্য আসক্ত ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। মাদকাসক্ত মেয়েদের গর্ভের সন্তানের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে এবং সন্তানও মাদকাসক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মাদক ব্যবহারে অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ক্ষতিঃ শ্বাস প্রণালীতে ক্ষতি- খুসখুসে কাশি থেকে যক্ষা, ব্রঙ্ককাইটিস, নিউমোনিয়া, ক্যান্সার, শ্বাস প্রশ্বাস ক্ষীন হওয়া। চোখের ক্ষতি চোখের মণি সঙ্কুচিত হওয়া, দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। লিভারের ক্ষতি- জন্ডিস, হেপাটাইটিস, সিরোসিস ও ক্যান্সার। কিডনির ক্ষতি- কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, ঘন ঘন সংক্রমণ হওয়া, পরিশেষে কিডনি অকার্যকর হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি। হৃদযন্ত্র ও রক্ত প্রনালীতে ক্ষতি- হৃদস্পন্দন  অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্র বড় হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া। রক্ত কনিকার সংখ্যায় পরিবর্তন, রোগ প্রতিরোধ  ক্ষমতা কমে যাওয়া, রক্তস্বল্পতা ইত্যাদি।

মাদকসেবীদরে চিহ্নিত করার উপায়ঃ

মাদকসেবীদের চিহ্নিত করার স্বাভাবিক লক্ষনগুলো হলো- চোখে সাধারণ আকৃতির চেয়ে  বড় করে তাকানো। হঠ্যাৎ স্বাস্থ্যহানী বা আকস্মিক স্বাস্থ্যবান হয়ে যাওয়া। চোখ ও মুখ ফোলা এবং চোখ লালচে হওয়া। সামান্য বিষয়ে অতিরিক্ত রেগে যাওয়া। অধিক রাত করে ঘুমানো এবং বিলম্বে ঘুম থেকে উঠা। একাকি অন্ধকার নির্জন রুমে সময় কাটানো। উদাসী উদাসীভাব এবং সবকিছুতে ভুল করা। নিকটাত্মীয় এবং পরিবার  পরিজনদের সাহচর্য এড়িয়ে চলা।

পারিবারিক কর্তব্যঃ পারিবারিকভাবে মাদক বা ড্রাগসেবীদের চিহ্নিত করতে পারলে, তাদের উচিৎ কাজ হলো- মাদকে আসক্তির মূল কারণ খুজে বের করা। প্রেমঘটিত কোন কারণ হলে এর সুস্থ সুন্দর সমাধান দেওয়া। মানসিক পারিবারিক চাপ প্রয়োগ না করে তাকে ভালবাসা ও স্নেহের বন্ধনে আরো নৈকট্যে নিয়ে আসা। পরিবারের কেউ অন্তত তার খুব কাছাকাছি হওয়া এবং বন্ধুত্বের সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়া। সর্বোপরি তাকে বুঝিয়ে মাদক সেবন থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করা।

 

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক ও কলামিষ্ট


  • 0

ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতির আগামীর আশ্বাস

Category : health tips bangla

ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতির আগামীর আশ্বাস

 

বাংলাদেশে ভিটামিন ‘এ’ স্বল্পতা জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম সমস্যা এবং সেইসাথে এটি শিশুর প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব, শিশুরোগ ও শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ। ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি শিশু ও গ্রামীণ নারীদের (বিশেষভাবে গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধদানকারী মা) মধ্যে ভীষণভাবে প্রকট।

ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতির আগামীর আশ্বাস

ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতির আগামীর আশ্বাস

ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়্ হাম, ম্যালেরিয়া, এইডস রোগের জটিলতা বাড়ে, শিশুরেদ শারীরিক বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। নারী ও শিশুদের রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। এছাড়া গর্ভকালীন সময়ে মৃত্যুঝুকি ও বিষণ্নতা বাড়ে ও কার্যক্ষমাত কমে যায়। যেকোনো খাদ্যদ্রব্যের সাথে এক বা একাধিক অনুপুষ্টি (ভিটামিন ও/ বা খনিজ) নির্র্দিষ্ট পরিমানে মাধ্যমে খাদ্যটির গুণগত পুষ্টিমান বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ফুড সমৃদ্ধকারণ বলে। ফুড সমৃদ্ধকরণ দেশের জনগোষ্ঠীর অনুপুষ্টি অভাবজনিত সমস্যা দুরীকরণ এবং প্রতিরোধের একটি অন্যতম উপায়। বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ জনগন দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করার কারণে শুধু খাবারের মাধ্যমে তাদের পক্ষে শরীরের জন্য প্রতিদিনের প্রয়োজনয়ি পুষ্টিপূরণ সম্ভব নয়। এর চিকিৎসা করাও তাদের পক্ষে ব্যয়সাধ্য এবং কষ্টসাধ্য। দশের সকল জনগনের পুষ্টিহীনতাজনিত রোগ ব্যাধিতে দূর করতে এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব পূরণ করার জন্যই ফুড সমৃদ্ধকরণের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। যেকোনো রান্নায় খাবার তেল কম বেশি সবাই ব্যবহার করে বলে সব খাদ্যের সাথেই পুষ্টিমান ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়। অন্যদিকে ভিটামিন এ তেলে সহজে মিশে যায় এবং এতে গুণগতমানও হারায় না। ক্রেতা বা ভোক্তাকে আলাদাভাবে কিছু কেনার ঝক্কি পোহাতে হয় না। তাই আমাদের দেশে অতি দ্রুত এবং সকল পর্যায়ে পুষ্টিমান পৌছানোর ক্ষেত্রে খাবার তেল সমৃদ্ধকরণ সবচেয়ে উপযোগী।

বিভিন্ন দেশে এ পর্যন্ত তেল, ময়দা, সুজি, চিনি, মার্জারিন, সয় সস, সিরিয়াল, দুধ, লবণ প্রভৃত্তি খাবারকে সমৃদ্ধকরণ করা হয়েছে। এ ধরনের খাবারগুলো প্যাকেটজাত হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাউথ আফ্রিকায় প্রধান খাদ্য রুটি ও ময়দার সাথে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ করে সেখানকার শিশুমৃত্যু, জন্মগতত্রুটি, অন্ধত্ব ইত্যাদি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। কানাডা, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, নাইজেরিয়া, জাম্বিয়া, সৌদি আরবসহ পৃথিবীর বহু উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে ফুড সমৃদ্ধকরণ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইদানিং ভারত ও ফিলিপাইনেও খাদ্যে সমৃদ্ধকরণ চলছে।

খাবার অল্প আচে রান্না করাই স্বাস্থ্যকর। গরম তেলে ভিটামিন ‘এ’ যুক্ত ভোজ্য তেলের গুণাগুণ নষ্ট হয় না। ভিটামিন ‘এ’ শরীরের জন্য উপকারী ও সহজপাচ্য। তাই ফর্টিফাইড তেলের রান্না খেলে পেট ভালো থাকবে। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায়  এ পর্যন্ত ভিটামিন মিশ্রিত তেলের ব্যবহারজনিত কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় নি। তেলের সাথে মিশ্রিত ভিটামিন ও খনিজ যথাযথ মান নিয়ন্ত্রনেরে মাধ্যমে খুব নিরাপদ মাত্রা বজায় রেখে তৈরি করা হয়। ভিটামিন ব্যবহারের  একটি স্বীকৃত মাত্রা রয়েছে যার অনুমোদিত মাত্রা মোট গ্রহণ করা খাবারের সর্বোচ্চ শতকরা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত।

অনেকেই মনে করতে পারেন, সমৃদ্ধ করার কারণে তেলের বাজারমূল্যে কোনো প্রভাব পড়বে কি না। এতে তেলের বাজারমূল্য তেমন তারতম্য ঘটবে না। কারণ প্রতি লিটার খাবার তেলে ২২ পয়াস বাড়তে পারে যা প্রতি ৫ লিটার তেলের বোতলের ক্ষেত্রে ১ টাকার সমপরিমাণ মাত্র। উল্লেখ্য, ভিটামিন ‘এ’ এর ঘাটতিজনিত সকল স্বাস্থ্যগত সমস্যা দুর করার উদ্দেশ্য ইউনিসেফ এর কারিগরি ও গেইন এর আর্থিক সহায়তায় এবং শিল্প মন্ত্রনালয় ২০১০ সালে ভোজ্যতেলের সাথে ভিটামিন ‘এ’ মিশ্রণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পৃষ্টপোষকতায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফ এর যৌথ উদ্যোগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি, ‘ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ’ শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্টানে শিল্পি মন্ত্রী, দিলিপ বড়ুয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দেশের অভাবগ্রস্থ ও অজ্ঞ জনগনকে সচেতন করতেই জাতীয়ভাবে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশে জেলা পর্যায়ে মোট নয়টি ভিটামিন ‘এ’ যুক্ত ভোজ্যতেল’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ক্রেতা হিসাবে সব সময়ই অসাধু চক্রের প্রতারণা সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশেও একটি লোগে তৈরি করা হয়েছে যাতে সবাই খুব সহজে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ তেল কিনতে পারে। উদ্বোধনী অনুষ্টানে শিল্প মন্ত্রী, দিলিপ বড়ুয়া, লোগোটির শুভ উদ্বোধন করেন।

সবশেষে, ভিটামিন ‘এ’ মিশ্রিত তেল ব্যবহারের ফলে সবল ও উদ্যমী জাতি গড়ে উঠবে। শিশুর মৃত্যুর হার কমবে এবং শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যর উচ্চ পর্যায়ে বৃদ্ধি হবে।