অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ

  • 0

অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ

 

অনাকাঙ্খিত গর্ভধারন আমাদের দেশে বহুল পরিমাণে বিদ্যামান। কোন মা চান না তার সন্তানের জন্মকে মেনে নিতে ? সন্তানকে জানানো সব মায়ের জন্য অত্যান্ত কাঙ্খিত ঘটনা। কিন্তু অপরিকল্পিত চিন্তার কারণে মা সন্তান ধারণ করতে পারেন।

কেস হিস্ট্রি-১ঃ পারুলের বষয় ১৬ বছর। মাত্র ২ মাস হয়েছে তার বিয়ে হয়েছে। সে এখন গর্ভবতী। তাই সে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছে। কারণ সে এবং তার স্বামী দু জনের কেউই এত তাড়াতাড়ি বাচ্চা আসুক  এটা চায়নি।

অল্প বয়সে অর্থ্যাৎ ১৮ বছর পূণ হওয়ার আগে মা হলে মা ও শিশু উভয়ের জন্যই তা বিপজ্জনক। এ সময় সন্তান নিলে সন্তান মায়ের শরীর থেকে সঠিক পুষ্টি পায় না, ফলে মা ও শিশু দুজনই অপুষ্টির শিকার হয়।

কেস হিস্ট্রি- ২: রিনার বয়স ২২ বছর। কোলে ১১ মাসের একটি ছেলে। শরীর স্বাস্থ্য তেমন একটা ভালো নয়। এরই মধ্যে আবার পেটে বাচ্চা  এসে যাওয়ায় সে খুব হতাশাগ্রস্থ।

দু সন্তানের জন্মের মধ্যে ব্যবধান ৩ বছরের বেশি হলে শিশুমৃত্যুর ঝুকি প্রায় ৫০ ভাগ কমে যায়।

প্রিয় পাঠক পাঠিকাবৃন্দ, আমাদের  দেশে পারুল এবং রিনার মতো অনেকে অনাকাঙ্খিত গর্ভধারনের শিকার। সমাধান খুজতে এরা অনেকেই নিকটস্থ ফার্মেসি বা হাতুড়ে ডাক্তারের শরনাপন্ন হন। আর এই দুর্বলতার সুযোগে উল্লেখিত ব্যাক্তিরা চড়া দাম রেখে বিভিন্ন  বড়ি বা সিরাপ দিয়ে থাকেন। যা কিনা বিজ্ঞানসম্মত নয়। আবার অনেক অদক্ষ কর্মীর দ্বারা এমআর করিয়ে থাকেন। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এছাড়া বিয়ের পর প্রথমবার গর্ভধারণ করলে সেই মহিলার কোনভাবেই এমআর করা উচিত নয়। কেননা এতে মহিলা বন্ধা হয়ে যেতে পারে। তাই অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ রোধ করতে জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে দম্পত্তিদের সম্যক জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিদ্যমান পদ্ধতিগুলো হলো-

১. নিরাপদকাল বা রিদম মেথডঃ নারী তার মাসিক চক্রের মধ্যবর্তী কেনা এক সময় কম উর্বর থাকে। এই কম উর্বর সময় কালকে নিরাপদকাল ধরা হয়। তবে এই নিরাপদকাল সব মহিলার জন্য নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়। কারন যাদের মাসিক অনিয়মিত তারা যে কোন সময় গর্ভবতী হয়ে পড়তে পারেন।

২. প্রত্যাহারঃ পৃথিবীর সর্বত্র এ পদ্ধতি প্রচলিত। স্ত্রী সঙ্গমের চরম মূহূর্তে স্ত্রী সঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসাকে  প্রত্যাহার বলা হয়। এ পদ্ধতিও খুব নিরাপদ নয়, কারণ পুরুষের বির্যপাতের পূর্বে যে রসক্ষরিত হয় তাতে শুক্রকীট থাকে। ফলে স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়তে পারেন।

৩. কনডম ও বড়িঃ  নববিবাহিত স্বামী স্ত্রী যারা ২-৩ বছর দেরি করে বাচ্চা নিতে চান তারা এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো স্বল্পমেয়াদে জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। সঠিকভাবে গ্রহণ করা হলে কনডম ও বড়ির কার্যকারিতা হার যথাক্রমে শতকরা ৬৪-৯৭ ভাগ এবং ৯৭- ৯৯.৯ ভাগ।

৪. ইনজেকশ, আইইউডি, নরপ্ল্যান্টঃ যাদের কমপক্ষে একটি জীবিত সন্তান আছে এবং প্রথম সন্তান হওয়ার পরে ৩-৪ বছর পর্যন্ত বাচ্চা নিতে চান না তারা এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। ইনজেকশনের মেয়াদ ৩ মাস বা ৯০ দিন। এটিও স্বল্পমেয়াদে জন্ম বিরতিকরণ পদ্ধতি। ইনজেশনের শতকরা ৯৯.৭ ভাগ কার্যকরী। নরপ্ল্যান্টর কার্যকরী হার ৫ বছর এবং আইইউডির কার্যকারিতার মেয়াদ ১০ বছর। এই দুটি দীর্ঘমেয়াদী জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। এছাড়া জরুরি গর্ভনিরোধের জন্য এক ধরনের বড়ি রয়েছে। তবে এগুলো নিয়মিত ব্যবহারে জন্য নয়।

 

ডা. গৌতম কুমার দাস

ফরিদপুর