বিনা রক্তপাতে কিডনিতে পাথর তাড়ান

  • 0

বিনা রক্তপাতে কিডনিতে পাথর তাড়ান

বিনা রক্তপাতে কিডনি স্টোন তাড়ান

 

কিডনির পাথির বের করাটা একালের ডাক্তারবাবুদের কাছে জলভাত। কিডনি স্টোনের  সাম্প্রতিকতম চিকিৎস এবং এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সহজ উপায় সম্পর্কে জানাচ্ছেন অক্সফোর্ড স্টোন ক্লিনিকের ইউরোসার্জন।

 

ডাঃ অমিত ঘোষ

শল্য চিকিৎসা ছাড়াই কিডনিতে পাথরের চিকিৎসা

 

কোমরের ব্যথায বেশ কিছু দিন ভুগছিল বরিন। বাড়ির লোক আর নিকট বন্ধুরা বলছিল ওর ওই গাবদা-গোবদা চেহারাই নাকি কোমরে ব্যথার প্রধান কারণ। সকলেই সুযোগ পেয়ে বাড়তি ওজনের খোঁটা দিচ্ছিল। অজস্র পেনকিলার খেয়েও যখন ব্যথার তীব্রতা কমছিল না, তখনই ডাক্তারবাবু এক্সরে করাতে বললেন। আর এর পরই ধরা পড়ল আসল রোগটা । রবিনের কোমর ব্যথার কারণ বাত নয়, ওর কিডনিতে স্টোন হয়েছে- তাই এই অসহ্য ব্যথা।

 

উপসর্গ

রবিনের মতো তলপেট বা কোমরে পিছন দিকে ব্যথা কিডনির পাথরের একটা বড় উপসর্গ।  এছাড়া আরও কিছু লক্ষণ দেখে কিডনেতে পাথরের সম্ভাবনার কথা ভাবা হয়।  যেমন স্টোন এর জন্য বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ হয়, জ্বর থাকতে পারে। প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যাথা হয়, কেউ আবার ঘুমের মধ্যে অসাড়ে বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। কখনও আবাস পিঠের নীচের দিন ব্যথা শুর হয়, সেই ব্যথা ক্রমশ সেখান থেকে সামনের দিকে আসে। এছাড়া স্টোন যদি কিডনি থেকে বেড়িয়ে মূত্রনালিতে গিয়ে বেকায়দায় আটকে যায় তখন প্রচন্ড যন্ত্রণা হয়। এ সময় প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গিয়ে এমাজেন্সি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ও থাকে।  প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বেরুতে পারে, ইউরোলজির ভাষায় একে বলা হয় হিমাচুরিয়া।

 

এইসব উপসর্গ দেখা গেলে রোগী বেশি কষ্ট পায় ঠিকই কিন্তু আখেরে রোগীরই উপকারই হয়। কেননা এর ফলে রোগটাধার পড়ে চট করে, কিডনি স্টোনের সবচেয়ে বড় মুশকিলটা হল প্রায়ই এ রগের কোন রকম নির্দিষ্ট উপসর্গ থাকে না। এ ধরনের সাইলেন্ট স্টোনের ক্ষেত্রে যখন ধরা পড়ে তখন অনেক দেরি হয়ে যায়, মানে কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে, রোগটাও জটিল হয়ে উটতে পারে। কিডনি স্টোন এর বেলায় অনেক সময়ই এরকম হতে পারে । এ ক্ষেত্রে কারও কারও পিঠে –কোমরে ব্যথা হয়, ব্যথা কমাতে কেউ বা নিজের ইচ্ছেমত ওষুধের দোকান থেকে অ্যান্টাসিড কিনে খান।  এত বিপদ বেড়ে যায়।  কেননা কিডনি স্টোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা। এ ছাড়া এই পাথর বড় চঞ্চল , এক জায়গায় স্থির থাকে না, চলে ফিরে বেড়ায়।  এর ফলে  কিডনির নেফ্রন আর গ্লোমেরুলাসগুলোর কাজ করতে শুরু করে, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাঝে –মধ্যে এরকম ঘটনাও দেখা গেছে, স্টোনের জন্য কিডনি খারাপ হয়ে গেছে।  আচমকাই ধরা পড়েছে, রাগটা তখন যথেষ্ট বেড়ে গেছে। অবশ্য স্বাস্থ্য সচেতনা বাড়ায় েইদানীং এ ধরনর ঘটনার প্রবণতা কমছে।  কেননা ক্রনিক পেটের সমস্যা হলে চিকিৎসকেরা গলব্লাডারস্টেটানের আশঙ্কা করে আলট্রা সনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন।  তখনই ধরা পরে পিত্তথলিতে নয় পাথর জন্মেছে কিডনিতে। তাই এই রকম উপসর্গ দেখা গেলে দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ বাঞ্জনীয়।

 

কেন কিডনিতে পাথর হয়।

ইউরোলজিস্টদের কাছ এটাই এখন লাখটাকার প্রশ্ন। আসলে কিডনি আমাদের শরীরের ছাঁকনির কাজটা করে।  রক্তের যাবতীয় বর্জ্য পদার্থ ও বাড়তি জলকে শরীর থেকে বের করে দিয়ে রক্ত প্রবাহেকে শুদ্ধ রাখাই কিডনির অন্যতম কাজ।  এ ছাড়া দেহের ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিকঠাক রাখার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত তৈরি ও হাড় শক্ত রাখা কিডনির গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে পড়ে। পাথর জমলে এই কাজগুলো ব্যাহত হয়। আসলে কিডনির স্টোনের ব্রাপরটা কিছুটা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। আবশ্য ঠিক একটা নির্দিষ্ট কারণকে কিডনিতে পাথর জমার জন্য দায়ী করা যায় না। কিডনি স্টোন মাল্টিফ্যাক্টোরিয়াল ডজিজ, কিনির ফিলট্রেশন মেকানিজমের ত্রু টি অর্থাৎ রক্তের বিষেশ কয়েকটি দূষিত পদার্থকে কিডনি ছাকতে ব্যর্থ হয়- এই রিস্ক ফ্যাক্টরটি পুরোপুরি জন্মসূত্রে পাওয়া।  এই ধরনে গত ত্রু টি  থাকলে অক্সালেট, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম, ফসফেট ইত্যাদি খনিজগুলির একটি না একটি কিডনির মধ্যে জমতে শুরু করে। এই জমে যাওয়া মিনারেল গুলোই কমশ জমে পাথর তৈরি হয়। এ ছাড়া শরীরের প্যারাথাইরয়েড হমমোনের তারতম্য  হলে এবং কিছু কিছু  বিপাকীয়  ত্রু টির ফলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে থাকে।  এর থেকেও কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে।  যারা কোনও রকম ব্যথা-বেদনা সহ্য করতে পারেন না এবং মুঠোমুঠো ব্যথা কমানোর ওষুধ খান, তাদেও কিডনি স্টোনের আশঙ্কা যায় বেড়ে।  এ ছাড়া জল কম কম পানের সঙ্গে বৃক্কে পাথর জমার একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে সে কথা সকলেরই জানা।  বিশেষ করে আমাদর এই গরমের দেশে জল কম খেলেই বিপদ।  প্রস্রাবের  নানা রকম সমস্যা তো আছেই, কিডনিতে সোটান জন্মানোরা চান্সও বাড়ে। যাঁরা অতিরিক্ত মাংস খান অর্থাৎ হাই প্রোটিন ডায়েটে অভ্যস্ত তাদেরও কিডনিতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

কাদের বেশি হয়।

এ রোগ কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। আট থেকে আশি যে কোন বয়সের ই  কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে।  এখন পশ্চিমবঙ্গে কিডনির স্টোন এর রোগীর সংখ্যা আগের  থেকে অনেক বেড়েছে।  দেখা গেছে যুবেকদের মধ্যে এই অসুখের প্রবণতা বেশি।  অর্থাৎ কুড়ি থেকে চল্লিশ বছর বয়সীরা রোগে  বেশি আক্রান্ত হন।  পাহাড়ি এলাকায় পাঁচ থেকে বার বছর বয়সী বালদের এ রোগ এ ভুগতে হয় প্রায়ই।  অবশ্য মেয়েরাও খুব একটা পিছিয়ে নেই। গত দশ-পনেরো  বছরে কিডনি স্টোন এ আক্রান্ত মহিলাদের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।  গরম ও শুকনো আবহাওয়া কিডনি স্টোন এর একটা বড় কারণ।  তাই উত্তর ভারতের মানুষজনের মধ্যে কিডনি স্টোনের প্রবণতা অনেকটাই বেশি।  এ ছাড়া যাঁরা থাইরয়েডের অসুখ ভুগছেন(হাইপোথাইরয়েডিজম) এবং রেনাল টিউব্যুলার অ্যাসিডের মতে বিরল অসুখ আক্রান্ত, তাঁদের কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি।  এছাড়া অতিরিক্ত ভিটামিন সি খেলে, মুড়ি মুড়কির মতো ক্যাসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড খেলে কিডনি স্টোনের সম্ভাবনা বহু গুণ বেড়ে যায়।  কনস্ট্রিপেশন থাকলে এবং ইউরিক এসিড মেটাবলিজমের অসুবিধে থাকলে কিডনিতে পাথর জমার সম্ভাবনা বাড়ে সে কথা বলাই বাহুল্য।  প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নুন-চিনি খেলেও কিডনি স্টোন হতে পারে।

ভয় পেলেন নাকি? আসলে উপরোক্ত কারণগুলো থাকলেই যে কিডনি পাথরভারাক্রান্ত হবে তার কোন মানে নেই। তবে যে কারণগুলি এড়িয়ে চলা সম্ভব সেগুলো এড়িয়ে চলাই উচিৎ নয় কি? তবে সাবধানের মার নেই। কোনও রকম উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

 

কী করবেন

প্রথমে তো অবশ্যই ডাক্তারবাবুর কাছে যাবেন। ডাক্তারবাবু প্রথমে এক্সরে করে দেখবেন। এরপর প্রয়োজন মতো আলট্রাসনোগ্রাফি ইন্ট্রাভেনাস  পাইলোগ্রাফি অর্থাৎ আই ভি পি করতে হতে পারে। সঙ্গে প্রস্রাব ও রক্তের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা  করতে হতে পারে।  (যেমন-হিমোগ্লোবিন, ইউরিক অ্যাসিড, ইউরিয়া ক্রিয়েটিনিন, টিসি ডিসি, বিটি, সিটি, অ্যালবুমিন ইত্যাদি) খুব প্রয়োজন হলে কিডনির স্ক্যান করানোরও প্রয়োজন হতে পারে।  এরপরই ঠিক করা হয় কী ধরনের ট্রিটমেন্ট হবে। তবে এটা ট্রিটমেন্ট নিজেই করতে পারেন। ত হল প্রচুর পরিমানে জর খাওয়া ।  স্টোন যদি ছোট হয় তবে স্রেফ জলের তোড়ে ভাসিয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেওয়া সম্ভব হয়।  হ্যাঁ স্টোন এর সাইজ সাত মিলিমিটারের থেকে কম হলে এবং নিয়ম করে দু তিন লিটার জল পান করতে পারলে প্রস্রাবের সঙ্গে পাথর বেড়িয়ে যাবে।  যাদের স্টোন হয়েছিল বা বাড়িতে ( বাবা-কাকা-মামাদের) কিডনি স্টোনের ইতিহাস আছে, তারা নিয়ম করে দু-আড়াই লিটার জল পান করবেন।  সমস্যার হাত থেকে এড়াতে পারবেন সহজেই।

 

কাটাছেঁড়া ছাড়াই স্টোনমুক্তি

মেডিকেল সায়েন্স যে আজ কত এগিয়ে গেছে তার জ্বলন্ত প্রমাণ কিডনি স্টোন এর লিথোট্রিপসি। লিথোট্রিপসি নামে এক বিশেষ ধরনের মেশিনের সহায্যে শকওয়েভ দিয়ে (পেটের ওপরে একটা যন্ত্রাংশ বসিয়ে) পাথর গুড়ো করে দেওয়া হয়।  কিছুদিনের মধ্যেই এই গুড়ো হয়ে যাওয়া  পাথর প্রস্রাবের সাথে বাইরে বেরিয়ে যায়।  তার জন্য কোন রকম কাঁটাছেড়া এমনকি ইঞ্জেকশন দেওয়ারও প্রয়োজন হয় না।  অর্থাৎ সাঙ্ঘাতিক রোগ কিডনির পাথর তাড়াতে একফোটাও রক্তপাত হয় না যদি লিথোট্রিপসির সাহায্য নেওয়া যায়।  ইদানিং লেটেস্ট জেনারেশনের ডর্নিয়ার কম্প্যাক্ট আলফা লিথোট্রিপটর মেশিনের সহায্যে কোমর অথবা পিঠের ওপর দিক থেকে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক শকওয়েভ পাঠিয়ে আধ ঘন্টা থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যেই পাথর গুড়া করে দেওয়া হয়।  এর পর আধা ঘন্টার মধ্যেই রুগি হেটে বাড়ি চলে যেতে পারেন। বলাই বাহুল্য এই পদ্ধতিতে স্টোন গুড়ো করার সময় রোগীকে অজ্ঞান তো করা হইনা, এমনকি লোকাল অ্যানস্থেশিয়ারও কোন প্রয়োজন হয় না।  তিন সেন্টিমিটার পর্যন্ত যে কোন আকৃতির স্টোনকেই লিথোট্রপসির সাহয্যে গুড়ো করে দেয়া যায়।  বড় স্টোন হলে অনেক সময় একটা  সিটিং এ কাজ নাও হতে পারে দু-তিনটে সিটং লাগতে পারে।  খরচও খুব বেশি নয় – বার হাজার থেকে পনেরো হাজার টাকার মধ্যে  তবে লিথোট্রিপসির পরে শর্ত মেনে চলতেই হবে। হ্যাঁ তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার জল না খেলে কিন্তু গুড়ো হওয়া স্টোন বরুতে অসুবিধে হয়।  আর তিন সেন্টিমিটারের থেকে বড় পাথর হলে আর লিথোট্রিপসি সম্ভব নয়।

 

 

অন্যান্য উপায়

কিডনি, ব্লাডার বা ইউরিনারি ট্র্যক্টের স্টোন বের করার আরও তিনটে পদ্ধতি আছে।  প্রথমত প্রথাগত ভাবে পেট কেটে অপারেশন, ইউটেরোস্কোপি এবং পারকিউটেনিয়াস নেফ্রোলিথোটামি বা P C N L ।  এদের মধ্যে এই পি সি এস এল সাধারণ মানুষের কাছে যা কি হোল সার্জারী নামে বেশি পরিচিত, বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।  তবে কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো পদ্ধতিতে পেট কেটে অপারেশন করাতেই হয়। পি সি এন এল ব্যাপারটা এই রকম- কোমরের পিছন দিকে ঠিক যেখানে কিডনি থাকে সেখানে আধ মতো ছোট্ট ফুটো করে সেখান থেকে বিশেষ একটি যন্ত্র প্রবেশ করিয়ে কিডনির স্টোনটি শকওয়েভের সাহায্যে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়। এর পর অন্য আর  একটি ফুটো করে স্টোনের টুকরো গুলো বাইরে বের করে আনা হয়। মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই রোগী সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারে।  রক্তপাত কম হয় বলে ধকলও খুব কম।  ছোট –বড় মাঝারি সব রকমেরই পাথরকেই পি সি এন এল এর সাহয্যে বের করে দেয়া যায়।  পুরো আপারেশন এর জন্য দু-তিনটে ছোট্ট ফুটো করতে হয়।  তবে একটা শর্ত আছে, পি সি এন এল করাতে গেলে স্টোনটাকে অবশ্যই কিডনির মধ্যে থাকতে হবে।  মূত্রনালি বা ব্লাডারে চলে গেলে ইউটেরোস্কোপির সাহায্য নিতে হবে। পি সি এন এল এর খরচ মোটামুটি বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা।

 

কী করবেন

  • দিনে দুই থেকে আড়াই লিটার জল পান করবেন, বিশেষ করে গরমের দিনে।
  • চিজ, পাঁঠার মাংশ কম খেলে ভাল হয়।
  • প্রস্রাবে কোনও রকম সংক্রমণ হলে এটা-ওটা না করে, নিজে ডাক্তারি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • অনেকে কুলল্থ কলাই ভেজানো জল এবং হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন। এগুলো করতেই পারেন; তবে ‍উপসর্গ বেড়ে গেলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন।
  • বছরে অন্তত একবার আলট্রাসনোগ্রাম করাবেন।
  • খাওয়া দাওয়ার সঙ্গে কিডনি স্টোন এর একটা সম্পর্ক আছে। অবশ্য তার মানে এই নয় যে, একবার কিডনিতে স্টোন হলে খাওয়াদাওয়া ও পরে নান রকম বিধি নিষেধ আরোপ করতে হবে।  স্টোনের ধরন অনুযায়ী কিছু কিছু খাবারদাবার খেতে হবে পরিমাপ মতো।  যেমন-
  • ক্যালসিয়াম স্টোন হলে দুধ ছানা চিজ পালংশাক প্রতিদিন ডিম এইসব খাবার খেতে হবে পরিমাপ অনুযায়ী।
  • অক্সালেট স্টোন হলে কচু, আমলকী, ওল ইত্যাদি না খাওয়াই ভাল।
  • পরিমিত পরিমাণে নুন-চিনি খাবেন। বেশি বেশি চিনি বা নুন থেকে কিডনি স্টোন এর সম্ভাবনা বাড়ে।
  • জল শরবত, ফলের রস(চিনি ছাড়া হলে ভাল হয়।) পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবেন।
  • ইউরিক অ্যাসিড স্টোন হলে মাছ মাংম ডিম খেতে হবে পরিমাপ মতো।
  • রেডমিট, অতিরিক্ত তেল-ঘি-মাখন, ভাজাভুজি খাবেন না। আর এ সব সত্বেও যদি পাথর হয়? তবে অবশ্যেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।