শীতের সময়ে রুক্ষ চুলের সমস্যা

  • 0

শীতের সময়ে রুক্ষ চুলের সমস্যা

শীতের সময়ে রুক্ষ চুলের সমস্যা

 

শীত পড়ারর শুরু থেকেই যত্ন নিন চুলের। রুক্ষ ও শুষ্ক চুলের জন্য রইল একটি বিশেষ আলোচনা।

 

শীতের টান আস্তে আস্তে পড়তে শুরু করেছে। ‍যদিও আমাদের এই গ্রীষ্মপ্রধান দেশে শীতের স্বল্প স্থায়িত্ব আমাদের সবার কাছেই স্বাদর অভ্যার্থনা পেয়ে থাকে, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে আসে বেশ কিছু সমস্যাও। এই শিতের হাওয়া গায়ে লাগার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় ত্বক ও চুল সংক্রান্ত নানা সমস্যা।  সবারই যে হয় এ কথা বলছি না। কারও কারও ক্ষেত্রে তো শীতের সময়ে ত্বক ও চুলের সব সমস্যা মিটে যায়।  তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক ও চুল নিয়ে আমাদের চিন্তা আরও দশগুণ বেড়ে যায়।

কিন্তু চুলের সমস্যা নিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ার কিছু নেই । আজ থেকেই শীতের জন্য বিশেষ যত্ন নিতে শুরু করুন। দেখবেন শুষ্ক চুল অথবা খুশকি কোনও টাই আর সমস্যা হয়ে দেখা দেবেনা । কী ভাবে যত্ন নেবেন তাই ভাবছেন তো! আসলে সত্যি বলতে কি নানা জায়গায় নান রকম টিপস পড়ে আপনি বেশ কিছুটা কনফিউজড হয়ে পড়েছেন। কি, টিক বললাম তো? অত চিন্তা করতে হবে না। কয়েকটি সহজ উপায়ের সমাধান দিলাম যা একবার ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। তা হলে আর অপেক্ষা কীসের? আজ থেকেই শুরু করে দিন। দেখবে এই শীতে আপনার চুল নিয়ে আর কোনও সমস্যাতেই পড়তে হচ্ছেনা।

 

সঠিক শ্যাম্পু বেছে নিন

 

এই কথাটা শুনে মনে হতেই পারে যে এটা আবার নতুন কী কথা! আছে কিছু নতুন তথ্যও । একটু ধৈর্য ধরুনই না ।

 

সারা বছর আপনার চুল মোটামুট ঠিকই থাকে, নর্মাল কিংবা অয়েলি হেয়ার বলতে যা বোঝায় আরকি! কিন্তু শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চবুল রুক্ষ হতে শুরু করে । এমনকি আপনার অয়েলি হেয়ারও তার স্বাভাবিক ময়েশ্চার হারিয়ে শীতে হয়ে পড়ে রুক্ষ।

 

তবে আপনি কিন্তু বছরের অন্য সময়ে যে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন শীতেও ওই শ্যাম্পু ব্যবহার করে চলেন। শীতের রুক্ষতা থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য নিয়মত করে উইন্টার কেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করেলেও চুলের ক্ষেত্রেও যে এই পরিবর্তন প্রয়োজন এই কথাটা যেন মাথাতেই আসে না! তাই বলছি এই ব্যবহারে পরিবর্তন আনুন।

 

শীতকালে ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ব্যবহার করেছেন বলেই যে কন্ডিশনারের প্রয়োজন নেই এটা ভেবে বসবেন না আবার। তবে ’লিভ অন’ কন্ডিশনার লাগাবেন না কি ‘ওয়াশ অফ’ সেটা আপনার উপর নির্ভরকরেছে । চাইলে কোনও বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শও নিয়ে নিতে পারেন। আরও  একটা কথা – শ্যাম্পু থেকে গেলে চুল আরও রুক্ষ হয়ে যায়।

 

খাওয়া দাওয়ার দিকে বিশেষ খেয়াল

 

বাইরের যত্নের সঙ্গে সঙ্গে ভিতর থেকেও চুল হেলদি রাখার প্রয়োজন আছে। এর জন্য প্রয়োজন হেলদি অ্যান্ড ব্যালেন্সড ডায়াট। কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনের সঠিক ব্যালেন্স আপনার চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। এর সঙ্গে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্যে প্রচুর পরিমাণে জল খান এবং অবশ্যই একটি করে মরশুমি ফল যে থাকে আপনার ডায়েটে।

 

হেলদি হেয়ার

 

হাতের কাছে রাখুন

  • শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার টয়লেট বক্সে রাখুন ডিপ কন্ডিশনিং শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার।
  • সপ্তাহে অন্তত দু’দিন আমন্ড অয়েল এবং নারকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে গরম করে স্ক্যাল্পে মাসাজ করুন্
  • আমলকীও কন্ডিশনারের কাজ করে। মাসে দু’দিন আমলকী ও টক দিই এক সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় লাগান। ২০ মিনিট মতো লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

 

হেয়ার ড্রায়ার

 

শীতকাল চুল শুকোতে একটি বেশি সময় লাগেই। তা বলে কথায় কথায় হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না। এতে চুলের শুষ্ক ও ভঙ্গুর  হয়ে পড়ার সমভাবনা আরও বেশ খানকটা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে স্ক্যাল্পও শুষ্ক হয়ে যায় এবং খুশকির সমস্যাও বেড়ে যায়। তাই শীতকালে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার যাতটা সম্ভব এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।  একান্তই প্রয়োজন হলে চুলের থেকে বেশ খানিকটা দুরত্বে রেখে ব্লো ড্রাই করুন। এতে সরাসরি তাপ লাগে না।

 

হেয়ার স্পা

 

শীতের শুরুতেই একবার ডিপ কন্ডিশনিং স্পা করিয়ে নিন। আর সুযোগ হলে পরো শীতকাল ধরে মাসে অন্তত একবার সালতে গিয়ে ডিপ কন্ডিশনিং স্পা অথবা রুট নারিশিং অয়েল মাসাজ করিয়ে নিন। এতে চুলের স্বাস্থ্য নিয়ে আপনাকে আর দুঃচিন্তা করতে হবে না।

 

হেয়ার কেয়ার

 

পেশায় ব্যস্ত প্রফেশনাল বা উঠতি মডেল? চুল নিয়ে নানারকম এক্সপেরিমেন্টেশনের হদিশ দিচ্ছেন রুপ বিশেষজ্ঞ শেহনাজ হুসেন।

 

  • আমি পেশায় একজন উঠতি মডেল। পেশাগত কারণে আমায় চুল নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টেশন করতে হয়। তাই বর্তমানে আমি হেয়ার স্ট্রেটনিং করতে চাইছি। ঘরোয়া কোনও উপায় বললে ভাল হয়।

তুলিকা বসু, মালিবাগ, ঢাকা।

 

বাড়িতে হেয়ার স্ট্রেটনিংয়ের জন্য হ্যান্ড ড্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন। তবে শ্যাম্পু করলে চুল আর স্ট্রেট থাকবে না। হ্যান্ড ডেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করার জন্য চুল ধুয়ে ভিজে অবস্থায় চুলটিকে কয়েকভাগে ভাগ করুন।  এরপর চিরুনি বা ব্রাশ দিয়ে চুলের ডগার দিকটা স্ট্রেট করে ধরুন।  নীচের দিক থেকে ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকনো করুন। এই একই পদ্ধতি চলের প্রতিটি ভাগে অ্যাপ্লাই করুন। অন্তত ছয় ইঞ্চি দূরে ড্রায়ার ধরবেন।  তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মাথায় রাখা জরুরি। হেয়ার ড্রায়ার অতিরিক্ত ব্যবহার করলে চুল শুষ্ক হয়ে যায়।

 

  • আমার বয়স ২৫ । মুখটা ওভাল- শেপড। আমি নতুন কিছু হেয়ার কাট ট্রাই করতে চাই। আমার মুখের সঙ্গে মানানসই কিছু হেয়ারকাট বলে দিলে ভাল হয়।

নিঝুম, কলাবাগান, ঢাকা।

 

ওভাল-শেপড মুখের সঙ্গে প্রায় সব ধরণনর হেয়ার কাটই মানানসই হয়। এখন লেয়ারড হেয়ার স্টাইল বেশ জনপ্রিয়। এটি এখন রীতি মতো ট্রেন্ডি। আপনার চুল যদি কাঁধের থেকে একটি লম্বা হয়, তাহলে এধরনের চুলের স্টাইল বেশ ভালই লাগবে। চুলের নীচের অংশে লেয়ার থাকলে ভাল হয়। সাই-সোয়েপ্ট ফ্রিঞ্জও আপনার মুখে মানানসই হবে। চয়েস আপনার হাতে।

 

  • আমার বয়স ২৩ । আমার চুল খুবই পাতলা ও ভঙ্গুর। দৈনন্দিন ব্যস্ততার ফলে চুলের সঠিক পরিচর্যা করারও সময় হয় না । ফলে চুলের অবস্থার দিনদিন অবনতি হচ্ছে। কী ভাবে শক্ত ও ঘন চুল পাব জানালে ভাল হয়।

বিল্কিস বেগম, রাজশাহী।

ভঙ্গুর চুল সাধারণত খুব শুষ্ক হয়। এর মোকাবিলা করার জন্য একভাগ ক্যাস্টর তেলে র সঙ্গে দু’ভাগ নারকেল তের মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটিকে গরম করে নিন।  এবার এই গরম করে নেয়া মিশ্রণটিকে চুলে লাগান । চুলের গোড়ায় অবশ্যই ভাল করে লাগিয়ে নেবেন।  আঙ্গুলের ডগা দিয়ে আস্তে আস্তে মাথার তালুতে মাসাজ করুন ছোট ছোট সারকুলার মোশনে মাসাজ করুন। এটি রক্স সঞ্চালনে সাহায্য করে। সারা রাত ক্যাস্টর আয়েল মাথায় লাগিয়ে রেখে দিন। পরের দিন প্রচুর পরিমাণে জল চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার সময় অবশ্যই কোনও হালকা হারবাল শ্যাম্পু  ব্যবহার করবেন। খুব গরম জল ব্যবহার করবেন না। চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। এক্ষেত্রে সব সময় চুলের ডগা থেকে শুরু করে উপরে উঠবেন।  নিয়মিত কন্ডিশনিং করা একান্ত জরুরি। হেয়ার কন্ডিশনার ও কোনও ভাল কোম্পানির ডেয়ার সিরাম চুল নরম করতে সাহায্য করে। এরটি চুলের উজ্জলতা বাড়াতেও সাহায্য করে।  এটি চুলের যাবতীয় প্রতিকূলতার হাত থেকে রক্ষাও করে। শ্যাম্পু করার পর ক্রিম-যুক্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করুন্ অল্প পরিমাণ কন্ডিশনার হাতের তালুতে নিয়ে হালকা করে মাসাজ করুন।  মিনিট দুয়েক রেখে দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। চুল খুব শুষ্ক হলে একেবারে সব কন্ডিশনার ‍ধূয়ে ফেলবেন না। এছাকড়া কোন ও ’লিভ-অন’ কন্ডিশনার বা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।  একিইভাবে ব্যবহার করুন, কিন্তু ধুয়ে ফেলবেন না।  আপনার চুল যদি খুবই রুক্ষ, অঙ্গুরআর শুষ্ক হয়, তবে একটি ডিম, দুই টেবিল চামচ ক্যাস্ট অয়েল ও একটি গোটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই পুরো মিশ্রণটি মাথার তালুতে ও চুলে ভাল করে মাসাজ করে নিন। আধ ঘন্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন।  চুল ধুয়ে ফেলবেন, যাতে চুলের  গোড়ায় কোনও প্রডাক্টর অবশিষ্টাংশ জমে না থাকে।