পুরুষ ও স্ত্রী বন্ধ্যাত্বে হোমিওপ্যাথি

  • 0

পুরুষ ও স্ত্রী বন্ধ্যাত্বে হোমিওপ্যাথি

বন্ধ্যাত্ব বলতে বোঝানো হয় বিয়ের পর সম্পূর্ন এক বছরের অধিক কেটে গেলে স্বামী দুজনের সন্তানের জন্য উদগ্রীব হওয়া স্বত্ত্বেও তাদের কোন সন্তান না হওয়া।

আবার অনেকে বলেন, যেই নারীর সন্তান ধারণ একেবারে অসম্ভব বলে প্রতিয়মান হয় তা বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ। যদি চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্যে নারী সন্তানের মা হতে পারে তা হলে প্রকৃত বন্ধ্যাত্ব নয়।

তাই বন্ধ্যাত্বে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-

১। প্রাথমিকঃ বিয়ের পর থেকে কোন সন্তান একেবারে না হওয়া।

২) সাময়িকঃ বিয়ের পর সন্তান একটি হওয়ার পর। তারপর চিরদিনের মতো আর সন্তান না হওয়া।

বিভিন্ন কারণে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে যার কারণে সন্তান সৃষ্টি হয় না।

১। টেসটিস অবশ্য সুস্থ শুক্রকীট সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়।

২। ওভারী হয়তো সুস্থ ওভাম সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়।

৩। শুক্রকীট ও ডিম্বানুর ঠিকমত মিলন না ঘটা।

৪। হরমোন কম বেশি হওয়া কারণ উল্লেখযোগ্য।

ফিজিওলজি কারণঃ কখনো কখনো সময় স্বাভাবিক নিয়মে নারী সন্তান ধারণ সম্ভব হয় না।

১। ডিম্বকোষ ডিম্ব উৎপাদনে বয়স না হওয়া।

২। নারীর বেশি বয়সে মেনোপোজ হলে।

৩। কখনো দেখা যায় নারী দুগ্ধ আসার মতো বয়স হয়নি অথবা বাচ্চা বয়সে ব্রেষ্ট টিউমার হওয়া।

প্যাথলজিকাল কারণঃ ১। পুরুষের শুক্রকিটের ক্রোমোজোম ঠিকমত  (এক্স ওয়াই) বা (এক্স এক্স) ভাবে না থাকা এক কথায় সন্তান জন্ম দেয়ার উপযুক্ত ক্রোমোজোম না থাকা।

২। নানা কারণে ডিম্বকোষ হতে সন্তান সৃষ্টি হওয়ার মতো ডিম্ব না থাকা।

৩। গণেরিয়া বা লিকুরিয়াজনিত সমস্যায় ডিম্ব ও শুক্রকীট মিলন না ঘটা। আরও বিভিন্ন রোগ জনিত সমস্যার জন্য স্ত্রী পুরুষ উভয় পৃথক পৃথকভাবে বন্ধাত্বের কারণ হতে পারে।

বন্ধ্যাত্ব পর্যবেক্ষণ ও রোগ নির্ণয়ঃ বন্ধ্যাত্বের কারণ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে কোন ধরনের বন্ধ্যাত্ব, কি কারণে বন্ধ্যাত্ব- তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে। কখনো প্রাথমিক অবস্থা থেকে এটি হয়। কখনো এক সন্তান জন্মের পর হয়।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাঃ ১। স্বামীকে পরীক্ষা করতে হলে তার ইতিহাস ভালোভাবে জানতে হবে। স্বামীর সেল এক্স ওয়াই ক্রোমোজোম ঠিকমত আছে কিনা।

২। তার বীর্যে শুক্রকীট ঠিক আছে কিনা।

৩। স্ত্রীর পরীক্ষা করতে হলে তার বয়স ও পেশা জানতে হবে। যদি বয়স ৩৫ এর বেশি হয় তবে কর্মশীল না তা হলে বন্ধ্যাত্ব আসতে পারে।

৪। লিউকোরিয়া জরায়ু বা যৌনাঙ্গে গোলমালজনিত নানা রোগ থেকে বন্ধ্যাত্ব আসতে পারে। মাসিক বা ঋতু ঠিক হচ্ছে না। বিবাহের ইতিহাস জানতে হবে। বিবাহের প্রতি ইচ্ছা ছিল কিনা ? স্বামীর প্রতি আর্কষণ কেমন ইত্যাদি ভালোভাবে জানতে হবে। তার অতীত ইতিহাস জানতে হবে।

চিকিৎসাঃ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিতে হলে চিকিৎসক ও ওষুধের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস থাকতে হবে। তার কারণ, হোমিওপ্যাথির জনক ডা. হ্যানিম্যান বলেছেন, সমস্ত রোগের উৎপত্তিস্থল   মানুষের মন। তাই আপনার মনকে ঠিক করে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ও ডাক্তারের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সঠিক রোগ নির্ণয় ও লক্ষণ মিলিয়ে ওষুধ সেবন করুন। আপনি অল্প সময়ের মধ্যে যৌন রোগসহ যে কোন ধরনের জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাবেন- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন হোমিও ওষুধ সেবন করুন। জটিল ও কঠিন রোগ থেকে মুক্ত থাকুন।

 

ডা. ইব্রাহিম মজুমদার

নবযুগ হোমিও ক্লিনিক (পাগলা)

শাহীবাজার ঈদগাহ মাঠ

ফতুল্লা, নারায়নগঞ্জ।