ফুসফুসে ইনফেকশন বা ফোঁড়া

  • 0

ফুসফুসে ইনফেকশন বা ফোঁড়া

ফুসফুসে ইনফেকশন বা ফোঁড়া

মানুষের দেহের একটি অত্যাবশকীয় অঙ্গ হচ্ছে ফুসফুস। প্রতিটি মানবদেহে লালচে বাদামী রঙ্গের এই অঙ্গটি থাকে। এটি সাধারণত  এক জোড়া থাকে। মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গের সাহায্যে মানুষ শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারে। এই অঙ্গদ্বয়ের অবস্থান হচ্ছে হৃৎপিন্ডের দুই পাশে। ইংরেজীতে এর নাম হচ্ছে লাংস। পেটের উপরে বুকজুড়ে এর অবস্থান।

মানবদেহের এ ফুসকুসটি বিভিন্ন কারণে নানা রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। ফুসফুসে ইনফেকশন বা ফোঁড়া সৃষ্টি হওয়া বক্ষের একটি দীর্ঘকালীন ব্যাধি। নানা ধরনের রোগ জীবানুর কারণে ফুসফুসে ফোঁড়ার উদ্ভব হয়।

মানুষের ত্বকের ফোঁড়া হওয়া এবং ফুসফুসে ফোঁড়া হওয়ার মধ্যে অনক পার্থক্য। কারণ ত্বকে ফোঁড়া হলে তেমন জটিলতার সৃষ্টি হয় না, কিন্তু ফুসফুসে ফোঁড়া হলে তা খুব মারাত্মক আকার ধারণ করে।  এ রোগ সৃষ্টির একটি জীবানুর নাম হল- স্টেফাইলোকক্কাস। এই জীবাণুর দ্বারা সৃষ্ট ফোড়ার সংখ্যা সাধারণত বেশি থাকে।

ফুসফুসে ইনফেকশন একটি জীবানু ঘটিত রোগ। বিবিধ বক্ষব্যাধির জীবানুর সংক্রমণের ফলে এ রোগ হয়।

যে সকল ব্যাধির কারণে ফুসফুসে ফোঁড়ার সৃষ্টি হয়-

১। যক্ষা হচ্ছে একটি জীবানু জনিত ব্যাধি। জীবানু সংক্রমণের দ্বারা এই ব্যাধির উপক্রম হয়। ফুসফুসে ফোঁড়া সৃষ্টি হবার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে যক্ষার জীবানু।

২। মানবেহের ফুসফুসে যদি টিউমার বা ক্যান্সার হয়, তবে সেই ক্যান্সার বা টিউমারের স্থানে জীবানু দ্বারা ফুসফুসে ফোঁড়া হয়ে থাকে।

৩) ফুসফুসের নিউমোনিয়া মারাত্মক আকার ধারণ করে ফুসফুসে ফোঁড়ার সৃষ্টি করতে পারে।

৪। লিভারের আমাশয়ের জীবানু থেকেও ফুসফুসে ফোঁড়া হয়।

ফুসফুসে ফোঁড়ার কারণে যে সমস্ত উপসর্গ গুলো লক্ষণীয়ঃ

১। মানুষের শরীরে এ রোগের উপক্রম হয় ধীরে ধীরে।

২। এ ব্যাধির প্রথম উপসর্গ হচ্ছে প্রচন্ড  জ্বর আসা।

৩। শরীর ম্যাজম্যাজ করা।

৪। অসহনীয় কাশি হওয়া।

৫। কাশির সাথে রক্ত এবং হলুদ, পাকা ও দুর্গন্ধযুক্ত কফ নির্গত হওয়া।

৬। রক্তে শ্বেত কণিকার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।

৭। ক্লাবিং অর্থ্যাৎ রোগীর অ্যাঙ্গুলের ডগা ফুলে যাওয়া।

ফুসফুসে কোন স্থানে পচন ধরলে সে স্থানে ফোড়ার সৃষ্টি হয়। ফুসফুসের  এই ফোড়ার পাতলা আবরণ যদি কোন কারণে ফেটে যায়, তবে তা থেকে ফুসফুসে অন্য রোগের সৃষ্টি হয়। যেমন- ফুসফুসে বাতাস এবং পুজ জমা। ত্বকে ফোড়া হলে এর কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা করা চিকিৎসকদের নিকট কঠিন নয়। কিন্তু ফুসফুসে ফোড়া হলে তার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসক দের নিকট কঠিন নয়। কিন্তু ফুসফুসে ফোঁড়া হলে তার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা করা একটু জটিল। যক্ষার এ রোগের উপসর্গের সাথে অনেকে মিল লক্ষ্য করা যায়। তাই এ সকল রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সর্বপ্রথম করণীয় হচ্ছে সঠিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যে কোন রোগের জীবানুর সংক্রমণের ফলে ফুসফুসে ফোঁড়ার সৃষ্টি হয়েছে। বুকের এক্সরের মাধ্যমে সাধারণত এ ব্যাধিটি নির্ণয় করা যায়। রক্ত ও কফ পরীক্ষা করে এ রোগটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এছাড়া চিকিৎসকগণ কখনও কখনও ব্রংকোস্কোপের দ্বারাও এ রোগ নির্ণয় করে থাকেন। আলট্রাসনোগ্রাম, সিটিস্ক্যান ও এফ এন সির মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

ফুসফুসে ফোঁড়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী। এ ব্যাধিটি নিরাময়ের জন্য রোগীকে দীর্ঘ দিন এন্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়। এসময় চিকিৎসকগণ রোগীদের বুকে জমে থাকা বিষাক্ত কফ বের করার চেষ্টা করে থাকেন। কারণ ওষুধ সেবনের পাশাপাশি এই পাকা কফ রোগীদের দেহ থেকে নির্গত না হলে ওষুধ সেবনে কোন কাজ হবে না। ফিজিও থেরাপি অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার সহায়ক হিসেবে কাজ করে থাকে। পসটুরাল ড্রেনেজ এ ক্ষেত্রে অনেক উপকারী।

ডাঃ এ কে এম মোস্তফা হোসেন

পরিচালক

জাতীয় বক্ষ ব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।