সাঁতার কাটুন সুস্থ থাকুন

  • 0

সাঁতার কাটুন সুস্থ থাকুন

সাঁতার কাটুন সুস্থ থাকুন

আমরা একবিংশ শতাব্দীর কর্মব্যস্ত মানুষ। শরীর চর্চা করার সময় আর পাচ্ছি কই। কিন্তু বাস্তব কথা হল যতই আমরা কর্মব্যস্ত হই না কেন, শরীরের সঠিকভাবে পরিচর্যা না করার ফলে অসংখ্য রোগ ব্যাধি আমাদের কাজ কর্মের পথে অন্তরায় হয়ে দাড়ায়।

মহামতি চরক আনুমানিক ৫০০ বছর আগে বলেছিলেন যে, যত ধরনের শরীর চর্চা আছে তার মত্যে সাঁতার হল সর্বশ্রেষ্ট। সাঁতার উপযোগী জেনে নেয়া যাক তবে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শে এটা শুরু করবেন।

অ্যাজমা বা হাপানিঃ সাঁতার কাটলে গভীরভাবে শ্বাস নেয়ার দরুন ফুসফুসের ব্যায়াম হয়। ফলে এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের সুফল মেলে।

যাদের সর্দি কাশির প্রবণতা সারা বছর ধরে কম বেশি ভোগায় তারা সাঁতার কাটলে সুফল পাবেন। গরম থেকে ঠান্ডা বা ঠান্ডা থেকে গরম জায়গায় গেলে সহজেই এদের ঠান্ডা লাগে। কিন্তু নিয়মিত পানিতে নামলে হঠ্যাৎ করে তাপমাত্রার পরিবর্তনে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা কমে যায়। সাইনুসাইটিস বা যারা সাইনাসের সমস্যায় ভুগছেন প্রতিদিন নিয়ম করে সাঁতার কেটে গোসল করলে সুফল পাবেন।

সাতারের  সময় মুখ দিয়ে পানি নাক দিয়ে বের করে দিতে পারলে নাক পরিষ্কার হবে। সাইনাসের রোগীরা উপকৃত হবেন।

পোলিও রোগীরা সাঁতার কাটলে উপকার পাবেন। কারণ সাতারে হাত ও পায়ের দ্রুত সঞ্চালন হয়, তার ফলে পোলিও রোগীদের অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় আানা যায়।

অ্যাক্সিডেন্ট বা হঠ্যাৎ দুর্ঘটনাজনিত কারণের জন্য হাতে, পায়ে বা শরীরের কোনো পেশিতে আঘাত লাগলে সাঁতার সেক্ষেত্রে খুব ভালো ফল দেয়।

আথ্রাইটিস বা বাতে আক্রান্ত রোগীরা রোদে যখন পানি গরম থাকবে সে সময় সাঁতার কাটবেন। পানি গরম থাকতে থাকতেই উঠে পড়বেন। দেখবেন আরাম বোধ করবেন। তবে তীর বরাবার সাঁতার কাটবেন। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য সাঁতার কাটুন নিয়মিত, অবর্থ্য উপকার পাবেন। ফলে হার্টের অসুখ, ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ইনসমনিয়া বা অনিদ্রাকে দূর করার ভালো উপায় হল সাঁতার কাটা, যা ভালো বিশ্রাম হয় তাই অনেক রোগ থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব।

টেনশন বা অস্থিরতা, নার্ভাসনেস বা স্নায়ুদৌর্বল্য প্রর্ভতি অসুখে যারা ভোগেন তাদের ক্ষেত্রেও সাঁতার অত্যন্ত উপকারী।

যারা অমনোযোগী তাদের সমস্যা দূর করার সর্বশ্রেষ্ট উপায় হল রোজ সাঁতার কাটা। সাঁতার কাদের পক্ষে ক্ষতিকরঃ গর্ভাবস্থায় সাতর কাটবেন না। স্বাভাবিক প্রসবের অন্তত ছ সপ্তাহ পর সাঁতার কাটবেন। কিন্তু সিজার হলে অন্তত ছ মাস অপেক্ষা করতে হবে।

বুকের কোন সংক্রমণজনিত অসুখ যেমন সিওপিডি, প্লুরিসি, টিউবারকুলোসিস প্রভৃতি রোগে আক্রান্তরা সাঁতার কাটবেন না।

অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডলোসিস এ আক্রান্ত রোগীরা সাঁতার কাটবেন না। এই রোগে স্পাইনাল কর্ডের যে কোন দুটো স্পাইনোর মাঝে যে কার্টিলেজে ডিস্ক তাকে তা সামনে বা পিছনে সরে আসে। ফলে সাতারে বিপদের সম্ভাবনা বেশি।

মৃগী রোগে আক্রান্ত রোগীরা সাঁতার কাটা দূরে থাক পানির কাছেই যাবেন না।  যে কোন সময় এদের অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। হিস্টিরিয়া, আলজাইমার রোগে আক্রান্ত রোগীরা বা পারকিনসনস ডিজিজ বা যারা কম্পবাতে আক্রান্ত তাদের পক্ষে সাঁতার সম্পূর্ণ নিষেধ।

সাঁতার কাটার কোন বয়স সীমা নেই। মোটামুটি তিন বছর বয়স থেকে সাঁতার কাটা যেতেই পারে। অতএব হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে দিনে অন্তত আধ ঘন্টা সাঁতার কাটুন। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বাড়িয়ে আপনাকে ঝরঝরে রাখতে এর বিকল্প নেই।

 

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক কলামিষ্ট