বুকের দুধ – ব্রেস্ট ফিডিং

  • 0

বুকের দুধ – ব্রেস্ট ফিডিং

ব্রেস্ট ফিডিং বা বুকের দুধ খাওয়ান

মায়ের দুধই শিশুর পুষ্টি।

  • আমার বাচ্চার বয়স বিশ দিন। এখন কি বাইরের কৌটার দুধ খাওয়াতে পারি?

সুচেতা মেহেরপুর।

এই সময় বাইরের দুধ না খাওয়ানোই বাঞ্জনীয়। মায়ের বুকের দুধই হল শিশুর একমাত্র খাবার। মায়ের দুধ শিশুকে শুধু পুষ্টিই দেয় না, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও গড়ে তুল তে সাহায্য করে শিশুর দেহে। এমনকী মায়ের স্বাস্থ্যও ভাল থাকে এতে।

 

মায়ের বুকের দুধের কোনও বিকল্প নেই। প্রথম ছয় মাস কেবল বুকের দুধ, সঙ্গে একফোঁটাও জল নয়। এতে শিশুর রোগ প্র্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মা ও শিশুর মধ্যেও বন্ধন স্থাপন করে। শিশুর আই কিউ লেভেল বাড়তে সাহায্য করে। আন্ত্রিক, উচ্চ রক্তচাপ ও নানা অসুখ থেকে শিশুকে রক্ষা করে।        

 

  • আমার বাচ্চার বয়স দেড় মাস। আমি প্রায়ই অম্বলে কষ্ট পাই। এছাড়া মাথা ধারা ও পেটের গন্ডগোল তো লেগেই আছে। অ্যান্ডাসিড, প্যারাসিটামল খেতে হয় মাঝে মাঝে । এই অবস্থায় বাচ্চাকে কি বুকের দুধ দেব? কোনওরকম ক্ষতির সম্ভাবনা নেই তো?

দীপিকা সেন, মিরপুর, ঢাকা।

 

আপনার যে সমস্যা থাকুন না কেন বাচ্চাকে দুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ ব্যবহার করুন। বাচ্চার কথা জানলে আপনার চিকিৎসক সেই ধরনের ওষুধ দিবেন। তবে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধে খুব একটা ক্ষতি করে না। মনে রাখবেন মায়ের বুকের দুধের কোনও বিকল্প হয় না।  প্রথম ছয়মাস কেবল বুকের দুধ, সঙ্গে একফোঁটাও জল নয়।  এতে শিশুর রোগ প্র্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মা ও শিশুর মধ্যেও বন্ধন স্থাপন করে। শিশুর আই কিউ লেভেল বাড়তে সাহায্য করে। আন্ত্রিক, উচ্চ রক্তচাপ  ও নানা অসুখ থেকে শিশুকে রক্ষা করে।

 

  • সারাদিন বাচ্চাকে কতক্ষণ দুধ খাওয়ানো যেতে পারে? এর কি সঠিক কোনও নিয়ম আছে?

রেশমি চক্রবর্তী, কুমিল্লা

বাচ্চা যখনই খেতে চাইবে তখনই খাওয়ানো যেতে পারে। তবে সাধারণত চব্বিশ ঘন্টায় আট থেকে বারবার ফিডিং করানো উচিত। সাধারণত দেখা যায় বাচ্চারা দুই থেকে তিন ঘন্টা অন্তর খায়।

 

  • ফিডিংয়ের আগে একজন মা কী ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন?

সোমা সরকার, মুন্সিগঞ্জ

বাচ্চাকে ফিডিং করার আগে মা যদি লিকুইড জাতীয় খাবার খান তাহলে ভাল হয়। যেমন ফলের রস, দুধ, শরবত, ডাবের জল ইত্যাদি। মায়ের একটু বেশি পরিমাণে জল খাওয়া উচিত।  ফিড করার আগে ব্রেস্টে চাপ দিয়ে একটু বের নিপলের চারপাশটা মুছে ফেলা উচিত। এর পর বাচ্চাকে খাওয়াতে শুরু করা উচিত।  কিছুক্ষণই খেয়ে বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়ে।  তখন পায়ে টোকা দিন যাতে ওর ঘুম ভাঙ্গে। ঘুম ভাঙ্গে গেলে বাচ্চা আবার খাওয়া শুরু করবে। এভাবে ত্রিশ মিনিটের মতো সময় লাগবে। খাওয়ানো হয়ে গেলে বাচ্চাকে বুকের উপর চেপে ধরে পিঠে হালকা করে চাপ দিন। দেখবেন বাচ্চা ঢেকুর তুলবে। এরপর বিছানায় এক দিক কাত করে শুইয়ে দেবেন।  কখনওই চিৎ করে শোয়াবেন না।

 

  • আমার বাচ্চা দুধ খেলেই পটি করে। সারাদিন অনেকবার করে। এটা কি স্বাভাবিক?

মৌলি সেনগুপ্ত, ঢাকা

হ্যা, এটাই স্বাভাবিক। নবজাত শিশুরা সরাদিনে বার থেকে চৌদ্দ বার পটি করতে পারে। পটির কালার ও অন্যরকম হতে পারে। কখনও হলুদ, কখনও বা সবুজ। কখনও বা পটিতে দুর্গন্ধ হয়। এতে ভয়ের কিছু নেই।

 

  • আমি সদ্য মা হয়েছি চাকরি করি। এছাড়া অনেক সময়ই নান কাজে বাড়ির বাইরে যেতে হয় ফলে নিয়ম করে ফিড করানো সম্ভব নয়। কী করব?

অজন্তা মিত্র, দিনাজপুর

যাঁরা চাকরি করছেন ব বিভিন্ন কাজে দূর্ঘসময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে বাচ্চাকে ঠিক ঠিক সময় মতো ফিড করানো একটু সমস্যা তো বটেই। তবে সে ক্ষেত্রে বাইরে যাওয়ার আগে বুকের দুধ বের করে ছোট ছোট দুই- তিনটি  বোতলে ভাগ করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। বাচ্চার খিদে পেলে বোতলটি গরম জলের পাত্রে বসিয়ে সামান্য গরম করে বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন।  তবে যে বোতলে দুধ রাখছেন তা যেন ভীষণ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়, সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

 

  • আমি নতুন মা হয়েছি। বাচ্চাকে ফিড করালে কি ব্রেস্টের শেপটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে?

টুম্পা মুখোপাধ্যায়, বেহালা, কলকাতা

না। এটা একেবারে ভুল ধারণা। যে মায়েরা বাচ্চাকে ফিড করান, তাদের শেপ আবার ঠিক হয়ে যায়। বরং ফিড কারন না তারাই প্রবলেমে পড়েন।  তবে মায়েদের এই সময় নাসিং ব্রা বা মেটারনিটি ব্রা ব্যবহার করা ভাল।