বর্ষাকালে লুজমোশন ও টাইফয়েড

  • 0

বর্ষাকালে লুজমোশন ও টাইফয়েড

বর্ষাকালে লুজমোশন টাইফয়েড

ডা. রুমানা রিমি

* বর্ষার সময়ে যে পেটের অসুখ বা লুজমোশন দেখা দেয় এর কারণ কী ?

** এখনকার লুজমোশনের মূল কারণ হচেছ দূষিত খাবার ও দূষিত পানি। যেহেত বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবে এ সময়ে খাবার ও পানি উভয়ই দূষিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই দুষিত খাবারের কারণে এ সময়ে অনেকেই ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়াজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

  • ধরনের সমস্যায় কী ধরনের উপসর্গ দেখা দিয়ে থাকে ?

** মূলত বার বার লুজমোশন বা ডায়ারিয়া জ্বর এবং অনেক সময় বমিও থাকে। এ সময়ে যে লুজমোশন হচ্ছে তাকে ইনফেকটিভ ডায়ারিয়া বলা যেতে পারে।

** এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসাটা কী হবে?

** প্রথমত প্রতিবার লুজমোশন বা ডায়রিয়ার জন্য এক গ্লাসকরে ওরাল স্যালাইন খেতে হবে। সাথে স্বাভাবিক সব খাবারই চলবে। আর ওষুধের মধ্যে সিপ্রোফ্লক্সাসিন জাতীয় ট্যাবলেট ৫০০ মি. গ্রা. করে দৈনিক দুইবার মোট তিন দিন খাওয়া যেতে পারে।

  • শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসাটা কেমন হবে ?
  • চিকিৎসা বড়দর মতোই। তবে সিপ্রোফ্লক্সাসিন শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার না করাই ভালো। শিশুদরে বেলায় চিকিৎসকের পরামর্শমতো এমোক্সিলিন কিংবা সেলেক্সিড খাওয়ানো যেতে পারে।
  • ইনফেকটিভ ডায়ারিয়া ছাড়া আর কী রোগ হচ্ছে এ সময়?
  • এ ছাড়া খাবার ও পানিবাহিত রোগের মধ্যে টাইফয়েডও হচ্ছে। তবে একটা বিষয়, এখন যেসব টাইফয়েড রোগী আসছেন তাদের? বেশির ভাগই সাধারণত টাইফয়েডের রোগী যে ধরনের উপসর্গ নিয়ে আসেন সেভাবে আসছেন না। তারা আসছেন ক দিন আগে সেরে যাওয়ার পর আবার জ্বর ‍উঠেছে এমন উপসর্গ নিয়ে। এ ধরনের উপসর্গের অন্যতম কারণ হচ্ছে অসম্পূর্ণ চিকিৎসা। সঠিকভাবে চিকিৎসা গ্রহণ না করায় রোগী ওষুদের কোর্স পুরোপুরি সম্পন্ন করছেন না। কাজেই জ্বর হলে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন- সেট কী ধরণের জ্বর। আর টাইফয়েড হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের পুরো কোর্স খেতে হবে।
  • টাইফয়েড, লুজমোশন এগুরো প্রতিরোধ করার উপায় কী ?

** আসলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় এ ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো দেখা দেয়। এ সময় বাইরের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশুদ্ধ পানি অর্থ্যাৎ ভালোভাবে ফুটানো পানি পান করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে খুজে দেখতে হবে রান্নার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিটি সুস্থ্য আছে কিনা? কারণ অসুস্থ ব্যক্তির তৈরি খাবার খেয়ে অন্যরা অসুস্থ হতে পারে। প্রয়োজন বোধে রান্নার কাজে গৃহসাহায্যকারীকেও যথার্থ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে তা না হলে পরিবারের সবাই একে একে অসুস্থ হতে থাকবে।