মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় জাতীয় ফল কাঠাল

  • 0

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় জাতীয় ফল কাঠাল

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় জাতীয় ফল কাঠাল

 

বাংলাদেশ পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশ। জনসংখ্যার তুলনায় আয়তনে ক্ষুদ্র। ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিঃ মিঃ  এদেশে প্রতি কিঃ মিঃ  ৯০৪ জন লোক বাস করে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ জন মা ও শিশু। এই বিশাল জনগোষ্ঠীল একটি অংশ অসুস্থ ও অপুষ্টির শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় এদেশের প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ মা গর্ভধারণ করে। তারমধ্যে রক্ত স্বল্পতায় ভোগে ৭০% লোক। প্রতি হাজারে ৩ জন মায়ের মৃত্যু ঘটে অপুষ্টির কারণে। কম ওজন নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে ২০ লাখ শিশু। পুষ্টিহীনতায় মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৫১ জন নবজাতকের। ৫ বছরের নিচে পুষ্টিহীন শিশু ৪৮%। এই লক্ষণ চিত্র কারো কাম্য নয়।

যেহেতু দেশের জনসংখ্যার ৬০ ভাগই নারী মা শিশু তাই তাদের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আমাদের জাতীয় ফল কাঠাল মা ও শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কাঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঠাল অতি সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় ফল। দেশের প্রায় সাধারণতভাবে এর চাষ ও ফলন হয়ে থাকে। তুলনামুলকভাবে সস্তা দামে এর দেশের গরীব সাধারণ মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে থাকে বলে কাঠালকে ‘গরীবের ফল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালে অনেকগুলো গুন আছে। যার অন্যতম হলো এই ফলে মা ও শিশুর দেহে প্রয়োজণীয় পুষ্টি ও ভিটামিন বিদ্যমান। এই ফল মায়ের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য এবং শিশুর বিকাশ লাভ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং শিশুর বৃদ্ধির জন্য যে সকল ভিটামিন দায়ী যেমন- ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, আয়রণ, শর্করা, চর্বি ইত্যাদি সবকিছুই তাজা পাকা কাঠালে বিদ্যামান। গর্ভবতী মহিলারা কাঠাল খেলে তার স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে। গর্ভস্থ সন্তানের বৃদ্ধিও স্বাভাবিক হয় এবং মা স্তন্য দান কালে তাজা পাকা কাঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

শিশু বেড়ে ওঠা থেকে আরম্ভ করে স্বাভাবিক সুস্থ থাকার জন্য অন্তত দুই বৎসর পর্যন্ত দুধ একান্ত অপরিহার্য্য। অনেক মায়েরা তাদের সন্তানদের পর্যাপ্ত পরিমাণ দুধের অভাবে মায়ের দুধের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানীকৃত কৃত্রিম গুঁড়ো দুধ খাইয়ে থাকেন। যার ফলে একদিকে আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে তার জটিল কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে, যা আমরা সহজে বুঝতে পারি না। তাই সুলভ মুল্যে সহজ লভ্য কাঠাল যেমনভাবে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যে সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। গুড়ো দুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষাসহ পারিবারিক ব্যয় কিছুটা কমিয়ে আনতে পারে।

ছয় মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি সন্তানকে কাঠালের রস খাওয়ালে বাচ্চার ক্ষুধা নিবারণ হয়। অন্যদিকে তার স্বাভাবিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। অন্যদিকে তার স্বাভাবিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। প্রতিদিন মাত্র ২০০ গ্রাম তাজা পাকা কাঠাল খেলে গর্ভবতী মহিলা ও তার গর্ভধারণকৃত শিশুর সকল প্রকার পুষ্টির দূর হয়। মাত্র ২০ গ্রাম কাঠাল অথবা ১ থেকে ২ গ্রাম তাজা কাঠালের রস শিশুর প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব পূরণ করতে পারে। আমাদের দেশে প্রধানত প্রাপ্ত বয়স্করা এই ফল খেয়ে থাকেন। আমদের অত্যন্ত দুভার্গ্য যে, শিশুদের অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি এই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবারটি খাওয়ানোর অভ্যাস এখনো গড়ে তুলতে পারিনি। যার কারণে তারা বঞ্চিত হচ্ছে কাঠালের পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি ও ভিটামিন থেকে।  কাঠাল বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন ফল। আমরা অত্যন্ত ধুমধামের সহিত আনন্দ দায়ক পরিবেশে ১লা বৈশাখ, ১৪১৮ সাল নববর্ষকে বরণ করে নিয়েছে। তার পাশাপাশি লক্ষ্য করছি জাতীয় ফল কাঠালের সুঘ্রাণ। কাঠালের এতসব  গুণাগুনের কথা বিবেচনা করে এ সময় অন্তত সপ্তাহে একদিন কাঠালকে আমাদের খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যার ফলে মা ও শিশুর সুস্থতার মাধ্যমৈ আগামী দিনে জাতি পাবে একটি সুস্থ, সবল এবং কর্মক্ষম জনগোষ্টী এবং জাতীয় ফল কাঠাল হবে আমাদের সমাদৃত।

মোঃ আবুল হাসান

সভাপতি

খন রঞ্জন রায়, মহাসচিব

ডিপ্লোমা প্রযুক্তি শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ।

স্বর্ণবর্ণ জুয়েলার্স, ৪৭ মতি টাওয়ার, চকবাজার চট্রগ্রাম।