এখনকার খাবার দাবার

  • 0

এখনকার খাবার দাবার

Category : Health Tips

এখনকার খাবার দাবার

নাঈমা আমিন

রমজান মাসে খাদ্যোভ্যাসের অনেকটাই পরিবর্তন হয়। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার না খেলে এ সময় হঠ্যাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। এ সময় খাবার থাকতে হবে শর্করা, আমিষ, চর্বি এবং খনিজ পর্দাথ যেমন- লোহা, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ইত্যাদি। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করাতে হবে, যাতে পানিশূণ্যতা দেখা না যায়। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি থাকতেই হবে বলছিলেন – বারডেমের পুষ্টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আখতারুন নাহার আলো। এ সময় ইফতারি, সন্ধ্যা রাতের খাবার ও ভোর রাতের খাবার কেমন হবে, তা জানিয়েছেন তিনি।

ইফতারঃ

  • ইফতারি প্রতিটি পরিবারের রুচি ও খাদ্যেভ্যাস অনুযায়ী হওয়া উচিত। ইফতারি হবে পুষ্টিকর, সহজপাচ্য ও সুষম।
  • কখনো বাসি খাবার ইফতারিতে রাখা উচিত নয়। এতে পেটের সমস্যা হতে পারে।
  • পানীয় হিসেবে শরবতকে প্রাধানী দিতে হবে। তবে যে ধরনেরেই শরবত হোক না কেন, সেটা বিশুদ্ধ পানির তৈরি হতে হবে।
  • বেশি তেলে ভাজা খাবার পরিহার করা উচিত। একটা বা দুটো ভাজা খাবার যেমন মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি রাখা যেতে পারে।
  • ইফতারিতে ফল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এখন আমের সময়। বিদেশী ফলের চেয়ে আমাদের দেশীয় ফল যেমন আম, আনারস, কলা ইত্যাদি ইফতারে রাখতে পারলে ভালো।
  • তেলের ব্যাপারে বলা যায় একেবারেই তেল বর্জন নয়। অল্প তেলে ভাজা ছোলা, ঘুগনি, নুডলস ইফতারের জন্য স্বাস্থ্যকর ‍উপাদান হতে পারে।
  • তবে যাই হোক না কেন, পরিমাপের দিকে অব্যশই খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

সন্ধ্যা রাতের খাবার

যেহেতু ইফতারে খাবার বেশি খাওয়া হয়ে থাকে, সে জন্য এর পরে হালকা খাবার খাওয়া উচিত। তাহলে বদহজমের ভয় থাকে না। রাতে হালকা তেল ও হালকা মসলার খাবার খাওয়াই ভালো। ভাত সবজির সঙ্গে মাছের তরকারি সন্ধ্যা রাতের দিকে খাওয়াটাই ভালো।

সেহরির খাবার

রোজার সময় সেহরি বা ভোর রাতের খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে একেবারেই সেহরিতে খেতে চান না। আবার অনেকে বেশি খেয়ে থাকেন। দুটোই ক্ষতিকর। এ সময় ভাত অথবা রুটির সঙ্গে সবজি, মাছ মাংস ও ডিমের তরকারি খাওয়া যেতে পারে। দুধ খেতে পারলে ভালো।

জেনে নিন

যদিও কারও ডায়াবেটিস থাকে তবে লক্ষ রাখতে হবে চিনি মিষ্টি মিষ্টান্ন খাবার যেন খাদ্য তালিকায় না থাকে। তবে বিকল্প চিনি দিয়ে শরবত, পায়েস, সেমাই খেতে পারেন। যেসব রোগে ডাল নিষেধ করা হয় যেমন কিডনির রোগ, ব্যাতের রোগ ইত্যাদিতে ছোলা, পিয়াজু, বেসনের পরিবর্তে আটা, ময়দা, চালের গুঁড়া ইত্যাদি দিয়ে নাশতা তৈরি করে খেতে পারেন। এ ক্ষে্ত্রে ইফতারে চিড়া, মুড়ি, সেমাই, সুজি, ফ্রায়েড রাইস ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। ওজন বেশি থাকলে অবশ্যই অতিরিক্ত তেলজাতীয় খাবার খাওয় যাবে না।

খাবার হতে হবে মুখরোচক

ইফতার, সন্ধ্যা রাতের খাবার এবং ভোররাতের খাবারের আয়োজনে ও পরিবেশনে বৈচিত্র্য থাকলে খেতে ভালো লাগবে। মুখরোচকভাবে খাবার পরিবেশনের বিষয়ে রান্নাবিদ সিতারা ফৌরদৌস জানান, ইফতারে হরেক রকমের ফলের শরবত, দইয়ের লাচ্ছি ইফতারে রাখা ভালো। শরবতে বিভিন্ন উপাদান মেশালে খেতে সুস্বাদু হয় যেমন, আনারসের শরবতের সঙ্গে একটু গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে দিলে শরবতটা খেতে একটু ভিন্ন স্বাদ লাগে। ইফতারে বিভিন্ন ধরনের ফুলের সালাদে চাট মসলা, টকদই এসব মেশানো যেতে পারে। ফ্রুটস ককটেল তৈরি করে পরিবেশন করা যেতে পারে। মুখের রুচির জন্য বিভিন্ন ধরনের সস, গার্লিক সস, টমেটো সস দিয়ে ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া যেতে পারে। দই, ফুচকা,  দইবড়া, দইবুন্দিয়া, পাপড়ি চাট, ভেলপুরি এ জাতীয় মুখরোচক খাবার কম তেল দিয়ে তৈরি করে ইফতারে পরিবেশন করা যেতে পারে। সন্ধ্যা রাতের খাবারে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা যেমন; পটোল ভর্তা, বেগুন ভর্তা পরিবেশন করা যেতে পারে স্বাদের ভিন্নতার জন্য। হালকা তেল মসলা দিয়ে মাছ, মাংস ও শাকসবজি খাওয়া যেতে পারে।  ঘন ডাল এ সময় না খাওয়াই ভালো। এতে অল্মের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সন্ধ্যা রাতের খাবারে পোলাও, বিরিয়ানি, পরোটা, বূনা মাংস এসব খাবার খাওয়া ঠিক নয়। ভোররাতে আম দুধ কলা দুধ এসব দিয়ে ভাত খাওয়া যেতে পারে। আর দুধ খেতে না পারলে হালকা তেল মসলা দিয়ে রান্না কর তরকারি, মাগুর, শিং ও নলা মাছের তরকারি একটু ঝোল ঝোল করে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে।


Leave a Reply

Call Now!