পুরানো অসুখ আসছে ফিরে

  • 0

পুরানো অসুখ আসছে ফিরে

পুরানো অসুখ আসছে ফিরে

পুরানো সে সব অসুখের কথা ভুলতে চাইলেও ভোলা যাচ্ছে না। ইতিহাসের পাতা উল্টাই। সংক্রামক রোগে অনেক মানুষ মরেছেন। ১৯১৮ সালের কাথা যদি বলি। ইনফ্লুয়েঞ্জার বিশ্বমরমীতে মারা গিয়েছিলেন ২ কোটি মানুষ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যতোজন লোক মারা গিয়েছিলেন এর দ্বিগুন। বিজ্ঞানের সাহায্যে জীবানুকে আঘাত করেছে মানুষ। এন্টিবায়োটিক ও টীকাদান কর্মসুচি চালানো হয়েছিল। আরো ভালো স্বাস্থ্যবিধি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছিলাম। মনে করেছিলাম রোগ ‍অসুখ এবার হার মেনেছে। লড়াইতে যে সব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল- এর প্রভাব ছিল দারুন। ইউরোপে মধ্য উনিশ শতকে অসংখ্য মানুষ মারা যেতো যক্ষায়। একন তো তেমন প্রকোপ নেই। কিন্তু জীবাণুরা আবার এগিয়ে এসেছে দলবেঁধে। জোরপায়ে। প্রাণঘাতী দুটো রোগ যক্ষা ও ম্যালেরিয়া বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। নতুন রোগও হচ্ছে লাইমে রোগ, ডেঙ্গুজ্বর, লেজিওনেয়ার রোগ এইডস তো বটেই গত দুই যুগ ধরে আবির্ভূত হচ্ছে। আজকার অনেক গবেষক বেশ কিছু রোগের পেছনে সংক্রামক জীবানুর কাজকর্ম খুঁজে পেয়েছেন। উন্নয়নশীল দেশে হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি এই জীবাণুর সংক্রমন বেশ দেখা যায়। শিশুদের উদারময়, বড়দের পেপটিক আলসারের পেছনে আছে এই জীবাণু। প্যাপলোমা ভাইরাস সংক্রমন থেকে তেমনি হতে পারে জরায়ু ও শিন্নবেশের ক্যান্সার।

বিশ্বে নতুন জীবানু আসছে বটে। এখনও এসব প্রজাতি আছে এরা রোগ ছড়াচ্ছে অথচ লোকক্ষুর আড়ালে, বিজ্ঞানীদের নজরের বাইরে। আছে পুরানো শত্রু  যক্ষা আক্রমন করার সুযোগের সন্ধানে।

এসব সুযোগ ক্রমে বাড়ছে ভিড়ভাট্রা, ঘিঞ্জি পরিবেশ, গরিবানা হাল, অপুষ্টি উনিশ শতক এবং এর আগেও যক্ষারোগ খুব বেড়েছিল এসব কারণে। একবিংশ শতকের দ্বারে এসে এদেরই পদধ্বনি শুনতে পাই। বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেক নগরবাসী। কিন্তু নগরে অনেক নগরে এর অবকাঠামো নেই মানুষের ভিড় বাড়বে, কিন্তু থাকবে না পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবারহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে রোগবাহী ইঁদুর ও মশার বিশাল ক্রীড়াক্ষেত্র গড়ে উঠছে।

অসুখ

অসুখ

মশা হচ্ছে হুমকি

গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোগ ডেঙ্গুজ্বর যে ভাইরাস এর কারণ এর বাহক মশা। অস্বাস্থ্যকর নগর পরিবেশ থেকে উঠে এসেছে এসব নতুন রোগ। গ্রীষ্মমন্ডলে শতক শতক ধরে ছিল ডেঙ্গুজ্বর, এখন এসেছে নতুন রূপে সঙ্গে শক্ ও রক্তক্ষরণ ১৯৫০ সালে এর আর্বিভাব। ইদানিং প্রায় দ্বিগুন হয়েছে এর প্রকোপ। বাংলাদেশেও এর প্রকোপ বাড়ছে। চট্রগ্রাম হচ্ছে নতুন আস্তানা। এর কোনো টীকা বা চিকিৎসাও তেমন নেই। ডেঙ্গুভাইরাস যে মশা বহন করে, এমনকি হলুদজ্বর ও ভাইরাস এনকেফালাইটিস এটিও নিয়ন্ত্রনের বাইরে। জঞ্জালে, আবর্জনার স্তুপে এদের জন্ম ফেলে দেয়া এলুমিনিয়ামের টিনে, রাবারের টায়ারে জমে থাকা জলে এরা ডিম পাড়ে।

১৯৮৫ সালের কথা। জাপান থেকে ব্যবহৃত টায়ারভর্তি জাহাজে করে এরা এসে বসতি নিয়েছিল আমেরিকায় হয়ে দাড়িয়েছে হুমকি।

জীবাণু আর্ন্তজাতিক সীমানাকে থোড়াই তোয়াক্কা করে ৫০০ বছর আগে ইউরোপীয় পর্যটকরা নতুন বিশ্বে সভ্যতা যেমন এনেছিল, তেমনি এনেছিল বসন্ত। অনেকের ধারণা আটলান্টিক যে অভীযাত্রীরা পেরিয়েছিলেন উল্টোদিকে, এরা শোধ নিলেন ’সিফিলিস’ এনে।

বছর পাঁচেক আগে আমেরিকার আবিজোনা, কলোরোডো, নিউ মেক্সিকোতে ৫৩ জন সুস্থ লেকের হঠাৎ’ করে খুব শ্বাসকষ্ট। ৩২ জন মারা গেলেন। এই নতুন ভাইরাসের সন্ধান করলেন জন স্বাস্থ্যকর্তারা এর একটি হলো হান্টাভাইরাস, দুর প্রাচ্যে এদের আনাগোনা। কোনেও মালগুদামে লুকিয়ে এরা জাহাজে করে বা পরিবহণ এসেছিল আমেরিকায়। আর্ন্তজাতিক বানিজ্য সম্পর্ক যতো বাড়ছে, এসব অদ্ভুদ নতুন রোগও ততোবেশি হুমকি হয়ে দাড়াচ্ছে।

স্থানান্তর অবকাশ যাপন, পরিভ্রমণ যারা করেন এরা নতুন পুরাতন রোগের জীবানু বহন করে আনেন। পৃথিবী যতো ছোট হয়ে আসছে, স্থানীয় রোগও ততো বিশ্বজোড়া রোগ হয়ে দাড়াচ্ছে। মানুষ যখন পরিভ্রমণে যায় দুরদেশে, তখন মানুষ এমন সব জীবানুর মুখোমুখি হচ্ছে যাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই। এসব বিদেশী জীবানু এরা নিয়ে আসেন ঘরে। যতোবেশি মানুষ অবকাশ যাপনে হচ্ছে দূরদেশে, পৃথিবী ততো ছোট হয়ে আসছে, রোগ বিস্তার হচ্ছে দ্রুত। উনিশ শতকের কথা। ইউরোপ ও আমেরিকায় ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের মানুষ ও জীবাণুর হলো নতুন সহবসতি। কৃষির জন্য জমি পরিষ্কার করে নতুন বনায়ন হলো, নতুন বনাঞ্চলে হরিণের বসতি এদের শরীরে এলো পোকা। এই পোকার কামড়ে যে জীবানু বিস্তার সেই ‘ঝেরোলিয়া বার্গোডেরফেবির’ কারণ হালো ‘লাইমে রোগ’। দূর্বলতা, গিঁটে ব্যাথা, মাথাধরা রোগ নির্ণয় কঠিন। হৃদপিন্ড থেকে স্নায়ুতন্ত্র এর সংক্রমন চলে বাড়ে বজায় তাকে, এন্টিবায়োটিকে কাজ হয় না। আছে রিকেটসিওসিস, কুকুরের শরীরের পোকা যার বাহক জ্বর ও সঙ্ঘালোপ এর উপসর্গ। লিশমিনিয়াসিস স্যান্ডফ্লাই যার পিছনে আলসার, জ্বর, এমনকি পরিণতিতে মৃত্যু। এন্টিবায়োটিক এবং টীকা অন্ত্রের এ জোড়াকে আমরা বিশ্বাস করতে পারি এ জন্য জীবাণুরা এখনো ততোটা কাবু কররনি আমাদের কিন্তু আমাদের এ আক্রমণকে প্রতিহত করতে শিখেছে জীবাণুরা এ হচ্ছে দূর্ভাগ্য।


Leave a Reply

Call Now!