পোকামাকড়ের দংশনে এলার্জি

  • 0

পোকামাকড়ের দংশনে এলার্জি

পোকামাকড়ের দংশনে এলার্জি

প্রতি বছর অসংখ্য মানুষকে দংশন করে পোকা মাকড়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হলের কারণে ব্যথা এবং অস্বস্তি থাকে কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত এবং আপনা আপনি সেরেও যায়। পোকা মাকড় দংশনের ফলে মূল উপসর্গ হিসাবে দেখা যায়। হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া এবং চূলগুরো। তবে কিছু মানুষ আছে, পতঙ্গের কামড়ে যাদের এলার্জি হয়। অর্থ্যাৎ তাদের শরীরের প্রতিরোধক শক্তিগুলো পতঙ্গের প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। তীব্র প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ; কিছু মানুষ আছে পতঙ্গের বিষ যাদের মৃত্যুর ঝূকি সৃষ্টি করে। পতঙ্গ দংশনজনিত এলার্জি শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে দেখা যায় এবং এসব ঘটে খুব দ্রুতগতিতে। উপসর্গের মধ্যে আছে শরীরের ব্যাপক অংশে চুলকানি এবং রক্তবর্ণের চাকা তৈরি হওয়া, জিব ও গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট,  ঝিমঝিম ভাব, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়া। তীব্র এলার্জি হলে দ্রুত শরীরের রক্তচাপ কমে যায় এবং রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

পতঙ্গকে শনাক্ত করাঃ দংশন থেকে বাচতে হলে আমাদের জানতে হবে পতঙ্গগুলি দেখতে কেমন এবং তাদের বাসা কোথায়। দংশনজনিত প্রতিক্রিয়া হয় মূলত কয়েক ধরনের পতঙ্গের কামড়ে, যেমন বোলতা, মৌমাছি, ভীমরুল, বিষ পিপড়া।

দংশনের চিকিৎসাঃ যদি মৌমাছি কামড়ায়, ত্বকে যদি হুল ফুটে থাকে তাহলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে স্থুলটি তুলে ফেলুন। কারণ হুলের সঙ্গে বিষের থলি সংযুক্ত থাকে। হুল তুলে ফেললে বাড়তি বিষ শরীরে প্রবেশ করতে পারে না। নখ দিয়ে চুলকালে হুল ও বিষথলি অপসারিত হয়ে যায়। মালিশ করলে বা ডলাডলি করলে বরং বিষথলি থেকে বেশি পরিমাণে বিশ ত্বকে মিশে থাকার সুযোগ পায়। ভীমরুল বা বোলতার কামড়ে সাধারণত হুল ত্বকে সংযুক্ত থাকে না। শান্ত থাকার চেষ্টা করুন। খুব দ্রুত শরীর থেকে পতঙ্গগুলি ঝেড়ে ফেলুন  এবং তৎক্ষণাৎ সেই স্থান ত্যাগ করুন।

পতঙ্গ দংশনের পর নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে উপসর্গের তীব্রতা কমানো সম্ভব হতে পারে। পতঙ্গ যে হাতে পায়ে দংশন করছে, সেটাকে উচু করে রাখুন। বরফ বা ঠান্ডা সেক দিলে ব্যথা ও ফোলা কমবে। ফোস্কা গলাবেন না। সাবান পানি দিয়ে সাবধানে ফোস্কার চারপাশ পরিষ্কার করুন। এতে পরবর্তীতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের আশংকা কমে যায়। চুলকানি থাকলে এন্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট খাবেন। স্টেরয়েড মলম ব্যবহার করতে পারেন দংশনের জায়গায়। যদি ফোলা বাড়তেই থাকে, কিংবা দংশিত স্থান ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যদি পতঙ্গের আপনার মারাত্মক এলার্জি থাকে বা পূর্বে যদি অ্যানাচাইনোক্সিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে বাইরে চলাফেরার সময় আপনাকে খুবই সতর্ক  থাকতে হবে। নিজের সঙ্গে সহজে পুশ করা যায় এমন   একটি ডিভাইসে অ্যাডরেনালিন ইঞ্জেকশন রাখুন। শিখে নিন কিভাবে নিজে নিজে  ইঞ্জেকশন পুশ করতে হয়। এটি বিপদের মূহূর্তে আপনার জীবন রক্ষা করতে পারে।

মনে রাখবেন, দংশনের পরে অ্যাভরেনালিন ইঞ্জেকশনটি তাৎক্ষনিকভাবে আপনার জীবন রক্ষা করলেও এটি চিকিৎসা হিসাবে পর্যপ্ত নয়। অবিলম্বে ইর্মাজেন্সিতে চলে যেতে হবে আপনাকে পতঙ্গ দংশনের পরে যত দ্রুত সম্ভব। সেখানে আপনাকে অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎদসা নিতে হবে। এ ধরনের ব্যক্তিরা বিদেশে একটি বিশেষ ধরনের ব্রেসলেট বা লকেট ব্যবহার করেন। এতে লেখা থাকে যে তিনি এই ধরনের রোগী। ফলে অন্য ব্যক্তি এটা পড়া মাত্র তাকে চিকিৎসাস্থলে নিয়ে যেতে পারেন।

এলার্জি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরার্মশঃ  পতঙ্গ কামড়ালে যাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় তাদের এলার্জি বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। তিনি আপনার রোগের আনুপার্বিক ইতিহাস শুনবেন, পরীক্ষা করবেন এবং নির্ধারণ করবেন কোন ধরনের পতঙ্গের কারণে আপনার তীব্র এলার্জি হচ্ছে। ত্বক ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে আইজি ই ঠিক কী পরিমাণে আছে, তা জানা যায়। ঠিক কোন চিকিৎসা আপনার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট হবে তা নির্ধারণ করে দিবেন এলার্জি বিশেষজ্ঞ। এ ধরনের রোগীদের ইমিউনো থেরাপি’ দেওয়া হয়। এটি খুবই কার্যকর একটি ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া যার দ্বারা ৯৭% রোগীর দংশনজনিত তীব্র প্রতিক্রিয়া রোধ করা যায়।

ইমিউনোথেরাপি এবং সঠিকভাবে পতঙ্গ এড়িয়ে চলার কৌশল আয়ত্ত করতে পারলে রোগী ঘরে বাইরে স্বাভাবিক কর্মময় জীবনযাপন করতে সম্ভব হবেন।

 

ডাঃ গোবিন্দ্র চন্দ্র দাস

এলার্জি ও এ্যাজমা রোগ বিশেষজ্ঞ

দি এলার্জি এন্ড এ্যাজমা সেন্টার

পশ্চিম, পান্থ পথ, ঢাকা।


Call Now!